নিরক্ষরতা দূরীকরণে ছাত্রসমাজের ভূমিকা রচনা

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা আজকে বিষয় হলো নিরক্ষরতা দূরীকরণে ছাত্রসমাজের ভূমিকা রচনা জেনে নিবো। তোমরা যদি নিরক্ষরতা দূরীকরণে ছাত্রসমাজের ভূমিকা রচনা টি ভালো ভাবে নিজের মনের মধ্যে গুছিয়ে নিতে চাও তাহলে অবশ্যই তোমাকে মনযোগ সহকারে পড়তে হবে। চলো শিক্ষার্থী বন্ধুরা আমরা জেনে নেই আজকের নিরক্ষরতা দূরীকরণে ছাত্রসমাজের ভূমিকা রচনা  টি।
নিরক্ষরতা দূরীকরণে ছাত্রসমাজের ভূমিকা রচনা
নিরক্ষরতা দূরীকরণে ছাত্রসমাজের ভূমিকা রচনা

নিরক্ষরতা দূরীকরণে ছাত্রসমাজের ভূমিকা রচনা

ভুমিকাঃ বাংলাদেশের উন্নয়ন ও প্রগতিকে সবচেয়ে বেশি ব্যাহত করছে যে সমস্যাগুলাে তার মধ্যে অন্যতম নিরক্ষরতা। অনেকের এ পরিসংখ্যানে প্রকাশ, বিশ্বে প্রায় একশ কোটি লােক নিরক্ষর। এদের অধিকাংশই উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশের বাসিন্দা। আধুনিক সমাজে নিরক্ষরতা হচ্ছে জাতীয় জীবনের সবচেয়ে বড় অভিশাপ। এ অভিশাপের ক্ষমতা এতই প্রখর যে, তা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকেও করে হলে আনের আলাে | এ আলাে ছাড়া কোনাে আর্থ-সামাজিক-সাংস্কৃতিক উন্নয়ন সম্ভব হয় না, দেশ পৌছাতে পারে না তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে। দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও নিরক্ষরতা দূরীকরণের ব্যাপারটিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। এ লক্ষ্যে এগিয়ে আসতে হবে দেশের সরকার, শিক্ষিত। সমাজ, বিশেষ করে দায়িত্বশীল ছাত্রদের । 

বাংলাদেশে নিরক্ষরতার স্বরুপ: বাংলাদেশের প্রায় সিংহভাগ মানষই নিরক্ষরতার অন্ধকারে নিমজ্জিত। এখানে শিক্ষিতের হার প্রায় পাশ শতাংশ। শিক্ষার আলাে থেকে বঞ্চিত বাকি অর্ধেক জনগােষ্ঠী কসংস্কার আর পশ্চাৎপদতার শিকার। এরা প্রগতি বিমুখ। বিজ্ঞানের এ চরম উৎকর্ষের যুগেও এর অন্ধকারে নিমজমান। পিছিয়ে পড়া এ বিশাল জনগােষ্ঠী স্বাধীন জাতির জন্যে মর্যাদাহানিকর তাে বটেই এক বিশাল বােঝাও। এদের নিয়ে কোনাে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কষ্টসাধ্য। তাই দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নয়নের জন্যে দেশের জনগণকে শিক্ষিত করে তােলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিরক্ষরতা দূরীকরণ ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। আর এ নিরক্ষরতা দূরীকরণে সবচেয়ে অগ্রগণ্য ভূমিকা রাখতে পারে তরুণ সমাজ, ছাত্রসমাজ। 

