প্যারিস নগরী ভ্রমণের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দাও।

প্যারিস নগরী ভ্রমণের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দাও।
প্যারিস নগরী ভ্রমণের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দাও।
প্যারিস নগরী ভ্রমণের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দাও।

উত্তর : প্যারিস ইউরোপের অন্যতম জমকালো শহর। অভ্রভেদী প্রাসাদের অরণ্যে অভিভূত হয়ে যেতে হয়। মনে হয় প্যারিসে বুঝি, গরিব লোক নেই। মনে হয়, এ সাড়ে তিন হাত মানুষের জন্য এমন প্রকাণ্ড জমকালো বাড়িগুলোর কী আবশ্যক। 

হোটেলে গিয়ে মনে হবে যে ঢিলে কাপড় পরে যেমন আরাম হয় না, হোটেলেও বোধ করি তেমনি অস্বস্তি হয়। স্মৃতিস্তম্ভ উৎস, বাগান, প্রাসাদ, পাথরে বাঁধানো রাস্তা, গাড়ি, ঘোড়া জনকোলাহল প্রভৃতিতে অবাক হয়ে যেতে হয়। প্যারিসে পৌঁছিয়েই যাত্রীরা একটা ‘টার্কিশ’ বাথে গেলেন। প্রথমত একটা খুব গরম ঘরে গিয়ে বসলেন, সে ঘরে অনেকক্ষণ থাকতে থাকতে কারো কারো ঘাম বের হতে লাগল। 

রবীন্দ্রনাথের শরীর থেকে ঘাম বের না হওয়ায় তাঁকে তার চেয়ে আরো একটা গরম ঘরে নিয়ে যাওয়া হলো। সে ঘরটা আগুনের মতো, চোখ মেলে থাকলে চোখ জ্বালা করতে থাকে। মিনিট কতক থাকলে সেখানে আর থাকতে পারা যায় না। সেখান থেকে বেরিয়ে লেখকের খুব ঘাম হতে লাগল। তার পরে এক জায়গায় নিয়ে গিয়ে তাঁকে শোয়ানো হলো। 

অদ্ভুত এক ব্যক্তি এসে লেখকের সর্বাঙ্গ ডলতে লাগল। লোকটির সর্বাঙ্গ খোলা, এমন মাংসপেশল চমৎকার শরীর লেখক কখনো দেখেন নি। লেখক মনে মনে ভাবলেন ক্ষীণকায় এ মশকটিকে দলন করার জন্য এমন প্রকাণ্ড কামানের কোনো আবশ্যক ছিল না। যথেষ্টরূপে দলিত করে লেখককে আর একটি ঘরে নিয়ে গেল। সেখানে গরম জল দিয়ে, সাবান দিয়ে, স্পঞ্জ দিয়ে শরীরটা বিলক্ষণ করে পরিষ্কার করা হলো। পরিষ্কার পর্ব শেষ হলে আর একটা ঘরে নিয়ে গেল। 

সেখানে একটা বড়ো পিচকিরি করে গায়ে গরম জল ঢালতে লাগল। হঠাৎ গরম করে একটা জলযন্ত্রের মধ্যে নিয়ে যাওয়া হলো। তার উপর থেকে নিচে থেকে চারপাশ থেকে বাণের মতো ভাল গা বিষতে থাকে। সে বরফের মতো ঠাণ্ডা বরুণ বাণ বর্ষণের মধ্যে খানিকক্ষণ থেকে লেখকের বুকের রক্ত পর্যন্ত যেন হয়ে গেল। কবিগুরু হাপাতে হাপাতে বেরিয়ে এলেন। 

তারপরে এক জায়গায় পুকুরের মতো আছে, সেখানে সাভারের জল দেয়া বন্ধ করে বরফের মতো ঠাণ্ডা জলে স্নান জল বর্ষণ ঢালতে লাগল। এরকম কখনো গরম কখনো ঠা কবিকে নিয়ে গেল। লেখকের সাঁতার দেখে তারা বলেছিল । দেখো, দেখো এরা কি অদ্ভুত রকম করে সাঁতার দেয়, ঠিক কুকুরের মতো।

স্নানশেষে লেখকের মনে হলো টার্কিশ বাঘে স্নান করা আর শরীরটাকে ধোপার বাড়ি দেয়া এক কথা। তার পরে সময় দিনের জন্য এক পাউন্ড দিয়ে এক গাড়ি ভাড়া করা হলো। প্যারিসে একসিবিশন দেখতে গেলেন। কিন্তু দুঃখের বি কলকাতার ইউনিভার্সিটিতে বিদ্যা শেখার মতো প্যারিস একসিবিশনের সমস্ত দেখা হয়েছে কিন্তু কিছুই ভালো করে দেখা নি। 

প্যারিসে যত দর্শনীয় স্থান আর জিনিস আছে যে কয়েক বছর দেখলে হয়ত প্ৰাণ জুড়াবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো : "একদিনের বেশি আমাদের প্যারিসে থাকা হলো না। সে বৃহৎ কাও একদিনে দেখা কারো সাধ্য নয়। সমস্ত দিন আ তবে তা বর্ণনা করবার দুরাশা করতেম। প্যারিস একসিবিশনের একটা স্তূপাকার ভাব মনে আছে, কিন্তু শৃঙ্খলাবদ্ধ ভাব কিছুই দেখলেম কিন্তু সেরকম দেখায়, দেখবার একটা তৃষ্ণা জন্মাল কিন্তু দেখা হলো না। সে একটা নগরবিশেষ। 

এক মাস মনে নেই। সাধারণত মনে আছে যে চিত্রশালায় গিয়ে অসংখ্য অসংখ্য চমৎকার ছবি দেখেছি, স্থাপত্যশালায় গিয়ে অসংখ্য প্রস্তরমূর্তি দেখেছি, নানা দেশবিদেশের নানা জিনিস দেখেছি; কিন্তু বিশেষ কিছু মনে নেই । প্যারিস ভ্রমণের অভিজ্ঞতা রবীন্দ্রনাথের কাছে স্মরণীয় হয়ে ছিল। এত অল্প সময়ের ভ্রমণেও লেখক আনন্দে অভিভূত হয়েছিলেন।

Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