ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্রঃ ৫ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র ৫ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর
![]() |
| ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র ৫ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর |
প্রশ্ন-১। দেওয়ান বংশের সিংহাসন আরোহণ নিয়ে জনাব কামাল তার বড় পুত্রের সাথে কথা বলছিলেন। তিনি বলেন, দেওয়ান বংশের প্রতিষ্ঠাতা মহসিন সাহেবের মৃত্যুর পর মনোনয়নক্রমে তার ভাই মানিক সিংহাসনে আরোহণ করেন। মহসিন সাহেবের মৃত্যুর সংবাদে তার ভাইয়ের ছেলে অপু বামনিয়ায় নিজেকে শাসক হিসেবে ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, মানিক মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে দ্রুত রামনিয়ায় অভিযান চালিয়ে সিংহাসন দখল করেন। তিনি বিজয়ী উপাধি ধারণ করে দেওয়ানি সিংহাসনে আরোহণ করেন। মানিকের শাসনের তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল- বিদ্রোহ দমন, রাজ্য বিস্তার, প্রশাসনিক কাঠামোর বিন্যাস ।
ক. কে আবু আয়ুনের সাহায্যে শক্তিশালী বাহিনী প্রেরণ করেন।
খ. কুফার পতন আব্বাসীয়দের অভ্যুত্থানের সূচনা করে।- ব্যাখ্যা দাও।
গ. মানিকের সিংহাসন আরোহণের সাথে পাঠ্যপুস্তকের যে শাসকের মিল রয়েছে তার সিংহাসন আরোহণের বর্ণনা দাও। ৩
ঘ. তুমি কি মনে কর, মানিক ছিলেন একজন দক্ষ শাসক? Tren পাঠ্যপুস্তকের আলোকে মতামত প্রদান কর।
উত্তর
ক. আবু মুসলিম সেনাপতি আবু আয়ুনের সাহায্যে শক্তিশালী বাহিনী প্রেরণ করেন।
খ. সেনাপতি কাহতাব ও খালিদ বিন বার্মাকের মাধ্যমে কুফা আবু মুসলিমের অধিকারে আসে। এর ফলে আবুল আব্বাস ও তাঁর পরিবারবর্গ আত্মগোপন পরিত্যাগ করে প্রকাশ্যে বসবাস করতে থাকে। আবুল আব্বাস কৃষ্ণবরে আচ্ছাদিত হয়ে কুফা মসজিদে গমন করেন এবং সেখানে খলিফা বলে ঘোষিত হন। ইরাকবাসী তাঁকে নিঃসংকোচে সমর্থন জানিয়ে উমাইয়া নৃশংসতার উপযুক্ত প্রতিশোধ গ্রহণ করার শপথ গ্রহণ করে। সুতরাং বলা যায়, কুফার পতন আব্বাসীয়দের অভ্যুত্থানের সূচনা করে।
মূলকথা : আবুল আব্বাস কৃষ্ণা মসজিদে খলিফা হিসেবে অভিষিক্ত হন।
ঘ. উদ্দীপকে উলেখিত মানিক একজন দক্ষ শাসক ছিলেন। তার সাথে আব্বাসীয় খলিফা আল-মনসুরের সাদৃশ্য রয়েছে। পাঠ্যপুস্তকের আলোকে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
খলিফা মনসুর ৭৫৪ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন। তাঁর খিলাফতের তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো-
(১) বিদ্রোহ দমন; (২) রাজ্য বিস্তার; ও (৩) প্রশাসনিক কাঠামোর বিন্যাস া রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সংহতির স্বার্থে তিনি কঠোরহস্তে বিদ্রোহ দমন করেন। এরপর তিনি সাম্রাজ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত করে রাজ্য জয়ে মনোনিবেশ করেন। (৭৫৯-bo খ্রিষ্টাব্দ) ইস্পাহানের বিদ্রোহ দমন করে কাস্পিয়ান সাগরের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অবস্থিত তাবারিস্থান ও গিলান আব্বাসীয় সাম্রাজ্যভুক্ত করেন। পরবর্তীকালে স্পেন ও উত্তর আফ্রিকার কিয়দংশ ব্যতীত সমগ্র অঞ্চলে তিনি আব্বাসীয় খিলাফত সুদৃঢ়রূপে প্রতিষ্ঠিত করেন। এরপর আব্বাসীয় রাজবংশের স্থায়িত্বকে সুনিশ্চিত করার জন্য তিনি প্রশিক্ষণপ্রান্ত, নিয়মিত ও বেতনভুক্ত সেনাবাহিনী গঠন করেন। পুলিশ বিভাগ গঠন করে প্রজাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করেন। দ্রব্যসামগ্রীর মূল্য হ্রাস করেন প্রজাস্বার্থে। এ ছাড়া তিনি মাহদীয়া নামে অপর একটি শহর, বিভিন্ন মাদ্রাসা, হাসপাতাল, খাল, রাস্তাঘাট, পয়ঃপ্রণালি স্থাপন করেন। রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কূটনৈতিক দূরদর্শিতার জন্য তিনি সুখ্যাতি লাভ করেছেন। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় সুন্নি মতবাদ গড়ে ওঠে। আব্বাসীয় সভ্যতার গোড়াপত্তন করেন আল-মনসুর। শ্রেষ্ঠ বিদ্যোৎসাহী হিসেবে তিনি বেশ খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর আমলেই খিলাফতে আরব প্রভাবের পরিবর্তে পারস্য প্রভাব অনুপ্রবেশ করে এবং আব্বাসীয় শিক্ষা-দীক্ষা, আচার-ব্যবহার, জ্ঞান-বিজ্ঞান, পোশাক-পরিচ্ছদ ও শাসনব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়। এ জন্য তাঁকে আব্বাসীয় সভ্যতার জনক বলা হয় ।
প্রশ্ন-২। আফগানদের পরাজিত করে মুঘলরা বাংলার শাসনক্ষমতা গ্রহণ করলে শাসনব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে। পুরাতন অভিজাতদের স্থলে নতুন অভিজাত শ্রেণি সৃষ্টি হয়। রাজধানী পরিবর্তিত হয়। ফারসি ভাষার প্রভাব বৃদ্ধি পায়। এমনকি জাতীয় ও দৈনন্দিন জীবনে মুঘলদের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। শাসক বংশের পরিবর্তনে সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে যে প্রভাব ফেলে তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ মধ্যযুগে বাংলা থেকে পাওয়া যায়।
ক/ আব্বাসীয় খিলাফত কখন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
খ. আৰু মুসলিম কেন ইতিহাসে বিখ্যাত?
গ. উদ্দীপকের ঘটনাবলির সাথে আব্বাসিদের খিলাফত লাভের পরবর্তী ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে কি? বর্ণনা কর ।
ঘ. শাসক বংশের পরিবর্তনে সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়ে”— আব্বাসীয় খিলাফত লাভের আলোকে উক্তিটির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
ক. ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে।
খ. ইসলামের ইতিহাসে আবু মুসলিম একজন খ্যাতনামা ব্যক্তি। ইস্পাহানের এক নগণ্য পরিবারে তাঁর জন্ম হলেও স্বীয় প্রতিভাবলে তিনি সাম্রাজ্যের একজন রাজসংস্থাপক হয়ে উঠেছিলেন। উমাইয়া বংশের পতন ঘটিয়ে আব্বাসি বংশকে ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করতে তাঁর অবদান ছিল অপরিসীম। ঐতিহাসিক উইলিয়াম মুইর বলেন, “মাত্র পঁয়ত্রিশ বছর বয়সের মধ্যে তিনি তাঁর অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা, কর্মতৎপরতা ও রণনৈপুণ্য দ্বারা ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি বদলিয়ে দিয়েছিলেন এবং উমাইয়া বংশের ধ্বংসস্তূপের উপর আব্বাসি বংশ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।" আবু মুসলিমের নানা গুণে তিনি ইতিহাসবিখ্যাত ব্যক্তি ।
মূলকথা : ইসলামের ইতিহাসে আৰু মুসলিম একজন খ্যাতনামা ব্যক্তি।
গ. উদ্দীপকের ঘটনাবলির সাথে আব্বাসিদের খিলাফত লাভের পরবর্তী ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে। নিচে তা আলোচনা করা হলো :
ঘ. শাসক বংশের পরিবর্তনে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। নিচে আব্বাসীয় বংশের আলোকে তা আলোচনা করা হলো :
মূলকথা : আকদাসীয় খিলাফতকাল ছিল ৭৫০-১২৫৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত।
প্রশ্ন-৩। ইসলামের ইতিহাসের শিক্ষক জনাব মো. জসিম উদ্দিন শ্রেণিকক্ষে জনৈক আব্বাসি খলিফা সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। তিনি বলেন, তাঁর সময়কাল ছিল খিলাফতের ইতিহাসের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। কারণ এ যুগেই ইসলামের ইতিহাসের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বুদ্ধিবৃত্তির জাগরণ ও চিন্তাধারা বিকাশ লাভ করে। শিক্ষক আরও বলেন যে, তাঁর রাজত্বকালকে রোম সম্রাট অগাস্টার্সের শাসনামলের সাথে তুলনা করা হয় এবং এ সময়কে ইসলামি সভ্যতার স্বর্ণযুগও বলা হয়।
ক. 'আস-সাফফাহ' অর্থ কী?
