২০টি আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর | ami kingbodontir kotha bolchi srijonshil question answer

এই পোস্টে আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে যাতে শিক্ষার্থীরা কবিতার মূল ভাব ও বিষয়বস্তু সহজে বুঝতে পারে। যারা পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর খুঁজছেন তাদের জন্য এই আরটিকেল টি খুবই সাহাজ্য করবে। এখানে আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যার ফলে শিক্ষার্থীরা সহজেই অনুশীলন করতে পারবে এবং পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারবে। তাই আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর জানতে পুরো লেখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন
২০টি আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২০টি আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

সৃজনশীল প্রশ্ন >১

মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি

             মোরা একটি মুখের হাসির জন্য অস্ত্র ধরি

            মোরা নতুন একটি কবিতা লিখতে যুদ্ধ করি

            মোরা নতুন একটি গানের জন্য যুদ্ধ করি

            মোরা একখানা ভালো ছবির জন্য যুদ্ধ করি

            মোরা সারা বিশ্বের শান্তি বাঁচাতে আজকে লড়ি

ক. প্রবহমান নদী কাকে ভাসিয়ে রাখে?
. 'ভালোবাসা দিলে মা মরে যায়' বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
. "উনোনের আগুনে আলোকিত একটি উজ্জ্বল জানালার কথা' সাথে উদ্দীপকের চেতনার ঐক্য নির্দেশ করো ।
. উক্ত ঐক্যের প্রেক্ষাপট 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কতটুকু সার্থক ব্যাখ্যা করো।

১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. যে সাঁতার জানে না প্রবহমান নদী তাকে ভাসিয়ে রাখে।

খ. দেশমাতৃকার প্রতি কবির ভালোবাসার দিকটি কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে। দেশাত্মবোধে উজ্জীবিত হলে দেশপ্রেমিকের চেতনায় দেশই মাতৃরূপে ফিরে আসে। আর চেতনায় দেশমাতাকে ধারণ করলে জন্মদাত্রী মায়ের আবেদন তার কাছে তুচ্ছ হয়ে যায়। প্রশ্নোক্ত উক্তিটি দ্বারা কবি এ কথাটিই বোঝাতে চেয়েছেন ।

উত্তরের সারবস্তু: 'ভালোবাসা দিলে মা মরে যায়' বলতে কবি বোঝাতে চেয়েছেন দেশমাতৃকার প্রতি ভালোবাসা জাগ্রত হলে জন্মদাত্রী মা তুচ্ছ হয়ে যায়।

গ. উনোনের আগুনে আলোকিত একটি উজ্জ্বল জানালার সাথে উদ্দীপকের শিকড়সন্ধানী মানুষের সর্বাঙ্গীন মুক্তির চেতনা ঐক্য রয়েছে। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে ঐতিহ্যসচেতন শিকড়সন্ধানী মানুষের সর্বাঙ্গীণ মুক্তির দৃপ্ত ঘোষণা। “উনোনের আগুনে আলোকিত একটি উজ্জ্বল জানালা' কথাটার মধ্য দিয়ে উঠে আসা মুক্ত জীবনের প্রত্যাশার সঙ্গে উদ্দীপকের চেতনার ঐক্য পরিলক্ষিত হয়।

কেননা মুক্তির প্রত্যাশা মানুষের চিরন্তন। পরাধীনতার সকল গ্লানি মুছে ফেলে মানুষ মুক্ত জীবনের স্বাদ গ্রহণ করতে চায়, যা প্রশ্নোক্ত কবিতার চরণে উঠে এসেছে। উদ্দীপকের চরণগুলোতে মুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধের আহ্বান করা হয়েছে। সেখানে নানা অনুষঙ্গের ব্যবহারে কবির এ প্রত্যাশার দিকটি মহিমান্বিত হয়ে উঠেছে। সবশেষে কবি শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধের আহ্বান করেছেন, যা কবির ব্যাকুলতার প্রকাশ। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায়ও এ বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট।

