business loans, commercial loan, auto insurance quotes, motorcycle lawyer

বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা আজকে বিষয় হলো বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো জেনে নিবো। তোমরা যদি বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর টি ভালো ভাবে নিজের মনের মধ্যে গুছিয়ে নিতে চাও তাহলে অবশ্যই তোমাকে মনযোগ সহকারে পড়তে হবে। চলো শিক্ষার্থী বন্ধুরা আমরা জেনে নেই আজকের বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য সমূহ আলোচনা করুন  টি।

বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো
বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো

বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো

উত্তর ভূমিকা : বিশ্বের যতগুলো ব-দ্বীপ রয়েছে এর মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো বাংলাদেশ। অর্থাৎ বাংলাদেশ পৃথিবীর একক বৃহত্তম ব-দ্বীপ । পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার নদী পশ্চিম-উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিক থেকে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে একযোগে এ সুবিশাল ব-দ্বীপের সৃষ্টি করেছে। সীমিত উচ্চভূমি ছাড়া সমগ্র দেশ এক বিস্তীর্ণ সমভূমি। এদেশের ভূ-খণ্ড উত্তর-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ক্রমশ ঢালু। ফলে প্রবাহিত সব নদ-নদী এবং উপনদী-শাখা নদীগুলো উত্তরদিক হতে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অভিমুখে প্রবাহিত হয়েছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য : ভূমির পার্থক্য ও গঠনের দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যকে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায় । যথা :- 

১. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ;

২. প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ বা চত্বরভূমি ও 

৩. সাম্প্রতিক কালের প্লাবন সমভূমি ।

নিম্নে এগুলোর আলোচনা করা হলো :

১. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ : রাঙ্গামাটি, বান্দারবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ এলাকাগুলো নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত। আনুমানিক টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উঠিত হওয়ার সময় মায়ানমারের দিক থেকে আগত গিরিজনি আলোড়নের ধাক্কায় ভাজগ্রস্ত হয়ে এসব পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে । তাই এদের টারশিয়ারি যুগের পাহাড় বলা হয় ।

এ পাহাড়গুলোর বৈশিষ্ট্য হলো বেলে পাথর, স্লেট জাতীয় প্রস্ত র এবং কর্দমের সংমিশ্রণে গঠিত। পাহাড়গুলোর গায়ে ক্ষুদ্র বৃহৎ বৃক্ষরাজির বন এবং অসংখ্য ঝোপ জঙ্গল রয়েছে। তাই সংক্ষেপে বলা যায় যে, টারশিয়ারি যুগের হিমালয় পর্বত গঠনের সময় পাহাড় সৃষ্টি হয়েছিল বলে এগুলোকে টারশিয়ারি পাহাড় বলে । এ পাহাড়ি অঞ্চলকে দু'ভাগে ভাগ করা যায় । যথা : 

(ক) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ ও 

(খ) দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

(ক) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ : ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের দক্ষিণাংশের ছোট বড় বিচ্ছিন্ন পাহাড়গুলো এ অঞ্চলের অন্তর্গত। মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জের দক্ষিণে পাহাড়গুলোর উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি না। শেরপুর ও ময়মনসিংহের উত্তর সীমানায়ে কিছু কিছু পাহাড় আছে। উত্তরের পাহাড়গুলোর মধ্যে চিকনাগুল, খাসিয়া ও জয়ন্তিয়া উল্লেখযোগ্য। সিলেট জেলার পাহাড়ি অঞ্চল সিলেট শহরের উত্তর-পূর্ব দিকে ১৮৬ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত। এ পার্বত্য ভূমির উচ্চতা ৬০ থেকে ৯০ মিটারের বেশি নয়। সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক শহরের উত্তরে প্রায় ৪০ বর্গকিলোমিটার স্থান নিয়ে একটি টিলা পাহাড় অবস্থিত। এটি ছাতক পাহাড় নামে পরিচিত। এ পার্বত্য ভূমির গড় উচ্চতা ৪০-৬০ মিটার ।

মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সীমানায় অবস্থিত পাহাড়গুলো কোনোরূপ গিরি শ্রেণি গঠন করেনি। এসব পাহাড়ের তালগুলো খাড়া এবং উপরিভাগ অসমান। এদেরকে ত্রিপুরার পাহাড় বলা হয়। শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার উত্তর সীমানায় ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড়ের সামান্য বিচ্ছিন্ন অংশ দেখা যায়। এ পার্বত্য অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় । তাই এখানকার পাহাড়ের ঢালে প্রচুর চা উৎপন্ন হয়। বাংলাদেশের অধিকাংশ চা বাগান এ অঞ্চলেই অবস্থিত। এ অঞ্চলে আনারসও উৎপন্ন হয়। এছাড়া ও এ পার্বত্য অঞ্চলে প্রচুর বাঁশ ও বেত পাওয়া যায়। এ অঞ্চলে প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ তেল, চুনাপাথর, কয়লা প্রভৃতি খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ ।

(খ) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ : খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলায় এবং চট্টগ্রামের অংশ বিশেষ এ অঞ্চলের অন্তর্গত। এ পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার । বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ তাজিংডং (বিজয়) যার উচ্চতা ১২৩১ মিটার । এটা বান্দরবানে অবস্থিত এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কিউক্রাডং যার উচ্চতা ১২৩০ মিটার। এটি অবস্থিত বান্দারবানের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে। বান্দরবানের অপর দুটি উচ্চতর পাহাড় চূড়া হচ্ছে মদক মুয়াল ১০০৩ মিটার ও পিরামিড পাহাড়ের উচ্চতা ৯১৯ মিটার। এসব পাহাড় বেলে পাথর, শেল ও কর্দম শিলা দ্বারা গঠিত। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোর মধ্যবর্তী উপত্যকা কর্ণফুলি, সাঙ্গু, মাতামুহুরী হালদা প্রভৃতি নদী প্রবাহিত হয়েছে।

২. প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ বা চত্বরভূমি : প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বে প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ বা চতুরভূমি আন্তবরফ গলা পানিতে প্লাবিত হয়ে গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয় । এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।

নিম্নের প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ বা চত্বরভূমির বর্ণনা দেওয়া হলো :

(ক) বরেন্দ্রভূমি : বরেন্দ্র প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে প্রাচীনতম অঞ্চল ৷ এ বরেন্দ্রভূমি রাজশাহী বিভাগের প্রায় ৯৩২০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে আছে। প্লাবন সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার। বঙ্গ অববাহিকায় এটি সর্ববৃহৎ প্লাইস্টোসিন যুগের উচ্চভূমি। এ এলাকার ভূমি অসমতল এবং মাটি লাল ও কাঁকরময় । এটি পশ্চিমে মহানন্দা ও পূর্বে করতোয়া নদী দ্বারা বেষ্টিত। গভীর খাতবিশিষ্ট আঁকাবাঁকা ছোট ছোট কয়েকটি স্রোতঃস্বিনী এ অঞ্চলে রয়েছে। এসব স্রোতঃস্বিনী খাড়ি নামে পরিচিত। বরেন্দ্র পূর্ণ অঞ্চল পুনর্ভরা, আত্রাই ও যমুনা নদী দ্বারা চারটি অংশে বিভক্ত। এর পূর্বদিকের তিনটি অংশ বাংলাদেশের অন্তর্গত। মহানন্দা ও পুনর্ভরা মধ্যবর্তী অপর অংশটি ভারতের পশ্চিম বঙ্গের অন্তর্গত। বরেন্দ্র অঞ্চল কৃষিকার্যের জন্য উপযোগী। ধান এখানকার প্রধান কৃষিজ ফসল । এছাড়াও যেসব কৃষি পণ্য এখানে উৎপন্ন হয় তাদের মধ্যে অন্যতম হলো পাট, ভুট্টা, পান ইত্যাদি ।

(খ) মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়: উত্তরের ব্রহ্মপুত্র নদী থেকে দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা নদী পর্যন্ত অর্থাৎ ময়মনসিংহ টাঙ্গাইল ও গাজীপুর অঞ্চল জুড়ে এর বিস্তৃতি। এর মোট আয়তন প্রায় ৪১০৩, বর্গকিলোমিটার। মাটি কংকর মিশ্রিত ও লাল। প্লাবন সমভূমি থেকে এর পূর্ব ও দক্ষিণ অংশের উচ্চতা ৬ মিটার কিন্তু পশ্চিম ও উত্তর দিকের উচ্চতা ৩০ মিটার। মধুপুর গড়ের অঞ্চলটি পাহাড়ের ক্ষয়িত অংশ বিশেষ। মধুপুর গড়কে অনেক বিশেষজ্ঞ নদী। সোপান, আবার কেউ কেউ একে উত্থিত ব-দ্বীপও বলেন। বরেন্দ্রভূমির মতো এখানকার মাটির রং দেখতে লাল এবং কঙ্করময় বলে কৃষি কাজের পক্ষে বিশেষ উপযোগী নয়। এখনও। ভূ-ভাগ বনজঙ্গলে পরিপূর্ণ এবং বাংলাদেশের গজারি বৃক্ষের কেন্দ্র। মধুপুর এলাকায় আনারস ও নানা ধরনের সবজি উৎপন্ন। হয়। পানি সেচের মাধ্যমে এ অঞ্চলে কিছু ধানের চাষ হয় ।