খ. বায়তুল হিকমা সম্পর্কে লেখ।
গ. জনাব মো. জসিম উদ্দিন বর্ণিত খলিফার সাপ্তাহিক শিক্ষালোচনার বৈঠক সম্পর্কে ধারণা দাও।
ঘ. উদ্দীপকের আলোচ্য খলিফার রাজত্বকাল ও রোম সম্রাট অগাস্টাসের শাসনামলের, তুলনার যৌক্তিকতা মূল্যায়ন কর। ৪
উত্তর
ক. রক্তপিপাসু।
খ. বায়তুল হিকমা বা জ্ঞান নিকেতনের প্রতিষ্ঠা ছিল খলিফা আল- মামুনের স্মরণীয় কৃতিত্বের অন্যতম। গ্রিস, পারস্য, সিরিয়া প্রভৃতি ভাষায় লিখিত পুস্তকাদির অনুবাদকাজকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য ৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে খলিফা মামুন বাগদাদ নগরীতে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। এতে ৩টি বিভাগ ছিল। গ্রন্থাগার, শিক্ষায়তন ও অনুবাদ কার্যালয়। তুনায়ন ইবনে ইসহাক নামের একজন সুপণ্ডিতকে এ প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করা হয়। তাই বায়তুল হিকমা প্রতিষ্ঠা খলিফা মামুনের একটি বিশেষ কৃতিত্ব।
মূলকথা : বায়তুল হিকমা প্রতিষ্ঠিত হয় ৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে।
গ. উদ্দীপকে জনাৰ মো. জসিম উদ্দিন বর্ণিত বলিফার সাপ্তাহিক শিক্ষালোচনার বৈঠক সম্পর্কে আব্বাসীয় খলিফা আল-মামুনের পরিচয় পাওয়া যায়। নিচে তা আলোচনা করা হলো :
পরিশেষে বলা যায়, খলিফা মামুন সাপ্তাহিক শিক্ষালোচনার দ্বারা জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন।
মূলকথা: খলিফা মামুন ছিলেন। জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক।
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত আলোচ্য খলিফার রাজত্বকালের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পাঠ্যপুস্তকে বর্ণিত খলিফা মামুনের রাজত্বকালকে অগাস্টাসের সাথে তুলনা করা যায়। নিচে এর যৌক্তিক মূ ল্যায়ন তুলে ধরা হলো :
৮১৩ খ্রিষ্টাব্দে অন্তবিপ্লব ও গৃহযুদ্ধের মধ্য দিয়ে খলিফা আল-মামুন খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি রাজ্যবিস্তার অপেক্ষা শান্তি স্থাপনেরই বেশি পক্ষপাতী ছিলেন। তিনি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণির প্রজাকে ভালোবাসতেন এবং তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য স্বীকার করতেন না। সকল ধর্মের প্রতি সহানুভূতিসম্পন্ন ছিলেন এবং সবাইকে পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা দান করেছিলেন। প্রজাদের আর্থিক ও পারমার্থিক মঙ্গল সাধনই ছিল তাঁর শাসনের মূল লক্ষ্য। তিনি সকল সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি নিয়ে রাষ্ট্র-পরিষদ গঠন করেছিলেন। তিনি সকল সম্প্রদায়কে ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রদান করেছিলেন। তাঁর শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রতি উদার পৃষ্ঠপোষকতায় জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় এক অভাবনীয় অগ্রগতি সাধিত হয়েছিল। আব্বাসি খলিফা আল-মনসুর ও হারুন-অর-রশিদ জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চার জন্য যে পরিবেশ সৃষ্টি করেছিলেন, খলিফা মামুনের প্রচেষ্টায় তা পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হয়। এ জন্য ঐতিহাসিক আমীর আলী বলেন, “মামুনের খিলাফত সারাসিনীয় ইতিহাসের সর্বাপেক্ষা গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় এবং একে যথার্থভাবে ইসলামের অগাস্টাস যুগ বলা হয়।"
মূলকথা: খলিফা মামুনের রাজত্বকালকে The Golden Age of Islamic civilization বলে অভিহিত করা হয়।
প্রশ্ন-৪। ফ্রান্স তিউনিসিয়া দখল করে নেয়ায় তিউনিসিয়ার অধিবাসী তাদের স্বাধীনতা হারায়। স্থানীয় জনগণ দখলদার গোষ্ঠী কর্তৃক সবদিক দিয়েই অত্যাচারের শিকার হয়। অত্যাচারের হাত থেকে মুক্তি লাভের আশায় জনগণ একজন নেতার অনুসন্ধান করতে থাকে। এভাবে দীর্ঘ ৯০ বছর পর দক্ষিণ তিউনিসিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের আবিদ নামক একজন অসীম সাহসী ও দুর্ধর্ষ বীরের নেতৃত্বে স্থানীয় জনগণ দখলদার ফরাসি শাসনের অবসান ঘটাতে। সক্ষম হয়। আবিদ নিজে রাজা না হয়ে প্রাচীন রাজার প্রতিনিধিকে সিংহাসনে বসান। কিন্তু কিছুদিন পরেই উক্ত নতুন রাজা তার এই বীর সেনাপতি আবিদকে ভবিষ্যৎ প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে কৌশলে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে।
ক. খলিফা আল-মনসুর কত খ্রিষ্টাব্দে সিংহাসনে আরোহন করেন।
খ. নহর-ই-যুবায়দা কী? বুঝিয়ে লেখ।
ঘ. আব্বাসীয় খেলাফত প্রতিষ্ঠায় উক্ত সেনাপতির ভূমিকা মূল্যায়ন কর।
উত্তর
ক. ৭৫৪ খ্রিস্টাব্দে।
খ. মরুভূমির দেশ আরবের মক্কা নগরীতে প্রতিবছর হজ মৌসুমে পবিত্র হজব্রত পালনের জন্য লাখ লাখ মুসলিমের আগমন ঘটে। কিন্তু এ বিপুলসংখ্যক লোকের অজু, গোসল কিংবা পানীয় জলের কোনো সুষ্ঠু ব্যবস্থা ছিল না। ফলে হাজিদের অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হতো। ৮০২ খ্রিষ্টাব্দে খলিফা হারুন সম্রাজ্ঞী জুবাইদাকে নিয়ে মক্কায় হজব্রত পালন করতে যান এবং হাজিদের দুর্ভোগ দেখে মর্মাহত হন। হাজিদের এ দুর্ভোগের হাত থেকে রক্ষার জন্য জনহিতৈষী ও প্রজাবৎসল খলিফা হারুন-অর-রশিদের স্ত্রী জুবাইদা ২০ লাখ দিনার খরচ করে পঁচিশ মাইল দূর ফোরাত নদী থেকে একটি নহর খনন করে মক্কা নগরীতে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করেন। তাঁরই নামানুসারে এর নামকরণ করা হয় নহর-ই-জুবাইদা ।
মূলকথা : শহর-ই-জুবাইদা ছিল একটি বিশেষ খাল।
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত সেনাপতির কর্মকাণ্ডের সাথে আব্বাসীয় আন্দোলনের বিশেষ ব্যক্তিত্ব মুহম্মদ বিন আলী আবু মুসলিমের কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে। নিচে তা বর্ণনা করা হলো :
মূলকথা : আব্বাসি খিলাফত প্রতিষ্ঠায় আৰু মুসলিম খোরাসানী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল।
প্রশ্ন-৫। বেশ কিছুকাল পূর্বে জমিদার প্রথা বিলুপ্ত হয়ে যায়। মাহতাব জমিদার রাস্তার পাশে একটি শিশুকে কুড়িয়ে পেয়ে পালন করেন। একদিন সে জমিদার হয় এবং নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে সক্ষম হয়। রাজনের পিতা সেলজুকদের উত্থান সম্পর্কে ধারণা দেন। এরপর রাজন তাদের অবদান সম্পর্কে জানতে পারে।
ক. কার শাসনামলে সেলজুকদের ক্ষমতা সর্বোচ্চ শিখরে ওঠে?
খ . মালিক শাহকে শ্রেষ্ঠ শাসক বলা হয় কেন?
গ. রাজন সেলজুকদের অবদান সম্পর্কে কী জানতে পারে- বর্ণনা দাও।
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা ইতিহাসের আলোকে পর্যালোচনা কর।
উত্তর
ক. মালিক শাহের শাসনামলে সেলজুকদের ক্ষমতা সর্বোচ্চ শিখরে ওঠে।
খ. মালিক শাহকে সেলজুকদের শ্রেষ্ঠ শাসক বলা হয়। কারণ, তিনি ছিলেন সেলজুক বংশের সুলতানদের মধ্যে সর্বাপেক্ষাশক্তিশালী। তার রাজত্বের শেষ ভাগে সেলজুকীয় আধিপত্য গৌরবের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করে। আড়ম্বর, ঐশ্বর্য এবং জনসাধারণের সমৃদ্ধিতে মালিক শাহের রাজত্বকাল রোমান অথবা আরব শাসনের শ্রেষ্ঠ যুগের সমকক্ষ ছিল। বাগদাদের আব্বাসীয় খলিফার প্রতিপত্তি যখন স্তিমিত, তখন তিনিই ইসলামি জাহানের গৌরব ঝাণ্ডা সমুন্নত রাখেন।
মূলকথা : মালিক শাহ ছিলেন সেলজুক বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ ও বিখ্যাত শাসক।
গ. ইতিহাসে সেলজুকদের অবদান অপরিসীম। বুয়াইয়া অত্যাচার যখন আব্বাসীয় খেলাফতকে খণ্ড-বিখণ্ড করে ফেলে, তখন সেলজুকদের সহায়তা আব্বাসীয় সাম্রাজ্যকে নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে কিছুটা রক্ষা করে। সেলজুক তুর্কিদের ক্ষমতা লাভে সুন্নি ইসলাম পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। সেলজুক আতাবেগ নিজাম-উল-মুলক প্রশাসনিক সংস্কার দ্বারা শাসনব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন সাধন করেন। তবে পতনের কবল থেকে সাম্রাজ্যকে শেষ পর্যন্ত রক্ষা করতে না পারলেও সেলজুক সুলতানদের প্রায় সকলেই সাহিত্য ও বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। সেলজুক সুলতান মালিক শাহের উজির নিজাম-উল-মুলক ছিলেন একজন মহান বিদ্যোৎসাহী। নিজামিয়া মাদ্রাসা তাঁর বিদ্যানুরাগের শ্রেষ্ঠ স্বাক্ষর বহন করে। বিশ্ববিখ্যাত দার্শনিক ইমাম গাজ্জালি, মরমি কবি ফরিদ উদ্দিন কবি নাসির-ই-খসরু, আত্তার, সাহিত্যিক নিজামী, জ্যোতির্বিজ্ঞানী ওমর খৈয়াম প্রমুখ মনীষী মালিক শাহের দরবার অলংকৃত করেছিলেন। এ যুগে স্থাপত্যশিল্পেরও যথেষ্ট উন্নতি সাধিত হয়। তুম্রীলের সমাধি, ইস্পাহানের জামে মসজিদ এবং এর অনুকরণে জাওয়ারা ও পুলপাইজানের জামে মসজিদ এই আমলের স্থাপত্যশিল্পের শ্রেষ্ঠ প্রমাণ।
সুতরাং বলা যায়, ইসলামের ইতিহাসে সেলজুকগণ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। তবে মালিক শাহের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এ বংশের ঐশ্বর্য হ্রাস পায়।
মূলকথা : জ্ঞান-বিজ্ঞানে অবদান রেখে সেলজুকগণ ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে।
ঘ. উদ্দীপকে সেলজুকদের উত্থান সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। সেলজুকগণ তুর্কিস্তানের কিরঘিজ তুন্দ্রা অঞ্চলের তুর্কি .গোত্রীয় গুজ বংশের অন্তর্গত ছিল। ধর্মদৃষ্টিতে শিল্প ও সভ্যতা সম্বন্ধে তারা একেবারেই অজ্ঞ ছিল। সেলজুক-বিন-তৃকাকের নামানুসারে এ বংশের নামকরণ। গজনীর সুলতান মাহমুদের পুত্র ও উত্তরাধিকারী মাসুদকে পরাজিত করে সেলজুকের পৌত্র তুঘ্রীল বেগ পারস্যে সেলজুক বংশের প্রতিষ্ঠা করেন। ১০৫৫ খ্রিষ্টাব্দে দুর্বল এবং ক্রীড়নক আব্বাসীয় খলিফা আল-কাইম বিল্লাহ বুয়াইয়া আমিরের প্রতাপ এবং প্রতিপত্তিতে অতিষ্ঠ হয়ে সেলজুক তুখরিল বেগের সাহায্য প্রার্থনা করেন। তাঁর সহায়তায় খলিফা আল-কাইম বাগদাদের সিংহাসনে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত সুলতান উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ফলে খলিফা তাঁকে স্বাগত জানান এবং অত্যন্ত খুশি হয়ে তাঁকে রাজকীয় পোশাক দান করেন এবং প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের সুলতান উপাধিতে ভূষিত করেন। এ সময় সেলজুকগণ এশিয়া মাইনরের একটি প্রতাপশালী জাতিতে পরিণত হয়।
তুম্রীলের পর ক্ষমতায় বসেন ভ্রাতুষ্পুত্র আলপ আরসালান। তাঁর সময় এশিয়া মাইনর তুর্কি মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় পরিণত হয় এবং এশিয়ায় ইউরোপীয় শক্তির আধিপত্যের শেষ চিহ্নটুকু মুছে যায়। তবে এ বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন মালিক শাহ। তাঁর রাজত্বকালে সাম্রাজ্যের সর্বত্র শান্তি ও সমৃদ্ধি বিরাজ করত। তার মৃত্যুর পরে এ বংশের গৌরব হ্রাস পায়।
প্রশ্ন-৬। একদল জ্ঞানপিপাসু ব্যক্তির পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকায় এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চার জন্য এখানে বিভিন্ন প্রাচীন গ্রন্থাবলি সংরক্ষণ করা হয়। এ প্রতিষ্ঠানটি গবেষণার কাজেও উৎসাহ প্রদান করে থাকে। কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠান না হওয়ায় নতুন নতুন গবেষণায় প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে পারে না।
ক. আব্বাসীয় বংশে মোট কতজন খলিফা ছিলেন?
