আরকে রায়হান https://www.rkraihan.com/2022/05/fojorer-namaj-koi-rakat.html

ফজরের নামাজ কয় রাকাত | ফজরের নামাজের নিয়ম


আসসালামু আলাইকুম। হ্যালো বন্ধুরা আজকের ব্লগ পোস্টের বিষয় হলো ফজরের নামাজ কত রাকাত, ফজরের নামাজের নিয়ম ও ফজরের নামাজ কিভাবে পড়তে হয় তা সম্পর্কে বিস্তারিত জানব।

ফজরের নামাজ কয় রাকাত  ফজরের নামাজের নিয়ম
ফজরের নামাজ কয় রাকাত  ফজরের নামাজের নিয়ম

আপনি যদি ফজরের নামাজ সম্পর্কে সব খুটি নাটি জানতে চান তাহলে আপনি সঠিক জায়গায় আসছেন কারন আমরা ফজরের নামাজের সব বিষয় গুলো তুলে ধরব। তো চলুন বন্ধুরা জেনে নেওয়া যাক।

ফজরের নামাজ কয় রাকাত | ফজরের নামাজ কত রাকাত

 ফজরের নামায মােট ৪ রাকআত

২ রাকআত সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ।। 

২ রাকআত ফরয।

ফজরের দুই রাকআত সুন্নত আদায় করার নিয়ম

ফজরের দুই রাকআত সুন্নতের নিয়ত | ফজরের নামাজের নিয়ত

رسول وی آن اصلى لله تعالی رکعتی صلوة الفجر الله تعالی متوجها إلى جهة الكعبة الشريفة الله أكبر .

উচ্চারণঃ নাওয়াইতু আন উছাল্লিয়া লিল্লাহি তা'আলা রাকআতাই সলাতিল ফাজরি ছুন্নাতু রাসূলিল্লাহি তা'আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা'বাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার। 

বাংলা নিয়ত: আমি কেবলামুখী হইয়া আল্লাহর জন্য ফজরের দুই রাকয়াত সুন্নাত নামায আদায় করিতেছি, আল্লাহু আকবার।

প্রথম রাকআত আদায় করার নিয়ম | ফজরের নামাজের নিয়ম

প্রথমে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে সিজদার স্থানের দিকে দৃষ্টি রেখে নিঃশব্দে জায়নামাযের দোয়া পাঠ করবে। তারপর নামাযের নিয়ত করবে। আরবীতে নিয়ত করা ভাল তবে তা জরুরী নয়। বাংলায় নিয়ত করলেও হবে এবং এতে নামাযের সওয়াব কম হবে না। নিয়ত করা অর্থাৎ মনে মনে এ সংকল্প করবে যে, আমি কিবলামুখী হয়ে আল্লাহর ওয়াস্তে ফজরের দুই রাকআত সুন্নত নামায আদায় করার জন্য নিয়ত করলাম। অতঃপর উভয় হাতের পেট কিবলার দিক করে পুরুষেরা কান পর্যন্ত এবং নারীরা কাঁধ পর্যন্ত হাত উঠাবে। হাত এমন ভাবে উঠাবে যাতে পুরুষের ক্ষেত্রে হাতের বৃদ্ধা আঙ্গুলি কানের লতি বরাবর থাকে এবং অঙ্গুলির মাথা কানের উপরে থাকে; কিন্তু মাথার উপরে নয় । আর নারীদের ক্ষেত্রে হাতের বৃদ্ধা আঙ্গুলি কাঁধ বরাবর এবং আঙ্গুলের মাথা কাঁধের উপরে থাকে, কিন্তু কানের উপরে। যাতে না উঠে। | হাত উঠানাের পর নিঃশব্দে আল্লাহু আকবার (তাকবীরে তাহরীমা) বলে পুরুষেরা নাভির নীচে এবং নারীরা সিনার উপরে ডান হাতের কবজি বাম হাতের কবজির উপর স্থাপন করবে পুরুষেরা ডান হাতের বৃদ্ধা ও তর্জুনী আঙ্গুল দিয়ে বাম হাতের কবজিকে শক্ত করে ধরবে।

