আরকে রায়হান https://www.rkraihan.com/2022/04/whar-is-virtual-reality.html

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি | ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ধারণা


হ্যালো বন্ধুরা আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন আপনারা ? আজকের ব্লগ পোস্টের বিষয় হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি ও ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ধারণা এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি ব্যাখ্যা করো। যদি আপনি না জেনে থাকেন ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি তাহলে পোস্ট টি পড়তে থাকুন।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি  ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ধারণা
ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি  ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ধারণা

উদ্দীপক ভার্চুয়াল রিয়েলিটি 

নামকরা একটি স্কুলের ভূগােলের শিক্ষক মােহাম্মদ উল্লাহ ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত সম্পর্কে পড়াচ্ছেন। তিনি । খ সুন্দরভাবে লেকচার দিয়ে বুঝাতে চাচ্ছেন কিন্তু ছাত্র-ছাত্রীদেরকে আকর্ষিত করে মনােযােগী করতে পারছেন না। দশ মিনিট পর মােহাম্মদ উল্লাহ স্যার স্টুডেন্টদেরকে নিয়ে কমপিউটার ল্যাবে আসলেন। ল্যাব এ্যাসিসটেন্ট সবাইকে মাথায় বিশেষ হেলমেট এবং হাতে যবে গ্লোবস ও পায়ে বিশেষ যন্ত্রপাতিসম্পন্ন জুতাে পরিয়ে দিলেন। ছাত্ররা প্রত্যেকে দেখল তারা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে এসেছে। সামনে বিশাল সমুদ্র। বিশাল বিশাল ঢেউ এসে তীরে আছড়ে পড়ার শব্দ। সমুদ্রের তর্জন গর্জন। শো শো বাতাস। পেছনে পাখির শব্দ।। কোনাে কোনাে ছাত্র সমুদ্রের পানির দিকে এগুলাে। আস্তে আস্তে পানিতে নেমে পড়ল কেউ কেউ। পায়ে পানির ঠাণ্ডা অনুভূতি পাচ্ছে। তারা। কেউ নিচু হয়ে হাত দিয়ে পানি স্পর্শ করলে ঠাণ্ডা পানির স্পর্শও অনুভব করল। সমুদ্রের তীর দিয়ে কিছুক্ষণ হাঁটল তারা। এইতাে। কিছুক্ষণ আগে তারা ক্লাসে যা পড়ল এখন বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সবাই তা অনুভব করছে। এভাবে পনেরাে মিনিটের মতাে তারা বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ সমুদ্র সৈকতে বিচরণ করে বাস্তবে অনেক কিছু দেখতে থাকল। একসময় সব কিছু অন্ধকার। কমপিউটার ল্যাবের সহকারী তাদের সবার হেলমেট খুলে দিলেন। ছাত্ররা তন্ময় হয়ে কিছুক্ষণ বসে থাকল। এও কি সম্ভব! তারা স্বপ্ন দেখছে নাতাে? ক্লাসের অমনােযােগী ছাত্র-ছাত্রীরাও একই রকম তন্ময় হয়ে বসে আছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সবার ঘাের কাটল। মােহম্মদ উল্লাহ স্যার মুচকি হেসে। ছাত্র-ছাত্রীদেরকে প্রশ্ন করলেন, কী তােমরা কোথায় গিয়েছিলে? সবাই সমস্বরে জবাব দিল- কক্সবাজার, স্যার।

এই হলাে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। নিশ্চয় তােমাদের এখন জানতে ইচ্ছে করছে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি?

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি | ভার্চুয়াল অর্থ কি | ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কী | ভার্চুয়াল কি

প্রকৃত অর্থে বাস্তব নয় কিন্তু বাস্তবের চেতনা উদ্রেককারী বিজ্ঞাননির্ভর কল্পনাকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বা অনুভবে বাস্তবতা কিংবা কল্পবাস্তবতা বলে। একে সংক্ষেপে VR বলা হয়ে থাকে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি মূলত কম্পিউটার প্রযুক্তি ও সিমুলেশন তত্ত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত। 

এতে ব্যবহৃত সফটওয়্যারের মধ্যে উল্লেখযােগ্য হলােঃ Vizard, VRToolKit, 3d Studio Max, Maya ইত্যাদি। "Technology that enables users to enter computer generated worlds and interface with them three dimensionally through sight, sound, and touch."