খ. বার্মাকি কারা? ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত সংস্থার কর্মকাণ্ডের সাথে খলিফা আল মামুনের কোন সংস্থার কর্মকান্ডের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর ।
ঘ. আব্বাসীয় খেলাফতের সাংস্কৃতিক উন্নয়নে উক্ত সংস্থার অবদান এশিয়াটিক সোসাইটির চেয়ে বেশি ছিল- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
ক. ৩৭ জন
খ. বার্মাকিরা পারস্যের খোরাসানের অধিবাসী ছিল। বার্মাকি বংশের প্রতিষ্ঠাতা খালিদ বার্মাকির পিতা জাফর ছিলেন বলখের বৌদ্ধ মন্দিরের পুরোহিত। তার উপাধি ছিল বার্মাক। ৭০৫ খ্রিষ্টাব্দে ওয়ালিদের রাজত্বকালে সেনাপতি কৃতায়াবা- বিন-মুসলিম কর্তৃক মধ্য এশিয়ার বলখ বিজয়ের সময় জাফর সূত্রী-পুত্রসহ যুদ্ধবন্ধিরূপে ধৃত হন। পরবর্তীকালে তারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন। বার্মাকিরা শিয়া মতাবলম্বী ছিল।
মূলকথা: বার্মাকিরা প্রথমে বৌদ্ধ এবং পরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে।
উদ্দীপকে একদল জ্ঞানপিপাসু ব্যক্তির পৃষ্ঠপোষকতায় এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়, যেখানে জ্ঞান- বিজ্ঞানচর্চার জন্য বিভিন্ন প্রাচীন গ্রন্থ সংরক্ষণ করা হয়। সংস্থাটি গবেষণার কাজেও উৎসাহ প্রদান করে থাকে; কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠান না হওয়ায় নতুন নতুন গবেষণায় সংস্থাটি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে ব্যর্থ হয়। অনুরূপ একটি সংস্থা ৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে গড়ে তোলেন জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষক খলিফা আল-মামুন, যা ‘বায়তুল হিকমা' নামে পরিচিত। বায়তুল হিকমা অনুবাদ ব্যুরো, শিক্ষায়তন ও লাইব্রেরি- এ তিন ভাগে বিভক্ত ছিল। প্রখ্যাত মনীষী হুনায়ন ইবনে ইসহাককে এ সংস্থার মহাপরিচালক নিযুক্ত করা হয়। তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে লোক প্রেরণ করে গ্রিস, সিরিয়া, মিশর, ভারত থেকে গ্যালেন, ইউক্লিড, টলেমি, অ্যারিস্টটল, সক্রেটিস, প্লেটো প্রমুখ মনীষীর দুর্লভ গ্রন্থাবলি সংগ্রহ করেন এবং বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদের ব্যবস্থা করেন। বিশেষ করে ফারসি, গ্রিক ও সিরীয় ভাষায় রচিত বহু বই আরবিতে অনুবাদ করা হয়। বহু পণ্ডিত ব্যক্তি তার এ অনুবাদকাজে সহযোগিতা করেন। ঈসা-বিন-ইয়াহিয়া, মুসা-বিন-খালিদ, কোস্টা, মানকাহ এবং দুবান নামক ব্যক্তিবর্গ অনুবাদকাজ পরিচালনা করেন। অনুবাদের পারিশ্রমিক হিসেবে পুস্তকের ওজনে স্বর্ণ দেওয়া হতো। ঐতিহাসিক উইলিয়াম মুইর বলেন, “এসব মনীষীর পরিশ্রমের ফলে মধ্যযুগের অন্ধকারাচ্ছন্ন ইউরোপীয় জাতিগুলো তাদের নিজস্ব অথচ হারানো ধন প্রাচীন গ্রিসের বিজ্ঞান ও দর্শনের সঙ্গে পুনরায় পরিচিত হয়।" বিদেশি বহু পুস্তক অনুবাদের পর মামুন সেগুলোর উপর মৌলিক গবেষণার জন্য বিভিন্ন মনীষীকে নিয়োগ করেন। ফলে বিদেশি ভাবধারায় আরবি ভাষায় এক সৃজনশীল গবেষণার আত্মপ্রকাশ ঘটে। তাদের এ গবেষণা জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় ছড়িয়ে পড়ে ।
মূলকথা : এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশের মতো বাগদাদে খলিফা মামুন 'বায়তুল হিকমা' নামক সংস্থাটি গড়ে তোলেন।
ঘ. আব্বাসীয় খিলাফতের সাংস্কৃতিক উন্নয়নে বায়তুল হিকমার অবদান এশিয়াটিক সোসাইটির তুলনায় বেশি ছিল।
কারণ, উদ্দীপকে এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ নামক সংস্থাটিতে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার জন্য বিভিন্ন প্রাচীন গ্রন্থ সংরক্ষণে রাখা হয়। তাছাড়া সংস্থাটি গবেষণার কাজেও উৎসাহ প্রদান করে থাকে। তবে সরকারি সংস্থা না হওয়ার কারণে সংস্থাটি নতুন গবেষণায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে পারে না। কিন্তু খলিফা মামুন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বায়তুল হিকমায়' প্রাচীন গ্রন্থসমূহ শুধু সংরক্ষিতই থাকত না, বরং জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চার জন্য সেগুলো অনুবাদ করা হতো। এ বায়তুল হিকমা অনুবাদ ব্যুরো, শিক্ষায়তন ও লাইব্রেরি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এ প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়ক প্রখ্যাত মনীষী হুমায়ুন ইবনে ইসহাক অক্লান্ত পরিশ্রম করে পৃথিবীর বিখ্যাত মনীষীদের লেখা দুর্লভ গ্রন্থাবলি সংগ্রহ করার ব্যবস্থা করেন। এ লক্ষ্যে তিনি গ্রিস, স্পেন, সিরিয়া, মিশর, ভারত থেকে গ্যালেন, ইউক্লিড, টলেমি, অ্যারিস্টটল, সক্রেটিস, প্লেটো প্ৰমুখ মনীষীর গ্রন্থ সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন দেশে লোক প্রেরণ করেন। ইসহাক বিভিন্ন ভাষার এসব গ্রন্থ অনুবাদের ব্যবস্থা করেন; বিশেষ করে ফারসি, গ্রিক ও সিরীয় ভাষার বহু গ্রন্থ আরবিতে অনুবাদ করেন। এসব গ্রন্থ অনুবাদের ফলে মধ্যযুগের অন্ধকারাচ্ছন্ন ইউরোপীয় জাতিগুলো নিজস্ব অথচ হারানো সম্পদ প্রাচীন গ্রিসের বিজ্ঞান ও দর্শনের সঙ্গে পুনরায় পরিচিত হয়। এ যুগে অনুবাদ কাজের সঙ্গে সঙ্গে বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়েও প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়েছিল। বস্তুত, ব্যাপক অনুবাদ এবং মৌলিক গবেষণা ও সৃষ্টিধর্মী গ্রন্থ প্রণয়নের ফলে খলিফা মামুনের আমলে জ্ঞান-বিজ্ঞান গ্রিক জ্ঞান- বিজ্ঞানের সমপর্যায়ে উন্নীত হয়। জ্যোতির্বিদ্যায় গবেষণার জন্য খলিফা মামুনই সর্বপ্রথম একটি মান মন্দির নির্মাণ করেন। যে সময় ইউরোপ অজ্ঞতার অন্ধকারে আচ্ছন্ন ছিল, সে সময় ইয়াহিয়া বিন আল-মনসুর, সিদ্ধ-বিন আলী, খালিদ বিন আব্দুল মালিক, প্রখ্যাত খ্যাতনামা গণিতজ্ঞ ও জ্যোতির্বিদ পৃথিবীর আকৃতি, গ্রহ, বিষুবরেখা, ধূমকেতু প্রভৃতি সম্বন্ধীয় বহু মূল্যবান তথ্য আবিষ্কার করেছিলেন। এটি ছাড়াও গণিত, রসায়নবিদ্যা, দর্শন ও সাহিত্য ক্ষেত্রেও খলিফা মামুনের শাসনামলে চরম উৎকর্ষতা সাধিত হয়। এ বায়তুল হিকমার মাধ্যমে মৃতপ্রায় ফারসি সাহিত্যও মামুনের পৃষ্ঠপোষকতায় নবজীবন লাভ করে।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, উদ্দীপকের এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ-এর তুলনার আব্বাসীয় খিলাফতের সাংস্কৃতিক উন্নয়নে 'বায়তুল হিকমা এর অবদান অনেক বেশি- উক্তিটি সত্য।