| তাকবীরে তাহরীমা বলে হাত বাঁধার পর প্রথমে সানা, অতঃপর আউযুবিল্লাহ ও। বিসমিল্লাহ চুপে চুপে পাঠ করবে। তারপর নিঃশব্দে সূরা ফাতিহা পাঠ শেষে চুপে চুপে আমীন বলবে। তারপর যে কোন একটি সূরা বা কুরআনের যে কোন জায়গা হতে ছােট হলে কমপক্ষে তিন আয়াত, আর বড় হলে কমপক্ষে এক আয়াত পাঠ করবে। তারপর নিঃশব্দে আল্লাহু আকবার বলে রুকু করবে। রুকুতে দুই হাত দ্বারা দুই হাঁটুকে শক্ত করে ধরবে এবং হাতকে তীরের মত সােজা রাখবে। এ সময় মাথা, পিঠ ও নিতম্ব এক বরাবর রাখবে এবং পিঠকে কুঁজো ও মাথাকে নীচু করবে না। নারীরা তাদের রুকু করার নিয়ম অনুযায়ী রুকু করবে। অতঃপর রুকুতে নিঃশব্দে তিন, পাঁচ অথবা সাতবার (বিজোড়) রুকুর তাসবীহ ধীরস্থিরভাবে পাঠ করবে। অতঃপর নিঃশব্দে সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ বলে সােজা হয়ে দাঁড়াবে যাতে পিঠ ও মাথা সােজা হয়ে যায়। হাত নীচের দিকে ছেড়ে সােজা রাখবে। অতঃপর চুপে চুপে রাব্বানা লাকাল হামদ্ বলবে। তারপর নিঃশব্দে আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় যাবে। সিজদায় গিয়ে দুই হাতের আঙ্গুলগুলাে মিলিয়ে দুই কানের লতি বরাবর রাখবে তারপর মাটিতে প্রথমে নাক অতঃপর কপাল রাখবে । মাথা, পিঠ ও নিতম্ব সম্পূর্ণ সােজা রাখবে, পিঠকে কুঁজো করবে।

অতঃপর সিজদায় গিয়ে নিঃশব্দে তিন, পাঁচ অথবা সাতবার সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা পাঠ করবে। তারপর নিঃশব্দে আল্লাহু আকবার বলে স্থির হয়ে বসবে যাতে | মাথা ও পিঠ সােজা থাকে । সিজদা হতে মাথা উঠানাের সময় মাটি থেকে প্রথমে।

কপাল তারপর নাক উঠাবে। অতঃপর পুনরায় নিঃশব্দে আল্লাহু আকবার বলে। | দ্বিতীয় সিজদায় যাবে এবং পূর্বের ন্যায় সিজদায় নিঃশব্দে তিন, পাঁচ বা সাতবার। | সিজদার তাসবীহ পাঠ করবে। তারপর নিঃশব্দে আল্লাহু আকবার বলে সিজদা হতে উঠে সােজা হয়ে দাড়াবে। এক রাকআত নামায পূর্ণ হল।

দ্বিতীয় রাকআত আদায় করার নিয়ম | ফজরের নামাজ পড়ার নিয়ম

প্রথম রাকআত শেষ হওয়ার পর নিঃশব্দে আল্লাহু আকবার বলে সিজদা হতে সােজা হয়ে দাঁড়াবে। সিজদা হতে উঠার সময় মাটি হতে প্রথমে কপাল, তারপর নাক, তারপর হাত উঠাবে। হাত হাটুর উপর ভর দিয়ে সােজা হয়ে দাঁড়াবে। দু'হাত মাটিতে ভরদিয়ে দাঁড়াবে না, তবে কোন ওযর থাকলে মাটিতে হাত দিয়ে দাঁড়াতে পারবে। দাঁড়িয়ে পূর্বের মত পুরুষেরা নাভির নীচে এবং নারীরা বুকের উপর হাত বাঁধবে। অতঃপর দাঁড়ানাে অবস্থায় সূরা ফাতিহা পাঠ করে অন্য একটি সূরা বা কুরআনের প্রথম রাকআতে যে কিরাত বা সুরা পাঠ করা হয়েছে তার পরবর্তী যে কোন স্থান হতে বড় হলে কমপক্ষে এক আয়াত, আর ছােট হলে কমপক্ষে তিন আয়াত পাঠ করবে। তারপর পূর্বের মত নিঃশব্দে আল্লাহু আকবার বলে রুকু করবে এবং রুকুতে তিন, পাঁচ বা সাতবার তাসবীহ পাঠ করবে। তারপর পূর্বের মত নিঃশব্দে সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ বলে রুকু হতে উঠে সােজা হয়ে দাঁড়াবে। তারপর নীরবে রাব্বানা লাকাল হামদ্ বলবে। তারপর প্রথম রাকআতের মত দুই সিজদা করবে। দুই সিজদার মাঝখানে সােজা হয়ে বসবে। সােজা হয়ে বসা। ওয়াজিব। উভয় সিজদাতে পূর্বের মত তিন, পাঁচ বা সাতবার সিজদার তাসবীহ পাঠ করবে। দ্বিতীয় রাকআতে দুই সিজদার পর নিঃশব্দে আল্লাহু আকবার বলে সিজদা হতে উঠে বসবে। বসার নিয়ম হচ্ছে- ডান পায়ের পাতাকে খাড়া রেখে বাম পায়ের উপর বসবে। বসাবস্থায় দুই হাতের পাতা দুই উরুর উপর জানু বরাবর স্থাপন করবে এবং আঙ্গুলসমূহ একটু ফাকা রাখাবে। নারীরা তাদের বসার নিয়ম অনুযায়ী বসবে। পুরুষদের মত বসবে না। বসা অবস্থায় যথাক্রমে নিঃশব্দে আত্তাহিয়্যাত, দরূদ শরীফ ও দোয়া মাসুরা পাঠ করে প্রথমে ডানে, পরে বামে | নীরবে আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ বলে সালাম ফিরাবে । ফজরের দুই রাকআত সুন্নাত নামায আদায় পূর্ণ হল।

