চাঁদাবাজদের জন্য দুঃসংবাদ! আসছে 'ডিজিটাল পাহারাদার অ্যাপ'
![]() |
| চাঁদাবাজদের জন্য দুঃসংবাদ! আসছে 'ডিজিটাল পাহারাদার অ্যাপ' |
চাঁদাবাজদের জন্য দুঃসংবাদ! আসছে 'ডিজিটাল পাহারাদার অ্যাপ'
চাঁদাবাজি নির্মূলে সড়ক ও পরিবহন খাত থেকে শুরু করে ভূমি ও রিয়েল এস্টেট খাত পর্যন্ত কঠোর ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি জানিয়েছে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে চাঁদাবাজি বন্ধে মোট ১৩টি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় জামায়াতে ইসলামীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পাঁচটি ফটোকার্ডের মাধ্যমে এসব প্রতিশ্রুতি জনসমক্ষে তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশকে চাঁদাবাজিমুক্ত রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে দলটি কাজ করতে চায়।
ঘোষণায় জামায়াতে ইসলামী জানায় আল্লাহর ইচ্ছা ও জনগণের ভোটে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার ও কঠোর আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের সব খাত থেকে চাঁদাবাজি নির্মূল করা হবে। এ জন্য প্রতিটি খাতে আলাদা আলাদা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সড়ক ও পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি বন্ধে চাঁদাবাজি-প্রবণ সড়কগুলোতে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে নিয়মিত মনিটরিং চালু করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সব ফাঁড়ি ও চেকপোস্টে নজরদারি বাড়ানো হবে। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত তদন্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একটি স্বাধীন মনিটরিং সেল গঠন এবং জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি চালুর কথাও জানানো হয়।
ভূমি ও রিয়েল এস্টেট খাতে চাঁদাবাজি রোধে ফি ও ট্যাক্স অনলাইনে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ভূমি রেকর্ডসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র অনলাইনে সহজে দেখার সুযোগ থাকবে যাতে জমি কেনাবেচার সময় কেউ চাঁদাবাজি করতে না পারে। জমি লেনদেনের সময় চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।
চাঁদাবাজির অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত সমাধানের জন্য ‘ডিজিটাল পাহারাদার’ নামে একটি বিশেষ অ্যাপ ও ওয়েবসাইট চালুর ঘোষণাও দিয়েছে দলটি। এর মাধ্যমে অভিযোগ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই শেষে প্রতিবেদন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগকারীর নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার কথাও জানানো হয়।
এ ছাড়া ঘোষণায় বলা হয় যে চাঁদাবাজদের পরিচয় প্রকাশ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করাই এর লক্ষ্য।
জামায়াতে ইসলামীর দাবি আধুনিক প্রযুক্তি ও কঠোর আইন প্রয়োগ এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশকে একটি সম্পূর্ণ চাঁদাবাজিমুক্ত রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব।
