আরকে রায়হান https://www.rkraihan.com/2022/05/sorok-durgotona.html

সড়ক দুর্ঘটনার কারণ ও প্রতিকার রচনা | সড়ক দুর্ঘটনা রচনা


আসসালামু আলাইকুম প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা। কেমন আছো তোমরা? আজকে আমরা একটি রচনা জেনে নিবো আর সেই রচনাটি হচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনার কারণ ও প্রতিকার রচনা বা সড়ক দুর্ঘটনা রচনা। তোমরা যদি এই রচনাটি সম্পর্কে বেশি কিছু না জেনে থাকো তাহলে তোমরা আজকের এই সড়ক দুর্ঘটনার কারণ ও প্রতিকার রচনা | সড়ক দুর্ঘটনা রচনা টি আমাদের আরকে রায়হান ওয়েবসাইট থেকে খুব ভালো ভেবে জেনে নিতে পারবে।

সড়ক দুর্ঘটনার কারণ ও প্রতিকার রচনা | সড়ক দুর্ঘটনা রচনা
সড়ক দুর্ঘটনার কারণ ও প্রতিকার রচনা | সড়ক দুর্ঘটনা রচনা

তোমরা তো  ভালো ভাবে জানো বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিনিয়ত হতেই চলেছে/ বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ অজ্ঞতা। তো বেশি বক বক না করে তোমরা জেনে নাও আজকের সড়ক দুর্ঘটনার কারণ ও প্রতিকার রচনা | সড়ক দুর্ঘটনা রচনা টি। 

সড়ক দুর্ঘটনার কারণ ও প্রতিকার রচনা

ভূমিকা: সড়ক দুর্ঘটনা হলাে প্রতিদিনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। সংবাদপত্রে মর্মান্তিক যে খবরটি প্রতিদিন দেখতে পাই তা হলাে সড়ক দুর্ঘটনা। সড়ক , দুর্ঘটনায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের জীবন নিঃশেষ হয়ে যায়। এ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। তাই আজ যে সংবাদ আমার কাছে কেবলই দুর্ঘটনা, কাল হয়তাে আমার স্বজন কিংবা আমিই হব তার নির্মম শিকার। 

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার ব্যাপ্তি: বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে। ঢাকাসহ অন্যান্য জেলায় বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলাে প্রধানসড়কের পাশে হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীর জীবন অকালে ঝরে গেছে। প্রাণের বিনিময়ে মিলেছে গতিরােধ। ১৭, ১৮ ও ১৯ জুলাই ২০০৮, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডে যাত্রীবাহী বাস ও কাভার্ড ভ্যানের মধ্যে মুখােমুখি সংঘর্ষে আট জনের মৃত্যু হয়, আহত হয় চল্লিশ জনেরও বেশি। পরদিন কুমিল্লায় পৃথক একটি দুর্ঘটনায় এগারাে জনের প্রাণহানী ঘটে, আহত হয় প্রায় পঁচিশ জন। কাভার্ড ভ্যান ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখােমুখি সংঘর্ষে একই দিন নিহত হয় তরুণ ডাক্তার দম্পতি। তিন দিনে সংঘটিত উল্লিখিত দুর্ঘটনা ছাড়াও দেশের অন্যান্য স্থানে আরও দুর্ঘটনা ঘটে এবং প্রাণহানীর সংখ্যা দাঁড়ায় সাকুল্যে পঁচিশ, আহত হয় পঁচাত্তর জনেরও বেশি। উন্নত সড়ক ও আইন বাস্তবায়ন; এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনার হার বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি। সূত্র মতে, প্রতি দশ হাজার যানবাহনে বাংলাদেশে প্রাণহাণির হার একশ উনসত্তর জন। অথচ বিশ্বের সর্ববৃহৎ গাড়ি প্রস্তুতকারী দেশ জাপানে প্রতি দশ হাজার গাড়িতে। দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার ১.৯ জন। বাংলাদেশে দুর্ঘটনার আরও একটি ক্ষেত্র রেল ক্রসিং। ২০০৮-এর এপ্রিলে টাঙ্গাইলের কালিহাতীর এলেঙ্গ-রাজবাড়ি রেলক্রসিংয়ে ট্রেন ও বাসের সংঘর্ষে ১৭ জন নিহত হয়। এ ধরনের দুর্ঘটনা আরও অনেক ঘটেছে এবং ঘটছে। নেত্রকোণা-মােহনগঞ্জ সড়কে মাত্র ৩৪ কিলােমিটার সড়ক পথে পাঁচটি রেলক্রসিং রয়েছে। যার একটিতেও রেলগেট নেই, নেই গেটম্যান, রয়েছে কেবল ছােট্ট একটি সাইনবাের্ড। এ চিত্র বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনার সামগ্রিক চিত্র নয়, খণ্ড চিত্র। সাম্প্রতিককালে সিরাজগঞ্জে যমুনা ব্রিজের পশ্চিমপাশে একটি রাজনৈতিক সভা হচ্ছিল। সে || সভাস্থলটি ছিল রেললাইন থেকে ১০০ গজ দূরে। কিন্তু ট্রেন চলন্ত অবস্থায় সভাস্থলে দুর্ঘটনা ঘটে এবং কিছু লােকের জীবনহানি ঘটে।