ফজরের দুই রাকআত সুন্নত নামাযের ফযীলত | ফজর নামাজের ফজিলত

ফজর নামাযের দুই রাকআত সুন্নাতের ফযীলত সম্পর্কে হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, হযরত নবী করীম (সঃ) নফল নামাযসমূহের মধ্যে কোন নামাযের প্রতিই এত অধিক লক্ষ্য রাখতেন না, যত না বেশী লক্ষ্য রাখতেন ফজরের দুই রাকআত সুন্নতের প্রতি। (বুখারী ও মুসলিম)। | হযরত আয়েশা (রাঃ) আরও বলেন, হযরত রাসূলে আকরাম (সঃ) ইরশাদ করেছেন, ফজরের (ফরযের) পূর্বে দুই রাকআত নামায দুনিয়া ও তার সমস্ত জিনিস অপেক্ষা উত্তম। (মুসলিম) 

ফজরের দুই রাকআত ফরযের নিয়ত | ফজর নামাজের নিয়ত

آن صلى الله تعالی رکعتی صلوۃ الفجر فرض الله و تعالی متوجها إلى جهة الكعبة الشريفة الله اكبر

উচ্চারণঃ নাওয়াইতু আন উসল্লিয়া লিল্লাহি তা'আলা রাকয়াতাই সলাতিল। ফাজরি ফারদুল্লাহি তা'আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা'বাতিশ শারীফাতি | আল্লাহু আকবার ।

বাংলা নিয়ত: আমি বেকলামুখী হইয়া আল্লাহর জন্য ফজরের দুই রাকয়াত ফরজ নামায আদায়ের নিয়ত করিতেছি। আল্লাহু আকবার ।

জামাআতের সাথে ইমামের পিছনে নামায আদায় করা হলে নিয়ত করার সময় ফারদুল্লাহি তাআলা এর পর বলতে হবে ইকৃতাদাইতু বিহা-যাল ইমাম। অতঃপর বাকী আংশ বলবে ।

ফজরের দুই রাকআত ফরয আদায় করার নিয়ম

ফজরের দুই রাকআত ফরয নামায একাকী আদায় করলে দুই রাকআত সুন্নাত নামায যে নিয়মে আদায় করা হয়েছিল সে নিয়মেই আদায় করতে হবে। কিরাআত উচ্চস্বরে অথবা নিঃশব্দেও পাঠ করা যাবে। ইকামত দেয়া জরুরী নয় । ইকামত ইচ্ছে করলে দেয়া যাবে, আবার না দিলেও কোন ক্ষতি নেই। আর জামাআতের সাথে আদায় করার সময় নিম্নলিখিত নিয়মাবলী অনুসরণ করতে হবে ? | ফজরের দুই রাকআত ফরয নামায জামাআতের সাথে আদায় করার ক্ষেত্রে মুক্তাদিদেরকে নামাযের নিয়তসহ ইমামের ইক্তিদা করার নিয়ত করতে হবে, কিন্তু ইমামের ইমামতির নিয়ত করা জরুরী নয় । নিয়্যত করার পর ইমামের তাকবীর তাহরীমা বলার পর মুক্তাদিরাও দু’কান পর্যন্ত দু’হাত উঠায়ে তাকবীর তাহরীমা অর্থাৎ আল্লাহু আকবার বলে নাভীর উপর হাত বাধবে।

তারপর মুক্তাদিরা চুপে চুপে সানা পাঠ করে চুপচাপ দাড়িয়ে থাকবে। মুক্তাদিরা ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা কিংবা অন্য কোন সূরা কিরাআত পাঠ করবে না । ইমামের কিরাআত মনযােগসহকারে শ্রবণ করবে। মুক্তাদিরা ইমামের তাকবীর বলার পর পর সমস্ত তাকবীর (অর্থাৎ আল্লাহু আকবার) যথাস্থানে বলবে। ইমাম যখন “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলবে তখন মুক্তাদিরা সােজা হয়ে দাড়াবার সময় “রাব্বানা লাকাল হাদ” বলবে। মুক্তাদিরা রুকু সিজদায় নিঃশব্দে তাসবীহ পাঠ করবে। আত্তাহিয়্যাতু, দরূদ শরীফ ও দোয়া মাসূরাও নিঃশব্দে পাঠ করবে। কিন্তু কোন সূরা কিরাআত পাঠ করবে না। অন্যান্য সব কাজে মুক্তাদিরা ইমামের যথাযথ অনুসরণ করবে।