সেখানে আগুনের উত্তাপে পরিশুদ্ধ হয়ে সকল গ্লানি মুছে ফেলতে চেয়েছেন কবি। উজ্জ্বল জানালার অনুষঙ্গ ব্যবহারে কবির মুক্ত জীবনের প্রত্যাশাই ব্যক্ত হয়েছে এখানে। এদিক থেকে উদ্দীপকের সঙ্গে প্রশ্নোত্ত চরণে উঠে আসা কবির প্রত্যাশা সামঞ্জস্যপূর্ণ।

উত্তরের সারবস্তু: “উনোনের আগুনে আলোকিত একটি উজ্জ্বল জানালা' কথাটার মধ্য দিয়ে উঠে আসা মুক্ত জীবনের প্রত্যাশার সঙ্গে উদ্দীপকের চেতনার ঐক্য পরিলক্ষিত হয়।

ঘ. উক্ত ঐক্যের অর্থাৎ মুক্তি কামনার প্রেক্ষাপট 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় সম্পূর্ণভাবে সার্থক হয়ে উঠেছে। আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তির জন্য বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস উঠে এসেছে। কবি বিভিন্ন অনুসঙ্গের মাধ্যমে শিকড়সন্ধানী মানুষের মুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন। উদ্দীপকে নানা দিক বিবেচনায় কবি যুদ্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। সেখানে কবির সকল চাওয়ার সমন্বয়ে মুক্তি কামনার দিকটিই মুখ্য হয়ে উঠেছে। এখানে কবি ভাবের বিস্তার, অনুষঙ্গের ব্যবহার এবং ধারাবাহিক নান্দনিক উপস্থাপনার মাধ্যমে কবিতাংশটুকুতে তাঁর চাওয়াকে শিল্পরূপ দিয়েছেন।

'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি মুক্ত জীবনের প্রত্যাশার প্রেক্ষাপট হিসেবে তুলে ধরেছেন বাঙালি সংস্কৃতির হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে। সেখানে জাতির সংগ্রাম, বিজয় ও মানবিক উদ্ভাসনের অনিন্দ্য অনুষঙ্গগুলো মূর্ত হয়ে উঠেছে। কবি তাঁর একান্ত মুক্তির প্রত্যাশাকে পূর্বপুরুষের ইতিহাসের কথা উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, যা সংগত কারণেই হৃদয়স্পর্শী হয়ে উঠেছে।  আলোচ্য উদ্দীপকে কবিতাংশের প্রেক্ষাপট উপস্থাপনায়ও কবি এমন দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন; এক্ষেত্রে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথাযথ।

উত্তরের সারবস্তু: একটি শিল্পসফল কবিতা নির্মাণের অন্যতম শর্ত তার প্রেক্ষাপট, আঙ্গিক নির্মাণ এবং উপস্থাপন কৌশল । এসব দিক বিবেচনায় 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার প্রেক্ষাপট নির্মাণে কবি অনন্য দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর>২

মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি মোরা একটি মুখের হাসির জন্য অস্ত্র ধরি মোরা নতুন একটি কবিতা লিখতে যুদ্ধ করি. মোরা নতুন একটি গানের জন্য যুদ্ধ করি। মোরা একখানা ভালো ছবির জন্য যুদ্ধ করি মোরা সারা বিশ্বের শান্তি বাঁচাতে আজকে লড়ি।

. 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় 'কর্ষিত জমির প্রতিটি শস্যদানা' কী?
খ. 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি তাঁর পূর্বপুরুষ সম্পর্কে কী বলেছেন?
. উদ্দীপকে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? আলোচনা করো।
ঘ. একটি উজ্জ্বল জানালার কথা বলছি। উক্ত চরণ ও উদ্দীপক একটি বিশেষ চেতনাকে নির্দেশ করে— বিশ্লেষণ করো।

২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় 'কর্ষিত জমির প্রতিটি শস্যদানা কবিতা ।

খ. আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি তাঁর পূর্বপুরুষদের উপর পাশবিক নির্যাতন ও তাঁদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা বলেছেন কবির পূর্বপুরুষেরা একসময় ক্রীতদাস ছিলেন। তাঁদের পিঠে নির্যাতনের চিহ্ন রক্তজবার মতো লাল ক্ষত হয়ে ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে চলছে। তাঁরা পাহাড় আর অরণ্য অতিক্রম করে এসে পতিত জমি আবাদ করতেন। তাঁদের করতলে ছিল পলিমাটির সৌরভ।

