আফগান সরাইয়ের সাম্যবাদী চালচিত্র তুলে ধর
৷ আফগান সরাইয়ের সাম্যবাদী চালচিত্র তুলে ধর।
![]() |
| ৷ আফগান সরাইয়ের সাম্যবাদী চালচিত্র তুলে ধর। |
উত্তর : সমতার ভিত্তিতে জীবনযাপন ও চলাফেরা করাই হলো সাম্যবাদের মূলভিত্তি। আফগানিস্তানের সরাইগুলোতে সাম্যবাদের এ দৃষ্টান্ত ভুরি ভুরি পাওয়া যায়। সেখানে জমিদার থেকে ভৃত্য সবাই একই শ্রেণির সুবিধা ভোগ করে।
গ্রেট ইস্টার্ন পান্থশালা আর আফগান সরাইও পান্থশালা। লেখক সরাইয়ের আরাম-ব্যারাম দেখেছেন-গ্রেট ইস্টার্ন, গ্রান্ডেরও খবর কিছু কিছু তাঁর জানা আছে। মার্কস না পড়েও চোখে পড়ে যে সরাই গরিব, হোটেল ধনী।
কিন্তু সরাইয়ে গিয়ে লেখকের এ ধারণা পাল্টে গেছে। সরাইয়েও জন আটেক এমন সদাগর ছিলেন যাঁরা অনায়াসে গ্রেট ইস্টার্নে সুইট নিতে পারেন। তাঁদের সঙ্গে আলাপচারিতা হয়েছে। গ্রেট ইস্টার্নের বড়সাহেবদের সাথেও লেখকের কয়েক জনের পরিচয় আছে।
কিন্তু আচার ব্যবহারে কি ভয়ংকর তফাত। এ আটজন 'ধনী সদাগর ইচ্ছে করলেই একত্র হয়ে উত্তম খানাপিনা করে জুয়ায় দু'শ চার'শ টাকা এদিকে ওদিকে ছড়িয়ে দিয়ে রাত কাটাতে পারতেন। চাকরবাকর সন্ত্রস্ত হয়ে হুজুরদের হুকুম তামিল করতো সরাইয়ের ভিখিরি ফকিরদের তো ঠেকিয়ে রাখতই, সাধুসজ্জনদের সঙ্গে এঁদের কোনো যোগাযোগ হতো না।
বাস্তবে দেখা গেল এরা পৃথক হয়ে আপন আপন ঘরে তো বসে থাকলেনই না আটজনে মিলে 'খানদানি' গোঠও এঁরা পাকালেন না। নিজ নিজ পণ্যবাহিনীর ধনী গরিব আর পাঁচজনের সঙ্গে এদের দহরম-মহরম আগের থেকে তো ছিলই, তার উপরে সরাইয়ে আসন পেতে জিরিয়ে জুরিয়ে নেয়ার পর তারা আরো পাঁচজনে তত্ত্বতাবাশ করতে আরম্ভ করলেন।
তার ফলে হরেক রকমের আড্ডা জমে উঠল। ধনী গরিবদের পার্থক্য জামা কাপড়ে টিকে থাকল বটে কিন্তু কথাবার্তায় সেসব তফাত রইল না। দু' চারটে মোসাহেব 'ইয়েসমেন' ছিল সন্দেহ নেই। তা সে গরিব আড্ডা-সরদারেরও থাকে।
ব্যবসা বাণিজ্য, তত্ত্বকথা, দেশ-বিদেশের রাস্তাঘাট, গিরিসংকট, ইংরেজ-রুশের মন কষাকষি, পাগলা উট কামড়ালে তার দাওয়াই, সর্দারজীর মাথার ছিট, সব জিনিস নিয়েই আলোচনা হলো। গরিব ধনী সকলেরই সকল রকম সমস্যা আড্ডায় দয়ে মজেজাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
কখনো ডুবল কখনো ভাসল; কিন্তু বাকচতুর গরিবও ধনীর পোলাও কালিয়ার আশায় বেশরম বাদর নাচ নাচল না। ঝগড়া কাজিয়াও আড্ডার চোখের সামনের চাতালে হচ্ছে। কথাবার্তায় খোঁচাখুঁচিতে যতক্ষণ উভয়পক্ষ সন্তুষ্ট ততক্ষণ আড্ডা সেসব দেখেও না, শুনেও শোনে না।
কিন্তু মারামারির পূর্বাভাষ দেখা দিলেই কেউ না কেউ মধ্যস্থ হয়ে বখেড়া ফৈসালা করে দেয় । সরাইয়ে কারো কোনো নিতান্ত ঘরোয়া ব্যাপার নেই। তাই পার্সোনাল ইডিয়সিংক্রেসি বা খেয়ালখুশির ছিট নিয়ে কেউ সরাইয়ে আশ্রয় নেয় না।
অথবা বলতে পারেন, সকলেই যে যার খুশিমতো কাজ করে যাচ্ছে, আপনি আপত্তি জানাতে পারবেন না হলেই হলো। আফগান সরাইয়ে লেখক সাম্যবাদের যে চিত্র দেখেছিলেন লেখককে সে বিষয়টি খুবই আলোড়িত করেছিল।