মূলকথা : সাংস্কৃতিক উন্নয়নে এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ-এর তুলনায় আব্বাসীয় আমলের রায়তুল হিকমা ছিল বেশি।
প্রশ্ন-৭। করিম সাহেব চৌরা বংশের শাসনামলে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি বড় হয়ে দেখলেন তার সমাজে যারা শাসন করছে তারা ধর্মকর্ম সঠিকভাবে পালন তো করছেই না; বরং ধর্মবিরোধী অনেক কার্যকলাপ সমাজে চালু করেছে। শাসকগোষ্ঠী হলো বিশ্বাসঘাতক, হত্যাকারী। তিনি প্রথমে গোপনে তার বংশ পাটওয়ারীর প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন শুরু করেন এবং বিশেষ একটি অভিজাত ও পবিত্র পরিবারের সদস্যদের সহানুভূতি লাভ করেন । এ ছাড়াও যারা চৌরা বংশের বিরোধী তাদের একত্রিত করে অত্যন্ত গঠনমূলক উপায়ে আন্দোলনের প্রচার- প্রসার ঘটান। তার পরিচালিত আন্দোলনটি এতই সঙ্গোপনে পরিচালিত হতো যে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ অনুসন্ধানকারী অথবা বিশ্বস্ত অনুচর ব্যতীত অপর কাউকে এ বিষয়ে জানানো হতো না ।
ক. দ্বিতীয় মারওয়ান কত খ্রিষ্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
খ. খোরাসানের পতন উমাইয়া রাজত্বের প্রতি একটি মারাত্মক আঘাতস্বরূপ।- ব্যাখ্যা কর।
গ. করিম সাহেবের কার্যক্রমের সাথে পাঠ্যপুস্তকের মুহম্মদের কার্যক্রমের তুলনা কর।
ঘ. করিম সাহেবের আন্দোলনই আব্বাসীয় আন্দোলন। মতামত দাও।
উত্তর
ক. দ্বিতীয় মারওয়ান ৭৪৪ খ্রিষ্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
খ. খোরাসান ছিল উমাইয়াদের সর্বশেষ শক্তিশালী ঘাঁটি । উমাইয়া বংশের শেষের দিকে খোরাসানের মাওয়ালিরা বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিল, আর এ সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে ইমামগণ খোরাসান ও পারস্যে মাওয়ালিদের মধ্যে সর্বপ্রথম প্রচারকাজ চালান। আবু মুসলিমের প্রাণস্পর্শী বক্তৃতায় বহু লোক তাঁর পতাকাতলে সমবেত হয়। উমাইয়া শাসনকর্তা নসর-বিন- সাইয়ারের অনুপস্থিতিতে খোরাসানে প্রচণ্ড আক্রমণ পরিচালিত হয় এবং খোরাসান আবু মুসলিমের হস্তগত হয় এবং উমাইয়া বংশের পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে। তাই বলা যায়, খোরাসানের পতন উমাইয়া রাজত্বের প্রতি এক মারাত্মক আঘাতস্বরূপ।
মূলকথা : খোরাসানের পতনে উমাইয়া বংশের পতন অনিবার্য হয়ে উঠে।
গ. উদ্দীপকে করিম সাহেবের কার্যক্রমের সাথে পাঠ্যপুস্তকের মুহম্মদের কার্যক্রমের তুলনা করা যায়। করিম সাহেবের মতো মুহম্মদ আলী আব্বাসীয় বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তৎকালীন শাসক উমাইয়াদের অনাচার, অত্যাচার, অনৈসলামিক কার্যকলাপ, গোত্রপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্ব, বৈষম্যমূলক ব্যবহার, বিজাতীয় মনোভাব, সর্বোপরি হাশেমি বংশের গৌরব অক্ষুণ্ণ রাখার নিমিত্তে এবং নিজ বংশের প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য গোপন আন্দোলন শুরু করেন। প্রথমে গোপনে প্রচারণা চালিয়ে আহল আল-বায়ত মহানবি (স.)-এর পরিবারবর্গের সহানুভূতি লাভ করেন। এ ছাড়া উমাইয়াবিরোধী। সমস্ত সম্প্রদায় ও গোত্র; যথা- খারিজি, মাওয়ালি, শিয়া বা আলীর দলের সক্রিয় সমর্থন লাভ করে একটি সংঘবদ্ধ সর্বদলীয় আন্দোলনে পরিণত হয়। আব্বাসীয় প্রচারকগণ উমাইয়া বিদ্বেষকে মূলধন করে নিজেদের স্বার্থে এ মর্মে প্রচারণা করতে থাকেন যে, তারা মহানবি (স.) তথা ফাতেমীয় বংশীয়দের দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করেছেন। মুহম্মদ পরিচালিত আন্দোলনটি এতই সঙ্গোপনে পরিচালিত হতো যে, প্রতিজ্ঞাবদ্ধ অনুসন্ধানকারী অথবা বিশ্বস্ত অনুচর ব্যতীত অপর কেউই এ বিষয় জানতে পারত না ।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লেখিত করিম সাহেবের কার্যক্রমের সাথে মুহম্মদ ইবনে আলীর কার্যক্রমেরই মিল পাওয়া যায়। মূলকথা : উদ্দীপকের করিম সাহেব পাঠ্যবইয়ের আব্বাসীয় খলিফা মুহম্মদের ছায়াচরিত্র।
পরিশেষে বলা যায়, করিম সাহেব নিজ বংশের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য যে আন্দোলন করেন তা মূলত আব্বাসীয় আন্দোলনেরই বহিঃপ্রকাশ
মূলকথা : উদ্দীপকের করিম সাহেবের আন্দোলনের অনুরূপ আন্দোলন ছিল আব্বাসীয় আন্দোলন।
প্রশ্ন-০৮। মিতা আব্বাসীয় খেলাফত প্রতিষ্ঠার কাহিনি পড়ছিল। নতুন খেলাফতের প্রথম আমির না হওয়া সত্ত্বেও তাকেই এই রাজবংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। খিলাফত লাভের পরপরই তিনি তাঁর চাচার বিদ্রোহ দমন করেন। এরপর তিনি নিরত্র 'X' কে নির্মমভাবে হত্যা করেন। এ ছাড়া তিনি পারস্য ও খোরাসানের বিদ্রোহ দমন এবং একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের ২০০ লোককে কারারুদ্ধ করেন। তার গৌরবময় কীর্তি হলো একটি নতুন নগর প্রতিষ্ঠা, য়া ছিল তার সাম্রাজ্যের রাজধানী। তাঁর নাম অনুসারে এই নতুন নগরীর নামকরণ করা হয় ।
ক. ৮০২ খ্রিষ্টাব্দে সেনাপতি নাইসিফোরাস কোন সম্রাজ্ঞীকে ক্ষমতাচ্যুত করে সিংহাসন দখল করেন?
খ. বায়তুল হিকমা বলতে কী বোঝায় ?
