নবাব সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে রাজ পরিবারের ষড়যন্ত্র কিরূপ ছিল
![]() |
| নবাব সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে রাজ পরিবারের ষড়যন্ত্র কিরূপ ছিল |
নবাব সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে রাজ পরিবারের ষড়যন্ত্র কিরূপ ছিল
- অথবা, নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে রাজ পরিবার কি কি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।
উত্তর : ভূমিকা : বাংলার ইতিহাস আলোচনা করতে গেলে যে অধ্যায়টি কলঙ্কের দাগ সৃষ্টি করেছিল তা হলো শেষ নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার শাসনকাল। তিনি সিংহাসনে আরোহণ, করলে চারদিক দিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়।
এক পর্যায়ে পলাশির প্রান্তরে নবাব ইংরেজদের কাছে পরাজিত হলে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত যায়। নিম্নে নবাবের বিরুদ্ধে রাজ পরিবারের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে তুলে ধরা হলো :
— নবাবের বিরুদ্ধে রাজ পরিবারের ষড়যন্ত্র : আলীবর্দী খান যখন অন্তিম শয্যায় শায়িত, ঠিক তখনই সিরাজের চাচাত ভাই পূর্ণিয়ার নবাব শওকত জঙ্গ তার প্রতিদ্বন্দ্বীরূপে আত্মপ্রকাশ করেন।
তার খালা ও চাচা নওয়াব মুহাম্মদ খানের বিধবা স্ত্রী ঘষেটি বেগম ও তার অন্য আর একজন প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। ঘষেটি বেগম বহু ধনরত্নের মালিক ছিলেন এবং তিনি তার মতিঝিল প্রাসাদে একদল সশস্ত্র বাহিনীর প্রহরাধীনে বসবাস করতেন।
তিনি সিরাজের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ান। | সিরাজের ছোট ভাই ইকরামুদ্দৌলাকে ঘষেটি বেগম প্রতিপালন করেছিলেন এবং তাকে নবাবের আসনে বসাবার জন্য ষড়যন্ত্র করেছিলেন।
কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে ইকরামুদ্দৌলা হঠাৎ করে মারা যান। নিরুপায় হয়ে ঘষেটি বেগম শওকত জঙ্গকে নবাবের আসন অলঙ্কৃত করার জন্য প্ররোচনা দিতে লাগলেন।
নবাব শওকত জঙ্গ নিজেও বাংলার মসনদের প্রার্থী ছিলেন। ঘষেটি বেগম শওকত জঙ্গকে মুর্শিদাবাদ অভিমুখে সৈন্যবাহিনী নিয়ে অগ্রসর হওয়ার জন্য আহ্বান জানালেন।
এভাবে দেখা যায় যে, নিজ পরিবারের অনেকেই সিরাজকে নবাবের আসন থেকে সরাবার জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, 'শুরু থেকে নবাবের পথ ছিল কণ্টকাকীর্ণ। তিনি সিংহাসনে আরোহণের পর থেকেই বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্রের কবলে পতিত হন।
