আবদুর রহমান এর ভাষায় কাবুলের আবহাওয়ার বর্ণনা দাও।
আবদুর রহমান এর ভাষায় কাবুলের আবহাওয়ার বর্ণনা দাও।
![]() |
| আবদুর রহমান এর ভাষায় কাবুলের আবহাওয়ার বর্ণনা দাও। |
উত্তর : আবদুর রহমান কাবুলের আবহাওয়ার যে বর্ণনা দিয়েছিলেন তা নিম্নে তুলে ধরা হলো : কাবুলের আবহাওয়া বড়ই খারাপ। পানি তো পানি নয়, সে যেন গালানো পাথর।
\পেটে গিয়ে এক কোণে যদি বসল তবে ভরসা হয় না আর কোনো দিন বেরুবে। কাবুলের হাওয়া তো হাওয়া নয়-আতসবাজির হুক্কা। মানুষের ক্ষিদে হবেই বা কি করে। পানশির-উত্তর আফগানিস্তানে। আমার দেশ-সে কী জায়গা! একটা আস্ত দুম্বা খেয়ে এক ঢোক পানি খান, আবার ক্ষিদে পাবে।
আকাশের দিকে মুখ করে একটা লম্বা দম নিন, মনে হবে তাজী ঘোড়ার সঙ্গে বাজী রেখে ছুটতে পারি। পানশিরের মানুষ তো পায়ে হেঁটে চলে না, বাতাসের উপর ভর করে যেন উড়ে চলে যায়। বরফের শীতকালে সে কী বরফ পড়ে! মাঠ পথ পাহাড় নদী গাছপালা সব ঢাকা পড়ে যায়, খেতখামারের কাজ বন্ধ, তলায় রাস্তা চাপা পড়ে গেছে। কোনো কাজ নেই, কর্ম নেই, বাড়ি থেকে বেরুনোর কথাই উঠে না।
আহা সে কি আরাম! লোহার বারকোশে আঙার জ্বালিয়ে তার উপর ছাই ঢাকা দিয়ে কম্বলের তলায় চাপা দিয়ে বসবেন গিয়ে জানলার ধারে। বাইরে দেখবেন বরফ পড়ছে, বরফ পড়ছে, পড়ছে-দু'দিন, তিন দিন, পাঁচ দিন, সাত দিন ধরে ।
ম্লান হেসে বলল, একবার আসুন, জানলার পাশে বসুন, দেখুন। পছন্দ না হয়, আবদুর রহমানের গর্দান তো রয়েছে। খেই তুলে নিয়ে বলল, 'সে কত রকমের বরফ পড়ে। কখনো সোজা, ছেঁড়া ছেঁড়া পেঁজা তুলোর মতো, তারি ফাঁকে ফাঁকে আসমান জমিন কিছু কিছু দেখা যায়।
কখনো ঘুরঘট্টি ঘন, চাদরের মতো নেবে এসে চোখের সামনে পর্দা টেনে দেয়। কখনো বয় জোর বাতাস, প্রচণ্ড ঝড়। বরফের পাজে যেন সে বাতাস ডাল গলাবার চর্কি চালিয়ে দিয়েছে। বরফের গুঁড়ো ডাইনে বাঁয়ে উপর নিচে এলোপাতাড়ি ছুটোছুটি লাগায় হু হু করে কখনো একমুখো হয়ে তাজী ঘোড়াকে হার মানিয়ে ছুটে চলে।
কখনো সব ঘটেঘুটে অন্ধকার, শুধু শুনতে পাবেন সোঁ-ওঁ-ওঁ-তার সঙ্গে আবার মাঝে মাঝে যেন দারুন আমানের এঞ্জিনের শিটির শব্দ। সেই ঝড়ে ধরা পড়লে রক্ষে নেই, কোথা থেকে কোথায় উড়িয়ে নিয়ে চলে যাবে, না হয়। কিন্তু তখন সে বরফের পাঁজা সত্যিকার কম্বলের মতো ওম দেয়। তারতলায় মানুষকে দু'দিন পরেও জ্যান্ত পাওয়া গিয়েছে।
বেহুঁশ হয়ে পড়ে যাবেন বরফের বিছানায়, তারই উপর জমে উঠবে ছ'হাত উঁচু বরফের কম্বল-গাদা গাদা, পাজা পাজা। দিকে চোখ মেলে তাকানো যায় না। কাবুলের বাজারে কালো চশমা পাওয়া যায়, তাই পরে তখন বেড়াতে বেরুবেন।
একদিন সকালে ঘুম ভাঙলে দেখবেন বরফ পড়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সূর্য উঠেছে-সাদা বরফের উপর সে রোশনির হাওয়া দম নিয়ে বুকে ভরবেন তাতে একরত্তি ধুলো নেই, বালু নেই, ময়লা নেই। ছুরির মতো ধারালো ঠাণ্ডা হাওয়া নাক উঠবে-দম ফেলবেন এক বিঘৎ নেমে যাবে।
এক এক দম নেয়াতে এক এক বছর আয়ু বাড়বে-এক একবার দম ফেলাতে মগজ গলা বুক চিরে ঢুকবে, আর বেরিয়ে আসবে ভিতরকার সব ময়লা ঝেঁটিয়ে নিয়ে। দম নেবেন, ছাতি এক বিঘৎ ফুলে একশ'টা বেমারি বেরিয়ে যাবে।