নিরক্ষরতা দূরীকরণ ও ছাত্রসমাজের ভূমিকা: বর্তমানে পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশের জনগােষ্ঠীই অতীতে কম-বেশি নিরক্ষর ছিল। আজকের উন্নত রাশিয়ায় বিপ্লবের আগে শতকরা আশিভাগ লােক ছিল নিরক্ষর। বর্তমানে সেদেশে শিক্ষিতের সংখ্যা শতকরা একশ ভাগ। অতীতে তুরস্ককে বলা হতাে ইউরােপের রুগ্ন দেশ’ । কিন্তু তুরস্কের লৌহমানব কামাল পাশার নেতৃত্বে মাত্র বিশ বছরে তুরস্ক তার শিক্ষামান শতকরা আশি ভাগে উন্নীত করেছে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্যে স্বাক্ষরতার কোনাে বিকল্প নেই। শিক্ষিত জনগােষ্ঠীই নিজ ও দেশের উন্নয়নে সচেষ্ট হয়। সমাজের রীতিনীতি মেনে চলে সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে ।। যগে-যুগে পথিবীর বিভিন্ন দেশে যে কোনাে বৈপ্লবিক পরিবর্তনে তরুণ ছাত্রসমাজ এগিয়ে এসেছে সবার আগে। দেশের স্বাধীনতা, অগ্রগতি আর কল্যাণ সাধনে যেকোনাে বাধা-বিপত্তি ডিঙিয়ে তারা ঝাপিয়ে পড়ে। ছাত্রসমাজই যেন মুক্তির অগ্রদূত। তাই নিরক্ষরতা দূরীকরণেও ছাত্রসমাজই জাতির পথপ্রদর্শক। তবে এর জন্যে চাই উপযুক্ত ও বাস্তব পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে সরকারি পৃষ্ঠপােষকতা। এ প্রেক্ষাপটে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। যেমন: প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বয়স্ক শিক্ষাব্যবস্থার, গণশিক্ষার জন্যে গ্রামে খােলা। হয়েছে গণশিক্ষা কেন্দ্র। এ ধরনের উদ্যোগ কার্যকর করতে হলে প্রয়ােজন নিরক্ষরদের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি এবং কর্মোদ্যোগ। আর এ দায়িত্ব নিতে পারে ছাত্রসমাজ। এক্ষেত্রে যেসব পরিকল্পনা নিয়ে এগােতে হবে –

  • যেসব এলাকায় শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই, সেসব এলাকায় অস্থায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু করে ছাত্ররা শিক্ষকের ভূমিকা পালন করতে পারে। 
  • বয়স্ক নিরক্ষরদের শিক্ষাদানের জন্যে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে পাড়ায়-পাড়ায় নৈশ বিদ্যালয় স্থাপন করা যেতে পারে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলােকেও নৈশ বিদ্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এক্ষেত্রে সরকার কিংবা সমাজ প্রয়ােজনীয় উদ্যোগ নিলে ছাত্রসমাজ। . নিরক্ষরদের বিদ্যালয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করার জন্যে প্রয়ােজনীয় ভূমিকা পালন করতে পারবে। 
  • নিরক্ষরতার নেতিবাচক দিক সম্পর্কে তাদেরকে সঠিকভাবে অবহিত করতে হবে। গণমুখী প্রচারের মাধ্যমে তাদের মধ্যে জাগিয়ে তুলতে হবে সচেতনতা। এ কাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকতে পারে ছাত্ররা। পর্দানশিন নারীদের শিক্ষাদানের জন্যে ছাত্রীরা বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। 
  • সর্বোপরি দেশ থেকে নিরক্ষরতা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করার জন্যে নির্দিষ্ট সময়সীমা সামনে রেখে প্রয়ােজনীয় সরকারি ও বেসরকারি পদক্ষেপ। নিলে দেশ গঠনমূলক এ কাজে ছাত্রদের জন্যে সহায়ক ভূমিকা পালন করা সহজ হবে।
  • পরিবারে কোনাে সদস্য, এমনকী কাজে সহায়তাকারী কেউ যদি নিরক্ষর থেকে থাকে তবে অবসরে ছাত্ররা তাকে স্বাক্ষর করে তুলতে সহযােগিতা করতে পারে ।। 

উপসংহার: শিক্ষিত ছাত্রসমাজ নিজ পরিবার থেকে শুরু করে সারা দেশে শিক্ষাবিস্তারে প্রয়ােজনীয় ভূমিকা পালন করতে পারে। শুধু নিজে শিক্ষিত হলে চলবে না, শিক্ষার মহান শিখা ছড়িয়ে দিতে হবে দেশের আনাচে-কানাচে -- এ সচেতনতা বােধে উদ্বুদ্ধ হতে হবে ছাত্রদের। শিক্ষিত সকলের হাতেই রয়েছে জ্ঞানের প্রদীপ । কিন্তু ছাত্রসমাজ সচেতনভাবে এগিয়ে এলে দেশ নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে ।

আর্টিকেলের শেষকথাঃ নিরক্ষরতা দূরীকরণে ছাত্রসমাজের ভূমিকা রচনা

আমরা এতক্ষন জেনে নিলাম নিরক্ষরতা দূরীকরণে ছাত্রসমাজের ভূমিকা রচনা  টি। যদি তোমাদের আজকের এই নিরক্ষরতা দূরীকরণে ছাত্রসমাজের ভূমিকা রচনা  টি ভালো লাগে তাহলে ফেসবুক বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করে দিতে পারো। আর এই রকম নিত্য নতুন পোস্ট পেতে আমাদের আরকে রায়হান ওয়েবসাইটের সাথে থাকো।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url