কবি মনে করতেন তাঁদের উৎপাদিত প্রতিটি শস্যদানা ছিল একেকটি প্রাণবন্ত কবিতা। তাঁদের কণ্ঠে উচ্চারিত সত্যও ছিল একেকটি কবিতা। কবির মতে, যে এই কবিতা শুনতে জানে না, সে ঝড়ের আর্তনাদ শোনে এবং দিগন্তের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। এমনকি আজন্ম সে ক্রীতদাসই থেকে যায়।

উত্তরের সারবস্তু: আলোচ্য কবিতায় কবি পূর্বপুরুষ সম্পর্কে তাঁদের উপর পাশবিক নির্যাতন ও তাঁদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা ব্যক্ত করেছেন।

গ. উদ্দীপকে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার ঐতিহ্য চেতনার মাধ্যমে মানবমুক্তির আকাঙ্ক্ষার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবির পূর্বপুরুষদের হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে স্বীকার করে মানুষের সর্বাঙ্গীণ মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরেছেন। কবি বলেছেন তাঁর পূর্বপুরুষের ইতিহাস মাটির কাছাকাছি মানুষের ইতিহাস; বাংলার অনার্য ক্রীতদাসের লড়াই করে টিকে থাকার ইতিহাস।

তাঁরা পতিত জমিতে আবাদ করতেন; করতলে ছিল পলিমাটির সৌরভ। তাঁদের উৎপাদিত প্রতিটি শস্যদানা ছিল একেকটি প্রাণবন্ত কবিতা। তাঁদের কণ্ঠে যে সত্য উচ্চারিত হতো তার প্রতিটি শব্দও ছিল কবিতা। এই 'কবিতা'ই কবির একান্ত প্রত্যাশিত মুক্তির প্রতীক হয়ে উপস্থাপিত হয়।উদ্দীপকের গানটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা জোগাতে রচিত হয়। গানটিতে নানা অনুষঙ্গের মাধ্যমে বাঙালির মুক্তির আকাঙ্ক্ষা উচ্চারিত হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধারা দেশ ও দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য অস্ত্র ধরে। তারা বাংলা ভাষায় কবিতা ও গান রচনার অধিকার পেতে যুদ্ধ করে, সুন্দর একটি বাংলাদেশ ও শান্তিপ্রিয় বিশ্ব উপহার দেওয়ার জন্য তারা প্রাণপণ লড়ে যায়।

'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবির পূর্বপুরুষদের হাজার বছরের সংগ্রামের ইতিহাস যেমন বিভিন্ন ঐতিহ্যের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে তেমনি উদ্দীপকে বাঙালির মুক্তির আকাঙ্ক্ষা উচ্চারিত হয়েছে। তাই বলা যায়, 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার ঐতিহ্য চেতনার মাধ্যমে মানবমুক্তির আকাঙ্ক্ষার দিকটি উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে।

উত্তরের সারবস্তু: ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার ইতিহাস ও ঐতিহ্য চেতনা দ্বারা মানবমুক্তির আকাঙ্ক্ষার দিকটি প্রকাশিত হয়েছে।

. আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার উক্ত চরণ ও উদ্দীপক মুক্তির চেতনাকে নির্দেশ করে। একটি উজ্জ্বল জানালার কথা বলছি' চরণটি দ্বারা কবি পরাধীনতার সকল গ্লানি মুছে মুক্ত জীবনের প্রত্যাশা করেছেন। কবির পূর্বপুরুষদের উৎপাদিত প্রতিটি শস্যদানা ছিল একেকটি প্রাণবন্ত কবিতা। তাঁদের কণ্ঠে যে সত্য উচ্চারিত হতো তার প্রতিটি শব্দও ছিল কবিতা। কবি মনে করেন যারা এই কবিতা শুনতে চায় না তারা কখনোই মুক্ত জীবনের স্বাদ পেতে পারে না। কবি প্রত্যাশা করেন আগুনের উত্তাপে পরিশুদ্ধ হয়ে সকল গ্লানি মুছে ফেলে দিয়ে প্রত্যেকে আলোয় ভরা মুক্ত জীবন গড়ে তুলুক।

