ইংল্যান্ডে এসে রবীন্দ্রনাথ নিরাশ হয়েছিলেন কেন?

 ইংল্যান্ডে এসে রবীন্দ্রনাথ নিরাশ হয়েছিলেন কেন?

ইংল্যান্ডে এসে রবীন্দ্রনাথ নিরাশ হয়েছিলেন কেন
 ইংল্যান্ডে এসে রবীন্দ্রনাথ নিরাশ হয়েছিলেন কেন?

উত্তর : লেখক রবীন্দ্রনাথ ইংল্যান্ডের বর্ণনা লোকমুখে শুনে শুনে তাঁর স্মৃতিতে ইংল্যান্ডের অন্যরকম এক ছবি তৈরি করে রেখেছিলেন। কিন্তু তাঁর কল্পনার ইংল্যান্ড আর বাস্তবের ইংল্যান্ডের মধ্যে ছিল বিস্তর ব্যবধান।

ইংলান্ডে আসবার আগে তিনি আশা করেছিলেন যে, এ ক্ষুদ্র দ্বীপের দুই হস্ত পরিমিত ভূমির সর্বত্রই গ্লাডস্টোনের বাগ্মিতা, ম্যাকসমূলারের বেদ ব্যাখ্যা, টিন্ডালের বিজ্ঞানতত্ত্ব, কার্লাইলের গভীর চিন্তা, বেনের দর্শনশাস্ত্রে মুখরিত। কিন্তু বাস্তবে ইংল্যান্ড ভ্রমণের পর তাতে নিরাশ হয়েছেন। বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের মতো এখানের মেয়েরাও কর্মচঞ্চল।

মেয়েরা বেশভূষায় লিপ্ত, পুরুষেরা কাজকর্ম করছে, সংসার যেমন চলে থাকে তেমনি চলছে, কেবল রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে বিশেষভাবে কোলাহল শোনা যায় মেয়েরা জিজ্ঞাসা করে থাকে, তুমি নাচে গিয়েছিলে কি না, কনসার্ট কেমন লাগল, থিয়েটারে একজন নতুন অ্যাকটর এসেছে, কাল অমুক জায়গায় ব্যান্ড হবে ইত্যাদি। 

পুরুষেরা বলবে, আফগান যুদ্ধের বিষয় তুমি কি বিবেচনা কর, Marquis of Lome কে লন্ডনীয়েরা খুব সমাদর করেছিল, আজ দিন বেশ ভালো, কালকের দিন বড়ো মিজরেবল ছিল। 

এ দেশের মেয়েরা পিয়ানো বাজায়, গান গায়, আগুনের ধারে আগুন পোয়ায়, সোফায় ঠেসান দিয়ে নবেল পড়ে, ভিজিটরদের সঙ্গে আলাপচারিতা করে ও আবশ্যক বা অনাবশ্যক মতে যুবকদের সঙ্গে ফ্লার্ট করে। এ দেশের চির আইবুড়ো মেয়েরা কাজের লোক। 

টেমপারেন্স মিটিং, ওয়ার্কিং মেনস সোসাইটি প্রভৃতি যত প্রকার অনুষ্ঠানের কোলাহল আছে, সমুদয়ের মধ্যে তাদের কণ্ঠ আছে। পুরুষদের মতো তাঁদের আপিসে যেতে হয় না, মেয়েদের মতো ছেলেপিলে মানুষ করতে হয় না, এ দিকে হয়তো এত বয়স হয়েছে যে, 'বলে' গিয়ে নাটা বা ফ্লার্ট করে সময় কাটানো সংগত হয় না, তাই তাঁরা অনেক কাজ করতে পারেন, তাতে উপকারও হয়তো আছে। ইংল্যান্ডের মানুষের এমন কর্মব্যস্ততা দেখে লেখক নিরাশ হয়েছিলেন।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