একাকী ফরযের নিয়ত করার পর জামাআত শুরু হলে করণীয়। 

মসজিদ কিংবা অন্য কোথাও একাকী ফজরের দুই রাকআত ফরয নামাযের নিয়ত করার পর নিকটে কয়েকজন মিলে যদি জামাআত দাড়ায় এমতাবস্থায় আপনি যদি দ্বিতীয় রাকআতের সিজদা না করে থাকেন তাহলে নামাযে যে অবস্থায় থাকবেন সে অবস্থায়ই ডান দিকে এক সালাম দিয়ে নামায ভংগ করে জামাআতে শরীক হয়ে যাবেন। আর যদি দ্বিতীয় রাকআতের সিজদা করে থাকেন তাহলে ঐ নামায একাকীই পূর্ণ করবেন। এ অবস্থায় জামাআতে শরীক হবেন না। (বেহেশতী জেওর) 

ফজরের ফরয নামায একাকী আদায় করার সময় সূরা কিরাআত উচ্চ স্বরেও পাঠ করা যায় এবং অনুচ্চ স্বরেও পাঠ করা যায়।

নামাযের শেষ বৈঠকে না বসে দাঁড়িয়ে গেলে করণীয়

কেউ যদি ফজরের দুই রাকআত সুন্নাত বা ফরয নামাযের দ্বিতীয় রাকআতে (শেষ বৈঠকে) তাশাহহুদ পাঠ করা পরিমাণ সময় বসার পর ভুলক্রমে তৃতীয়। রাকআতের জন্য সম্পূর্ণ দাড়িয়ে যায় তাহলে স্মরণ হওয়া মাত্র বসে যাবে, যদিও সূরা কিরাআত পাঠ করে থাকে বা রুকুও করে থাকে। বসে ডান দিকে সালাম। ফিরায়ে সাহু সিজদা করবে। তারপর আবার আত্তাহিয়্যাতু, দরূদ শরীফ ও দোয়া মাসূরা পাঠ করে উভয় দিকে সালাম ফিরায়ে নামায শেষ করবে। আর যদি তৃতীয় রাকআতের সিজদা করে থাকে তাহলে তৃতীয় রাকআত শেষে বসে যাবে এবং সাহু সিজদা আদায়সহ নামায শেষ করবে। চতুর্থ রাকআত আদায় করবে না। (ফতােয়ায়ে আলমগীরী) 

উল্লেখিত অবস্থায় যদি ফজরের দুই রাকআত ফরয নামাযের নিয়ত করা হয়ে থাকে তাহলে দুই রাকআত ফরয আদায় হয়ে যাবে, আর এক রাকআত বাতিল হবে। আর যদি ফজরের দুই রাকআত সুন্নাত নামাযের নিয়ত করা হয়ে থাকে তাহলেও দুই রাকআত সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে এবং এক রাকআত বাতিল হবে। চতুর্থ রাকআত আদায় না করার কারণ হলাে, ফজরের দুই রাকআত ফরযের পর কোন নফল নামায নেই এবং দুই রাকআত ফরযের পূর্বেও দুই রাকআত সুন্নাত ব্যতীত আর কোন সুন্নাত বা নফল নামায নেই।

যদি ফজরের দুই রাকআত সুন্নাত বা দুই রাকআত ফরয নামাযে এমন হয় যে, দ্বিতীয় রাকআতে (শেষ বৈঠকে) তাশাহহুদ পাঠ করা পরিমাণ সময় না বসেই ভুলক্রমে তৃতীয় রাকআতের জন্য দাঁড়াতে উদ্যত হয় তাহলে বসার নিকটবর্তী থাকাকালীন অবস্থায় তা স্মরণ হলে বসে যাবে এবং আত্তাহিয়্যাতু দরূদ শরীফ এবং দোয়া মাসূরা পাঠ করে সালাম ফিরাবে। এ অবস্থায় সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে না। আর যদি সম্পূর্ণ দাড়িয়ে যাবার পর স্মরণ হয়, কিংবা সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর, এমনকি তৃতীয় রাকআতের রুকু করার পরও যদি স্মরণ হয় তবুও বসে যেতে হবে। এ অবস্থায় সাহু সিজদার সাথে নামায পূর্ণ করবে, এতে নামায শুদ্ধ হয়ে যাবে। আর যদি তৃতীয় রাকআতের সিজদা করার পর স্মরণ হয় তাহলে এ নামায বাতিল হয়ে যাবে। পুনরায় নামায আদায় করতে হবে। 

