স্বভাবোক্তি অলংকার কাকে বলে? বুঝিয়ে লেখ
স্বভাবোক্তি অলংকার কাকে বলে? বুঝিয়ে লেখ
উত্তর : বস্তুস্বভাবের নিখুঁত (যথাযথ) অথচ নিপুণ ও সূক্ষ্ম বর্ণনার নাম স্বভাবোক্তি অলংকার।
কেবল বাস্তবের যথাযথ বর্ণনা কোনোমতেই স্বভাবোক্তি নয়; কবি-শক্তির অনুপম দক্ষতায় বস্তুবিশেষ যখন সৌন্দর্যে স্বতন্ত্র অভিধা প্রাপ্ত হয়, এবং সে চারুত্বময় বর্ণনা সহৃদয়- হৃদয়-সংবেদী হয়ে ওঠে, তখনই স্বভাবোক্তি অলংকারের সার্থকতা।
কোনো কোনো আলংকারিক এ অলংককারের আন্তরসৌন্দর্য (গূঢ়ার্থ, ব্যঞ্জনা) উপলব্ধি করতে চান না বলে একে অলংকার বলে অস্বীকার করেন। স্বভাবোক্তি অলংকারের উদাহরণ হিসেবে প্রথমেই উদ্ধৃত করছি বাঙালি পাঠকের এক অতি পরিচিত কবিতা 'অন্ধবধূ'।
দৃষ্টি থেকে বঞ্চিত সারাজীবনের জন্যে, অথচ তার হৃদয়ের অনুভূতি খুবই সজাগ এবং হয়তো বা চোখ না থাকার জন্যই বস্তুজগতকে দেখার ও জানার আগ্রহ তার অনেক বেশি।
কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচী কবি- অনুভূতির গভীরতা দিয়ে (সূক্ষ্ম ও জীবন্তভাবে) সার্থক স্বভাবোক্তি-তে সহৃদয় হৃদয়ে পৌঁছে দিয়েছেন অন্ধবধূর হৃদয়- সমাচার।
(i) পায়ের তলায় নরম ঠেকল কি। আস্তে একটু চল্ না, ঠাকুর ঝি- ওমা, এ যে ঝরা বকুল নয়?. জ্যৈষ্ঠ আসতে কদিন দেরী ভাই- আমের গায়ে বরন দেখা যায়? -অনেক দেরী? কেমনে করে হবে।
কোকিল ডাকা শুনেছি সেই কবে, দখিন হাওয়া বন্ধ কবে ভাই; দীঘির ঘাটে নতুন সিঁড়ি জাগে- শেওলা-পিছল-এমনি শঙ্কা লাগে পা পিছলিয়ে গুলি যদি যাই।
যতীন্দ্রমোহন বাগচী আবদুল গনি হাজারী তাঁর ‘সূর্যের সিঁড়ি' কাব্যের 'পি-আর- এসের স্টীমার গোয়ালন্দ' কবিতায় সৃষ্টি করেছেন একাধিক সার্থক স্বভাবোকি অলংকারের।
(ii) চাষীর কাঁধে বেতের ধামায় সদ্যকাটা কলায় পাক ধরেনি এখনো। ময়লা গামছায় মুছলেন তিনি একগুচ্ছ দাড়ি থেকে দিনের প্রথম কান্নার অশ্রু, বাতাসের হলকায় কুয়াশার রঙের মতো সতের বছরের পুরোন প্রত্যাশা গামছার রঙের সঙ্গে মেশা এখন তিনি তা বিছিয়ে জেটির পাটাতনে বসতে চাইলেন।
আবদুল গনি হাজারী স্টীমার-যাত্রী এ কৃষকের মতোই, পি.আর.এসের বিনিদ্র সারেং-এর অনুপম বর্ণনায় কবি আবদুল গনি হাজারী, আমার মতে সার্থক স্বভাবোক্তি অলংকারের সৃষ্টি করেছেন।
.png)