লেখকের ইতালি শহর দেখার অভিজ্ঞতা বর্ণনা কর
লেখকের ইতালি শহর দেখার অভিজ্ঞতা বর্ণনা কর।
![]() |
| লেখকের ইতালি শহর দেখার অভিজ্ঞতা বর্ণনা কর। |
লেখকের ইতালি শহর দেখার অভিজ্ঞতা বর্ণনা কর
উত্তর : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'য়ুরোপ-প্রবাসীর পত্র' গ্রন্থানুসারে লেখক আলেকজান্দ্রিয়া থেকে মঙ্গোলিয়া, স্টীমার চড়ে চার পাঁচ দিনের মাথায় গভীর রাতে ইটালিতে পৌঁছালেন। লেখক প্রথম বারের মতো ইউরোপের মাটিতে পা রাখলেন- তখন গভীর রাত; তিনি আশ্রয় গ্রহণ করেন ব্রিন্দিসির হোটেলে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ইটালিতে পৌঁছে পরের দিন সকালেই শহর দেখতে বের হলেন। লেখক যে গাড়িতে শহর দেখতে বের হন- তাতে তাঁর মনে হয়েছিল 'আধমরা ঘোড়া ও আধভাঙা গাড়ি'। সারথির বয়স চৌদ্দ, ঘোড়া পঞ্চাশ বর্ষের, গাড়ি পৌরাণিক ।
ব্রিন্দিসি ছোটখাটো শহর। কতকগুলো কোঠাবাড়ি দোকান বাজার। ভিক্ষুকেরা ভিক্ষা করে ফিরছে, দু'চারজন লোক মদের দোকানে বসে গল্পগুজব করছে, কেউ কেউ রাস্তার কোণে দাঁড়িয়ে হাসি তামাশায় ব্যস্ত। লোকজন নিশ্চিত মনে গজেন্দ্রগমনে চলাফেরা করছেন, যেন কারও কোনো কাজ নেই, কারো কোনো ভাবনা নেই, যেন শহরসুদ্ধ ছুটি।
রাস্তায় গাড়ি ঘোড়ার ভিড় নেই, লোকজনের সমাগম নেই। কিছুদূর গেলে একটি ছেলে লেখকদের গাড়ি থামিয়ে হাতে একটা তরমুজ নিয়ে সারথির পাশে বসলো। ব-সাহেব বললেন, বিনা কষ্টে লোকটির কিছু উপার্জনের বাসনা আছে। লোকটা মাঝে মধ্যে হাত বাড়িয়ে এটা চার্চ, ওটা বাগান, ওটা মাঠ, এভাবে উপযাচক হয়ে লেখকদেরকে দেখতে লাগলো।
তাকে কেউ গাড়িতে উঠতে বলেনি, কেউ কিছু জিজ্ঞেসও করেনি, তবু এ অযাচিত উৎসাহের জন্য তাকে কিছু পারিশ্রমিক দেয়া হয়। গাড়িটি একটি ফলের বাগানে প্রবেশ করে। সেখানে যে কত রকম ফলের গাছ, তার সংখ্যা নেই। চারদিকে সাদা কালো আঙুর। কালো আঙুরগুলো অধিকতর মিষ্টি।
বড় বড় গাছে আপেল। এক বৃদ্ধা উদ্যান পালিকা কতকগুলো ফল ও ফুল নিয়ে লেখকদের সামনে হাজির করেন, তাঁরা সে দিকে নজর দেন না। তারা বাগানে ইতস্তত বেড়াচ্ছিলেন। এমন সময় এক সুন্দরী কিছু ফল ও ফুল নিয়ে তাদের সামনে আসে। তারা সুন্দরীকে অগ্রাহ্য করতে পারেননি। আসলে লেখক প্রথম প্রথম ইতালি শহর উৎসুক হয়ে দেখেছিলেন।
