জার্মান কাইজার মহেন্দ্রকে কূটনীতিক করে আফগানিস্তানে প্রেরণের কারণ বর্ণনা কর।

জার্মান কাইজার মহেন্দ্রকে কূটনীতিক করে আফগানিস্তানে প্রেরণের কারণ বর্ণনা কর।
জার্মান কাইজার মহেন্দ্রকে কূটনীতিক করে আফগানিস্তানে প্রেরণের কারণ বর্ণনা কর।
জার্মান কাইজার মহেন্দ্রকে কূটনীতিক করে আফগানিস্তানে প্রেরণের কারণ বর্ণনা কর।

উত্তর : কাইজার রাজাকে প্রচুর খাতির-যত্ন করে, স্বর্ণ-ঈগল মেডেল পরিয়ে একদল জার্মান কূটনীতিকের সঙ্গে আফগানিস্তান রওয়ানা করিয়ে দিলেন। পথে রাজা তুর্কির সুলতানের কাছ থেকেও অনেক আদর-আপ্যায়ন পেলেন। 

ইংরেজ ও রুশ উভয়েই রাজার দূতের খবর পেয়ে উত্তর-দক্ষিণ দু'দিক থেকে হানা দেয়। অসম্ভব দুঃখকষ্ট সহ্য করে বেশিরভাগ জিনিসপত্র পথে ফেলে দিয়ে তাঁরা ১৯১৫ সালের শীতের শুরুতে কাবুল পৌঁছান ।

আমির হবীবউল্লা বাদশাহী কায়দায় রাজাকে অভ্যর্থনা করলেন- তামাম কাবুল শহর রাস্তার দু'পাশে ভিড় লাগিয়ে রাজাকে তাঁদের আনন্দ-অভিবাদন জানালেন। বাবুর বাদশাহের কবরের কাছে রাজাকে হবীবউল্লার এক খাস-প্রাসাদে রাখা হলো।

কাবুলের লোক সহজে কাউকে অভিনন্দন করে না। রাজার জন্য তারা যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে রাস্তায় দাঁড়িয়েছিল তার প্রথম কারণ, কাবুলে জনসাধারণ ইংরেজের নষ্টামি ও হবীবউল্লার ইংরেজ-প্রীতিতে বিরক্ত হয়ে পূর্ণ স্বাধীনতার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছিল; নব্য-তুর্কি নব্য-মিশরের জাতীয়তাবাদের কচিৎ জাগরিত বিহঙ্গকাকলী কাবুলের গুলিস্তান বোস্তনকেও চঞ্চল করে তুলেছিল। 

দ্বিতীয় কারণ, রাজা ভারতবর্ষের লোক, জার্মানির শেষ মতলব কি সে সম্বন্ধে কাবুলিদের মনে নানা সন্দেহ থাকলেও ভারতবর্ষের নিঃস্বার্থপরতা সম্বন্ধে তাদের মনে কোনো দ্বিধা ছিল না। এ অনুমান কাইজার বার্লিনে বসে করতে পেরেছিলেন বলেই ভারতীয় মহেন্দ্রকে জার্মান কূটনীতিকদের মাঝখানে ইন্দ্রের আসনে বসিয়ে পাঠিয়েছিলেন।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