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বলতে কি বুঝায় | ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি ধরনের ইমেজ তৈরি করে

ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে ত্রি-মাত্রিক ইমেজ তৈরির মাধ্যমে অতি অসম্ভব কাজও করা সম্ভব হয়। কল্পনার পাখায় ভর করে ইচ্ছে। করলে চাঁদের মাটিতে হেঁটে আসা, প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরতম অঞ্চলে ঘুরে আসা, মানুষের মস্তিষ্কের নিউরাল সংযােগের উপর দিয়ে হাঁটা কিংবা জুরাসিক পার্কের সেই অতিকায় ডায়নােসরের তাড়াও খাওয়া যায়। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি একটি কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ যেখানে ব্যবহারকারী ঐ পরিবেশে মগ্ন হতে, বাস্তবের অনুকরণে সৃষ্ট দৃশ্য উপভােগ করতে, সেই সাথে বাস্তবের ন্যায় শ্রবণানুভূতি এবং দৈহিক ও মানসিক ভাবাবেগ, উত্তেজনা অনুভূতি প্রভৃতির অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটির উপাদানসমূহ 

  • হেড মাউন্টেড ডিসপ্লে (Head Mounted Display-HMD) 
  • রিয়েলিটি ইঞ্জিন। 
  • ডেটা গ্লোভ (Data Glove)
  • বিভিন্ন ধরনের সেন্সর 
  • একটি পূর্ণাঙ্গ বডি স্যুইট (Body Suit)
  • বিভিন্ন সিমুলেশন, মডেলিং ও গ্রাফিক্স 
  • উচ্চ মানের অডিও ব্যবস্থা
  • সফটওয়্যার ইত্যাদি।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি তৈরির উপাদানসমূহ (Element of virtual reality)

  • ইফেক্টর (Effector): ইফেক্টর হলাে ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে ব্যবহৃত এক বিশেষ ধরনের ইন্টারফেস ডিভাইস। এটি ব্যবহারকারীকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির পরিবেশের সাথে সংযুক্ত করে। হেড মাউন্টেড ডিসপ্লে বা HMD, ডেটা গ্লোভ (Data Glove), পূর্ণাঙ্গ বডি স্যুইট (Body Suit) ইত্যাদি এর উদাহরণ। 
  • রিয়েলিটি সিমুলেটর (Reality Simulator): এটি এক ধরনের হার্ডওয়্যার যা ইফেক্টরকে সংবেদনশীল তথ্য সরবরাহ করে। যেমন বিভিন্ন ধরনের সেন্সর, ট্রান্সসিউডার, উচ্চ মানের অডিও ও ভিডিও ব্যবস্থা, রিয়েলিটি ইঞ্জিন ইত্যাদি। 
  • অ্যাপ্লিকেশন (Application): ভার্চুয়াল পরিবেশ ও প্রাসঙ্গিকতা তৈরিতে বিভিন্ন সিমুলেশন সফটওয়্যার ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যেমন অটোডেস্কের তৈরি ডিভিশন (Division) যা সাধারণত ইন্টেল প্রসেসর সংবলিত পিসিতে ব্যবহৃত হয়।
  • জিওমেট্রি (Geometry): জিওমেট্রি হলাে ভার্চুয়াল পরিবেশের বিভিন্ন বস্তুর বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কিত তথ্যাবলি। যেমন-ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে ব্যবহৃত ত্রিমাত্রিক মডেলসমূহকে অটোডেস্ক, থ্রিডি স্টুডিও ম্যাক্স বা মায়া প্রভৃতি সফটওয়্যার ব্যবহার করে তৈরির পর এই ফাইলগুলােকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে রেন্ডারিং ও অথােরিং এর জন্য এক্সপাের্ট করা হয়ে থাকে।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি একজন ব্যক্তিকে কোনােরকম শারীরিক ঝুঁকি বা বিপদ ছাড়াই বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রদান করে। সম্প্রতি গুগলও Lively নামে ভার্চুয়াল চ্যাটিং সার্ভিস চালু করেছে যেখানে একটি ভার্চুয়াল কক্ষ বা পরিবেশে যে কেউ তার বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে প্রবেশ করতে পারে। সেখানে ইচ্ছেমতাে বস্তু দিয়ে সাজানাে, বন্ধুদের সাথে মারামারি, নাচানাচি, আবেগের গ্রাফিক্যাল প্রকাশ ইত্যাদি সম্ভব।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ঘটনাপঞ্জি