ফজরের সুন্নাত আদায় করার পূর্বেই জামাআত শুরু হয়ে গেলে করণীয় 

ফজরের দুই রাকআত সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ আদায় করা হয়নি, এ অবস্থায় যদি জামাআত শুরু হয়ে যায় এবং এ ধারণা থাকে যে, সুন্নত আদায় করেও জামাআতের শেষ বৈঠকের তাশাহ্হুদে শরীক হতে পারবে, তাহলে সুন্নত আদায় করে জামাআতে অংশ নিবে। কারণ ফজরের দুই রাকআত সুন্নাতের ব্যাপারে বিশেষ তাগিদ রয়েছে। জামাআত শুরু হয়ে গেলে মসজিদের বারান্দায় কিংবা মসজিদের কোন কিছুর আড়ালে দাঁড়িয়ে সনত নামায আদায় করে নিবে। কাতারের মাঝে দাঁড়িয়ে সনত আদায় করা অথবা মসজিদে কোন আড়াল ছাড়া সুন্নত নামায আদায় করা মাকরূহে তাহরীমি। সনাত আদায় করে জামাআতের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদে অংশগ্রহণ করা যাবে না এরূপ আশংকা থাকলে সুন্নত ছেড়ে দিয়ে জামাআতে অংশগ্রহণ করা যাবে। তবে ছেড়ে দেয়া সুন্নাত সূর্যোদয়ের পূর্বে আদায় করা জায়েয হবে না। সূর্য উদয় হয়ে কিছু উপরে উঠার পর হতে সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ার পূর্ব পর্যন্ত সুন্নত আদায় করা যাবে। তবে এরূপ যদি কোন আশংকা থাকে যে, সূর্য উদয় হওয়ার পর সুন্নত নামায আদায় করার সময় বা সুযােগ পাওয়া যাবে না তাহলে সূর্যোদয়ের পূর্বেই সূন্নাত আদায় করে নিতে পারবে। ফজরের সুন্নাত ব্যতীত অন্য কোন নামাযের সুন্নতের ক্ষেত্রে এ হুকুম প্রযােজ্য নয়। ফজরের সুন্নত সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বিধায় উপরােক্ত মাসয়ালা রয়েছে।

ফজরের নামায শুরু হয়ে গেলে জামাআতে শামিল হওয়ার নিয়ম

যদি কোন মুসল্লী ফযরের জামাআতে দেরী করে আসে এবং এসে দেখে যে, ইমাম সাহেব নামাযে দাঁড়িয়ে আছেন অথবা এক রাকআত আদায় হয়ে গেছে। অথবা রুকুতে বা সিজদায় গিয়েছেন অথবা বসে তাশাহহুদ পাঠ করছেন তাহলে জামাআতে তৎক্ষণাত শামিল হবে। ইমাম সাহেব যদি রুকু অবস্থায় থাকেন। তাহলে রুকুতেই অংশগ্রহণ করবে, ইমাম সাহেব যদি বসে তাশাহহুদ পাঠ করা অবস্থায় থাকেন তাহলে তাশাহহুদেই অংশগ্রহণ করবে। এমতাবস্থায় জামাআতে ইমামের সাথে অংশগ্রহণ করার নিয়ম হচ্ছে

মাসবুক মুক্তাদী দাড়িয়ে ইমাম সাহেবের সাথে নামায আদায় করার নিয়ত করে হাত উঠায়ে আল্লাহু আকবার বলে হাত বাঁধবে। ইমাম সাহেবকে যদি নামাযে কিরাআত বিহীন দাঁড়ানাে অবস্থায় পায় তাহলে হাত বাঁধার পর সানা পাঠ করে নিবে। (ফতােয়ায়ে আলমগীরী)

আর যদি কিরাআত পাঠ করা অবস্থায় পায় তাহলে সানা পাঠ করবে না বরং চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকবে এবং ইমাম সাহেবের কিরাআত মনযােগ সহকারে শ্রবণ করবে। ইমাম সাহেবকে যদি রুকু বা সিজদা অবস্থায় পায় তাহলে দ্রুত ভেবে নিবে যে, সানা পাঠ করে রুকু বা সিজদার কিছু অংশ পাবে কিনা, যদি পাওয়ার আশা থাকে তাহলে সানা পাঠ করবে। কিন্তু সানার সাথে আউযুবিল্লাহ পাঠ করবে না। আর যদি সানা পাঠ করলে রুকু বা সিজদায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না বলে মনে হা তাহলে সানা পাঠ না করেই ইমাম সাহেবের অনুসরণ করে রুকু বা সিজদায় অংশগ্রহণ করবে। আর যদি ইমাম সাহেবকে তাশাহহুদ পাঠ করা অবস্থায় পাওয়া যায় তাহলে সানা পাঠ করবে না বরং তাকবীর তাহরীমা বলে হাত বেঁধে পুনরায় আল্লাহু আকবার বলে তাশাহহুদে শরীক হবে। (ফতােয়ায়ে আলমগীরী ও বাহরুর রায়েক)

