কমলাকান্তের মতে মনুষ্য জন্ম বৃথা হয় কেন ব্যাখ্যা কর

কমলাকান্তের মতে মনুষ্য জন্ম বৃথা হয় কেন ব্যাখ্যা কর

কমলাকান্তের মতে, মনুষ্যজন্ম কেন বৃথা হয়
কমলাকান্তের মতে, মনুষ্যজন্ম কেন বৃথা হয়

কমলাকান্তের মতে মনুষ্য জন্ম বৃথা হয় কেন ব্যাখ্যা কর

উত্তর : মানুষ সামাজিক জীব। সমাজে তারা দলবদ্ধভাবে একত্রে হয়ে বসবাস করে আসছে সুপ্রাচীনকাল থেকে। যৌবনে মানুষের মনে থাকে নানা প্রত্যাশা, স্বপ্ন । তাই যৌবনে মানুষ প্রকৃতি, সংগীত, বংশীধ্বনি, কোকিলের স্বর, সবই • তার কাছে ভালো লাগে । 

জ্যোৎস্না প্লাবিত মধুময়ী রাতে সংগীতের সুর লহরীতে সবাই যখন আন্দোলিত, সে সময় কারো মনে যদি নিরানন্দের সৃষ্টি হয় তবে বুঝতে হবে সে বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো একা, অনিকেত। তাই জনাকীর্ণ আনন্দঘন জনস্রোতের মধ্যে তার স্বস্তি নেই। 

প্রত্যেকের উচিত জনস্রোতের মধ্যে নিজেকে ভাসিয়ে দিয়ে জীবনকে পরিপূর্ণ করা। মানব বিচ্ছিন্ন হয়ে একাকিত্ব বসবাস করা মানুষের ধর্ম নয়। যদি অন্য কাউকে তুমি ভাল না বাসলে, তবে মানবজীবন বৃথা। এরকম জীবন মানুষের প্রত্যাশা নয়। 

এমন জীবন দোয়েল, শালিকেরও, ফুলের ঘ্রাণ ও ফুলের মধু সে নিজে আহরণ করে। মধু খেয়ে মৌমাছি জীবন ধারণ করে। মানুষ ফুলের ঘ্রাণ নেয়। স্কুলের কাজ হলো সে নিজে ঘ্রাণ নিতে পারে না । 

সে ঘ্রাণ সবার জন্য বিলিয়ে দেয়। এটাই ফুলের ধর্ম। ঘ্রাণ গ্রহণ করার ইন্দ্রিয় না থাকলেও তা সুগন্ধি বলে বিবেচিত হয় না। ফুল নিজের জন্য ফোটে না। তার মধ্যেকার প্রস্ফুটিত হওয়ার প্রবণতা ও ঝোঁকের পেছনে থাকে অন্যকে আকৃষ্ট করা বা অন্যের দ্বারা আকৃষ্ট হওয়া। ফুল অন্যের ভোগে সে তৃপ্ত ধন্য ও পূর্ণ। 

মানবজীবনও ফুলের মতো অন্যের মঙ্গলের জন্য কাজ করবে, প্রয়োজনে উৎসর্গ করার মধ্যেই মানব জনমের সার্থকতা। জীবন বিন্যাসের অপর নাম একাকিত্ব । অন্যকে প্রণয় দেওয়া, অন্যের প্রণয় গ্রহণের মধ্য দিয়ে মানব জনম সাফল্য পায়। 

মানুষ যদি তার জীবনটা সম্পূর্ণ নিজের স্বার্থের জন্য ও নিজের ভোগের জন্য ব্যয় করে তখন মানবজীবন ব্যর্থ হয়। কারণ স্বার্থপর ও লোভী ব্যক্তিকে কেউ পছন্দ করে না। মরণের পরে তাকে সবাই ভুলে যায় । কারণ সে তার জীবনে কারও উপকারে আসেনি। বিপদে সমব্যথী হয়নি। এজন্য মনুষ্যজন্ম বৃথা হয় ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