  • ফরাসি নাট্যকার, কবি, অভিনেতা ও নির্দেশক অ্যান্টোনিম আরচিউড (Antonim Artaud) এর ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত গ্রন্থ The Theatre and Its Double - এ তিনি সর্বপ্রথম ভার্চুয়াল রিয়েলিটি শব্দটি ব্যবহার করেন। পরবর্তীতে ডেমিয়েন ব্রডরিক (Damien Broderick) এর। Thed Judas Mandala নামক সায়েন্স ফিকশনেও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি শব্দটি ব্যবহার হয়।
  • ১৯৬১ সালে মর্টন এল হেলিগ তার সেরােমা স্টিমুলেটর নামক যন্ত্র দিয়ে প্রথম বাস্তব। উপায়ে ভার্চুয়াল রিয়েলিটিকে উপস্থাপন করলেও এর সাথে কমপিউটারের কোনাে সম্পর্ক ছিল না।
  • আধুনিক ভার্চুয়াল রিয়েলিটি নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু হয় ১৯৮০ সাল থেকে। ১৯৮৪ সালে হ্যাকার লেনিয়ার তার ভিপিএল | রিসার্চ কর্পোরেশনে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন যা আজকের ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তির জন্ম দিয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটির অভিজ্ঞতা 

২০০৫ সালের মার্চে আমেরিকার টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনস্থ নাসা ঘুরে ঘুরে অনেক কিছু দেখার সুযােগ হয়। চাদের পাথর হাত দিয়ে স্পর্শ করে অভিভূত হই। নাসায় রাখা ডামি মহাশূন্যযানে বসি। আমাকে বিশেষ ধরনের চশমা ও আরাে কিছু ডিভাইস দেয়া হয়। রুমের লাইট বন্ধ করে অন্ধকারে ভিআর-এর সুইচ অন করে দেয়া হয়। আমি মহাশন্যে চলে যাচ্ছি। বিভিন্ন গ্রহ, উপগ্রহ, উল্কাপিণ্ড এবং মহাশূন্যের আরাে অনেক কিছু দেখি। প্রায় ১৫ মিনিট পর মহাশূন্যযানটি নিয়ে পথিবীতে চলে আসি। লাইট অন করে দেয়ার পর দেখি আমি নাসার ঐ ডামি মহাশূন্যযানটিতেই বসে আছি। এই হলাে ভার্চুয়াল রিয়ালিটি। আমাদের দেশের বঙ্গবন্ধু নভাে থিয়েটারকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির খুবই সামান্য একটি উদাহরণ। ভারতের কলকাতার সায়েন্স সিটিতে যাওয়ার সুযােগ হলে টাইম মেশিনে উঠে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি উপভােগ করতে পার। সায়েন্স সিটির ডামি মহাশূন্যযানটি পৃথিবীর আদিকাল থেকে আধুনিক যুগ ভ্রমণ করিয়ে নিয়ে আসবে। (উপরের ২য় চিত্রে লেখক মাহবুবুর রহমান আমেরিকার নাসায়। ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে মহাশূন্যে ভ্রমণ করছেন।)

