আলালের পরিচয় দাও
আলালের পরিচয় দাও
উত্তর : মনসুর বয়াতি রচিত, দীনেশচন্দ্র সেন সংকলিত সে “মৈমনসিংহ গীতিকার" অন্তর্গত 'দেওয়ানা মদিনা' পালাতে প্রকৃত বং নায়কোচিত গুণাবলি ধারণ করে আছে আলাল।
কেবল জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা হিসেবেই নয়- তার দৃঢ়চিত্ততা, দূরদর্শিতা, বুদ্ধিমত্তা ও ব্যক্তিত্ব এ গাঁথার চরিত্র উদ্ভাবনার ক্ষেত্রে উজ্জ্বল প্রান্ত। জল্লাদের হাত থেকে প্রাণরক্ষার পর দুভাইয়ের চরিত্র ভিন্ন ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত হয়েছে।
দুলালকে রক্ষা করার জন্য সে নিজের জীবন দিতেও পিছপা হয় নি। একদিকে আলাল প্রতিশোধস্পৃহা এবং রাজ্য পুনরুদ্ধারের সংকল্প নিয়ে দূরদর্শী ও আশাবাদী। অন্যদিকে দুলাল পরিবর্তিত পরিস্থিতিকে মেনে নেয়ার মধ্য দিয়ে অদূরদর্শী ও নৈরাশ্যবাদী।
উদ্দেশ্য চরিতার্থতার জন্য কাজলকান্দার স্ত হীরাধরের বাড়ি থেকে পলায়নের মধ্যে আলালের সংকল্পপূর্ণ মানসিকতাই সক্রিয় ছিল। পরবর্তীকালে দেওয়ান সেকেন্দারের গৃহে পারিশ্রমিকবিহীন শ্রমদানের ঘটনায়ও তার দূরদর্শী পরিকল্পনার প্রকাশ ঘটে।
বিমাতার ষড়যন্ত্রের প্রতিশোধ এবং ল রাজ্য পুনরুদ্ধারের সংকল্প বাস্তবায়নের জন্য আলাল যে পরিকল্পনা প্রা গ্রহণ করে, তাও অত্যন্ত নিখুঁত। এক্ষেত্রে তার দক্ষ কূটনীতিক মানসিকতার পরিচয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
রাজ্যজয়ের পর কনিষ্ঠভ্রাতাকে অনুসন্ধান ও উদ্ধার করে আলাল তাকে দেওয়ানির অংশীদার করে। তবে সকল গুণের সমাবেশ ঘটলেও আলাল চরিত্রটি নির্দ্বন্দ্ব ও দ্বিধাহীন।
