কবিতা কাকে বলে? কবিতার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর

কবিতা কাকে বলে? কবিতার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর

কবিতা কাকে বলে কবিতার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর
 কবিতা কাকে বলে? কবিতার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর

উত্তর : কবিতা এক বিশেষ ধরনের সাহিত্য শিল্প। এ শিল্পের উৎস ভূমি ভাবলোকের বেদনাবিদ্ধ কবি হৃদয়। ত হৃদয় যখন বাইরের জগতের রূপ-রস-গন্ধ-স্পর্শ শব্দে সুষমামণ্ডিত হয়ে এক অপরূপ মাধুর্যপূর্ণ ভাবানুভূতির ব্যঞ্জনায় যা অতিধিক বা রূপায়িত হয় তখনই তা হয়ে ওঠে কাব্য বা কবিতা। 

অর্থাৎ সময় বিশেষে কোনো একটি সূত্রকে অবলম্বন করে কবির আনন্দ বেদনা যখন প্রকাশের পথ পায় তখনই কবিতার জন্ম হয়।বাংলা (Vol. 2) ৩য় বর্ষ-১৮ক“মা নিখান প্রতিষ্ঠাং ত্বমগমঃ শাশ্বতীঃ সমাঃযৎ ক্রোধমিথুনা দেকমধবীঃ 

কামমোহিতম "প্রচলিত আছে যে আদিকবি বাল্মীকির বেদনাবিদ্ধ হৃদয়ের আর্তি থেকে ক্রৌঞ্চমিথুন বিয়োগজনিত শোকই প্রথম শ্লোক রূপে উৎসারিত হয়েছিল। সহচরী বিয়োগ কাতর ক্রোঞ্চের বেদনায় কবির চিত্তে বেদনার সঞ্চার হয় এবং এই বেদনা বোধ থেকেই পরিপূর্ণ বাণীর সাহায্যে প্রথম কবিতার জন্ম হয়।

সৃষ্টির প্রথম থেকেই আবেগতাড়িত হয়ে মানুষ তার ভাবকে প্রকাশ করার জন্য বিভিন্ন ভঙ্গির সহায়তা নেয়- কবিতা হলো তার মধ্যে অন্যতম। মানুষ তার ভাবকে প্রকাশের শ্রেষ্ঠ পথ হিসেবেই কবিতাকে গ্রহণ করেছে। 

সুখ-দুঃখের পরিণতি, ভাবাবেগের উত্থান পতন, কবির বেদনাবিদ্ধ হৃদয়ই কবিতার জন্মভূমি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেন,"অন্তর হতে আহরি বচনআনন্দ লোক করি বিরচনগীতধারা করি সিঞ্চন সংসার-ধূলি জালে।”কবিতার সংজ্ঞা : কবিতার সংজ্ঞা সম্পর্কে বিভিন্ন পণ্ডিত বিভিন্ন মতামত দিয়েছেন-• '

সাহিত্য দর্পণ' গ্রন্থের প্রণেতা বিশ্বনাথ কবিরাজ বলেন, “রসাত্মক বাক্যই কাব্য।"•S. T Coleridge এর মতে, "Poetry is the best words is the best order. "অর্থাৎ, শব্দের সুনিয়ন্ত্রিত বিন্যাসই গদ্য এবং যথোপযোগী শব্দের অবশ্যম্ভাবী বাণীবিন্যাসই কবিতা।

Wordsworth 4 "Poetry is the spontaneous overflow of powerful fellings."• Mathew Arnold 4, "Poetry is at bottom a criticism of life under the conditions fixed for such a criticism by the laws of poetic beauty."••মোহিতলাল এর মতে, “কাব্যলক্ষ্মীর সঙ্গে আত্মার রতিসুখ-সম্ভোগ কালে রস-মূর্তি মানবের দিব্য ভাব বিধুরগগন-ভাব।"

জনৈক সমালোচকের মতে, "যাপিত জীবন, জীবন সংক্রান্ত উপলব্ধি, উপলব্ধিজাত অভিজ্ঞতা, অভিজ্ঞতালব্ধ অনুভূতিই কবিতার জন্মভূমি।”• কবি ও গল্পকার এডগার অলান পো কবিতার যে সংজ্ঞা দিয়েছেন, তার ভাবার্থ এরূপ- “কবিতা হলো সৌন্দর্যের ছন্দময় সৃষ্টি।”

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, মানব মনের ভাবনা কল্পনা যখন অনুভূতির ব্যঞ্জনারসে রঞ্জিত হয়ে যথাবিহিত শব্দস্যারে, বাস্তব সুষমামণ্ডিত হয়ে চিত্ররূপময়, গীতিধর্মী এবং ও ছন্দময় রূপলাভ করে তখনই তাকে কবিতা বলা হয়। 

কবিতার বৈশিষ্ট্য : ক. কবিতায় আমরা সাধারণত বাহ্যজগৎ ও মানবজীবনের কাহিনি এবং ভাব কল্পনার সুন্দরতম প্রকাশ দেখতে পাই। অর্থাৎ কবিতা মানবজীবনের বিচিত্র অনুভবের প্রকাশ ।

খ. কবিতার ভাব বা আবেগের শৈল্পিক অভিব্যক্তি ঘটে।

গ. কবির অন্তরের কল্পনাকে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য করে তোলা।

ঘ. কবিতা ভাব-রূপে পরিবর্তন করে আবার হতে রূপে অবিরাম যাওয়া আসার তত্ত্বই কবিতায় প্রকাশিত।

৫. যা অদেহী, অরূপ, সূক্ষ্ম বা ইন্দ্রিয়াতীত কবিতাকে দেহ, রূপ ও ইন্দ্রিয় গ্রাহ্য করে মুক্তি দান করে। 

চ. কবিতার চিরন্তন আবেদন আমাদের অন্তর্নিহিত সৌন্দর্যবোধের নিকট।

ছ. কবিতা ভাব সঞ্চারী বলে আমাদের মনে বিচিত্র রস উদ্দীপন করে।

জ. কবিতার বিশেষত্ব রূপ-রস-ছন্দ-অলংকারের সাহায্যে সার্থক প্রকাশ। 

ঝ. আবশ্যকীয় শব্দে অবশ্যম্ভাবী প্রকাশ ঘটে কবিতাতে। 

   কবিতা বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক বিচারবিশ্লেষণের সত্যকে আরো সুন্দর করে সুপ্রতিষ্ঠিত করে। 

ট. বাণীবিন্যাস হবে শৈল্পিক। অর্থাৎ ছন্দ ও অলংকারে সুবিন্যস্ত।

ঠ. সর্বোপরি কবিতা কবির একার সৃষ্টি হলেও কবিতার আবেদন চিরন্তন ও সর্বজনের।আধুনিককালে কবিতার ভাব ও বিষয়ে এসেছে নতুনত্ব। 

কবিতা এখন কেবল কবির আত্মগত অনুভবের সৌন্দর্যমূর্তি নয়। আবেগ ছাড়াও কবির মধ্যে সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিকসহ নানা বিষয়ে চিন্তার ক্ষেত্র প্রসারিত হয়েছে। তাই কবিতা আজ বিচিত্র বিষয় আশ্রয়ী।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