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার কারণ: একটি পরিসংখ্যানে প্রকাশ, বাংলাদেশে প্রতি মাসে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয় ৪০০ জন। এদের মধ্যে অনেকেই ম্রত্যু বরণ করে নেয় স্থায়ী পঙ্গুত্বের অভিশাপ । যেসব কারণগুলাে সড়ক দুর্ঘটনার জন্যে প্রধানত দায়ী তা। 

১. বেপরােয়া গতিতে গাড়ি চালানাে 

২. ত্রুটিযুক্ত যানবাহন

৩. ফিটনেসবিহীন গাড়ি 

৪. লাইসেন্সবিহীন অদক্ষ চালক

৫, হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানাে 

৬. ট্রাফিক আইন সম্পর্কে ড্রাইভারদের অজ্ঞতা বা অনীহা 

৭. শিথিল ট্রাফিক আইন ব্যবস্থা

৮, জেব্রা ক্রসিং, ফুটপাত ও ফ্লাইওভারের স্বল্পতা 

৯. অপ্রশস্ত রাস্তা 

১০. ডিভাইডারযুক্ত চার লেন বিশিষ্ট দ্বিমুখী সড়কের অভাব ইত্যাদি। 

এ ছাড়া হকারদের ফুটপাত দখল, যত্রতত্র রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, পথের ধারে বে-আইনিভাবে গাড়ি পার্কিং প্রভৃতি কারণে রাস্তা সংকুচিত হয়ে পড়ে। এসবও সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিকারের উপায়: বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার অনেক কারণ বিদ্যমান। তবে প্রতিকারের উপায় সহজসাধ্য। প্রয়ােজন কেবল সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন। এ লক্ষ্যে: 

১. রাস্তাঘাট সংস্কার ও প্রশস্ত করতে হবে 

২. সড়ক অনুযায়ী যানবাহনের গতি নির্ধারণ করে দিতে হবে 

৩. ট্রাফিক আইনের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে ;

৪. ত্রুটিযুক্ত যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করতে হবে

৫. ডিভাইডারযুক্ত চার লেন বিশিষ্ট দ্বিমুখী সড়ক নির্মাণ করতে হবে

৬. ফুটপাত হকারদের দখলমুক্ত করতে হবে

৭. প্রয়ােজন অনুযায়ী জেব্রা ক্রসিং দিতে হবে, নির্মাণ করতে হবে ফ্লাইওভার

৮. উন্নত সিগনালিং ব্যবস্থা, রেল গেইট নির্মাণ এবং হাইওয়ে ট্রাফ্রিক নজরদারি বাড়াতে হবে। 

৯. লাইসেন্সবিহীন চালকদের কঠোর শাস্তির বিধান করতে হবে

১০. পথচারীদের পথ চলার নিয়ম সম্পর্কে সচেতন হতে হবে

উপসংহার: প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে অকালে ঝরে যায় কত প্রাণ। পঙ্গুত্ব বরণ করে কেউ কেউ বেঁচে থাকে মৃত্যুর মতাে। হতাহতদের পরিবারে একদিকে জমে শােকের ছায়া অন্যদিকে আইনগত বিচার চাইতে গিয়ে তাদের পড়তে হয় নানান জটিলতায়। আইনের যথাযথ প্রয়ােগ নেই বলেই অপরাধ করেও দায়ী ব্যক্তিরা অবলীলায় পার পেয়ে যায়। তাই সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে হলে সবচেয়ে বেশি প্রয়ােজন আইনের কার্যকর প্রয়ােগ। আর এ দায়িত্ব নিতে হবে সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনকে। সমস্যা নিরসনের জন্যে দীর্ঘমেয়াদি পরি আসতে হবে সরকারকে।

আরটিকেলের শেষকথাঃ সড়ক দুর্ঘটনার কারণ ও প্রতিকার রচনা | সড়ক দুর্ঘটনা রচনা

প্রিয় বন্ধুরা তোমরা এতক্ষন জেনে নিলে সড়ক দুর্ঘটনার কারণ ও প্রতিকার রচনা | সড়ক দুর্ঘটনা রচনা টি। যদি তোমাদের আজকের রচনাটি ভালো লাগে তাহলে মন চাইলে তোমার ফেসবুক বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে পারো আর এই রকম নিত্য নতুন আরটিকেলে পেতে আমাদের আরকে রায়হান ওয়েবসাইট টি ভিজিট কর।।

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

Please do not enter any spam link in the comment box.

আরকে রায়হান নোটিফিকেশন