বাংলাদেশে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি

দেশের মানুষ বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তােলা এবং বিনােদনের মাধ্যমে মহাকাশের গ্রহ-নক্ষত্র সম্পর্কে ধারণা প্রদানের লক্ষ্যে ১৯৯৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভােথিয়েটার স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয় এবং ২০০৪ সাল। থেকে দর্শকদের জন্য চালু করা হয়। ঢাকা শহরের বিজয় সরণিতে অবস্থিত একটি স্থাপনা। এখানে নভােমণ্ডল সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য এবং নভােমণ্ডলের ধারণা পাওয়ার জন্য কৃত্রিম নভােমণ্ডল তৈরি করা আছে। নভােথিয়েটারে অ্যাক্রোবেটিক এ্যারােপ্লেন, রেসিং কার, স্পেস ক্র্যাপ্ট, মনােরেল, এয়ারক্র্যাণ্ট ফাইবার এবং প্রাচীন পিরামিডের কোস্টারে চড়ে ভ্রমণের শিহরণ লাভের জন্য অনুভূমিক ও উল্লম্বভাবে গতিবিশিষ্ট স্পেস রাইট সিমুলেটর রয়েছে। এখানে প্রদর্শিত মহাকাশবিষয়ক ফিল্ম জার্নি টু ইনফিনিটি দেখলে মনে হবে বাস্তবে মহাকাশে ভ্রমণ করা হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে বিভিন্ন পার্কে নভােযান অথবা কার সিমুলেটর রয়েছে যেগুলােতে বাস্তবের ন্যায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটি অভিজ্ঞতা অর্জন করা | যায়। বাংলাদেশ পুলিশের মহিলা পুলিশদেরকে কার ড্রাইভিং শেখানাের জন্য কার সিমুলেটর ব্যবহার করছে।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তিতে গুরুত্বের সাথে যে বিষয়গুলাে বিবেচনা করা হয় সেগুলাে হলাে

শব্দ : ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে শব্দ কোনাে বিশেষ স্থান থেকে উৎসারিত এবং ডায়নামি এর কারণ এই প্রযুক্তিতে ত্রিমাত্রিক শব্দ যুক্ত করা হয় যাতে করে শব্দের কারণে এক ব্দ যুক্ত করা হয় যাতে করে শব্দের কারণে এক ধরনের পরাবাস্তব ত্রিমাত্রিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। 

দৃষ্টি : চশমা কিংবা হেলমেটের মধ্যে ছােটো আকারের পর্দা থাকে এবং বহুমাত্রিক ডিসপ্লে ব্যবহৃত হয়। এতে করে ব্যবহারকারী একেবারে বাস্তবের ন্যায় অথচ পরাবাস্তব (কল্পবাস্তব) দৃশ্য অবলােকনে সক্ষম হয়। 

মস্তিষ্ক : মানুষের মস্তিষ্কের ওপর পরিচালিত গবেষণা কমপিউটার জেনারেটেড ওয়ার্ল্ডকে নতুন অবয়ব দিয়েছে, যার সাহায্যে। তথ্যকে যথাযথভাবে বিশ্লেষণ করা যায় এবং কৃত্রিমভাবে তার অনুভূতি মস্তিষ্কের জন্য প্রেরণ করা সম্ভব হয়। এর ফলে মস্তিষ্কে । বিভিন্ন কৃত্রিম স্টিমুলেশন প্রদান করে নানা পরাবাস্তব দৃশ্যের কৃত্রিম অনুভূতি বাস্তবের ন্যায় সৃষ্টি করা সম্ভব হয়। 

স্পর্শ : ভার্চুয়াল রিয়েলিটি:প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের জুতা, গ্লাভস বা শরীরের বিশেষায়িত পােশাক একজন ব্যক্তিকে কৃত্রিমভাবে প্রকৃত বাস্তবের ন্যায় অবস্থার কাছাকাছি নিয়ে যেতে সাহায্য করে।। 

টেলিপ্রিজেন্স : উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমপিউটার গ্রাফিক্স ব্যবহারের মাধ্যমে অনেক দূর থেকে কাজ পরিচালনার প্রক্রিয়াকে টেলিপ্রিজেন্স বলা হয়। ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে টেলিপ্রিজেন্স প্রক্রিয়ায় ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। যেমন- এক্ষেত্রে বৈমানিকগণ আসল বিমান চালানাের পরিবর্তে হুবহু আসলের ন্যায় কৃত্রিম বিমান পরিচালনায় ভার্চুয়াল পরিবেশে ট্রেনিং গ্রহণ করতে পারেন বা ড্রাইভারগণ কৃত্রিমভাবে তৈরি বাস্তব সদৃশ পরিবেশে প্রাক-ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ নিতে পারেন।