গ. মিতার পঠিত কাহিনির সাথে তোমার পঠিত কোন আব্বাসীয় খলিফার সাদৃশ্য আছে? ব্যাখ্যা কর ।
ঘ. তুমি কি মনে কর মিতার পঠিত আমিরের চেয়ে তোমার পঠিত আমির অধিক কৃতিত্বের দাবিদার? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও ।
উত্তর
ক..৮০২ খ্রিষ্টাব্দে সেনাপতি নাইসিফোরাস সম্রাজ্ঞী আইরিনকে ক্ষমতাচ্যুত করে সিংহাসন দখল করেন।
মূলকথা : জ্ঞানবিজ্ঞানের বিকাশে বায়তুল হিকমা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
গ. মিতার পঠিত কাহিনির সাথে আব্বাসীয় খলিফা মনসুরের জীবন কাহিনির সাদৃশ্য রয়েছে। আল-মনসুর আব্বাসীয় বংশের প্রথম শাসক না হয়েও এ বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত। এই রাজপরিবারের স্থায়িত্ব, খলিফাগণের অপ্রতিহত ক্ষমতা এবং রাজনৈতিক প্রাধান্য লোপের পরও এদের প্রকৃত প্রতিপত্তি লাভ তাঁরই দুরদর্শিতার গুণে সম্ভব হয়েছিল। তিনি সুন্নি ধর্মমত প্রতিষ্ঠাকে খিলাফতের সম্মান সংরক্ষণ ও বৃদ্ধিসাধন করেছিলেন। তিনি শাসনব্যবস্থার সাথে ধর্মীয় ব্যবস্থার সমন্বয় সাধন করে সুখ্যাতি অর্জন করেন। আল-মনসুর আব্বাসীয় বংশকে সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিষ্ঠুর আচরণ করতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি। এ প্রসঙ্গে ঐতিহাসিক মুর বলেন, “তাঁর সব সদগুণ থাকা সত্ত্বেও বিশ্বাসঘাতক ও নিষ্ঠুর হিসেবে ইতিহাসের রায় তাঁর বিরুদ্ধেই যাবে। সানাবাদের বিদ্রোহ, রাওয়ান্দিয়া বিদ্রোহ, খোরাসান ও তারাবিস্তানের বিদ্রোহ, হিরাতের শাসনকর্তার বিদ্রোহ, বার্বার ও খারিজিদের বিদ্রোহ দমন করে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছিলেন। এমনকি যে আলী বংশীয়দের সমর্থন এবং যে আব্দুল্লাহ ও আবু মুসলিমের বাহুবলে আব্বাসীয় বংশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তাঁদের প্রতিও তিনি নৃশংস আচরণ করেছেন। এত কিছু সত্ত্বেও তিনি একজন ন্যায়নিষ্ঠ, মিতব্যয়ী, কর্মতৎপর ও প্রজাবৎসল শাসক হিসেবে সুপরিচিতি লাভ করেছেন। সকল প্রকার বিপদ অবসানের পর তিনি নতুন রাজধানী স্থাপনের জন্য বাগদাদ নগরীকে নির্বাচন করেন। দজলা নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত এ স্থানে তিনি একটি নগরী প্রতিষ্ঠা করেন, যা ইতিহাসখ্যাত বাগদাদ নগরী নামে পরিচিত। এ সমস্ত কারণে আব্বাসীয় বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।
মূলকথা : আল-মনসুর ছিলেন আব্বাসীয় বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা।
মূলকথা : খলিফা মনসুর একজন যোগ্য শাসক হিসেবে বিশেষ খ্যাতি লাভ করেছিলেন।
ক. খলিফা হারুন-অর-রশিদ তাঁর কতজন পুত্রকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করেছিলেন?د
খ. আমিন ও মামুনের মধ্যকার দ্বন্দ্বে আরব-পারসিক দ্বন্দ্বের কারণ কী ছিল? ২
গ. উদ্দীপকের ঘটনাবলির সাথে আব্বাসীয়দের খিলাফত লাভের পরবর্তী ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে কি? বর্ণনা কর। ৩
ঘ. "শাসক বংশের পরিবর্তনে সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়ে।" আববাসীয় খিলাফত লাভের আলোকে উব্রিটির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
ক. তিনজন।
খ. আব্বাসীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর আরব ও পারসিক আমিরদের মধ্যে প্রভাব ও প্রাধান্য নিয়ে প্রবল দ্বন্দ্ব ও প্রতিযোগিতা শুরু হয়। আমিন তাঁর মাতাপিতার দিক থেকে খাঁটি আরব ছিলেন এবং সেজন্য তিনি গর্ববোধ করতেন। অপরদিকে মামুনের মাতা সারাজিল ছিলেন একজন পারসিক মহিলা। মামুনের ধমনীতে পারসিক রক্ত প্রবাহিত হওয়ায় তিনি পারস্যবাসীদের সমর্থন ও সহযোগিতা লাতে সমর্থ হন এভাবে আমিনের রাজত্বকালে আব্বাসীয় সাম্রাজ্য আরব বনাম পারসিক- এ দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরে বিভক্ত হয়।
মুলকথা: আমিনের যাতা আরবি আর মামুনের মাতা পারসিক ছিলেন।
গ. হ্যাঁ, উদ্দীপকের ঘটনাবলির সাথে আব্বাসীয়দের খিলাফত লাভের পরবর্তী ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে। নিচে বিষয়টি বর্ণিত হলো:
আব্বাসীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠা একটি বৈপ্লবিক ঘটনা, যা সে ইসলামের পরবর্তী যুগের জীবনব্যবস্থা, সমাজ, সংস্কৃতি, হা সভ্যতা, শিল্পকলা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানকে যথেষ্ট প্রভাবিত নি করেছিল। খুলাফায়ে রাশেদিন ছিল ইসলামি ধর্মতন্ত্র, উমাইয়া খিলাফত ছিল আরবদের গোত্রগত ও জাতিগত রাজতন্ত্র, আর কা আব্বাসীয় খিলাফত ছিল ইসলামি সাম্রাজ্য ও মুসলিম রাজতন্ত্র। আব্বাসীয় খলিফারা খিলাফতের ধর্মীয় প্রকৃতির খা উপর গুরুত্ব আরোপ করে আরব, পারসিক, তুর্কি ও অন্যান্য মুসলমান প্রজার নিরঙ্কুশ আনুগত্য ও সমর্থন লাতের চেষ্টা গা করতেন। আব্বাসীয় খিলাফতের রাজনৈতিক পরিবেশ উমাইয়া খিলাফত থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। কেবল একটি খণ্ডিত সাম্রাজ্যের উপর আব্বাসীয়দের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত ছিল। আব্বাসীয় শাসকগণ আরবীয় আপেক্ষা অধিক পারসিক ভাবাপন্ন হয়ে পড়েছিলেন। উমাইয়াদের আমলে সিরিয়াবাসীরা যে স্থান দখল করেছিল, ইরাকিরা এখন সেই গৌরবময় স্থান দখল করল। আব্বাসীয়রা ক্ষমতা লাভের পর সিরিয়ার দামেস্ক ক থেকে ইরাকের বাগদাদে রাজধানী স্থানান্তর করে। উজির বা প্রধানমন্ত্রী পদের সৃষ্টি আব্বাসীয় শাসনামলের একটি খ উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। পূর্ববর্তী ব্যবস্থায় খলিফাগণ শাসনকাজ পরিচালনা করার জন্য উপদেষ্টা নিয়োগ করতেন। আব্বাসীয়রা তদস্থলে উজির পদের সৃষ্টি করে। কালক্রমে উজিরগণ শাসনকাজে সর্বেসর্বা হয়ে ওঠেন এবং খলিফার উপর বিরাট প্রভাব বিস্তার করতে থাকেন।
মুক্তকথা: আলস্টের বাদনামলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটে।
মূলকথা: আব্বাসীয় যুগে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে বিরাট পরিবর্তন লক্ষ করা যায়।
ক. খলিফা হারুন-অর-রশিদের যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ সংগীতজ্ঞ কে ছিলেন?
খ. কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে হারুন-অর-রশিদের কৃতিত্ব ছিল অসাধারণ। ব্যাখ্যা কর।
গ. আক্তার হোসেনের বর্ণনায় যে পরিবারের পরিচয় পাওয়া যায় পাঠ্যবইয়ের আলোকে ঐ ধরনের একটি পরিবারের উত্থানের বর্ণনা দাও।
ঘ. উদ্দীপকের কারণগুলো ছাড়াও আরও কিছু কারণে বার্মাকি পরিবারের পতন হয়েছিল। মতামত প্রদান কর।
উত্তর
ক. খলিফা হারুন-অর-রশিদের যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ সংগীতজ্ঞ ছিলেন ইব্রাহিম আল-মাওসিলি।
খ. কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে খলিফা হারুন এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তিনিই সর্বপ্রথম মুসলিম শাসক যিনি চীদের সম্রাট ফাগফুর প্রেরিত রাষ্ট্রদূতকে সাদরে অভ্যর্থনা জানান, চীন এবং ভারতবর্ষ থেকে কূটনীতিক ও উপঢৌকন আদান-প্রদান করেন। ফ্রান্সের সম্রাট শার্লিমেনের সাথে হারুন কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। হাবুন শার্লিমেনের নিকট যেসব উপহার প্রেরণ করেছিলেন সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক-পরিচ্ছদ, সুগন্ধি দ্রব্য এবং অলঘড়ি।
সুতরাং বলা যায়, কুটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে হাতুন-অর-রশিদের ভূমিকা ছিল অসাধারণ।
গ.উদ্দীপকে আত্মার হোসেনের বর্ণনায় বার্মাকি পরিবারের পরিচয় খলিফা আবুল আব্বাসের সময় সুদূর খোরাসান থেকে জাফর নামে বার্মাকি পরিবারের একজন প্রতিনিধি দত্তবারে আসেন। তিনি ৭০৫ খ্রিষ্টাব্দে পুত্রসহ মুসলিম সেনাপতি কর্তৃক কারারুদ্ধ হয়ে পরবর্তীকালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুক্তিলাভকরেন। তবে এ বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন খালিদ বার্মাকি, ঘিনি ছিলেন পারসিক। আব্বাসীয় বংশ প্রতিষ্ঠায় খালিদ ব্যর্মাকি বিশেষ ভূমিকা পালন করায় আস-সাফফাহ খলিফা হয়েই তাঁকে কোষাধ্যক্ষ নিযুক্ত করেন। খলিফা মনসুরের সময়ও তিনি উত্ত পদে বহাল ছিলেন, পরবর্তীকালে খলিফা মাহদী তাঁকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দান করেন। খালিদের পুত্র ইয়াহিয়াও। লিভার ন্যায় সুযোগ্য ছিলেন। তিনি খলিফা হারুনের গৃহশিক্ষক। ছিলেন এবং হাবুন তাঁকে পিতা বলে ডাকতেন। ইয়াহিয়ার চার পুত্র ফজল, জাফর, মুসা ও মুহম্মদ উচ্চপর্যায়ের শাসন যোগ্যতাসম্পন্ন পুরুষ ছিলেন। বার্মাকিগণ দীর্ঘ ১৭ বছর (৭৮৭-৮০৩ খ্রিষ্টাব্দ) ধরে আনুগত্যের সাথে হারুন-অর-রশিদের রাজত্বকে গৌরবোজ্জ্বল করে তোলেন। তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতায় সাম্রাজ্যে বহু মসজিদ, মাদ্রাসা, খাল, রাস্তাঘাট ইত্যাদি নির্মিত হয়। তাদের সুশাসনে সাম্রাজ্য সুখ ও সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে। ৮০৩ খ্রিষ্টাব্দে আকস্মিকভাবে এ বংশের পতন ঘটে।
মূলকথা: খলিফা আবুল আববাসের সময় খোরাসান থেকে আগত জাফর বামীতির মাধ্যমে বার্মাকি পরিবারের উত্থান ঘটে।
ঘ. বার্মাকি পরিবারের আকস্মিক পতন ঘটলেও এর পতনের জন্য উদ্দীপকে উল্লেখিত কারণ ছাড়াও আরও অনেক কারণ রয়েছে।
দুপকথা: সুখ্যাতি অত্যধিক হড়িয়ে পড়লে খলিফা হাসুন-অর-রশিদ বার্মারিদের বধংস করেন।
প্রশ্ন-১১। শান্তিনগর গ্রামটিতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। নিজেদের ভুল এবং অন্যদের অসন্তোষ ও বিদ্রোহের কারণে একে একে গ্রামের সথ বংশের পতন হয়। একূপ একটি বংশ ১২৫৮ খ্রিস্টাব্দে পতনের শিকার হয়। একজন আক্রমণকারীর দুর্ধর্ষ ও বর্বর আক্রমণে গ্রামটির পাঁচশ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। পতনের অন্যতম কারণ ছিল, ৩৭ জন শাসকের মধ্যে কয়েকজন ব্যতীত বাকি প্রায় সকলেই শাসক হিসেবে দুর্বল ছিলেন। এ ছাড়াও গ্রামটির বিশালতা, স্বাধীন অঞ্চলের উৎপত্তি, সামরিক বাহিনীর দুর্বলতা, জাতিগত কোন্দল এবং নৈতিক অধঃপতন উত্ত্ব শাসনের পতন ঘটায়।
ক. ইদ্রিসী বংশ কত খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়?
