ঠাকুরমার ঝুলি'তে বর্ণিত নারী চরিত্রগুলোর বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর

ঠাকুরমার ঝুলি'তে বর্ণিত নারী চরিত্রগুলোর বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর

ঠাকুরমার ঝুলি'তে বর্ণিত নারী চরিত্রগুলোর বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর
ঠাকুরমার ঝুলি'তে বর্ণিত নারী চরিত্রগুলোর বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর

উত্তর : দক্ষিণারঞ্জন মিত্র 'ঠাকুরমার ঝুলি' গল্পগুলোর প্রকাশ করেছিলেন ১৯০৭ সালে। কিন্তু যখন তিনি এ গল্পগুলো সংগ্রহ করেছিলেন তখন তিনি গল্পগুলো প্রকাশ করার কথা ভাবেননি। তবে গ্রন্থটি প্রকাশের পরপর পাঠক এবং শ্রোতাদের কাছে খুবই দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে আজও তার আবেদন সমানভাবে পরিলক্ষিত। 

'ঠাকুরমার ঝুলি' গ্রন্থে নারী চরিত্রগুলোর কোলাহলে মুখরিত। এ-রচনায় বন্দিনী রাজকন্যা, সুপুরুষ রাজপুত্রদের অসীম গুণাবলি, অপরিমেয় তেজ এবং অমেষ স্বপ্ন-সম্ভাবনা এবং তা বাস্তবায়নের নানা কৌশল পরিলক্ষিত। পাশাপাশি নারীদের বিচিত্ররূপে প্রকাশ ঘটেছে “ঠাকুরমার ঝুলি'তে। 

রাজার স্ত্রীরূপে রানীরা কখনো চক্রান্তকারী- কখনো চক্রান্তের শিকার, অশুভ শক্তি অথবা অসহায় অস্তিত্বের প্রতীক- এরা কেউ মহিয়সী কেউ রাক্ষসী আবার কেউ মমতাময়ী আবার কেউ চিরদুঃখী রাজকুমারী।'

কলাবতী রাজকন্যা' গল্পের তথ্য থেকে জানা যায়- রাজার সাত রানির কোন সন্তান হতো না। একদিন রানিরা নদীর ঘাটে স্নান করতে গেলে এক সন্ন্যাসীর সাথে দেখা হয়। সন্ন্যাসী তখন বড়রানির হাতে একটি গাছের শিকড় দিয়ে বলে এটি বেটে সাতরানি খেলে রানিদের সোনার চাঁদের মত ছেলে হবে। 

তখন রানিরা মনের আনন্দে তাড়াতাড়ি স্নান করে এসে কাপড় চোপড় ছেড়ে গা মাথা শুকিয়ে সকলে পাকশালে রান্না করতে যায়। আজ বড়রানি ভাত রাখিবেন, মেজরানি তরকারি কাটবেন, সেজরানি ব্যঞ্জন রাধিবেন, ন-রানি জল তুলিবেন, কনেরানি যোগান দেবেন, দুয়োরানি বাটনা বাটিবেন আরছোটরানি মাছ কুটিবেন। 

পাঁচ রানি পাকশালে রহিলেন। আর ন-রানি কুয়োর পাড়ে গেলেন এবং ছোট রানি পাশগদার পাশে মাছ কাঠিতে বসিলেন। তখন বড়রানি দুয়োরানিকে শিকড় বাটিতে বলিলেন। শিকড় বাটিতে বাটিতে দুয়োরানি কতটুকু নিজে খেয়ে নেই। 

তারপর রুপার থালে সোনার বাটি দিয়ে ঢাকিয়া বড়রানির কাছে নিয়ে যায়। বড়রানি ঢাকনা খুলে কিছুটা খেয়ে মেজরানির হাতে দেয়। মেজরানি কিছুটা খেয়ে সেজরানির হাতে দেয়। সেজরানি কিছুটা খেয়ে কনে রানিকে দিলেন। 

কনেরানি বাকিটুকু খেয়ে ফেললেন। তখন ন-রানি আসিয়া দেখে বাটিতে একটু তলানী পড়ে আছে তিনি তাই খেলেন। ছোট রানির জন্য আর কিছুই ছিল না। তখন ছোটরানি দেখলেন তার জন্য আর কোন শিকড়বাটা নেই। এসব দেখে ছোটরানি আছাড় খাইয়া মাটিতে পড়ে যায়। 

