সিপাহী বিদ্রোহের ধর্মীয় কারণ গুলো আলোচনা কর
![]() |
| সিপাহী বিদ্রোহের ধর্মীয় কারণ গুলো আলোচনা কর |
সিপাহী বিদ্রোহের ধর্মীয় কারণ গুলো আলোচনা কর
- অথবা, মহাবিদ্রোহের ধর্মীয় কারণ উল্লেখ কর।
উত্তর : ভূমিকা : ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। ব্রিটিশ অধীনস্থ কোম্পানির সরকার কর্তৃক এদেশের কৃষক শ্রমিক থেকে দরিদ্র জনগোষ্ঠী যখন চরম নির্যাতনের সম্মুখীন তখন সিপাহিগণ প্রথম এ বিদ্রোহের সূচনা ঘটান।
পরবর্তীতে অন্যান্য জনগণ এতে অংশ নেন। রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় নানা কারণে এ বিদ্রোহ সংঘটিত হয়।
→ সিপাহি বিদ্রোহের ধর্মীয় কারণ : ব্রিটিশ শাসনের প্রতি জনসাধারণের অসন্তোষের পেছনে ধর্মীয় কারণও ছিল অন্যতম। ভারতে খ্রিষ্টান মিশনারীদের আনাগোনা ছিল অনেক বেশি। তারা এদেশের মানুষকে ধর্মান্তরিত হতে বাধ্য করতো।
খ্রিষ্টান মিশনারীদের প্রকাশ্যভাবে ধর্মপ্রচার, হিন্দু, মুসলমানদিগকে ধর্মান্তরিত করার প্রচেষ্টা, বিদ্যালয়, হাসপাতাল, জেলখানায় খ্রিষ্টান পাদ্রীদের অবাধ যাতায়াত হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে আশঙ্কার সৃষ্টি করে। তাদের কিছু ধর্মীয় নীতির মধ্যে রয়েছে-
১. মসজিদ মন্দিরে করাভার : ইংরেজরা মসজিদ বা মন্দির পরিচালনার জন্য নির্ধারিত ভূমি এবং দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর করাভার আরোপের সরকারি নীতি ভারতীয় জনগণের ধর্মীয় চেতনায় চরমভাবে আঘাত হানে।
২. সম্পত্তি হতে বঞ্চিত : ১৮৫০ সালে ভারত সরকার এমন একটি আইন বিধিবদ্ধ করে যার মর্ম ছিল এই যে, খ্রিষ্টধর্ম অবলম্বনকারীদের তার পৈত্রিক সম্পত্তির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। এর ফলে হিন্দু ও মুসলমান উভয়েই নিজ নিজ ধর্মে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সন্দিহান হয়ে পড়ে।
৩. খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণে বাধ্য : R.D. Mangales বলেন, ইংল্যান্ডের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সে প্রদত্ত এক ভাষণে বলেন যে, খ্রিষ্টধর্মের বিজয় পতাকা ভারতের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত সগৌরবে উড্ডীন রাখার জন্যই ভাগ্যবিধাতা হিন্দুস্থানের বিস্তৃত সাম্রাজ্য ইংল্যান্ডের হাতে তুলে দিয়েছে।
সমগ্র ভারতবর্ষের মানুষকে খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করে তারা। কাজেই প্রত্যেক ভারতবাসীকে খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যায় ।
৪. বিভিন্ন প্রথা : ভারতীয়দের ধর্মান্তরিত করার খ্রিষ্টান মিশনারিরা আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। অন্যদিকে ভারতীয়দের কাছে সতীদাহ প্রথা নিবারণ, বিধবা বিবাহ আইন, এমনকি রেল ভ্রমণে জাতিভেদ মেনে চলার অসুবিধা প্রভৃতি ইংরেজ শাসকবর্গের ভারতীয়দের খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত করার এক অভিসন্ধি বলে মনে হয়। এসব ভারতীয় জনগণের ধূমায়িত অসন্তোষ স্বাধীনতা যুদ্ধের রূপ পরিগ্রহ করে ।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, ইংরেজদের পক্ষ থেকে কার্তুজে শূকর ও গরুর চর্বির বিষয়টিকে ভ্রান্ত প্রমাণ করতে চাইলেও উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে।
১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ ব্যারাকপুর সেনানিবাসের মঙ্গলপান্ডে নামে জনৈক সিপাহি জ্বলে উঠে। এছাড়া ধর্মীয় ও বিভিন্ন কারণ এ বিদ্রোহের মূলে নিহিত ছিল।