প্রাত্যহিক জীবনে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রভাব (Influence of virtual reality in Everyday Life) 

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জনের জন্য পেশাজীবীদের বাস্তবসম্মত ও নিরাপদ প্রশিক্ষণে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বিশেষ করে চিকিৎসা, গাড়ি বা বিমান চালনা, সামরিক বা যুদ্ধ প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রগুলােতে বিভিন্নভাবে শারীরিক কিংবা রিসাের্সগত। যে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে সেগুলাে সহজেই ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ নেয়ার মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিরাপদ করে তােলা সম্ভব। যেমন, বাস্তবে বিমান চালনা বা গাড়ি চালনার অ্যাক্সিডেন্টের শঙ্কা, চিকিৎসায় পরীক্ষামূলক অপারেশনে রােগীর প্রাণ সংহারের আশঙ্কা কিংবা সামরিক বা যুদ্ধ প্রশিক্ষণে সরাসরি আহত বা নিহত হবার শঙ্কাগুলাে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে পরাবাস্তব পরিবেশে একেবারেই নেই, কেননা এখানে সম্পূর্ণ কৃত্রিম পরিবেশ বা উপাদান। ব্যবহার করে বাস্তবের ন্যায় অবিকল দশ্য, মডেল এবং পরিবেশ তৈরি করা হয় যেগুলাে কোনাে কিছুই বাস্তব নয় আবার বাস্তব না হলেও এগুলাে পুরােপুরি বাস্তবের ন্যায় বিধায় প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বাস্তবতার অভাবে প্রশিক্ষণটি অসম্পূর্ণ বা। বিফলতায় পর্যবসিত হয় না। একইভাবে এটি শিক্ষা, বিনােদনসহ দৈনন্দিন জীবনের নানা প্রয়ােজনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত। হয়ে থাকে, যার মধ্যে প্রধান প্রধান ক্ষেত্রগুলাে নিয়ে নিচে বিস্তারিত আলােচনা করা হলাে। 

শিশু শিক্ষায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটি 

ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে শিশুদেরকে বিভিন্ন বিষয়ে আকর্ষণীয়ভাবে শিক্ষা প্রদান করা যায়। বর্তমানে উন্নত বিশ্বে। শিশুদের শিক্ষায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ করা যায়।

চিকিৎসাক্ষেত্র এবং ডাক্তারদের প্রশিক্ষণ 

উন্নত বিশ্বে ডাক্তারদের আধুনিক মানের প্রশিক্ষণ প্রদানে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমানে সার্জিক্যাল প্রশিক্ষণে ‘এমআইএসটি ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ল্যাপরােস্কোপিক’ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। ফলে অত্যন্ত সহজে ও সুবিধাজনক উপায়ে বাস্তবে অপারেশন থিয়েটারে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়। জটিল সব অপারেশন, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়গুলাের গঠন ও কার্য পর্যালােচনা, ডিএনএ পর্যালােচনা প্রভৃতি সম্পর্কে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির কল্যাণে ব্যাপকভাবে জানা ও গবেষণা চালানাে সম্ভব। নবীন শল্য চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ, রােগ নির্ণয় প্রভৃতি কাজেও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। মনােচিকিৎসকগণ মানসিক রােগীদের সাইকোথেরাপি দিতে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করেন, যার ফলে মানসিক রােগীদের জীবন দর্শনের উল্লেখযােগ্য পরিবর্তন ঘটে। MIST (Minimally Invasive Surgical Trainer) হলাে একটি ভার্চুয়াল রিয়েলিটি সিমুলেটর যা দ্বারা বাস্তবের ন্যায় জীবন্ত মানুষের ওপর। মেডিকেল শিক্ষার্থীদের অপারেশন করা শেখানাে হয়।