তখন পাঁচ রানি এর দোষও দেয়, ওর দোষও দেয়। এ রকম করিয়া সকলে মিলিয়া গোলমাল করিতে লাগে। তারপর ছোটরানি শিল নোড়া ধুয়ে জল খায়।“ঠাকুরমার ঝুলি” গ্রন্থের অন্তর্গত 'কাঁকনমালা কাঞ্চনমালা' গল্পে সুচ রাজার রাজসংসার অচল হয়ে গেলে রানি কাঞ্চনমালা দুঃখে কষ্টে কোন রকমে রাজত্ব চালাতে লাগলেন। 

একদিন রানি নদীর ঘাটে স্নান করিতে গেলে এমন সময় এক পরমাসুন্দরী মেয়ে আসিয়া বলিল, 'রানি যদি দাসী কিনেন, তো আমি দাসী হইব।' তখন রানি বলে সুচরাজার সুচ খুলিতে পারিলে আম দাসী কিনবো। পরমাসুন্দরী মেয়ে রানির কথায় রাজি হলে তখন রানি তার হাতের কাঁকন দিয়ে দাসী কিনলেন। 

তখন দাসী রানিমাকে বলে তুমি বড় কাহিল হইয়াছ কতদিন না জানি ভালো করিয়া খাওনা। গায়ের গয়না ঢিলা হইয়াছে মাথার চুল জটা দিয়াছে। তুমি গহনা খুলিয়া রাখ, বেশ করিয়া ক্ষার খৈল দিয়া স্নান করিয়া নেও। রানি প্রথমে স্নান করিতে রাজি না হলেও পরে দাসীর কথা শুনে গলা জলে নামিয়া ডুব দিল। 

দাসী চোখের পলকে রানির কাপড় পরিয়া রানির গহনা গায়ে দিয়া ঘাটের উপর উঠিয়া ডাকিল-“দাসী লো দাসী পান কৌঘাটের উপর রাঙ্গা বৌ !রাজার রানি কাঁকনমালাডুব দিবি আর কত বেলা?”রানি ডুব দিয়া উঠিয়া দেখলেন দাসী রানি হইয়াছে, তিনি বাঁদি হইয়াছে।“

সাত ভাই চম্পা' গল্পে ছোটরানির ছেলে হবে এই কথা শুনে বড়রানিরা হিংসায় জ্বলিয়া মরিতে লাগিল । রাজা আপন কোমরে এবং ছোট রানির কোমরে এক সোনার শিকল বাঁধিয়া দিল বলিলেন যখন ছেলে হইবে এই শিকলে নাড়া দিও আমি আসিয়া ছেলে দেখব বলিয়া রাজা রাজদরবারে গেলেন। 

ছোটরানির ছেলে হবে এইজন্য বড়রানিরা আঁতুড়ঘরে গেলেন। বড়রানিরা আঁতুড়ঘরে গিয়ে শিকলে নাড়া দিল। অমনি রাজা রাজসভা ভাঙ্গিয়া ঢাক ঢোলের বাদ্য দিয়া মণি মানিক হাতে ঠাকুর পুরুত সাথে রাজা আসিয়া দেখলেন কিছুই না। 

রাজা ফিরিয়া গেলেন এবং রাজসভায় বসিতে না বসিতে আবার শিকলে নাড়া পড়িল। আবার রাজা ছুটে আসে কিন্তু কিছুই দেখতে পারে না। একে একে ছোট রানির সাতটি ছেলে এবং একটি মেয়ে হইল। ছেলে মেয়েগুলো দেখতে যেন চাদের পুতুল এবং ফুলের কলির মতো। 

ছোটরানির ছেলে ও মেয়ের রূপে আঁতুড়ঘর আলোকিত হয়ে গেল। গল্পের ভাষায়-“ছোটরানি তখন তার ছেলেদের একবার দেখতে চাইলে বড়রানিরা বলে ছেলে না হাতি হইয়াছে। একথা শুনে ছোটরানি অজ্ঞান হয়ে পড়িয়া রহিলেন। নিষ্ঠুর বড়রানিরা তখন তার শিকল নাড়া দিল না। 

চুপি চুপি হাঁড়ি সরা আনিয়া ছেলেমেয়েগুলোকে তাতে পুরিয়া পাঁশ হাদার পুঁতিয়া ফেলিয়ে আসিল। তাহার পর শিকল ধরিয়া টান দিল। রাজা আবার ঢাক ঢোলের বাদ্য দিয়া মণি মানিক হাতে ঠাকুর পুরুত নিয়া আসিল। 

তখন বড়রানিরা হাত মুছিয়া মুখ মুছিয়া তাড়াতাড়ি করিয়া কতকগুলো ব্যাঙের ছানা ও ইঁদুরের ছানা আনিয়া দেখাইল।"“শীত বসন্ত' গল্পে সতিনের ছেলেদের জন্মাদের হাতে তুলে দেবার পর তিন রাত যাইতে না যাইতে সুয়োরানির পাপে রাজার সিংহাসন কাঁপিয়া উঠিল।

