কাবুলের বাজার সংলগ্ন সরাই কখন, কীভাবে প্রাণবান হয়ে উঠে তার বর্ণনা দাও।

 কাবুলের বাজার সংলগ্ন সরাই কখন, কীভাবে প্রাণবান হয়ে উঠে তার বর্ণনা দাও।
কাবুলের বাজার সংলগ্ন সরাই কখন, কীভাবে প্রাণবান হয়ে উঠে তার বর্ণনা দাও।
 কাবুলের বাজার সংলগ্ন সরাই কখন, কীভাবে প্রাণবান হয়ে উঠে তার বর্ণনা দাও।

উত্তর : কাবুলের বাজার পেশওয়ারের চেয়ে অনেক গরিব, কিন্তু অনেক বেশি রঙিন। কম করে অন্তত পঁচিশটা জাতের লোক, আপন আপন বেশভূষা চালচলন বজায় রেখে কাবুলের বাজারে বেচাকেনা করে। হাজারে, উজবেগ (বাঙলা উজবুক) কাফিরিস্থানী, কিজিলবাশ মঙ্গোল, কুর্দ-এদের পাগড়ি, টুপি, পুস্তিনের জোব্বা, রাইডিং বুট দেখে কাবুলের দোকানদার এক মুহূর্তে এদের দেশ, ব্যবসা, মুনাফার হার, কুঙ্কুশ না দরাজ-হাত চট করে বলে দিতে পারে ।

কাবুলের বাজারের শেষ প্রান্তি অবস্থিত সরাইখানা। সেখানের সন্ধ্যার নামাজের পরে সমস্ত লোক কাজকর্ম সেরে সরাইখানায় মত্ত হয়ে ওঠে। বহু জাতের- পেশার মানুষের কণ্ঠস্বর এবং আনাগনায় মুখরিত হয়ে ওঠে সরাইখানার চত্বর। 

মঙ্গোলীয়রা পিঠে বন্দুক ঝুলিয়ে, ভারি রাইডং বুট পরে, বাবরী চুলে ঢেউ খেলিয়ে গোল হয়ে সরাই চত্বরে নাচতে আরম্ভ করে। বুটের ধ্বনি- তার সাথে হাততালি এবং সঙ্গে সঙ্গীত পরিবেশকে অন্যরকম করে তোলে। গানের তালে তালে নিজস্ব ভঙ্গিতে অনেকের নাচের মুদ্রা দেখায় কোমর দুলিয়ে- শরীরকে বিভিন্নভাবে ভাজ করে। 

সরাইয়ের এক কোণে ইরানিরা কানে কাছে সেতার রেখে মোলায়েম বাজনার তালে হাফিজের গজল পরিবেশন করে। আর অন্যজনেরা চোখ বন্ধ করে বুত হয়ে দূর ইরানের বুলবুল আর নিঠুরা-নিদয়া প্রিয়ার ছবি মনে আঁকে। আরেক কোণে পীর-দরবেশ চায়ের মজলিশের মাঝখানে দেশ-বিদেশের ভ্রমণ-কাহিনি, মোর্শেদ কারবালা, মক্কা-মদিনার তীর্থের গল্প বলে। 

কান পেতে অনেকে নিবিষ্ট মনে সেই গল্প শোনে- বুড়োরা মনে মনে ওপরওলার ডাকের প্রহর গণনা করে। পুস্তিন ব্যবসায়ীর কুঠুরিতে কবির মজলিস বসে। তরুণ কবি মোমবাতির সামনে হাঁটু মুড়ে বসে তুলোট কাগজে লেখা কবিতা পড়ে শোনায়। আর এক পদ পড়ার সাথে সাথে তামাম মজলিস এক গলায় কাদের পুনরাবৃত্তি করছে- আর 'মারহাবা' মারহাবা' রব তোলে। 

চারসর্দারজি মিলে এটা পুরানো গ্রামোফোনে নখের মধ্যে পালিশ তিনখানা রেকর্ড ঘুরিয়ে বাজায়। আসল মজলিস বসে কুহিস্তানের তাজিকদের আড্ডায়। 

হেঁড়ে গলায় আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে দেওয়াল পাথর ফাটিয়ে কোরাস ধরে। আসলে সরাইখানায় যে- যেভাবে পারে আনন্দ করে এবং অন্যকে বিনোদন দেয়।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