(গ) লালমাই পাহাড়: কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কি.মি. দক্ষিণে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এটি বিস্তৃত। লালমাই পাহাড়ের আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার এবং গড় উচ্চতা ২১ মিটার। এর মাটি লালচে নুড়ি এবং বালি ও কংকর দ্বারা গঠিত। এ পাহাড়ের পাদদেশে আখ, তরমুজ ইত্যাদি চাষ হয় ।

৩. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি : বাংলাদেশের ভূ- প্রকৃতি এক অপরূপ সাজে সজ্জিত। কোথাও উঁচু, কোথাও নিচু আবার কোথাও সমান। আর এরই ধারাবাহিকতায় টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ছাড়া সমগ্র বাংলাদেশ নদী বিধৌত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি। অসংখ্য ছোট বড় নদী বাংলাদেশের সর্বত্র জালের মতো ছড়িয়ে আছে। সমতল ভূমির উপর দিয়ে প্রবাহিত বলে এ নদীগুলো বন্যার সৃষ্টি করে। দেশের অধিকাংশ অঞ্চল তখন জলমগ্ন হয়। বছরের পর বছর . এভাবে বন্যার সাথে পলিবাহিত পলিমাটি সঞ্চিত হয়ে পলল সমভূমি গঠিত হয়। এর আয়তন প্রায় ১,২৪,২৬৫ বর্গকিলোমিটার। 

বাংলাদেশের উত্তরাংশ থেকে সাগর উপকূলের দিকে সমভূমির ঢাল ক্রমনিম্ন। সুন্দরবন অঞ্চল প্রায় সমুদ্র সমতলে অবস্থিত কিন্তু সমুদ্র সমতল থেকে দিনাজপুরের উচ্চতা ৩৭.৫০ মিটার, বগুড়ার উচ্চতা ২০ মিটার, 'ময়মনসিংহের উচ্চতা ১৮ মিটার এবং নারায়ণগঞ্জ ও যশোরের উচ্চতা ৮ মিটার। রংপুর, দিনাজপুর উত্তরাংশ, নোয়াখালী-কুমিল্লার পূর্বাংশ গড়াই মধুমতি অঞ্চলের পশ্চিমাংশ এবং খুলনা অঞ্চলের উত্তরাংশ দেশের অন্যান্য সমতল ভূমি থেকে অপেক্ষাকৃত উচ্চ। এসব সমভূমির বিভিন্ন স্থানে বহু নিম্নভূমি বা জলাশয় দেখতে পাওয়া যায়। এর অধিকাংশ পরিত্যক্ত অশ্বক্ষুরাকৃতি নদীখাত বা ভূ- পৃষ্ঠের অবনমনের জন্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে এগুলোকে বিল, ঝিল বা হাওর বলে । চলন বিল, মাদারীপুর বিল ও সিলেট অঞ্চলের হাওরসমূহ বর্ষার পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে হ্রদের আকার ধারণ করে। সমগ্র সমভূমি অঞ্চলের মৃত্তিকার স্তর খুব গভীর এবং ভূমি অতি উর্বর এবং মানুষের বসবাসের উপযোগী। তবে এ অঞ্চল সর্বত্র একই রূপ নয় বলে একে আবার কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয় । যেমন-

(ক) কুমিল্লা সমভূমি : চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অধিকাংশ এবং লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও হবিগঞ্জ জেলার কিছু অংশ জুড়ে এ সমভূমি অবস্থিত। কুমিল্লা সমভূমির মোট আয়তন ৭৪০৪ বর্গকিলোমিটার এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে উচ্চতা ৩.৬ মিটার, অন্য মতে ৬ মিটার। এ সমভূমির বন্ধুরতা 'অনুচ্চ এবং বর্ষাকালে প্রায় ডুবে থাকে। তবে এ অঞ্চলের ভূমি উর্বর বলে প্রচুর ধান, পাট, ও অন্যান্য ফসল জন্মে থাকে।

