খলিফা আল আজিজকে কি সর্বশ্রেষ্ঠ ফাতেমীয় শাসক বলা যায় আলোচনা কর
![]() |
| খলিফা আল আজিজকে কি সর্বশ্রেষ্ঠ ফাতেমীয় শাসক বলা যায় আলোচনা কর |
খলিফা আল আজিজকে কি সর্বশ্রেষ্ঠ ফাতেমীয় শাসক বলা যায় আলোচনা কর
- অথবা, খলিফা আল আজিজ কী ফাতেমীয় খিলাফতের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক? আলোচনা কর।
উত্তর : ভূমিকা : ফাতেমীয় খিলাফতের ইতিহাসে আল আজিজ একটি অন্যতম নাম। তার যথাযথ জ্ঞান এবং উদারভিত্তিক শাসনের কারণে তিনি ইতিহাসে আকর্ষণীয় এবং অন্যতম শাসকে পরিণত হয়েছেন। তার দক্ষ শাসনব্যবস্থা তাকে ফাতেমীয় ইতিহাসে স্মরণীয় করে রেখেছে।
আল আজিজের পরিচয় : ফাতেমীয় খলিফা আল আজিজের মূল নাম, “আবু মনসুর নিজার আল আজিজ বিল্লাহ"। তিনি ৯৫৫ খ্রিস্টাব্দের ১০ মে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আল মুইজ এবং মাতার নাম ডুরজান।
আল মুইজের মৃত্যুর পর তিনি ১৭৫ খ্রিস্টাব্দের ১৮ ডিসেম্বর ফাতেমীয় খিলাফতের খলিফা হন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শাসন ক্ষমতায় থেকে ১৯৬ খ্রিস্টাব্দের ১৪ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।
খলিফা আল আজিজকে কি সর্বশ্রেষ্ঠ ফাতেমীয় শালক বলা যায় : খলিফা আল আজিজ ছিলেন ফাতেমীয় খিলাফতের শাসকদের একজন । 'তাকে একজন সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক বলা যায়'- এ মতবাদের পক্ষে কারণগুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো।
১. শাসক হিসাবে আল আজিজ : শাসক হিসাবে আল আজিজ খুবই আকর্ষণীয় ও উন্নত মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। তিনি একজন দক্ষ ও প্রজাহিতৈষী শাসক হিসাবে শাসনকার্য পরিচালনা করতেন। তার শাসনামলে রাষ্ট্রের সকল বিষয় তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছিল। এজন্য তাকে এ বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক বলা হয়।
২. ঐশ্বর্য ও জাঁকজমকতা : আল আজিজ অত্যন্ত ঐশ্বর্য ও জাঁকজমকতা পছন্দ করতেন। আজিজ স্বয়ং বিলাসিতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। অন্যদের পক্ষে অবিশ্বাস্য বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়ায়।
৩. স্থাপত্য শিল্পে : ফাতেমীয় খলিফা আল আজিজ সাম্রাজ্যের সর্বত্র মসজিদ, মাদ্রাসা, সরাইখানা, সেতু, রাস্তা প্রভৃতি নির্মাণ করেন। তিনি আল আজহার মসজিদকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেন এবং তিনি মসজিদে জামেয়ার নির্মাণকার্যও আরম্ভ করেন।
৪. দুষ্প্রাপ্য প্রস্তর : ফাতেমীয় খলিফা আল আজিজের রাজত্বকালে বহুসংখ্যক মূল্যবান জিনিসপত্র আবিষ্কার হয়েছিল। বিভিন্ন পোশাক, চাদর ও আসবাবপত্র, বসুন করা ঘাট গজ লম্বা বস্ত্র এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল।
৫. জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষক : খলিফা আল আজিজ "ইসমাইলীয় আইন" নামে একটি বিখ্যাত গ্রন্থ রচনা করেন এবং তিনি কলা ও বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। তার সময়ে শিক্ষিত লোকেরা সমাদৃত হতেন। তিনি আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা।
৬. ব্যবসার বাণিজ্যের প্রসারতা : ব্যবসায় বাণিজ্যে প্রসারতার জন্য আল আজিজকে ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক বলা হয়। ঐ সময় লোহিত সাগরীয় বাণিজ্য পালের ওপর ফাতেমীয়রা তাদের অবস্থান কেন্দ্রীভূত করে রাখে
৭. চরিত্র ও কৃতিত্ব : আল অভিজের কৃতিত্ব বিচার করলে তাকে ফাতেমীয় খিলাফতের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক বলা যায়। তিনিই প্রথম ওয়ারত প্রতিষ্ঠানটির প্রবর্তন করেন। তিনিই সর্বপ্রথম রাজকর্মচারী প্রাসাদ, কর্মচারী এবং সৈনাদের সুনির্দিষ্ট হারে বেতন রীতি চালু করেন।
উপসংহার : সর্বোপরি বলা যায় যে, আল আজিজই ফাতেমীয় খিলাফতের আকর্ষণীয় ও সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক। তার পিতার শাসনামল থেকে ফাতেমীয় সাম্রাজ্যে স্বর্ণযুগ শুরু হয়।
তার সময়ে এটি উন্নতির স্বর্ণশিখরে আরোহণ করে। তার সবকিছুই তাকে এবং ভার শাসনামলকে গৌরবের উচ্চ শিখরে পৌঁছে দিয়েছে।
ফাতেমীয় খিলাফতের দৃঢ়করণে এবং স্থায়িত্ব বিধানে তিনি যে ভূমিকা রেখেছেন এজন্য তাকে ফাতেমীয় খিলাফতের ২য় শ্রেষ্ঠ শাসক বলা যায়।
