আরকে রায়হান https://www.rkraihan.com/2022/04/internet-ki.html

ইন্টারনেট কী | ইন্টারনেটের সুবিধা গুলো কি কি


আসালামু আলাইকুম। প্রিয় বন্ধুরা কেমন আছো? নিশ্চয় ভালো আছো। যাইহোক আজকে আমরা জানবো ইন্টারনেট কী ও ইন্টারনেটের সুবিধা গুলো কি কি এবং ইন্টারনেটের সুফল ও কুফল কি কি।
ইন্টারনেট কী  ইন্টারনেটের সুবিধা গুলো কি কি
ইন্টারনেট কী  ইন্টারনেটের সুবিধা গুলো কি কি
তোমরা যারা জানো না ইন্টারনেট কি তারা আজকের পোস্টের মাধ্যমে জেনে যাবে সাথে ইন্টারনেটের সুবিধা গুলো কি কি সেটিও জানবে। তো একটা কথা বলে নেই তোমরা যদি ভালো ভাবে মনের ভিতর গুছিয়ে নিতে চাও তাহলে মনোযোগ সহকারে পুরো পোস্ট টি পড়ে নিবা কারন আমরা খুব ভালো ভাবে আলোচনা করেছি। তো চলো জেনে নেই ইন্টারনেটের সুবিধা গুলো কি কি ও ইন্টারনেট কী সে সম্পর্কে বিস্তারিত।

ইন্টারনেট (Internet) ইন্টারনেট কী | ইন্টারনেট কাকে বলে | internet ki |  internet কি

ইন্টারনেট শব্দটি এসেছে International Network থেকে। ইন্টারনেট মানে হলাে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক বা নেটওয়ার্কের অন্যপ্রান্তের কমপিউটারের সাথে যােগাযােগ করতে পার, তথ্য আহরণ করে তােমার কমপিউটারে নিয়ে আসতে পার। ইন্টারনেট হলাে বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত অসংখ্য নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে গঠিত একটি বৃহৎ নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা। ইন্টারনেটকে নেটওয়ার্কের নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেটওয়ার্কও বলা হয়। এক কথায়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অনেকগুলাে নেটওয়াকের সমন্বিত ব্যবস্থাই ইন্টারনেট। ইন্টারনেটকে সংজ্ঞায়িত করা যায় এভাবে, “হন্টারনেট হলাে পৃথিবী জুড়ে বিস্তৃত পরস্পপরের সাথে সংযুক্ত অনেকগুলাে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সমষ্টি যা জনসাধারণের জন্য উন্মক্ত এবং যেখানে আহপি বা ইন্টারনেট প্রোটোকল নামক ব্যবস্থার মাধ্যমে ডেটা আদান-প্রদান করতে পারে।” ইন্টারনেটে সংযুক্ত কমপিউটারগুলাের কাজই হলাে এক অন্যের মধ্যে তথ্য আদান প্রদান করা। একারণে বর্তমানে ডেটা আদান-প্রদানের সাথে। সংশ্লিষ্ট সকল কাজেই ইন্টারনেটের সুবিধা ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যেমন চিঠি আদান-প্রদানের জন্য ইন্টারনেট নির্ভর ব্যবস্থা। হিসেবে আবিষ্কৃত হয়েছে ইন্টারনেট, টেলিফোনে কথা বলাকে ইন্টারনেটের সাহায্যে আধুনিক করতে এসেছে। টেলিকনফারেন্সিং বা ভিডিও কনফারেন্সিং ইত্যাদি। ইন্টারনেটের উপাদান হলাে এর ব্যবহারকারী, তথ্য, টেলিযােগাযােগ ব্যবস্থা, কম্পিউটার প্রভৃতি।