মাসবুক মুক্তাদী প্রথমে ইমাম সাহেবের সাথে শরীক হয়ে নামাযের যতটুকু পাবে ততটুকু আদায় করবে। তারপর ছুট যাওয়া নামায মুনফারিদ অর্থাৎ একাকী নামায আদায় করার মত আদায় করবে। যদি শরীক হওয়ার পূর্বেই ছুট যাওয়া নামায আদায় করে তাহলে তার নামায ফাসিদ হয়ে যাবে । (ফতােয়ায়ে আলমগীরী)।

মাসবুক অর্থাৎ ইমাম সাহেবের সাথে বিলম্বে অংশগ্রহণকারী মুসল্লী শেষ বৈঠকে ইমাম সাহেবের সাথে তাশাহহুদ পরবর্তী দোয়াসমূহ অর্থাৎ দরূদ শরীফ ও দোয়া মাসূরা পাঠ করবে না বরং তাশাহহুদ এমন ধীরে ধীরে পাঠ করবে যেন ইমাম সাহেবের সালাম ফিরানাের পূর্বে তা শেষ হয় । তারপর ইমাম সাহেব যখন বাম দিকে সালাম ফিরাবে তখন আল্লাহু আকবার বলে উঠে ছুট যাওয়া নামায যথা নিয়মে আদায় করবে। ইমাম সাহেব ডান দিকে সালাম ফিরানাের সময় দাড়াবে । কারণ ইমাম সাহু সিজদা দিলে তাকেও সাহু সিজদা দিতে হবে।।

জামাআতে ছুট যাওয়া রাকাআত আদায় করার নিয়ম

মাসবুক মুসল্লী যে কয়েক রাকআত ইমাম সাহেবের সাথে পায়নি সে কয় রাকআত মুনফারিদ অর্থাৎ একাকী নামায আদায়কারী মুসল্লীর মত সানা, আউযুবিল্লাহ, বিসমিল্লাহ ও কিরাআতসহ আদায় করবে। আর ঐ সমস্ত রাকআতে সে যদি কোন ভুল করে থাকে তাহলে সাহু সেজদা দিতে হবে। (ফতােয়ায়ে শামী) ।

মাসবুক যে রাকআতের রুকু পেয়েছে সে ঐ রাকআত পুরােই পেয়েছে। আর যে রাকআতের রুকু পায়নি সে ঐ রাকআত পায়নি বলেই গণ্য হবে। এমতাবস্থায় । তা পুনরায় আদায় করতে হবে। | মাসবুক মুক্তাদির যদি ফজরের জামাআতে এক রাকআত ছুটে যায় তাহলে ইমাম সাহেবের বাম দিকে সালাম ফিরানাের পর আল্লাহু আকবার বলে দাড়িয়ে যাবে। ডান দিকে সালাম ফিরানাের পর দাঁড়াবে না। কারণ ইমাম সাহেব যদি সাহু। সিজদা দেয় তাহলে তাকেও সাহু সিজদা দিতে হবে। দাঁড়ানাের পর প্রথমে সানা, আউযুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পাঠ করার পর সূরা ফাতিহার সাথে কোন একটি সূরা। মিলায়ে রুকু সিজদা করে শেষ বৈঠক করবে। কেননা ফজরের পাওয়া রাকআত। হিসেবে ইহা তার জন্য দ্বিতীয় রাকআত। আর যদি দুই রাকআতই ছুটে গিয়ে। থাকে অর্থাৎ ইমাম সাহেবের সাথে তাশাহহুদে শরীক হয়ে থাকে তাহলে ইমাম সাহেবের বাম দিকে সালাম ফিরানাের পর মাসবূক মুক্তাদী আল্লাহু আকবার বলে দাডিয়ে প্রথমে সানা, আউযুবিল্লাহ, বিসমিল্লাহ, সূরা ফাতিহা এবং অন্য একটি সুরা । পাঠ করে প্রথম রাকআত শেষ করবে। প্রথম রাকআতে দুই সিজদা করার পর দাড়িয়ে যাবে। অতঃপর দ্বিতীয় রাকআতে সূরা ফাতিহা ও অন্য একটি সুরা মিলায়ে। যথারীতি শেষ বৈঠক করে আত্তাহিয়্যাতু, দরূদ শরীফ ও দোয়া মাসুরা পাঠ করে। নামায শেষ করবে।