খ. গোপ আরবানের ধর্মযুদ্ধের আহ্বান বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা কর।
গ. শান্তিনগরের আলোচিত বংশের পতনের সাথে পাঠ্যপুস্তকের একটি রাজবংশের পতনের যে মিল খুঁজে পাওয়া যায় তা বর্ণনা কর।
ঘ. তুমি কি মনে কর, দুর্বল শাসকই রাজাপতনের জন্য প্রধানত দায়ী? মতামতের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর
ক.৭৮৮ খ্রিষ্টাব্দে ইদ্রিসী বংশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
মুলকথা গোল আরবান বালাদের প্রলোভন দেখিয়ে ক্রুসেডে
গ. শান্তিনগরের আলোচিত বংশের পতনের সাথে পাঠ্যপুস্তকে আলোচিত আরাসীয় রাজবংশের পতনের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে আবুল আব্বাস কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত আব্বাসীয় খিলাফত ১২৫৮ খ্রিষ্টাব্দে হালাকু খানের বাগদাদ অবরোধ ও ধ্বংসের ফলে বিলুপ্ত হয়। দুর্ধর্ষ ও বর্বর তাতার আক্রমণে সুদীর্ঘ পাঁচশ বছরের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের আকস্মিক পরিসমাপ্তি ঘটে। তবে এ বংশের পতনের জন্য অনেক কারণ রয়েছে। পতনের অন্যতম কারণ ছিল ৩৩৭ জন শাসকের মধ্যে কয়েকজন ছাড়া বাকি প্রায় সবাই শাসক হিসেবে দুর্বল ছিলেন। এছাড়া গ্রামটির বিশালতা, স্বাধীন অঞ্চলের উৎপত্তি, সামরিক বাহিনীর দুর্বলতা, জাতিগত কোন্দল, নৈতিক জন্যপান, শ্রেণিগত বিয়েন, সুষ্ঠু মনোনয়ন নীতির অভাব, আজাদীয় বংশ পরনের জন্য দায়ী
পরিশেষে বলা যায়, শাপ্তিনগরের আলোচিত বংশের পতনের মধ্য দিয়ে আবদানীয় রাজবংশের পতনের চিত্রই ফুটে উঠেছে
ঘ. একটি ব্যাশের পড়নের জন্য দুর্বল শাসকই প্রধানত দায়ী। আকাসীয় বংশের ৩৭ জন শাসকের মধ্যে আবুল আজাদ, আল-মনসুর, হারুন-অর-রশিদ, আল-মামুন প্রমুখ ছাড়া বাকি সব শানকই ছিলেন দুর্বল। শাষক দুর্বল হলে প্রশাসনও দুর্বল হয়ে পড়ে। আকাসীয় বংশের ক্ষেত্রেও সেটি ঘটেছে। শাসকের দুর্বলতার সুযোগে আব্বাসীয় সাম্রাজ্যের মধ্যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বেশলিমু আধীন রাজবংশের উত্থান ঘটে। দুর্বল প্রশাসনের কারণে সামরিক বাহিনীতেও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। যেমন-খলিফা আল-মুতাসিমের গঠিত তুর্কি বাহিনী শাসকের দুর্বলতার সুযোগে এতটাই ক্ষমতাশালী হয়ে উঠে যে, তারা ইচ্ছায়তো খলিফাদের বিংহাসনচ্যুত ও ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করত। তাছাড়া আভবাসীয় বংশের বেশিরভাগ শাসকই মদ্যপায়ী স্থিসেন। উপপত্নী গ্রহণের প্রথাও আব্বাসীয় আমলে বাল প্রচলিত হয় এবং প্রাদেশিক শাসনকর্তাগণ নর্তকী ও উপপত্নী উপহার দিতেন। তা ছাড়া আরব ও খ্রিস্টানদের মধ্যে বিবাহের ফলে আকদাসীয়দের আভিজাত্য ক্ষুন্ন হয়। ফলে নারী ও মন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় শাসকবর্গ দুর্বল হয়ে পড়ে।
প্রশ্ন-১২। শাহাবুল আলম একজন ব্যাংক কর্মকর্তা হয়েও বিভিন্ন দেশ, যুগ ও বংশের সভারা ও সংস্কৃতির বিষয়ে লিখিত এইপত্র পাঠে আনন্দ গান। তিনি একটি যুগ সম্পর্কে পড়তে গিয়ে দেখেন, সে মূলে মুসলিম বৃষ্টি, সভ্যতা ও জ্ঞানানুশীলন বিশ্ব সভ্যতার শীর্ষদেশে উন্নীত হয়েছিল। এ কারণে এ যুগকে 'স্বর্ণযুগ' বলা হয়। ঐ যুগেই কিবলা নির্ধারণ, পবিত্র হজ পালনসহ বিভিন্ন কারণে খ মুসলমানয়া ভূগোল শাস্ত্রের মন্ত্রের চর্চা শুধু করে। ঐ যুগে বিজ্ঞানসম্মতভাবে ইতিহাসের চর্চা এবং উৎকর্ষ সাধিত হয়। তাদের দর্শন চিন্তা এক নরদিগক্ষের সূচনা করে। বানরের দেহ নিয়ে গবেষণা ও ওষুধপত্রের জন্য এ যুগ সমধিক পরিচিত ছিল।
ক. আরব রসায়ন শাস্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
খ. কাব্যচর্চা ও সাহিত্য সৃষ্টির ক্ষেত্রে আব্বাসীয় খেলাফত গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সূচনা করে। ব্যাখ্যা কর।
গ. পাহাবুল আলমের পঠিত বইয়ের সাথে ইতিহাসের যে যুগের সভ্যতা ও সংস্কৃতির মিল রয়েছে তাদের দর্শনশাস্ত্র চর্চার বর্ণনা দাও।
ঘ.তুমি কি মনে কর, উর যুগের চিকিৎসাশাস্ত্র ইউরোপের চিকিৎসাশাসেত্রর পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্স ছিল? মতামতের সপক্ষে
উত্তর
ক.আরব রসায়নশারের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন জাবির ইবন হাহিয়ান।
গ. শাহাবুল আলমের পঠিত বইয়ের সাথে ইতিহাসের আব্বাসীয় ঘুসের সত্যতা ও সংস্কৃতির মিল রয়েছে। নিচে আকৎসীয় যুগের দর্শনশাস্ত্র চর্চার বর্ণনা দেওয়া হলো-
আলাসীয় যুগে দর্শনশাস্ত্রের চর্চা এক নবদিগন্তের সূচনা করে। দর্শন হচ্ছে যৌক্তিক পদ্ধতিতে সত্যে উপনীত হওয়ার পদ্মা। গ্রিক চিপ্তাধারায় প্রাচ্যের প্রভাব মুসলমানদের মনে পরিশুদ্ধি লাভ করে এবং আরবি ভাষার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে আরবি দর্শনের সৃষ্টি হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে আরবি দর্শন কুরআন ও হাদিসভিত্তিক হলেও পরবর্তীকালে তা গ্রিক ও পারস্য দর্শন দ্বারা তা প্রভাবান্বিত হয়। ইমাম গাজ্জালি, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস, হজরত আলী (রা.) ছিলেন ইসলামি দার্শনিকদের মধ্যে অন্যতম। অপরদিকে অ্যারিসাটল তথা গ্রিকপন্থি দার্শনিকদের মধ্যে আল কিন্দি, ইবন রুশদ, আল ফারাবি, ইবনে সিনা প্রমুখ খ্যাতি জর্জন করেন। 'আরবদের দার্শনিক' নামে খ্যাত আল কিন্দি আরিস্টটল ও প্লেটোর দর্শনের মধ্যে সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করেন। হিটির ভাষায়, 'ইসলামের সাথে গ্রিক দর্শনের যে সমন্বয় আরববাসী আল কিন্দি শুরু করেন তা ভুর্তি আল ফারাবি এবং পারস্যবাদী ইবনে সিনা সুদুরপ্রসারী করেন। তবে দর্শনশাসের আল ফারাবির অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি।
পরিশেষে বল্য যায়, আকদাসীয় যুগে মুসলমানরা চিকিৎসাশাসের এতটাই উন্নতি লাভ করেছিল যে তখন হয়য়োনীয় চিকিৎসাশাসের মুসলমানদের রচিত কিছু বই পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুর করা হয়।
প্রশ্ন-১৩। রফিক মিয়া সুখপুর ইউনিএনের চেয়ারম্যান। জনদরদি এ জনপ্রতিনিধি ইউনিয়নবাদীর অবস্থা স্বয়ং অবগত হওয়ার জন্য হয়বেশে ইউনিয়ন ভ্রমণ করতেন। জনসাধারণের সর্ববিধ উন্নতি বিধান এবং স্বার্থ সংরক্ষণে তার উপজেলায় কোনো চেয়ারম্যানই তার মতো যত্নবান ছিলেন না।'
ক. আল-মামুন কত খ্রিষ্টাব্দে আব্বাসীয় খিলাফত লাভ করেন?
খ. আল-মনসুরকে আব্বাসী খিলাফতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। কেন?
গ. উদ্দীপকে রফিক সাহেবের মধ্যে আব্বাসী খলিফা হারুন-অর-রশিদের কোন চারিত্রিক গুণাবলির প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকে প্রকাশিত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ছাড়াও খলিফা হারুন-অর-রশিদ নানা গুণের অধিকারী ছিলেন। পাঠ্যপুস্তকের অ্যলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।।
উত্তর
ক. ৮১৩ খ্রিষ্টাব্দে আল-মামুন আব্বাসীয় খিলাফত লাভ করেন।
খ. . আবু জাফর আল-মনসুর ৭৫৪ খ্রিষ্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন। রাজ্যবিস্তার ও অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমনের পাশাপাশি জনকল্যাণকর, আন-বিজ্ঞানে উৎকর্ষ কৃতিত্ব স্থাপন করেন। ৭৬২ খ্রিষ্টাব্দে বাগদাদে রাজধানী স্থাপন করে দজলা নদীর পশ্চিম তীরে বাগদাদ নগরী, অনুবাদ বিভাগ স্বস্থ্যাপন, কুরআন হাদিস সংরক্ষণ ও সংকলন, সাম্রাজ্যে বস্তু নগর, সরাইখানা, রাজপথ ও চিকিৎসালয় নির্মাণ করেন। তাঁর এসব অবদানের জন্য পি. কে. হিটি আল মনসুরকে আব্বাসী বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে উল্লেখ করেন।.