 দিন যাইতে না যাইতে রাজার রাজ্য গেল এবং রাজপাট গেল। সবকিছু হারিয়ে রাজা আর সুয়োরানির মুখ দেখল না। রাজা মনের দুঃখে বনবাসে চলে গেল। তখন সুয়োৱানি ছেলে তিনটা সঙ্গে নিয়ে এক নেকড়া পরনে এক নেকড়া গায়ে দিয়ে এ দুয়ারে যায়, ও দুয়ারে যায়। 

সকলে ছেই ছেই করে তাড়িয়ে দেয়। তিন ছেলেকে নিয়ে সুয়োরানি চক্ষের জলে ভাসিয়া পথে পথে ঘুরিতে লাগিল। ঘুরিতে ঘুরিতে সুয়োরানি ও তার তিন ছেলে সমুদ্রের কিনারায় গেল। সেই সময় সাত সমুদ্রের ঢেউ আসিয়া চোখের পলকে সুয়োরানির তিন ছেলে ভাসাইয়া নিয়ে গেল। 

সুয়োরানি তখনকাঁদিয়া আকাশ ফাটাইল, বুকে চাপড়, কপালে চাপড় দিয়া শোকে দুঃখে পাগল হয়ে মাথায় পাষাণ মারিয়া সুয়োরানি সকল জ্বালা এড়াইল। সুয়োরানির জন্য পিঁপড়া কানিল না, কুটাটুকুও নড়ল না। সাত সমুদ্রের জল সাত দিন পর সরে গেল। 

কোথায় বা সুয়োরানি আর কোথায় বা তার তিন ছেলে কোথাও কিছু রহিল না।“কিরণমালা' গল্পের কিরণমালা ব্যতিক্রমী নারী চরিত্র। সে নিঝুম মায়া পাহাড়ে পাথর হয়ে যাওয়া সব রাজপুত্রকে মুক্তি দিয়েছে, পাহাড় থেকে উপড়ে এনেছে রূপার গাছ সোনার ফলধরা হীরার গাছের ডাল নিয়ে এসেছে সোনার ঝারি, সোনার পাখি অর্থাৎ যা কিছু সম্পন্ন মায়া পাহাড়ে। 

কিরণমালাই এ কাহিনিতে মূল এবং সক্রিয়। এখানেও নারীর বিরুদ্ধে নারী। মায়া পাহাড়, অর্থাৎ এক নারী রাজ্যের পতন ঘটে এক নারীর হাতে।'লালকমল-নীলকমল' গল্পে রাক্ষসী রানির রাজত্বের সকল রাক্ষস রাক্ষসী মেরে যে বীরত্ব তারা দেখিয়েছে, সেজন্য উপহার হিসেবে তাদেরকে দেয়া হয়েছে রাজকন্যা আর অর্ধেক/পূর্ব রাজত্ব। 

যেন রাজকন্যা রাজত্বের মত সমদামের। আয়ী রাক্ষসী রাক্ষস খোক্কস রাজত্বের প্রধান, এক বিশাল রাজত্ব চালাচ্ছে, অন্যদিকে তার কন্যা রাক্ষসী রানি অজিতের মা অন্য রাজত্ব উজাড় করে নিচ্ছে। অবশ্যই ছদ্মবেশ। অর্থাৎ রাক্ষস খোক্কস রাজত্বের প্রধান দুই নারী। তারা অশুভ শক্তির অধীশ্বর। 

তাদের স্বরূপ উন্মোচন করেছে রাজপুত্ররা আরামকাঠি বিরামকাঠি আর জীয়নকাঠি মরণকাঠির সাহায্যে। স্বয়ং পুত্র দাঁড়িয়েছে মায়ের বিরুদ্ধে এবং দাঁড়িয়েছে বলেই এই রাক্ষসপুরী, আয়ী রাক্ষসী, মা রাক্ষসী, রাক্ষসকুল খোক্কসকুলধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে।'

ডালিমকুমার' গল্পে এক রাজা, রাজার এক রানি আর এক রাজপুত্র। রানির আয়ু ছিল একজোড়া পাশার মধ্যে। একথা রাজপুরীর তালগাছের এক রাক্ষসী একথা জানিত। কিন্তু কিছুতেই রাক্ষসীর সাথে পেরে ওঠে না। একদিন রাজা মৃগয়ায় যান- রাজপুত্র সখা সাথী পাঁচ জন নিয়ে পাশা খেলছিল। 

তা দেখে রাক্ষসী ভিখারিণী সেজে রাজপুত্রের কাছে গিয়ে পাশা জোড়া চায়। রাজপুত্র কিছু বুঝতে না পেরে হেলায় পাশা জোড়া ভিখারিণীকে দিয়ে দেন। তিন ছুঁয়ে রাক্ষসী রানির আয়ুপাশা কোন রাজ্যে পাঠাল কেউ জানতে পারলো না। 