ফজরের সময়ে কোন নফল নামায আদায় করা মাকরূহ

সুবহে সাদেকের পর হতে সূর্যোদয় পর্যন্ত ফজরের দুই রাকআত সুন্নাত ও দুই । রাকআত ফরয নামায ব্যতীত অন্য কোন নফল নামায আদায় করা মাকরুহ।

(ফতােয়ায়ে আলমগরী) | তবে কাযা নামায, জানাযার নামায, তিলাওয়াতে সিজদা, কুরআন তিলাওয়াত, দোয়া দরূদ, যিকির করা ইত্যাদি জায়েয আছে। এছাড়া কেউ যদি ফজরের দুই। রাকআত সুন্নত আদায় না করেই জামাআতের সাথে ফরয আদায় করে থাকে এবং সূর্যোদয়ের পর ছুট যাওয়া সুন্নত আদায় করতে পারবে না বলে আশংকা করে তাহলে তা আদায় করে নিতে পারবে। তবে সূর্যোদয়ের পর আদায় করাই উত্তম।

সূর্যোদয়ের সময় নামায আদায় করা নিষিদ্ধ

কোন ব্যক্তির যদি ফজর নামায এক রাকআত আদায় করার পর সূর্যোদয় হয় তবে তার নামায বাতিল হয়ে যাবে। এ নামাযের কাযা অবশ্যই আদায় করতে হবে। কারণ সূর্যোদয়ের সময় সর্বপ্রকার নামায আদায় করা নিষিদ্ধ। (আহসানুল ফাতাওয়া)

ফজরের নামাযকে আসরের নামাযের মত মনে করা যাবে না। কারণ সূর্যাস্তের সময় ঐ দিনের আসরের নামায জায়েয।

ফজর নামাযের বিবরণ

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, মহানবী (সঃ) ইরশাদ করেছেন, মুনাফেকদের পক্ষে ফজর ও ইশা অপেক্ষা কোন কঠিন নামায নেই যদি তারা জানত তার মধ্যে কি আছে তাহলে তারা তা আদায় করার জন্য আসত, যদিও তাদের আসতে হত হামাগুড়ি দিয়ে। (বুখারী ও মুসলিম) 

হযরত উমারাহ ইবনে রুআইবাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আমি মহানবী (সঃ)-কে বলতে শুনেছি, এমন কোন ব্যক্তি জাহান্নামে যাবে না, যে। সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে নামায আদায় করেছে। অর্থাৎ ফজর ও আসর। (মুসলিম) 

ফজরের নামাযে গাফিলতিকারী 

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, মহানবী (সঃ)-এর নিকট এক ব্যক্তির ব্যাপারে বলা হল, সে সারা রাত্রি দ্রিায় যায়। এমনকি সকাল হল, কিন্তু নামাযের জন্য জাগ্রত হল না। ইহা শ্রবণ করে মহানবী (সঃ) বললেন, সে এমন ব্যক্তি যার কানে অথবা তিনি বলেছেন, যার দুই কানে শয়তান প্রস্রাব করে দিয়েছে। (বুখারী ও মুসলিম)

নামাযের জন্য ঘুম হতে জাগানাের ফযীলত 

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, মহানবী (সঃ) ইরশাদ করেছেন, মহান আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি অনুগ্রহ করেন যে ব্যক্তি রাতে উঠে নামায আদায় করে এবং আপন স্ত্রীকেও জাগায়ে দেয় এবং সেও নামায আদায় করে। আর যদি সে ঘুম হতে উঠতে অস্বীকার করে, তাহলে তার মুখমন্ডলে পানি ছিটিয়ে দেয়। এভাবে আল্লাহ অনুগ্রহ করেন সে স্ত্রীর প্রতিও যে রাতে উঠে নামায আদায় করে এবং আপন স্বামীকেও জাগিয়ে দেয় এবং সেও নামায আদায় করে। আর যদি সে উঠতে অস্বীকার করে তাহলে তার মুখমন্ডলে পানি ছিটিয়ে দেয়। (আবু দাউদ ও নাসায়ী)

ফজরের নামায জামাআতের সাথে আদায় করার ফযীলত

হযরত উসমান ইবনে আফফান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, হযরত রাসূলে করীম (সঃ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি ফজরের নামায জামাআতের সাথে আদায় করল সে যেন সম্পূর্ণ রাত নামায আদায় করল। (মুসলিম)।

