হাউস অব কমন্সের কার্যপদ্ধতি আলোচনা কর
হাউস অব কমন্সের কার্যপদ্ধতি আলোচনা কর ।
![]() |
| হাউস অব কমন্সের কার্যপদ্ধতি আলোচনা কর । |
উত্তর : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের য়ুরোপ ভ্রমণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হচ্ছে ইংল্যান্ডের হাউস অব কমন্স দর্শন। লেখক একদিন হাউস অব কমন্সে গিয়েছিলেন। তাঁর 'য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র' ভ্রমণ সাহিত্যে হাউস অব কমন্স এর কার্যক্রমের বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন।
পার্লামেন্টের অভ্রভেদী চূড়া প্রকাণ্ড বাড়ি হাঁ-করা ঘরগুলো দেখলে তাক লেগে যায়। একটা বড় ঘরে হাউস বসে, ঘরের চারিদিকে গোল গ্যালারি। তার এক দিকে দর্শকরা আর এক দিকে খবরের কাগজের রিপোর্টাররা বসে। গ্যালারি অনেকটা থিয়েটারের ড্রেস-সার্কেলের মতো। গ্যালারির নিচের স্টলে মেম্বাররা বসে। তাদের জন্য দু'পাশে দশখানা বেঞ্চি।
\একপাশের পাঁচটি বেঞ্চিতে সরকারি দল, আর এক পাশের পাঁচটিতে বিপক্ষ দল বসে। সামনের প্ল্যাটফর্মের উপর একটা কেদারা আছে, সেখানে প্রেসিডেন্টের মতো একজন মাথায় পরচুলা পরে অত্যন্ত গম্ভীরভাবে বসে থাকেন। যদি কখনো কেউ কোনো অন্যায় ব্যবহার বা কোনো আইনবিরুদ্ধ কাজ করে তাহলে স্পীকার উঠে তাকে বাধা দেয়।
যেখানে খবরের কাগজের রিপোর্টাররা সব বসে তার পিছনে খড়খড়ি দেয়া একটা গ্যালারিতে মেয়েদের জায়গা, বাইরে থেকে তাদের দেখা যায় না।
কবিগুরু যেদিন পার্লামেন্টে যান, সেদিন একজন আইরিশ সভ্য ভারতবর্ষ সংক্রান্ত বক্তৃতা দিচ্ছিলেন।
তিনি প্রেস- অ্যাক্টের বিরুদ্ধে ও অন্যান্য নানা বিষয় নিয়ে আন্দোলন করছিলেন। তাঁর প্রস্তাব অগ্রাহ্য হয়ে যায়।
হাউসের ভাবগতিক দেখে লেখক আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলেন। যখন একজন কেউ বক্তৃতা করছে, তখন হয়তো অনেক মেম্বার মিলে “ইয়া” “ইয়া”, “ইয়া” “ইয়া” করে চিৎকার করছে, হাসছে। আমাদের দেশে সভাস্থলে ইস্কুলের ছোকরারাও হয়তো এমন করে না। অনেক সময়ে বক্তৃতা হচ্ছে আর মেম্বাররা কপালের উপর টুপি টেনে দিয়ে অকাতরে নিদ্রা যাচ্ছেন।
যখন ভারতবর্ষের বিষয় নিয়ে একটা বক্তৃতা হচ্ছিল, সে সময় ঘরে নয় দশজনের বেশি মেম্বার ছিল না। অন্যান্য সবাই ঘরের বাইরে হাওয়া খেতে বা সাপার খেতে গিয়েছেন। কিন্তু যেই ভোট নেবার সময় হলো তখন সবাই চারদিক থেকে এসে উপস্থিত। বক্তৃতা শুনে বা কোনো প্রকার যুক্তি শুনে যে কারও মত স্থির হয় তা মনে হয় না।