গ. উদ্দীপকের রতিক সাহেবের মধ্যে আদানি খরিফ। হাতুন এ রশিদের জনদানি ও প্রজাংগুনতার চাইত্রিক গুণাবদির প্রর্যাগ পেয়েছে। নিয়ে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
ঘ. উদ্দীপকে প্রকাশিত চারিত্রিক বৈশিষ্টা মাড়াও খলিফা হারুন অর-রশিদ মানা গুণের অধিকারী ছিলেন। পাঠ্যপুস্তকের আলোকে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
মুলকথা: হামুন-এর এপির ছিলেন একজন গৌলোমী শায়ার।
প্রশ্ন-১৪। জৈাতান্ত্রিক মনোভাবের অধিকারী প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হাসেন বিভিন্ন গুণাবলির অধিকারী হলেও তার মধ্যে প্রবল সন্দেহপ্রবণতা ছিল। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য অনেক মনিয়া প্রতিদ্বন্দ্বীকে তিনি নির্মমভাবে সরিয়ে দেন। আসলে ইরাকের জটিল রাজনৈতিক, জাতিগত বিদ্বেষ, বিভিন্ন গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের আত্মকলহ তাকে কঠোর হতে বাধা করেছিল। সাদ্দাম হোসেন বিভিন্ন কৌশলে শতবাবিতন্ত্র ইরাকিদের একত্রিত করে দীর্ঘমেয়াদি
ক. পায়ন কায়েম করতে সক্ষম হন। 'আল মনসুর' শব্দের অর্থ কী?
খ. আল মনসুর বাগদাদে রাজধানী স্থাপন করেছিলেন কেন?
গ. উদ্দীপকে প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতি আচরণ খলিফা আল মনসুরের কোন কর্মকাণ্ডের অনুরূপ? ব্যাখ্যা কর।।
ঘ. দীর্ঘমেয়াদি। পাসন কায়েমে সাদ্দাম হোসেনের ওয়ে আল মুনসুর আরও দূরদর্শী ছিলেন। উক্তিটি মূল্যায়ন কর।
উত্তর
ক. বিজয়ী
খ. আল মনসুরের খিলাফতে চিরস্মরণীয় গৌরবময় জীর্তি বাগদাদ নগরী প্রতিষ্ঠা। তিনি আব্বাসিদের জন্য নিরাপদ স্থান হিসেবে ৭৮২-১৯ খ্রষ্টাব্দে দজলা (টাইগ্রিস) নদীর পশ্চিম তীরে বাগদাদকে রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলেন। মনসুরের নামানুসহর এর নামকরণ হয় 'মানসূরিয়া। এ নগরী প্রতিষ্ঠায় ৪৮ লাখ ৮৩ হাজার দিরহাম ব্যয় হয়। রাজধানীতে সুরক্ষিত করার জন্য গোলাকার প্রাচীর লেখনী নির্মাণ করা যায়। হিটি বলেন, 'নতুন জায়গায় হাজবানী স্থাপিত হওয়ায় ভৌগোলিক দিক থেকে প্রাচোর সথে ভাবের আদান-প্রদানের সুযোগ তৈরি হলো।"
গ. উদ্দীপকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের শাসনব্যবস্থা স্কৈাতারিক একনায়কতন্ত্রের পর্যায়ভুক্ত। স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার মূলকথা হলো প্রতিদ্বন্দ্বী। প্রতিপক্ষকে সমন করে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতায় টিকে থাকা। তাই বস্তুধাবিভর ইরাক জাতির বিভিন্ন শ্রেনি ও পেশার মানুষকে কঠোরভাবে দমন ও শাসন করে তিনি তার ক্ষমারা পোক্ত করেন। উদ্দীপকের সাদ্দামের চরিত্র আব্বাসি খলিফা আল মনসুরের চরিত্র ও কর্মকান্ডের মধ্যেও দেখা যায়। আল মনসুর ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে দেখলেন যে নব্যসাম্রাজ্যের বহিশত্রু অপেক্ষা অভ্যন্তরীণ শত্রু বেশি। ভাই তিনি সূঢ়চিত্তে ও কঠোর হয়ে, সব প্রতিদ্বন্দ্বীকে দমন করতে মনোনিবেশ করেন। এজন্য তিনি ৭৫৪ খ্রিষ্টাব্দে সিরিয়ার বিদ্রোহী চাচা আব্দুল্লাহ ইবনে আলীকে পরাজিত ও বন্দী করেন। আলানি বিলাফত প্রতিষ্ঠায় খোরাসানের শাসনকর্তা আবু মুসলিম খোরাসানির অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু জনপ্রিয়তা অর্জনকারী আবু মুসলিমকে ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবে আল মনসুর ডাকেও চাতুর্যের সাথে হত্যা করেন। এভাবে আল মনসুর সানবাদের বিদ্রোহ ও খোরাসানের বিদ্রোহ দমন, হজরত আলী (রা) এর বংশধরদের প্রতি দুর্ব্যবহার ও ৭৫৮ খ্রিষ্টাব্দে রাওয়ান্দিয়া সম্প্রদায়কে সমন করেন। এসব কর্মকার্ড মূলত সাদ্দাম হোসনের ক্ষেত্রেও
ঘ. সর্বক্ষেত্রে একাধিক বাক্তি সমান পারদর্শী সচরাচর হয় না। উদ্দীপকের শ্যামক সাদ্দাম হোসেন তার ক্ষমতা পাকাপোর ও দীর্ঘ মেয়াদি করার জন্য নিকট বাত্রি ও প্রতিমুন্সীদের শায়েখা করলেও ভার শাসনকাল জল মনসুরের মতো দীর্ঘ স্থায়ী ছিল না। সাদ্দাম এক পর্যায়ে ক্ষমতাস্থাত ও মুস্তাদাপ্রাপ্ত হন পক্ষান্তরে খলিফা আল মনসুর ৭৭৫ খ্রিষ্টাব্দে হজ পালং করতে গিয়ে মক্কার মায়মুনার কাছে স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বেঁচে থাকলে হয়ত আগের সময় শাসনক্ষমতায় থাকতেন। আাছাড়া তার উত্তরাধিকারীরা আবধাদি শাসন বাবস্থার ধারাবাহিকতা কায়েম করেছিল, যার কৃতিস্থ আল মনসুরের। কারণ ডিদিই নরাগত আ্যাসিদের সিংহাসন একটি সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠা করেন। এজন্য তিমি একদিকে বিদ্রোহী প্রতিপক্ষ নমন করেছেন অন্যদিকে জনকল্যাণকর কাজ করেছেন। তার দুরদর্শিতার কারণেই বাগদাদের মতো নগর ও বিভিন্ন ধরনের স্থাপত্য স্থাপিত হয়েছে। যা তাকে আনধাদি বিলায়াতকে আরো সুসংহত কয়েছে। তাই সার্বিক বিচারে বলা যায়, উর উড়িটি সয়ং।
প্রশ্ন-১৫। হেমায়েত উদ্দিন তালুকদার তার গ্রামে নিজ উদ্যোগে একটি বিশাল পাঠাগার গড়ে তোলেন। প্রতিদিন প্রচুর পাঠক সমাবেশ হয় সেখানে। তিনি বিভিন্ন আধার পুযুত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলির বাংলা অনুবাদ ও গবেষণার ব্যবস্থাও করেন। দেশি বিদেশি বন্ধু বিদ্যোৎসাহী ব্যাঞ্জির সহযোগিতায় পাঠাগারটি উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি লাভ করেছে
ক. বুরান কে ছিলেন?
