গ্রামের প্রসন্ন গুরুমহাশয়ের পাঠশালার বর্ণনা দাও
গ্রামের প্রসন্ন গুরুমহাশয়ের পাঠশালার বর্ণনা দাও
উত্তর : প্রকৃতিবাদী ঔপন্যাসিক বিভূতিভূষণের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ উপন্যাস 'পথের পাঁচালী'তে প্রসন্ন গুরুমহাশয়ের একটি পাঠশালা ছিল।
সেখানে গ্রামের ছেলেমেয়েরা বিদ্যালাভের জন্য আসত। গ্রামের প্রসন্ন গুরুমহাশয় বাড়িতে একখানা মুদির দোকান করতেন এবং দোকানেরই পাশে তাঁর পাঠশালা ছিল।
পাঠশালা বসত বিকেলবেলা সবসুদ্ধ আট-দশটি ছেলেমেয়ে পড়তে আসত। সকলেই বাড়ি থেকে ছোটো ছোটো মাদুর এনে পেতে বসে; অপুর মাদুর নেই, সে বাড়ি থেকে একখানা জীর্ণ কার্পেটের আসন আনত।
যে ঘরটায় পাঠশালা হয়, তার কোনো দিকে বেড়া বা দেয়াল কিছু নাই, চারধারে খোলা, ঘরের মধ্যে সারি দিয়া ছাত্রগণ বসে। পাঠশালা ঘরের চারিপাশে বন, পিছন দিকে গুরুমহাশয়ের পৈতৃক আমলের বাগান।
অপরাহের তাজা গরম রৌদ্র বাতাবিলেবু, গাব ও পেয়ারাফুলি আমগাছটার ফাঁক দিয়া পাঠশালার ঘরের বাঁশের খুঁটির পায়ে এসে পড়তা। নিকটে অন্য কোনোদিকে বাড়ি নাই, শুধু বন ও বাগান, একধারে একটা যাতায়াতের সরু পথ।
গ্রামের মানুষগুলোর অধিকাংশই তাদের সন্তানদের পড়ানোর জন্য প্রসন্ন গুরু মহাশয়ের পাঠশালার উপর নির্ভর কর।
.png)