কার ডাইভিং প্রশিক্ষণ 

ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে ড্রাইভিংয়ের নানা নিয়ম-কানুন খুব সহজেই আয়ত্ত করা সম্ভব। ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে বাস্তবের মতাে রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে প্রশিক্ষণার্থী খুব সহজেই বাস্তবে গাড়ি চালানাের সাহস অর্জন করে দ্রুত গাড়ি চালনা শিখতে পারে। বাংলাদেশ পুলিশের মহিলা পুলিশদেরকে ড্রাইভিং শেখানাের জন্য ভার্চুয়াল কার ব্যবহার করা হয়।

বিমান চালনার প্রশিক্ষণ 

উন্নত বিশ্বের বাণিজ্যিক বিমান সংস্থা কিংবা সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে বিমান পরিচালনা প্রশিক্ষণে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করছে। এজন্য ফ্লাইট সিমুলেটর ব্যবহার করা হয়। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে ফ্লাইট সিমুলেশনের ক্ষেত্রে স্বল্প খরচে বিমান চালকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা সম্ভব হয়। ফ্লাইট সিমুলেশন হলাে এমন একটি পদ্ধতি যেখানে ভার্চুয়াল রিয়েলিটিকে কাজে লাগিয়ে বিশেষায়িত কম্পিউটার সিস্টেমসমূহ যেমন- ফ্লাইট সিমুলেটরসমূহের মাধ্যমে সিভিলিয়ান কিংবা মিলিটারি পাইলটদেরকে সত্যিকারের এয়ারক্র্যাফট ছাড়াই সেটি চালানাের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রতিটি যানচালক গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করে যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে চালকগণ যদি তাদের যান চালনায় পারদর্শী হয়, তাহলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা সম্ভব হয়। রেলপথ এবং জলপথে চলাচলকারী যানের ক্ষেত্রে একইভাবে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রয়ােগ করে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এ পদ্ধতিতে রেল চালককে রেল চালনার রুট, জরুরি মুহূর্তে করণীয় বিষয়াবলি পূর্বেই শেখানাে যায়। জলযানের ক্ষেত্রে সঠিক গন্তব্যে সাবধানতার সাথে কীভাবে তা পরিচালনা করা যায় তার কাল্পনিক উপস্থাপনার মাধ্যমে যান চলাচলে গতিশীলতা সৃষ্টি করা সম্ভব। বন্দরে জলযানের সার্বিক কার্যক্রমকে নিয়ন্ত্রণ করাও সম্ভব। 

সেনাবাহিনীতে যুদ্ধ প্রশিক্ষণ 

বিভিন্ন বিরূপ পরিবেশে শত্রুর সাথে মুখােমুখি যুদ্ধে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করা হচ্ছে। অত্যাধুনিক অনেক যুদ্ধাস্ত্র সঠিকভাবে ব্যবহার, রাতে যুদ্ধ পরিচালনা, শক্রর অবস্থান নির্ণয় ইত্যাদি কাজ নিখুঁতভাবে করার জন্য বর্তমানে অনেক দেশের সেনাবাহিনীতে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

ব্যবসায় বাণিজ্যে

ব্যবসায়িক কোনাে এনভায়রনমেন্টে ভার্চুয়াল ট্যুর, নতুন কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ, কোন প্রােডাক্টের প্রদর্শন ইত্যাদি। অনেক। ব্যবসায়ে অনেক কম মূল্যে কোন প্রােডাক্ট ডেভেলপমেন্ট এবং সার্ভিস প্রদানের জন্য ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

মহাশূন্য অভিযানে

মহাশূন্য অভিযানের প্রতিটি পর্বেই রয়েছে নানা ধরনের ঝুঁকি। প্রস্তুতি পর্বের নানা গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা, নভােচারীদের কার্যক্রম, নভােযান পরিচালনা সম্পর্কিত যাবতীয় খুঁটিনাটি বিষয় সম্পর্কে প্রশিক্ষণে তাই ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। কাল্পনিক পরিবেশে মহাকাশে গবেষণা পরিচালনার বিষয়গুলাে, মহাশূন্যে খাপ খাওয়ানাের মতাে বিষয়গুলাে পূর্বেই প্রশিক্ষণ নিতে পারছেন নভােচারীগণ।

