বাঙ্গালা ভাষা' প্ৰবন্ধ অনুসারে নব্যপন্থিদের মতামত তুলে ধর
বাঙ্গালা ভাষা' প্ৰবন্ধ অনুসারে নব্যপন্থিদের মতামত তুলে ধর
উত্তর : বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের পরীক্ষা নিরীক্ষার যুগে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রের আবির্ভাব। তিনি বাঙ্গালা ভাষা প্রবন্ধে প্যারীচাদ মিত্র এবং কালীপ্রসন্ন সিংহকে নব্যপন্থি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
প্যারীচাঁদ মিত্রের 'আলালের ঘরের দুলাল' এবং কালীপ্রসন্ন সিংহের 'হুতোম প্যাঁচার নকশা' বাংলা সাহিত্যের নতুন অবয়ব। এসব গ্রন্থ সংস্কৃত বর্জিত চলিত ভাষায় রচিত।
নব্যপন্থিদের প্রতিনিধি বাবু শ্যামাচরণ গঙ্গোপাধ্যায় সংস্কৃত শব্দ ব্যবহারের চরম বিরোধিতা করেছেন। তিনি কলিকাতা রিভিউতে “বাংলা ভাষা বিষয়ক প্রস্তাব” শীর্ষক প্রবন্ধে নব্যপন্থিদের পক্ষ অবলম্বন করে নিম্নোক্ত মতামত দেন :
১. বহুবচন জ্ঞাপনে 'গণ' শব্দের ব্যবহার অপ্রয়োজন।
২. বাংলায় সন্ধির প্রয়োজন হয় না।
৩. লিঙ্গান্তরকে নব্যপন্থিরা চক্ষুশূল মনে করেন।
৪. সংস্কৃত সংখ্যাবাচক শব্দ : একাদশ, দ্বাদশ প্রভৃতির ব্যবহার অপ্রতুল।
৫. ভ্রাতা, স্বর্ণ, মস্তক, কর্ণ, অশ্ব প্রভৃতি শব্দ বাংলা ভাষায় ব্যবহার চলবে না।
৬. সোনা, তামা, কাল, কান, ভাই প্রভৃতি শব্দের ব্যবহার করতে হবে।
শ্যামাচরণবাবু বাংলা শব্দ ব্যবহারে তিনটি মত দিয়েছেন। প্রথমত, সেসব সংস্কৃত শব্দ যেগুলো বাংলায় রূপান্তরিত হয়েছে। যেমন গৃহ হতে ঘর, ভ্রাতা হতে ভাই। দ্বিতীয়ত, যেসব সংস্কৃত শব্দ রূপান্তরিত হয়নি যেমন- মেঘ, সূর্য, জন এবং তৃতীয়ত, যে সকল শব্দের সংস্কৃতের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ নেই।
তিনি প্রথম পক্ষের যুক্তি দিয়ে বলেন রূপান্তরিত সংস্কৃত শব্দের পরিবর্তে অরূপান্তরিত মূল সংস্কৃত শব্দ ব্যবহার ঠিক নয়।
এভাবে নব্যপন্থিরা 'বাঙ্গালা ভাষা' প্রবন্ধে সংস্কৃত প্রীতি পরিত্যাগ করে চলিত রীতির প্রয়োগ দেখিয়ে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন ।
.png)