খ. ভ্রাতৃদ্বষে আমিনের পরাজয়ের একটি কারণ ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত পাঠাগারের সাথে স্বাবাসি, খিলাফতের। কোন প্রতিষ্ঠানের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকের পাঠাগারটি উস্ত্র প্রতিষ্ঠানের একটি আংশিককূপ মাত্র। উল্লিটির সত্যতা যাচাই কর।
উত্তর
ক. বুরান ৮ম আকলসি খুলিয়া আল মামুনের (শাকা: ৮১০-৮০০ খ্রিষ্টাব্দ) সতী ছিলেন।
খ. আফাসি খিলাফতের সবচেয়ে মর্মান্তিক বিয়োগাত্মক ঘটনা হলো আল মামুন ও আল আমীন ত্রাতৃদ্বয়ের মধ্যকার গৃহযুদ্ধ এবং আল আমীনের পরাজয়োত্তর শিরম্মেদ। বাজায়ণের উত্তরাধিকার দ্বন্দ্ব চিরাচরিত ঘটনা, তাই দেখা যায়, খলিফা হারুন-অর-রশিদের উত্তরাধিকারী মনোনয়ন নীতির এটির কারণে আল মামুন ও আল আমীনের মধ্যে সংঘাত বাধে। রন্ধে আল আমীনের স্বেচ্ছাচারিতা, আরব-পারসিত দ্বন্দ্ব, আমীন কর্তৃত মামুন অপসারণ, আল মামুনের অয় এবং আমীনের পরাজয় ঘটে। কারণ শাসন কাজে আমীন অযোগ্য এ বিলাৎপ্রয় ছিল, মামুনের ছিল দক্ষ সৈন্যবাহিনী; পক্ষান্তরে আমীনের সৈন্যবাহিনী অপরিণামদর্শী ছিল। তাছাড়া পারসিকরা মামুনের পক্ষাবলম্বন করলে মামুন সহজেই বাগদাদ দখল করে আমীনকে পরাজিত করেন।
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত হেমায়েত উদ্দিন তালুকদায় কর্তৃক তার নিজ গ্রামে প্রতিষ্ঠিত পাঠাগারের সাথে আনদাসি খিলাফতের 'বায়তুল হিকমা' প্রতিষ্ঠানের সাদৃশ্য রয়েছে। হেমায়েত সাহেবের মতো আববাসি খলিফা আল মামুন ৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে রাজধানী রাগস্যদে বায়তুল হিফজ' নামক প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা হবেন। বায়তুল হিকমা, অর্থ জনগৃহ মূলত আনের বিভিন্ন শাখার উন্নতি ও বিকাশের জন্য ডিবি কালজয়ী এ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। অনীয়ী হুনাইন-বিন-ইহসাককে এর ভরাবধায়ক লিখুন্ন করে জ্ঞান চর্যার নবদ্বার উন্মোচন করেন। বায়তুল স্থিতমার তিনটি পৃথক শাখা বা বিভাগ ছিল। পাখাগুলো হলো অনুবাদ বু্যুরো, গবেষণা কেন্দ্র ও গ্রন্থাগার। অনুবাদ ব্যুরোতে গ্রিস, স্পেন, মিশর, সিরিয়া, ভারত প্রভৃতি দেশ থেকে সংগৃহীত গ্যাসেন, ইউক্লিড, টলেমি, আঅ্যারিস্টটল, সক্রেটিস ও প্রেটো প্রমুখ মনীষীর প্রশ্নরাজি আরবিতে অনুবাদ করা হতো। অনুবাদকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ইসবিন ইয়াহিয়া, মুসা বিন খালিদ, মানকাহ, দুধান প্রমুখ। মৌলিক গবেষণার ক্ষেত্রে বায়তুল হিকমার অবদান অনন্য। এ বিভাগে মুহাম্মদ-বিন-মুসা আল খাওয়ারিজমি বীজগণিতের বাইবেল নামে খ্যাত। হিসাবুল জবর-ওয়াল মুকাকলাহ' নামক মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন। চিকিৎসা শাসের আরবি ভাষার প্রথম গ্রন্থ মাখাল-উল-আইন হইহান্না বিন মোসাওয়াহার এখান থেকেই রচনা করেন। এছাড়া ভূগোল, ইতিহাস, সাহিতা, দর্শন ও ধর্মীয় বহু গবেষণালদ মৌলিক গ্রন্থ এখানে রচিত হয়েছিল
মুলকথা: ইসলামের ইতিহাসে মুসলমানদের আম বিজ্ঞানের বিকাশ
ঘ. হেমায়েত উদ্দিন আলুকদার সাহেবের প্রতিষ্ঠানটি বিশাল পাঠাগার বটে, কিন্তু এটি এটি বায়তুল হিকমার মতো সুপরিসরে নয়। উদ্দীপকের পাঠাগারে পাঠক সমাবেশ, অনুবাদ ও পারষণায় ব্যবস্থা ছিল, তবে বায়তুল হিকমায় উক্ত বিষয়সমূহের জন্য পৃথক বিভাগ ছিল। যেমন বায়তুল হিকমায় অনুবাদ, গবেষণা ও পাঠাগার এ তিনটি পৃথক বিভাগ ছিল। খলিফা আল মামুনের উদার পৃষ্ঠপোষকতায় এসব বিভাগে বিভিন্ন আমার ও বিভিন্ন ধর্মের বহু দার্শনিক, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, সাহিত্যিক, আইনবিদ, হাদিস সংগ্রাহক প্রমুখ মনীষী অলঙ্কৃত করেছেন। এসব মনীষীর অক্লান্ত পরিশ্রমে বায়তুল হিকমা একটি সমৃদ্ধ জ্ঞানগৃহের সুনাম অর্জন করেছিল। বিখ্যাত বন্ধু পণ্ডিত বিখ্যাত অনেক মৌলিক গ্রন্থ এ প্রতিষ্ঠান থেকেই রচনা করেন। যেমন-আল খাওয়ারিজমির 'সুরাভুল আরদ', ইতিহাসবিদ আল ওয়াকিদির 'মাগাজি সভা কবি তাহ্মামের দিওয়ান হাসামা প্রভৃতি। এছাড়াও এখানে দুরবিন যন্ত্র, পৃথিবীর মানচিত্রসহ বস্তু মৌলিক যন্ত্র ও বিষয় উচ্চারন করা হয়েছিল। এ প্রতিষ্ঠানে আনের প্রায় সব শাখা চর্চা হতো। এখানে মনীষীদের অনুবাদ, গবেষণা, অধ্যয়নের ফলে পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি হয় এবং পাশ্চাত্যের ভাবধারায় আরবি ভাষায় এক সৃজনশীল গবেষণায় আত্মপ্রকাশ ঘটে। উল্লিখিত বিষয়ের ডিজিতে বলা যায়, উদ্দীপকের পাঠাগারটি বায়তুল হিকমার
একটি আংশিকরণ মাত্র। মুলকনা বায়তুল হিকমা' সমসাময়িক বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ ও সয়দপালী শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ছিব।
প্রশ্ন-১৬। সেতু আভ্যাসীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠার কাহিনি পড়ছিল। নতুন খিলাফতের প্রথম আমির নির্বাচিত না হওয়া সত্ত্বেও তাকেই এ বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। খিলাফত লাভের পরপরই তিনি তার চাচার বিদ্রোহ নক্ষন করেন। এর পর তিনি নিরসর X-কে নির্মমভাবে হত্যা করেন। এছাড়াও তিনি পারস্য ও খোরাসানের বিদ্রোহ দমন এবং একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের বহু লোককে কারারুদ্ধ করেন। তার গৌরবময় কীর্তি হলো একটি নতুন মণর প্রতিষ্ঠা যা দিল তার সাম্রাজ্যের রাজধানী। তার নাম অনুসারে এ নতুন নগরীর নামকরণ করা হয়।
ক.বাগদাদ নগর কে প্রতিষ্ঠা করেন?
খ.বায়তুল হিকমা বলতে কি বোঝ? ব্যাখ্যা কর।
গ. সেতুর পঠিত ঘটনার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের আববাসীয় খলিফার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকে সেতুর পঠিত আমিরের চেয়ে তোমার পাটীত আমির অধিক কৃতিত্বের দাবিদার। উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর
ক. আবু জাফনা আল মনসুর।
খ. বায়তুল হিকমা বা জ্ঞান নিজেভনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন খলিফা আল-মামুনের স্বরণীয় কৃতিত্বের অন্যতম। গ্রিন, পারস্য, সিরিয়া প্রকৃতি ভাষায় নিবিত পুস্তকাদির অনুবাদ কাজকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য ৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে খলিফা মামুন বাগদাদ নগরীতে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। একে ৩টি বিভাগ ছিল- গ্রন্থাগার, শিক্ষায়তন ও অনুবাদ কার্যালয়।
নাচন ইবনে ইসহাক নামের একজন সুপড়িয়কে এ প্রতিষ্ঠানের অত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করা হয়। তাই বায়তুল হিকমা প্রতিষ্ঠা খলিফা। মামুনের একটি বিশেষ কৃতিত্ব।
আল মনসুর আজানীয় বংশকে সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিষ্ঠুর। আচরণ করছেও কুণ্ঠাবোধ করেননি। এ প্রসঙ্গে ঐতিহাসিক স্থ এ বলেন, "ভার সব সদগুণ থাকা সাড়েও বিশ্বাসঘাতক ও নিষ্ঠুর হিসেবে ইতিহাসের রায় তার বিরুদ্ধেই যাবে।
সানাবাদের বিদ্রোহ, রাওয়ান্দিয়া বিদ্রোহ, বোরাসান ও তাবারিস্তানের বিদ্রোহ, হিয়াতের শাসনকর্তার বিদ্রোহ, বার্নার ও খারিজিদের বিদ্রোহ দমন করে তিনি যোগাডার পরিচয় দিয়েছিলেন।
এমনকি যে আলী বংশীয়দের সমর্থন এবং যে আব্দুল্লাহ ও আবু মুসলিমের বাহুবলে আকবানীয় বংশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তাদের প্রতিও তিনি দশংস আচরণ করেছেন।
এত কিছু সত্ত্বেও তিনি একজন ন্যায়নিষ্ঠ, মিতব্যায়ী, কর্মতৎপর ও প্রজাবৎসল শাসক হিসেবে সুপরিচিতি লাভ করেছেন। সব প্রকার বিপদ অবসানের পর তিনি নতুন রাজধানী আপনের জন্য বাগদাদ নগরীকে নির্বাচন করেন।
দজলা নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত এ খানে তিনি একটি নগরী প্রতিষ্ঠা করেন, যা ইতিহাস খ্যাত বাগনাদ নগরী নামে পরিচিত। এসব কারণে আকদাসীয় বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। মুলকথা: আল মনসুর আকাসীর বাপের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সেতুর পঠিত আমিরের চেয়ে আমার পঠিত অক্রোসীয় খলিফা আল মনসুর অধিক কৃতিত্বের দাবিদার।
কারণ একজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাজনীতিবিদ ও শাসক হিসেবে তিনি সেই যুগের অপ্রতিদ্বন্ধী ও সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন। তিনি আর বংশের স্থায়িভূবিধানকল্পে খলিফার পার্থিব ক্ষমতার সাথে জনসাধারণের আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের সংযোগ স্থাপন করেন। আয় পৃষ্ঠপোষকতায় মুদ্রি মতবাদের ভিত্তি স্থাপিত হয়। তায় উৎসাহে হানাফি ও মালেকি মাগ্রহাযও গড়ে উঠেছিল।
আষাড়া তিনি শুধু অভ্যন্তরীণ বিপদাপদ থেকেই সাম্রাজ্য থা আর্থেনিয়া, সায়লাম, পূর্ণিপতান ও উত্তর আফ্রিকায় বিস্তার ঘটিয়েছিলেন। সাম্রাজ্যের সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলসমূহে। তিনি বস্তু দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন।
মনসুর একজন শ্রেষ্ঠ বিদ্যোৎসাহী শাসন ছিলেন। পরবর্তীকালে শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অভলাসীয়গণ যে বিশ্বখ্যাতি অর্জন। করেছিল খলিফা মনসুরই নাম গোড়াপত্তন করেন। খলিফা। নিজের বিজ্ঞান এবং গণিতশাসের সুপণ্ডিত ছিলেন। তার আমলে হযরত (সা) এর বাণীসমূহ হাদিস ব্রহ্মরূপে সংগৃহীত হয় এবং তাফসির সংকলনও ভার সময়ই হয়।
খলিফা একটি অনুবাদ বিভাগ স্থাপন করে গ্রিক, পারদিক, সংস্কৃত প্রয়তি নানা ভাষায় লিখিয় বহুমূল্যবান গ্রন্থ আরবি, ফারসি এখোয় অনুবাদের ব্যবাক্ষ্য গ্রহণ করেন। বিশ্ববিখ্যাত বাগদাদ নগরী ও বুসাফা নামক শহরটি তিনিই নির্মাণ করেছিলেন।
বস্তুত তার অরুতে চেষ্টা ও কঠোর পরিশ্রমের ফলেই মাকাসীয় খিলাফতের গৌরবের পটভূমি রচিত হয়েছিল। এসবদিক বিবেচনা করে তবে আব্বাসীয় বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।
