হবীবউল্লার ‘রানি-মা'র ষড়যন্ত্রের প্রতিশোধ নিয়েছিলেন কীভাবে?

হবীবউল্লার ‘রানি-মা'র ষড়যন্ত্রের প্রতিশোধ নিয়েছিলেন কীভাবে?
হবীবউল্লার ‘রানি-মা'র ষড়যন্ত্রের প্রতিশোধ নিয়েছিলেন কীভাবে
হবীবউল্লার ‘রানি-মা'র ষড়যন্ত্রের প্রতিশোধ নিয়েছিলেন কীভাবে?

উত্তর : চক্রান্ত করে রানি-মা কাওকাব আর মুইন-উস-সুলতানের বিয়ের আয়োজন করে হবীবউল্লার কাছে 'সুসংবাদ' জানিয়ে দূত পাঠালেন। মা ও রাজমহিষীরূপে তিনি মুইন-উস-সুলতানের হৃদয়ের গতি কোনো দিকে জানতে পেরে তজীকন্যা কাওকাবের সঙ্গে তাঁর বিয়ে স্থির করেছেন। '

প্রগতিশীল' আফগানিস্তানের ভাবী রাজমহিষী সুশিক্ষিতা হওয়ার নিতান্ত প্রয়োজন। কাবুলে এমন কুমারী নেই যিনি কাওকাবের কাছে দাঁড়াতে পারেন। প্রাথমিক মঙ্গলানুষ্ঠান খোদাতালার মেহেরবানিতে সুসম্পন্ন হয়েছে। মহারাজ অতিসত্ত্বর রাজধানীতে ফিরে এসে আকদ রসুমাতের দিন ঠিক করে পৌরজনের হর্ষবর্ধন করুন। হবীবউল্লা তো রেগে টং। 

কিন্তু কাণ্ডজ্ঞান হারালেন না। আর কেউ বুঝুক না বুঝুক, তিনি বিলক্ষণ টের পেলেন যে, মূর্খ মুইন-উস-সুলতান। কাওকাবের প্রেমে পড়ে নসরউল্লার মেয়েকে হারায় নি, হারাতে বসেছে রাজসিংহাসন। কিন্তু হবীবউল্লা যদিও সাধারণত পঞ্চ মত্ত্ব কার নিয়ে মত্ত থাকতেন তবুও তাঁর বুঝতে বিলম্ব হলো না যে, সমস্ত ষড়যন্ত্রের পিছনে রয়েছে মহিষী। 

স্যার এত প্রেম তো সহজে বিশ্বাস হয় না। গাছে পানি-ঢালা দেখেই হবীবউল্লা বুঝতে পারলেন, শুঁড়িটি নিশ্চয়ই কাটা হয়েছে। রাগ সামলে নিয়ে হবীবউল্লা অতি কমনীয় নমনীয় উত্তর দিলেন- “খুদাতালাকে অসংখ্য ধন্যবাদ যে, মহিষী শুভবুদ্ধি প্রণোদিতা হয়ে এ বিয়ে স্থির করেছেন। 

তজীকন্যা কাওকাব যে সব দিক দিয়ে মুইন-উস-সুলতানের উপযুক্ত তাতে আর কি সন্দেহ? কিন্তু শুধু কাওকাব কেন, তর্জীর মেজো সুরাইয়াও তো সুশিক্ষিতা সুরূপা সুমার্জিতা। দ্বিতীয় পুত্র আমানউল্লাই বা খাস কাবুলি জংলী মেয়ে বিয়ে করবেন কেন? তাই তিনি মহিষীর মহান দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে সুরাইয়ার সঙ্গে আমানউল্লার বিয়ে স্থির করে এ চিঠি লেখার সঙ্গে সঙ্গে তর্জীর নিকট বিয়ের প্রস্তাব পাঠাচ্ছেন। সত্ত্বর রাজধানীতে ফিরে এসে তিনি স্বয়ং ইত্যাদি ।"

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