কাবুলের ‘বাজার গপ্ সম্বন্ধে যা জান লেখ !
কাবুলের ‘বাজার গপ্ সম্বন্ধে যা জান লেখ !
![]() |
| কাবুলের ‘বাজার গপ্ সম্বন্ধে যা জান লেখ ! |
যারা ব্যবসা-বাণিজ্য করে, তাদের পক্ষে এ 'বাজার গপ্' অতীব অপরিহার্য। মুঘল ইতিহাসে পড়েছি, দিল্লিকে ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্র করে এককালে সমস্ত ভারতবর্ষ এমনকি ভারতবর্ষ ছাড়িয়ে তুর্কিস্তান, ইরান পর্যন্ত ভারতীয় হুন্ডির তাঁবেতে ছিল।
গুণীদের মুখে শুনেছি বাঙালার রাজা জগৎশেঠের হুভি দেখলে বুখারার খান পর্যন্ত চোখ বন্ধ করে কাঁচা টাকা ঢেলে দিতেন। কিন্তু এ বিস্তীর্ণ ব্যবসায় চালু রাখার জন্য ভারতীয় বণিকদের আপন আপন ডাক পাঠাবার বন্দোবস্ত ছিল। তার বিশেষ প্রয়োজনও ছিল।
হয়ত দিল্লির শাহানশাহ আহমদাবাদের সুবেদারের উপর বীতরাগ হয়ে তাকে ডিসমিসের ফরমান জারি করলেন-সে ফরমান আহমদাবাদ পৌঁছতে অন্তত দিন সাতেক লাগার কথা। ওদিকে সুবেদার হয়ত দু'হাজার ঘোড়া কেনার জন্য আহমদাবাদী বেনেদের কাছ থেকে টাকা ধার করেছেন- ফরমান পৌঁছলে সুবেদার পত্রপাঠ দিল্লি রওনা দেবেন।
সে টাকাটা বের করতে বেনেদের তখন ভয়ংকর বেগ পেতে হতো- সুবেদার বাদশাহকে খুশী করে নতুন সুবা, নিদেনপক্ষ নতুন জায়গির না পেলে সে টাকাটা একেবারেই মারা যেত। যখন দোকানি জানতে পারে যে, আপনি হই-পলিটিক্স নিয়ে বিপজ্জনক জায়গায় খেলাধুলা করেন না, তখন আপনাকে 'বাজার গপ' বলতে তার আর বাধবে না।
আর সে অপূর্ব গপ্-বলশেভিক তুর্কিস্থানের স্ত্রী- স্বাধীনতা থেকে আরম্ভ করে, পেশওয়ারের জানকী বাঈকে ছাড়িয়ে দিল্লির বড়লাটের বিবিসায়েবের বিনে পয়সার হীরা-পান্না কেনা পর্যন্ত । এ 'বাজার গপ্' কাবুলি ব্যবসিকদের কাছে খুব সাধারণ একটি ব্যাপার।
