কমলাকান্ত চরিত্র সৃষ্টির উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা কর
![]() |
| কমলাকান্ত চরিত্র সৃষ্টির পিছনে বঙ্কিমচন্দ্রের উদ্দেশ্য কী |
কমলাকান্ত চরিত্র সৃষ্টির উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা কর
উত্তর : বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর সীমাবদ্ধতা বা নীতিপরায়ণতা অতিক্রম করে অপূর্ব শিল্পমানসের পরিচয় দিয়েছেন “কমলাকান্তের দপ্তর”- প্রবন্ধগ্রন্থে; বিশেষ করে কমলাকান্ত চরিত্র সৃষ্টিতে।
বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর দার্শনিক দৃষ্টির সহায়তার জগৎ ও জীবনের গভীর সত্যরূপ ও রহস্য আবিষ্কার করেছেন কমলাকান্ত, চরিত্র সৃষ্টিতে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর ‘কমলাকান্তের দপ্তর'-এ যেসব বিষয় অবলম্বন করে রচনাকর্ম সম্পাদন করেছেন তা যে কোন বিষয়নিষ্ঠ প্রবন্ধেরই উপযুক্ত বিষয়বস্তু হতে পারে এতে কোনো সংশয় নেই।
দেশপ্রীতি, সমাজপ্রীতি, মানবপ্রীতি, রাজনীতি, সমাজনীতি, ধর্মনীতি, মানবজীবনাদর্শ প্রভৃতি তাঁর কমলাকান্তের জবানিতে প্রকাশিত। এসব বিষয়ের রচনারীতি বস্তুনিষ্ঠ প্রবন্ধের মতো না হয়ে আত্মকেন্দ্রিকতা পরিহার ও বক্রকুটিলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
‘কমলাকান্তের দপ্তরে এ অভিনব আঙ্গিকে অর্থাৎ ব্যঙ্গরসাত্মক লঘু নকশার আকারে ভাব প্রকাশ করেছেন বঙ্কিমচন্দ্র। বঙ্কিমচন্দ্রের ‘কমলাকান্তের দপ্তর' কমলাকান্তকে হাস্যরসিক চরিত্র হিসেবে অঙ্কন করেছেন। ব্রিটিশ সরকারের অধীনে চাকরি করে যে সত্যকথাগুলো সোজাসুজি উচ্চারণ করতে পারে নি- তা বলেছেন কমলাকান্তের মুখ দিয়ে।
আপাতদৃষ্টিতে সে বোকা, আফিমে আসক্ত। আফিমের মাত্রা বেশি হয়ে গেলে সে দিব্যদৃষ্টি লাভ করে এবং সমাজের সমস্ত অসংগতিকে দেখতে পায় এবং প্রকাশ করে কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থার সে সমাজকে বাস্তবরূপে দেখতে পায় না। বঙ্কিমচন্দ্র কমলাকান্তের জবানবন্দীর মধ্য দিয়ে মানবজীবনের এবং সমাজ জীবনের নানা অসংগতি তুলে ধরেছেন।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় যদি কমলাকান্ত চরিত্র সৃষ্টি না করতে – তাহলে এই “কমলাকান্তের দপ্তর” প্রবন্ধে যা বলেছেন- তা বলা সম্ভব ছিল না। তাই এ সব দিক বিবেচনায় তিনি কমলাকান্ত চরিত্র সৃষ্টি করেছেন ।