(খ) সিলেট অববাহিকা : সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় অধিকাংশ এবং কিশোরগঞ্জে ও নেত্রকোনা জেলায় পূর্বদিকের সামান্য অংশ নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত। এটি সংলগ্ন প্লাবন সমভূমি হতে অপেক্ষাকৃত নিচু। সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে এ অববাহিকার উচ্চতা প্রায় ৩ মিটার। এ অঞ্চল বর্ষাকালে পানিতে ডুবে যায় এবং শীতকালে পানি নেমে গেলে এখানে বোরো ও ইরি ধানের চাষ হয় । সর্বনিম্ন স্থানগুলোতে প্রচণ্ড জলাশয়ের মতো পানি জমে থাকে। এগুলো হাওর নামে পরিচিত। এ অঞ্চলের বড় ধরনের পাঁচটি হাওর রয়েছে।

(গ) পাদদেশীয় পলল সমভূমি : বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত বৃহত্তম রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অধিকাংশ স্থান জুড়ে এ সমভূমি বিস্তৃত। হিমালয় পর্বত থেকে আনিত পলল দ্বারাই এ অঞ্চল গঠিত। তিস্তা, আত্রাই, করতোয়া প্রভৃতি নদীবাহিত পলি জমা হয়ে এ ঢালু ভূমির সৃষ্টি হয়েছে, এ সমভূমি পাদদেশীয় পলল সমভূমি নামে পরিচিত। বর্ষাকালে এর সামান্য অংশ পানিতে প্লাবিত হয় । ধান, পাট, ইক্ষু, তামাক প্রভৃতি এ অঞ্চলে প্রচুর জন্মে ।

(ঘ) গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা প্লাবন সমভূমি : এটিই বাংলাদেশের মূল প্লাবন সমভূমি। পদ্মা নদীর উত্তরে প্লাবন সমভূমির বাকি অংশই গঙ্গা (পদ্মা), ব্রহ্মপুত্র মেঘনার প্লাবন সমভূমি নামে পরিচিত। এই প্লাবন সমভূমি বৃহত্তর ঢাকা, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের অংশ বিশেষ নিয়ে বিস্তৃত। এ অঞ্চলের অধিকাংশ স্থানই বর্ষার পানিতে প্রতি বছর ডুবে যায় । নদীর দু'পাড় বরাবর "অনুচ্চ নদী পাড়ের প্রাকৃতিক বাঁধ পশ্চাৎঢাল অগভীর জলাভূমি বা বিল, অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ চর ইত্যাদি হচ্ছে প্লাবন সমভূমির উল্লেখযোগ্য ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ।

(ঙ) ব-দ্বীপ অঞ্চলীয় সমভূমি : বাংলাদেশের দক্ষিণ- পশ্চিমের সমভূমিকে সাধারণরত ব-দ্বীপ বলা হয়। এ ব-দ্বীপ অঞ্চলটি বৃহত্তর কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুর বরিশাল, পটুয়াখালী অঞ্চলের সমুদয় অংশ এবং রাজশাহী, পাবনা ও ঢাকা অঞ্চলের কিছু অংশ জুড়ে বিস্তৃত। এ ব-দ্বীপ অঞ্চলটি পদ্মা এবং এর শাখা নদীগুলো দ্বারা বিধৌত। বর্তমানে পশ্চিম দিকের শাখা নদীগুলো। মৃত অবস্থায় রয়েছে এবং পূর্ব দিকের সক্রিয় নদীগুলোর মধ্যে আড়িয়াল-খাঁ প্রধান। আঁকাবাঁকা নদীগুলো এ অঞ্চলের অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদের সৃষ্টি করেছে। ব-দ্বীপের পূর্বাংশ বর্ষাকালে প্লাবিত হয়। নদী বিল এবং দ্বীপগুলো এ অঞ্চলের প্রধান প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য। এছাড়া খুলনা থেকে ফরিদপুর ও বরিশাল পর্যন্ত অথচ অগভীর একসারি গহ্বর রয়েছে। এরা ঝিল নামে পরিচিত। বৃহৎ ব-দ্বীপ অঞ্চলীয় সমভূমিকে আবার চারটি পৃথকভাবে ভাগ করা হয় । যেমন-

(i) সক্রিয় ব-দ্বীপ : পূর্বে মেঘনা নদীর মোহনা থেকে পশ্চিম গড়াই মধুমতি নদী পর্যন্ত বিস্তৃত ব-দ্বীপ সমভূমির পূর্বাংশকে সক্রিয় ব-দ্বীপ বলে। এর পূর্বাংশীয় অঞ্চল প্রতি বছর বর্ষাকালে প্লাবিত হয়। ধান, পাট, ইক্ষু প্রভৃতি ফসল প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত হয়। এ অঞ্চলের বরিশাল, পটুয়াখালী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুরের বিল বা হাওরগুলোতে প্রচুর মাছ পাওয়া যায় এবং শীতকালে বোরো ও ইরি ধানের চাষ হয়।

