রাজবন্দীর জবানবন্দী' প্রবন্ধটি রচনার প্রেক্ষাপট আলোচনা কর
রাজবন্দীর জবানবন্দী' প্রবন্ধটি রচনার প্রেক্ষাপট আলোচনা কর
উত্তর : বিশেষ একটা পটভূমিতে কাজী নজরুল ইসলামের আবির্ভাব। সে ক্রান্তিলগ্নে সকল আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্নসাধ, বাসনা-ব্যর্থতা, দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, সমস্যা-সংকট, আক্ষেপ-উদগিরণ সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে তাঁর প্রবন্ধে।
সাম্রাজ্যবাদী শক্তির নির্মম শাসন-শোষণ, অত্যাচার-অবিচার, সামাজিক ভেদ বৈষম্য রাজনীতিক ব্যর্থতা, অর্থনৈতিক সংকট, জীবনের সর্বক্ষেত্রে এক প্রশ্ন বন্ধ্যত্ব এবং অচলায়তন তাঁর সংবেদনশীল কবিচিত্তকে দারুণভাবে আলোড়িত ও বিচলিত করেছিল- 'অগ্নিবীণা', 'বিষের বাঁশি'র পর আমরা আবার সে কবির পরিচয় পাই তাঁর নানা প্রবন্ধে।
‘ধূমকেতু' পত্রিকা সম্পাদনাকালে 'রুদ-মঙ্গল'ও 'দুর্দিনের যাত্রী' প্রবন্ধগ্রন্থ দুটি নজরুল ইসলাম রচনা করেন। 'বিষের বাঁশি' কাব্যের 'আনন্দময়ীর আগমনে' কবিতার জন্য ব্রিটিশ সরকার কাব্যটি বাজেয়াপ্ত করেন এবং কবিকে জেলে প্রেরণ করেন।
এ সময় 'ধূমকেতু' পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়। আর এ সময় নজরুল ইসলাম আত্মপক্ষ সমর্থনে প্রেসিডেন্সি জেলে বসেই রচনা করেন 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' রচনাটি। এ প্রবন্ধে নজরুল ইসলামের সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব সুস্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
.png)