রানি মূর্ছা গেলেন। তখন রাক্ষসী তাড়াতাড়ি গিয়া রানিকে খেয়ে রানির মূর্তি ধারণ করে।'পাতাল-কন্যা মণিমালা' গল্পে রাজপুত্র এবং মন্ত্রীপুত্র সাপের মাথার মণি সংগ্রহ করে জলের মধ্যে প্রবেশ করে বা পাতালপুরীতে গমন করে। 

পাতালপুরী প্রবেশ করে তাদের সামনে আসে সুন্দর একটি অট্টালিকা এবং অট্টালিকার মধ্যে তারা মণিমালাকে দেখতে পায় এবং তার সাথে রাজপুত্রের বিয়ে হয়। রাজপুত্রকে একদিন ঘুম পাড়িয়ে মণিমালা পৃথিবী দেখার জন্য জলের উপর আসে এবং তাকে দেখে সে দেশের রাজপুত্র পাগল হয়ে যায়। 

রাজপুত্রের অসুখ সারাতে রাজা অর্ধেক রাজ্য এবং তার রাজকন্যাকে দান করার ঘোষণা দেন। কাঠকুড়ানী পেঁচোর মা রাজপুত্রের অসুখ সারানোর দায়িত্ব গ্রহণ করে। সে পবনের নাউ-এ মণিমালার দেশে আসে এবং ঘ্যাঘর ঘ্যাঘর শব্দে সুতা কাটে। মণিমালা তার কাছে একটি শাড়ি চায় । 

মণিমালাকে শাড়ি বুনে দিয়ে বুড়ি তার কাছে কড়ি চায় এবং কড়ি দিতে দিলে বুড়ি তাকে পবনের নাউ-এ তুলে নিয়ে তার নিজ দেশে যাত্রা করে। মণিমালাকে দেখে পাগল রাজপুত্র ভালো হয়ে যায় এবং মণিমালা ব্রত করার জন্য তার কাছে এক মাসের সময় চেয়ে নেয়। 

এর মধ্যে মন্ত্রিপুত্র কাঠকুড়ানী বুড়ির ছেলে পেঁচোর বেশ ধারণ করে পাগল রাজকন্যার বোনরূপ রাজকন্যাকে বিয়ে করে। তারা মণিমালাকে সব খুলে বলে এবং একদিন স্নান করার নামে মন্ত্রিপুত্র, মণিমালা এবং নতুন রাজকন্যা সেখান থেকে পলায়ন করে মণির সাহায্যে আবার সাপের দেশে ফিরে আসে। 

মণির ছোঁয়াতে সাপের দেশে রাজপুত্র আবার জ্ঞান ফিরে পান সেখান থেকে রাজপুত্র, মন্ত্রিপুত্র, মণিমালা এবং নতুন রাজকন্যা নিজ দেশে ফিরে আসে। 'সোনারকাঠি রূপারকাঠি গল্পে রাক্ষসী খেয়ে ফেলে রাজপুত্রের তিন বন্ধুকে। রাজপুত্রকে তাড়া করে সুন্দরী নারীর বেশ ধরে তাড়াতে তাড়াতে যে রাজ্যে এসেছে সেই রাজ্যের রাজার রানি হয়ে রাজপুরীতে রাক্ষসী প্রবেশ করে। 

আপন বুদ্ধি সত্তা এবং গাছ, মাছ, গৃহস্থ বৌয়ের সাহায্যে রাজপুত্র রাক্ষসী রানির হাত হতে বেঁচে যায়। শেষে রাজকন্যার কাছ থেকে রাক্ষসীদের মারবার কৌশল জেনে তাদেরকে হত্যা করে।সুতরাং সার্বিক বিচারে বলা যায়- 'ঠাকুরমার ঝুলি' গ্রন্থে বিচিত্র স্বভাবের নারী চরিত্রের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। 

অধিকাংশ রূপকথাতেই রাজ্যের সকল অনিষ্টের মূলে কোন ডাইনী স্বভাবা নারী কিংবা রানি এবং তাদের সকল অপকর্মের শিকার অসহায় নারীকুল। নারীর বিরুদ্ধে নারী। 

নারীর হিংসা কপটতা হিংস্রতার বলি আরেক নারী। আবার উদ্ধারের কাজে নারীই হয়ে এসেছে সহায়ক শক্তি হিসেবে। তাই বাংলা লোকসাহিত্যে এসব নারী চরিত্র বেশ গুরুত্বপূর্ণ এবং তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত।

Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