আফগানিস্তানের সমাজ সংস্কৃতির স্বরূপ তুলে ধর।
আফগানিস্তানের সমাজ সংস্কৃতির স্বরূপ তুলে ধর।
![]() |
| আফগানিস্তানের সমাজ সংস্কৃতির স্বরূপ তুলে ধর। |
উত্তর : আফগানিস্তানের মেরুদণ্ড তৈরি হয়েছে জনপদবাসী আফগান উপজাতিদের নিয়ে, অথচ তাদের অর্থনৈতিক সমস্যা, অভ্যন্তরীণ শাসনপ্রণালি, আচারব্যবহার সম্বন্ধে আজ পর্যন্ত কোনো কেতাব লেখা হয়নি।
কাবুলে এমন কোনো গুণীরও সন্ধান পাবে না যিনি সে সম্বন্ধে তত্ত্বজ্ঞান বিতরণ করতে পারেন অথবা একটা মোটামুটি বর্ণনাও দিতে পারেন। ইতিহাস আলোচনা করতে গিয়ে কাবুলিরা প্রায়ই বলেন, 'তারপর শিনওয়ারীর বিদ্রোহ করল' কিন্তু যদি তখন প্রশ্ন করেন, বিদ্রোহ করল কেন, তবে উত্তর পাবেন, ‘মোল্লারা তাদের খ্যাপালো বলে'।
কিন্তু তারপরও যদি প্রশ্ন করেন যে, উপজাতিদের ভিতরে এমন কোনো অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক উষ্ণ বাতাবরণের সৃষ্টি হয়েছিল যে, মোল্লাদের ফুলকি দেশময় আগুন ধরাতে পারল, তা'হলে আর কোনো উত্তর পাবেন না। '
মোদ্দা কথা হচ্ছে এ যে, বিদেশের পণ্যবাহিনী লুটতরাজ না করলে গরিব আফগানের চলে না বলে সভ্যদেশের ট্রেড সাইক্লের মতো তাদেরও বিপ্লব আর শান্তির চড়াই- উতরাই নিয়ে জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ করতে হয়।
গ্রামের অবস্থা যেটুকু শুনতে পাওয়া যায়, তার থেকে এইটুকু যোগাযোগ যে, গ্রামের লোক শহরে এসে তাদের ফসল, তরকারী, দুম্বা, ভেড়া বিক্রয় করে সস্তা দরে। আর সামান্য যে দু'-একটা অত্যাবশ্যক দ্রব্য না কিনলেই নয়, তাই কেনে আক্রা দরে।
সভ্যদেশের শহরবাসীরা বাদবাকির বদলে গ্রামের জন্য স্কুল, হাসপাতাল, রাস্তাঘাট বানিয়ে দেয়। কাবুলের গ্রামে সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান নেই বললেই হয়। কতকগুলো ছেলে সকালবেলা গাঁয়ের মসজিদে জড়ো হয়ে গলা ফাটিয়ে আমপারা মুখস্থ করে—এই হলো বিদ্যাচর্চা।
তাদের তদারক করেন মোল্লাই। গাঁয়ের ডাক্তার অসুখ-বিসুখে তাবিজ-কবচ তিনিই লিখে দেন। ব্যামো শক্ত হলে পানি-পড়ার বন্দোবস্ত, আর মরে গেলে তিনিই তাকে নাইয়ে ধুইয়ে গোর দেন। মোল্লাকে পোষে গায়ের লোক। খাজনা দিয়ে তার বদলে আফগান গ্রাম যখন কিছুই ফেরত পায় না, তখন যে সে বড় অনিচ্ছায় সরকারকে টাকাটা দেয় এ কথাটা সকলেই লেখককে ভালো করে বুঝিয়ে বলেন।
দেশময় অশান্তি হলে আফগান গাঁয়ের সিকি পয়সার ক্ষতি হয় না বরঞ্চ তার লাভ। রাইফেল কাঁধে করে জোয়ানরা তখন লুটে বের হয়। 'বিধিদত্ত' আফগানিস্তানের অশান্তিও বিধিদত্ত, সেই হিড়িকে দু'পয়সা কামাতে আপত্তি নেই ।
ফ্রান্স-জার্মানিতে লড়াই লাগলে যে রকম জার্মানরা মার্চ করার সঙ্গে সঙ্গে চেঁচিয়ে বলে, 'নাখ পারিজ, নাখ পারিজ', প্যারিস চলো, প্যারিস চলো', আফগানরা তেমনি বলে, 'বি আ ব কাবুল, ব রওম ব কাবুল' 'কাবুল চলো, কাবুল চলো।' কাবুলের সমাজ সংস্কৃতির স্বরূপ বিচিত্র ও বর্ণিল। লেখক চমৎকারভাবে তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