গেমস্ তৈরি 

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করে বর্তমানে বিভিন্ন আকর্ষণীয় গেমস্ তৈরি করা হচ্ছে। Xbox 360, PS2 এবং কম্পিউটারে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন ধরনের ভার্চুয়াল রিয়েলিটি গেমস্ রয়েছে। লিনডেন ল্যাবস কর্তৃক সেকেন্ড লাইফ, নিনটেনডাে এর Wii এবং ইলেক্ট্রনিক আর্টস এর The Sims ইত্যাদি।

প্রকৌশল ও নগর উন্নয়নে 

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রকৌশল বিভাগে ত্রিমাত্রিক মডেলিং টুলস এবং পরিকল্পনার নকশা দেখার জন্য ব্যবহার করা হয়। এ পদ্ধতিতে প্রকৌশলীরা তাদের ত্রিমাত্রিক প্রকল্প দেখতে পারেন এবং কীভাবে প্রকল্পটি কাজ করবে তা ভালােভাবে বুঝতে পারেন। কোনাে ডিজাইন চক্রের শুরুতে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করা হয়। এর ফলে কোনাে ডিজাইনে ত্রুটি থাকলে সংশােধন করা যায়। নগর পরিকল্পনায় ত্রিমাত্রিক ভার্চুয়াল রিয়েলিটি এর প্রয়ােগ ঘটিয়ে নগর উন্নয়ন রূপরেখা, নগর যাতায়াত ব্যবস্থা ইত্যাদি সহজ ও আকর্ষণীয়ভাবে বর্ণনা করা যায়।

শিল্প কারখানায় 

শিল্প কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ও সিমুলেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্যের ডিজাইন কিংবা প্রয়ােগসমূহের ভার্চুয়ালাইজেশন করা হয়। এর ফলে প্রকৃত উৎপাদন শুরুর পূর্বে পণ্যের ডিজাইনে কিংবা আউটপুটের যে। কোনাে ত্রুটি চিহ্নিত করে তা সংশােধনের মাধ্যমে উৎপাদন সংক্রান্ত ঝুঁকি মােকাবিলা করা সম্ভব হয়।

খেলাধুলা ও শরীরচর্চায় 

গলফ, অ্যাথলেটিক্স (শরীরচর্চা), স্কিটিং, সাইক্লিং ইত্যাদি খেলায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ট্রেনিং কিট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। শরীরচর্চায় দক্ষতা পরিমাপ, কৌশল বিশ্লেষণের কাজে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করা হয়। এর ফলে খেলােয়াড়দের। পােশাক, যন্ত্রপাতি এবং কৌশল নির্ধারণ করা যায়।

বিনােদন ও মিডিয়াক্ষেত্রে 

বিনােদনে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশনের প্রােগ্রামে নতুন। বৈশিষ্ট্য দিয়েছে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করে নির্মিত ইংরেজি লচ্চিত্রগুলাের মধ্যে রয়েছে The Lawnmower Man, The Matrix, Tom (1982 version), The Thirteenth Floor, existenZ, Vanilla Sky ইত্যাদি। তাছাড়াও সংগীত, বই তৈরি, বৈজ্ঞানিক প্রদর্শনী ইত্যাদিতে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহৃত হয়।।

ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় 

জাদুঘরে ব্যাপকভাবে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিষয় যেমন কোনাে প্রাচীন গুহা, ভাস্কর্য, ঐতিহাসিক ভবন, প্রত্নত্বাত্তিক নিদর্শন প্রভৃতি প্রদর্শনে যাদুঘরে বা বিভিন্ন ঐতিহাসিক গবেষণাতেও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এর ফলে যাদুঘরে যেমন আগত দর্শনার্থীরা এ সমস্ত বিষয়গুলাে পরিদর্শনে জ্ঞান ও আনন্দ লাভ। করতে পারেন তেমনি আধুনিক ঐতিহাসিক গবেষকরাও প্রাচীন পৃথিবী সম্পর্কে প্রয়ােজনীয় তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেন।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ইতিবাচক প্রভাব/সুফল

  • ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করে বিভিন্ন কার্যক্রমে যৌক্তিকভাবে খরচ কমিয়ে সাশ্রয়ী উপায়ে কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব। 
  • বাস্তবায়নের পূর্বেই পরিবেশ, পরিস্থিতি ও ফলাফলকে কৃত্রিমভাবে অনুভব করা যায় বিধায় তা অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত, অযাচিত ও অপ্রয়ােজনীয় ঘটনাকে রােধ করতে সক্ষম। 
  • যে কোনাে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকে আকর্ষণীয়, হৃদয়গ্রাহী, বাস্তবসম্মত এবং সর্বোচ্চভাবে নিরাপদ করতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ যেকোনাে প্রশিক্ষণে দুর্ঘটনা, প্রাণনাশ প্রভৃতির সম্ভাবনা শূন্যে নামিয়ে আনে। 
  • সামরিক প্রশিক্ষণ, মহড়া, কোনাে উৎপাদিত ধ্বংসাত্মক পণ্যসমূহের মান যাচাইয়ের পরীক্ষাসমূহ বিষয়টি ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করে সম্পন্ন করা হলে তা পরিবেশ দূষণ ও বিপর্যয় রােধ করে। 
  • ঝুঁকিপূর্ণ উৎপাদন ব্যবস্থাকে সহজ ও ঝুঁকিহীন করে তােলে।

প্রাত্যহিক জীবনে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির নেতিবাচক প্রভাব (Negative Influence of VR in everyday life) 

ইতিবাচক প্রভাবের পাশাপাশি ভার্চুয়াল রিয়েলিটির নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে। নিচে এ সম্পর্কে আলােচনা করা হলাে 

চড়া দাম এবং জটিলতা 

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি সরঞ্জামাদির দাম অনেক চড়া হওয়ার কারণে সাধারণের মধ্যে এর প্রসার এবং জটিলতা নিয়ে বিজ্ঞানীরা উদ্বিগ্নতায় আছেন। অনেক সময় এর হ্যান্ডসেটের গতি ব্যবহারকারীর স্বাভাবিক গতির সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করতে পারে না। 

স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি এর ব্যবহার মানুষের জন্য ক্ষতিকর। এটি মানুষের দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তির ক্ষতিসাধন করে।

কল্পনার জগতে বিচরণ 

ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে মানুষ তার কল্পনার রাজ্যে ইচ্ছেমতাে বিচরণ করতে পারে। অনেক সময় ধরে কল্পনার জগতে থাকলে বাস্তবতা থেকে আস্তে আস্তে দূরে সরে যাবে। ফলে পৃথিবীতে বিপর্যয় নেমে আসবে। 

মনুষ্যত্বহীনতা 

ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে মানুষ বাস্তবিকের চেয়ে ভালাে পরিবেশ ও মনের মতাে সঙ্গী পাবে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যাপক প্রসারের কারণে মানুষের পারস্পরিক ক্রিয়া হ্রাস পাবে এবং মনুষ্যত্বহীনতা বেড়ে যাবে। ফলে ক্রমেই মানব সমাজ বিলুপ্ত হতে থাকবে।

আরটিকেলের শেষকথাঃ ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি | ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ধারণা

এতক্ষন জানলাম ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি ও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কাকে বলে, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি ব্যাখ্যা করো, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি ধরনের প্রযুক্তি ও ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ধারণা সম্পর্কে পুরো পুরি জানতে পারলাম। 

যদি আজকের এই পোস্ট টি তোমাদের ভালো লাগে তাহলে বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করে দিবেন আর একটি মন থেকে কমেন্ট করবেন কেমন লাগলো আমাদের আজকের এই পোস্ট টি। আর এই রকমই নিত্য নতুন পোস্ট পেতে আমাদের আরকে রায়হান ওয়েবসাইট টি ভিজিট করুন প্রতিদিন।

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

Please do not enter any spam link in the comment box.

আরকে রায়হান নোটিফিকেশন