বর্তমানে ইন্টারনেটকে বিশ্বগ্রামের মেরুদণ্ড হিসেবে অভিহিত করা হয়। কেননা ইন্টারনেটের কারণেই আজ পৃথিবীর সকল মানুষ এক অদৃশ্য জালের মতাে নেটওয়ার্ক দ্বারা সংযুক্ত হয়ে শারীরিকভাবে যে কোনাে দূরত্বে অবস্থান করেও ভার্চুয়ালি পরস্পরের সর্বাধিক কাছাকাছি থাকার সুবিধা উপভােগ করছে। ইন্টারনেট এখন আর টেলিফোন লাইন নির্ভর নয় বরং । সমদের তলদেশ দিয়ে বিস্তৃত অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক, মাইক্রোওয়েভ ও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনের মাধ্যমে। ইন্টারনেটের বিস্তৃত সক্ষমতা ও সম্ভাবনা এখন প্রায় অসীম। বর্তমানে বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীতেই ইন্টারনেট ততকালকারীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইন্টারনেট ওয়ার্ল্ড স্টেটস এর তথ্যানুসারে, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা পৃথিবীর প্রায় ৪ বিলিয়নেরও অধিক মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে যা পৃথিবীর মােট জনসংখার শতকরা ৫০ ভাগ। ২০১৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিটিআরসি (BTRC)-এর হিসাবমতে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৮০,২৮৯ মিলিয়ন। এদের মধ্যে মােবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যাই সর্বাধিক (৭৫,৩৯৬ মিলিয়ন)।

১৯৬৯ সালে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের অভ্যন্তরীণ যােগাযােগ ব্যবস্থা গড়ে তােলার উদ্দেশ্যে ARPANET (Advance Research Project Agency Network) নামক প্রজেক্টের মাধ্যমে ইন্টারনেটের পত্তন ঘটে। আরপানেট পরবর্তীতে আশির দশকের প্রথম ভাগ পর্যন্ত বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সীমিতভাবে উন্মুক্ত ছিল। ১৯৮২ সালে বিভিন্ন কমপিউটারের মধ্যে নেটওয়ার্ক সংযােগ স্থাপনে উপযােগী টিসিপি/আইপি (TCO/IP-Transmission Control | Protocol/Internet Protocol) উদ্ভাবিত হলে প্রথম আধুনিক ইন্টারনেটের ধারণাটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

ইন্টারনেটের সুবিধা গুলো কি কি | what is internet in bangla

ইন্টারনেটের মাধ্যমে যেসব সুযােগ-সুবিধা পাওয়া যায় সেগুলাের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিম্নরূপ

  • ইন্টারনেট হলাে তথ্যের বিশাল ভাণ্ডার। ইন্টারনেটে যুক্ত হয়ে কাঙ্ক্ষিত তথ্যের নাম লিখে সার্চ করলেই বিশ্বের অসংখ্য সার্ভারে থাকা তথ্যগুলাে প্রদর্শিত হয়। 
  • ইন্টারনেটের মাধ্যমে মুহূর্তেই বিশ্বের যেকোনাে প্রান্তে ই-মেইল করে তথ্য আদান-প্রদান করা যায়। 
  • ইন্টারনেটের মাধ্যমে ফ্যাক্স সুবিধা পাওয়া যায়। 
  • VOIP এর মাধ্যমে প্রচলিত ফোনের চেয়ে খুব কম খরচে বা বিনা খরচে বিশ্বের যেকোনাে প্রান্তে কথা বলা যায় । 
  • ইন্টারনেট টিভি ও ইন্টারনেট রেডিও চালুর ফলে ঘরে বসেই কম্পিউটারে বিভিন্ন ধরনের টেলিভিশন ও রেডিও চ্যানেলের অনুষ্ঠান উপভােগ করা যায়। 
  • বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার, ফ্রিওয়্যার, বিনােদন উপকরণ ইন্টারনেট থেকে ডাউনলােড করে সংগ্রহ করা যায়। 
  • সংবাদপত্র ও পত্রপত্রিকার ইন্টারনেট সংস্করণ প্রকাশিত হবার ফলে এখন ঘরে বসেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পত্রপত্রিকা পড়া যায়। 
  • ই-কমার্সের সাহায্যে ঘরে বসেই পণ্য কেনা-বেচা যায়।
  • ঘরে বসেই বিশ্বের নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলাের শিক্ষা গ্রহণ করা যায়। 
  • ভাইবার, হােয়াটসআপ, ম্যাসেঞ্জার, গুগল টক, স্কাইপি ইত্যাদি ইন্সট্যান্ট মেসেঞ্জারের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্বের যেকোনাে প্রান্তে থাকা যেকোনাে ব্যক্তির সাথে টেক্সট ও ভিডিও শেয়ার করা যায়।
  • অনলাইনে চিকিৎসা সেবা নেয়া যায়।
  • গুগল ম্যাপস এর মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনাে স্থানের স্যাটেলাইট মানচিত্র দেখে ওই স্থান সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। ওইসব স্থানের ছবি জুম করে (বড় করে) খুব কাছে থেকেও দেখা যায়।