ফজর নামাজের ওয়াক্ত | ফজরের ওয়াক্ত কখন শুরু হয়

রাতের শেষে পূর্বাকাশে উপরে-নীচে একটি লম্বা সাদা রেখা প্রকাশ পায়। এ রেখা দেখা যাওয়ার সময়কে সুবহে কাযেব বলে। সাদা রেখা বিলীন হয়ে পুনরায় অন্ধকার প্রকাশ পায়। এর অল্পক্ষণ পর আকাশে উত্তর দক্ষিণে বিস্তৃতি সাদা রং দেখা দেয়। এ সাদা রং প্রকাশের সময় থেকে সুবহে ছাদেক শুরু হয়। সুবহে ছাদেক হলে বুঝতে হবে ফজরের ওয়াক্ত হয়েছে এবং সূর্য উদয় না হওয়া পর্যন্ত ফজরের ওয়াক্ত থাকবে। পূর্বাকাশে সূর্যের সামান্য কিনারা দেখা দিলে ফজরের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায়।

ফজরের নামায বিলম্ব করে আদায় করা মুস্তাহাব

হযরত রাফি ইবনে খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, হযরত নবী করীম (সঃ) ইরশাদ করেছেন, তােমরা ফজরের নামায শুভ্র ফর্সা প্রভাতে আদায় । করাে। কেননা, এতে সওয়াব বেশী রয়েছে। (তিরমিযী শরীফ)। | ফজরের নামায একটু বিলম্বে আদায় করলে মুসল্লীর সমাগম বেশী হবে। তবে বর্তমান যুগেও যদি মানুষ ফজরের নামায জামাআতের সাথে আদায় করার জন্য । প্রথম ওয়াক্তেই প্রস্তুত হয়ে থাকে এবং জামাআত বিলম্বে করলে অসুবিধা হয় । তাহলে প্রথম ওয়াক্তে নামায আদায় করে নেয়াই উত্তম। যেমন ঃ রমযান মাসে। সকলেই সেহরী খেয়ে নামাযের অপেক্ষায় থাকে এবং এ সময় বিলম্ব করলে। হয়তাে কেউ ঘুমিয়ে যাবে এবং মুসল্লির সংখ্যা কমে যাবে। তাই এ অবস্থায়। ফজরের নামায প্রথম ওয়াক্তে আদায় করাই উত্তম।

ফজরের সময় জাগ্রত হতে না পারলে করণীয়

ফযরের সময়ে জাগ্রত হতে না পারলে যখন ঘুম হতে জাগ্রত হবে এবং নামাযের কথা স্মরণ হবে তখন বিলম্ব না করে নামায আদায় করে নিবে। তবে জাগ্রত হবার পরও যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বিছানা হতে না উঠে তাহলে এ নামায কাযা হবে।

হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, মহানবী (সঃ) ইরশাদ করেছেন, যদি কেউ কোন নামায আদায় করতে ভুলে যায় কিংবা নামায আদায় না করে ঘুমিয়ে পড়ে, তার প্রতিকার হল যখনই স্মরণ হবে তখনই তা আদায় করে নেয়া। অপর এক বর্ণনায় এ কথাগুলাে অতিরিক্ত আছে যে, এ ছাড়া তার অন্য কোন প্রতিকার নেই। (বুখারী ও মুসলিম) | হযরত আবু কাতাদাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, মহানবী (সঃ) ইরশাদ করেছেন, দ্রিায় কোন ত্রুটি নেই, ক্রটি হল জাগরণে। সুতরাং যখন তােমাদের কেউ কোন নামায আদায় করতে ভুলে যায় অথবা তা আদায় না করে ঘুমিয়ে পড়ে, তাহলে যখনই স্মরণ হবে তখনই নামায আদায় করে নিবে। কেননা আল্লাহ রাব্বল আলামীন ইরশাদ করেন, নামায কায়েম কর আমার স্মরণে । (মুসলিম)।

ফজরের নামায কাযা হলে কিভাবে আদায় করবে। ফজরের ফরযসহ সুন্নত নামায কাযা হলে এবং সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ার পূর্বেই যদি কাযা আদায় করা হয় তাহলে সুন্নাত সহ কাযা আদায় করবে।

কিন্তু সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ার পর কাযা আদায় করলে শুধু ফরযেরই কাযা আদায় করবে। (ফতােয়ায়ে দারুল উলুম)

তবে সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়লে সুন্নতের কাযা আদায় করতে হবে না। বলে কাযা নামায আদায় করাতে বিলম্ব করা অত্যন্ত গােনাহ।

আর্টিকেলের শেষকথাঃ 

বন্ধুরা আমরা এতক্ষন জেনে নিলাম ফজরের নামাজ কয় রাকাত, ফজরের নামাজের নিয়ম ও ফজরের নামাজ কিভাবে পড়তে হয় এবং ফজরের নামাজের নিয়ত। যদি তোমার কোথাও বুঝতে সমস্যা হয় তাহলে নিচের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট কর আর যদি তোমার ভালো লাগে তাহলে তোমার বন্ধুর মাঝে শেয়ার করে দাও।

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

Please do not enter any spam link in the comment box.

আরকে রায়হান নোটিফিকেশন