আমরা এমন কিছু করলাম যা ইতিহাস হবেকে কোন ইতিহাসের কথা বলেছে
আমরা এমন কিছু করলাম যা ইতিহাস হবেকে কোন ইতিহাসের কথা বলেছে
![]() |
| আমরা এমন কিছু করলাম যা ইতিহাস হবেকে কোন ইতিহাসের কথা বলেছে |
উত্তর: সিরাজ ক্ষমতায় বসার পর থেকেই তার ন্যায়নিষ্ঠ, সততা ও প্রজাবৎসলতার কারণে ইংরেজ কোম্পানিসহ নবাবের কিছু স্বার্থান্বেষী পারিষদের স্বার্থসিদ্ধির পথ বাধাগ্রস্ত হয় । ফলে তারা নবাবকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ইংরেজের সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।
বিভিন্ন পর্যায়ের ষড়যন্ত্রের চূড়ান্তরূপ নির্ধারিত হয় মীরজাফরের পুত্র মীরনের ঘরে বসে। দলিল প্রস্তুত । নবাবের পতন হলে নবাবের সহযোগীরা কে কোন পথে লাভবান হবে তা বিস্তৃত লেখা রয়েছে দলিলে । সবার স্বাক্ষর শেষ, বাকি শুধু মীরজাফর। শর্ত না জেনে সে স্বাক্ষরে সম্মত নয়। রাজবল্লভ মীরজাফরকে দলিল পাঠ করে শুনায়।
দলিলের শর্তানুসারে সিরাজের পতন হলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে মীরজাফর। সে ক্ষমতালোভী এটা ঠিক, কিন্তু দলিলে যা লেখা তা বাস্তবায়ন হলে বাংলাকে বিক্রি করে দেওয়া হবে, এটাও ঠিক। মীরজাফর সামান্য দ্বিধান্বিত। শেষ পর্যন্ত আপন স্বার্থকে বড় করে দেখায় দলিলে স্বাক্ষর দেয় মীরজাফর।
ইংরেজের মনস্কামনা পূর্ণ হল। লর্ড ক্লাইভ খুশিতে ডগমগ— সবাই মিলে তারা যা করল তা ইতিহাস হবে। ক্লাইভের এ উক্তি দ্ব্যর্থবোধক, কথাটির দু'টি অর্থ রয়েছে। একথা ঠিক যে, নবাব পতনের এ চুক্তিটির রয়েছে ঐতিহাসিক গুরুত্ব। ক্লাইভ এটাকে ইতিবাচক অর্থে বললেও বাঙালিদের জন্য এ চুক্তি নেতিবাচক – এর চেয়ে কলঙ্কিত ঘটনা দ্বিতীয়টি নেই।
এ চুক্তির হোতা ও স্বাক্ষরকারীরা সবাই আজ ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত। তার জাজ্বল্য প্রমাণ মীরজাফর অভিধা। ‘মীরজাফর' শব্দটি বিশেষ্য থেকে বিশেষণে রূপ পেয়েছে। বেঈমান বিশ্বাসঘাতকের কাছে যা ইতিবাচক বাঙালির কাছে তা লজ্জাজনক কলঙ্কিত ইতিহাস মাত্র।
.png)