ইন্টারনেটের সুফল | ইন্টারনেট বাংলা

১. শিক্ষার্থীরা ক্লাসে উপস্থিত হতে না পারলেও ইন্টারনেটের মাধ্যমে তাদের পাঠ্যক্রমের বিষয়ে নানা সহযােগিতা পেতে পারে।ইন্টারনেট থেকে শিক্ষামূলক বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা ও ব্যাখামূলক তথ্য আহরণ তাদের ফলাফল উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।
২. ইন্টারনেট চাকুরিজীবীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযােগ সৃষ্টি, অধিক উপার্জন, সময় সাশ্রয়ী প্রভৃতি সুফল প্রদান করে।
৩. ব্যবসায়ে ইন্টারনেটের ব্যবহার বাণিজ্যিক বিপণন, সরবরাহ, প্রচার প্রভৃতি বিষয়কে সাশ্রয়ী ও গতিশীল করে তােলে।
৪. বর্তমানে যেকোনাে দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে ইন্টারনেটের ব্যবহার অপরিহার্য।

ইন্টারনেটের কুফল 

১. ইন্টারনেটে অনলাইন গেমস, সামাজিক যােগাযােগ মাধ্যমে মাত্রাহীন আডডা, কুরুচিপূর্ণ বিষয়ের চর্চা প্রভৃতি বিষয়গুলাে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মনযােগ ও সময় নষ্ট করে বলে তার ফলাফলে বিপর্যয় ঘটাতে পারে। 
২. অনলাইনে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পণ্য বা সেবার মান সর্বদা সুনিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে অর্থের অপচয় বা ক্ষতির শিকার হবার সম্ভাবনা থাকে। 
৩. ইন্টারনেটের মাধ্যমে কমপিউটারে হ্যাকিং, ভাইরাস বা মেলওয়্যার সংক্রমণ, স্প্যামিং প্রভৃতি আক্রমণের ঝুঁকি থাকে। 
৪. দীর্ঘসময় ইন্টারনেট ব্যবহারে ইন্টারনেট আসক্তির সৃষ্টি হয় এবং এর ফলে ব্যবহারকারী নানা ধরনের স্বাস্থ্যহানির শিকার হয়ে থাকে এবং মানুষের পারিবারিক জীবনে ব্যাপক দূরত্বের সৃষ্টি হয়। 
৫. ইন্টারনেটের মাধ্যমে যে কোনাে সংবাদ খুব দ্রুত ভাইরাল আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এক্ষেত্রে কোনাে ভুয়া বা ভুল সংবাদ ভাইরাল হবার ফলে তা সামাজিক অস্থিরতা, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, ব্যক্তিগত হয়রানির মতাে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।
আর্টিকেলের শেষকথাঃ ইন্টারনেট কী | ইন্টারনেটের সুবিধা গুলো কি কি
বন্ধুরা আজকে জানলাম ইন্টারনেট কী ও ইন্টারনেটের সুবিধা গুলো কি কি। তোনাদের যদি আজকের পোস্ট ইন্টারনেট কী | ইন্টারনেটের সুবিধা গুলো কি কি ভালো লাগে তাহলে একটা করবেন আর বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করে দিবেন। আর এই রকম পোস্ট পেতে আমাদের আরকে রায়হান ওয়েবসাইট টি প্রতিদিন ভিজিট করবেন।

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

Please do not enter any spam link in the comment box.

আরকে রায়হান নোটিফিকেশন