(ii) মৃত প্রায় ব-দ্বীপ : বাংলাদেশের ব-দ্বীপ সমভূমির মধ্যে গড়াই মধুমতি নদীর পশ্চিমাংশকে মৃতপ্রায় ব-দ্বীপ বলা হয়। এটা বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও যশোর অঞ্চলের অধিকাংশ স্থানব্যাপী বিস্ত ত। এ অঞ্চলের অধিকাংশ নদী ভরাট হয়ে মৃত প্রায় অবস্থান রয়েছে। শুষ্ক ঋতুতে নদীগুলো প্রায় শুকিয়ে যায়। বর্ষাকালেও এসব নদীর পানি প্রবাহের পরিমাণ খুব বেশি বৃদ্ধি পায় না ৷

(iii) স্রোতজ্য সমভূমি : বাংলাদেশের ব-দ্বীপ অঞ্চলীয় সমভূমির দক্ষিণ ভাগের যে অংশে বঙ্গোপসাগরের জোয়ার ভাটার প্রভাব পরিলক্ষিত হয় সে অংশকে স্রোতজ্য সমভূমি বলে। এ অঞ্চলে ছোট ছোট বহু নদীনালা আছে। এরা অসংখ্য শাখা প্রশাখায় ও খড়িতে বিভক্ত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। এ সমভূমি অঞ্চলের অধিকাংশ অঞ্চল জুড়ে ম্যানগ্রোভ বা গড়ান বৃক্ষের বনভূমি রয়েছে। এ বনভূমি সুন্দরবন নামে সুপ্রসিদ্ধ এ অঞ্চলের নদীতে প্লাবন খুব কম কিন্তু নিয়মিত জোয়ার ভাটা হয় ।

(iv) চট্টগ্রামের উপকূলীয় সমভূমি : এ সমভূমি, ফেনী নদী হতে কক্সবাজারের কিছু দক্ষিণ পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি গড়ে প্রায় ৯,৬ কিলোমিটার প্রশস্ত কিন্তু কর্ণফুলী নদীর মোহনায় এর দৈর্ঘ্য ২৫.৬ কিলোমিটার । এ সমভূমি কর্ণফুলি, সাঙ্গু, মাতামহুরী, বাঁশখালি প্রভৃতি নদীবাহিত পলল দ্বারা গঠিত। এছাড়া সমুদ্র তটে বালু, সৈকত, বালিয়াড়ী, কর্দম ভূমি ইত্যাদি উপকূলীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যসমূহ এখানে পরিলক্ষিত হয়। এর কোনো কোনো স্থানে সমুদ্রের পানি থেকে লবণ তৈরি হয় । এ অঞ্চলে প্রচুর কৃষিজ ফসলও হয় ।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, বাংলাদেশের অবস্থান ও ভূ-প্রকৃতি নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । প্রকৃতির এক অপরূপ সৌন্দর্য বিরাজ করে। এদেশের ভূ- প্রকৃতি মানুষের জীবনধারা ও সামগ্রিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে। এ দেশের ভৌগোলিক অবস্থান সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে। কেননা বাংলাদেশের তিন দিকে ছিল স্থল ভাগ আর ! একদিকে জলভাগ আর এই জল ভাগের দিকে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সামুদ্রিক বন্দর যা অর্থনীতির মূল পাইপলাইন। আর এ অপরূপ ভূ-প্রকৃতিতে সামন্যতমও বিপর্যয় ঘটলে সামগ্রিকভাবে এ জনপদের মানুষ ক্ষতির স্বীকার হয়। তাই প্রকৃতিকে রক্ষায় আমাদের সতর্ক দৃষ্টি রাখা একান্তই আবশ্যক ।

আর্টিকেলের শেষকথাঃ বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো

আমরা এতক্ষন জেনে নিলাম বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য সমূহ আলোচনা করুন  টি। যদি তোমাদের আজকের এই বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর  টি ভালো লাগে তাহলে ফেসবুক বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করে দিতে পারো। আর এই রকম নিত্য নতুন পোস্ট পেতে আমাদের আরকে রায়হান ওয়েবসাইটের সাথে থাকো।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url