এক্ষেত্রে তিনি উনুনের আগুনে উজ্জ্বল জানালার অনুষঙ্গ ব্যবহার করে তাঁর এ প্রত্যাশার দিকটি মহিমান্বিত করে তুলেছেন। উদ্দীপকের চরণগুলোতে মুক্তিযোদ্ধাদের দেশকে শত্রুমুক্ত করার প্রেরণা দিয়ে মুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধের আহ্বান করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধারা মানুষের মুখে মুক্তির আনন্দ দেখার জন্য অস্ত্র ধরে, মুক্তভূমিতে বাংলা ভাষায় কবিতা ও গান রচনার আনন্দ পেতে যুদ্ধ করে, সুন্দর একটি বাংলাদেশের ছবির প্রত্যাশায় যুদ্ধ করে।

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি বলেছেন পূর্বপুরুষদের ইতিহাস যারা শুনতে চায় না তারা আজীবন ক্রীতদাস থেকে যাবে, অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে আজন্ম।কিন্তু কবি নিজেও পরাধীনতার শৃঙ্খল চান না, তাঁর প্রত্যাশা মুক্ত জীবন। উদ্দীপকে চরণগুলোতেও ফুটে ওঠে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার আহ্বান ও দেশের সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণামন্ত্র। তাই বলা যায়, কবির জাতীয় মুক্তির চেতনার সাথে উদ্দীপকের রচয়িতার মুক্তির আকাঙ্ক্ষা যেন এক ও অভিন্ন।

উত্তরের সারবস্তু: প্রশ্নোক্ত চরণটি ও উদ্দীপক বাঙালির জাতীয় মুক্তির চেতনা ও আকাঙ্ক্ষাকে নির্দেশ করে।

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর >৩

কে আসে সঙ্গে দেখ দেখ চেয়ে আজ:

কারখানার রাজা, লাঙলের নাবিক,
উত্তাল ঢেউয়ের শাসক উদ্যত বৈঠাহাতে মান্নাদল,
এবং কামার কুমোর তাঁতি। এরাতো সবাই সেই

মেহনতের প্রভু, আনুগত্যে
শানিত রক্তে ঢল হয়ে যায় বয়ে,
তোমার শিরাময় সারা পথে পথে।

. করতলে কী ছিল?
. কবি প্রবহমান নদীর কথা বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন? ব্যাখ্যা করো ।
গ. উদ্দীপকের মানুষ আর 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বর্ণিত পূর্বপুরুষের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করো ।

ঘ. “উদ্দীপকটি ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার মূলবক্তব্যেরই ধারক।”— মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো ।

৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল।

খ. কবি প্রবহমান নদী বলতে চলমান ইতিহাসের কথা বোঝাতে চেয়েছেন। প্রবহমান নদীর আক্ষরিক অর্থ চলমান নদী। তবে কবি এখানে প্রবহমান নদী বলতে চলমান ইতিহাসের কথা বুঝিয়েছেন। কবিকে কবির মা | বলেছেন যে সাঁতার জানে না প্রবহমান নদী তাকেও ভাসিয়ে রাখে কিন্তু যে মানুষ কবিতা শুনতে জানে না সে নদীতে ভাসতে পারে না।  এখানে মূলত বোঝানো হয়েছে যে, যে মানুষ সত্যকে নিজের ভিতরে ধারণ করতে পারে না সেই মানুষ ইতিহাসের অংশ হতে পারে না।

এমনকি যে মানুষ প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার যোগ্য নয় সেও নিজের ভিতরে থাকা সত্যের বলে ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠতে পারে কিন্তু কবিতা তথা সত্য বিবর্জিত মানুষ চলমান ইতিহাসের অংশ হওয়ার বদলে কালের গর্ভে হারিয়ে যায় ।

উত্তরের সারবস্তু: বাঙালির চলমান ইতিহাসের ধারা বোঝাতে কবি প্রবহমান নদীর কথা কবিতায় তুলে ধরেছেন।

গ. উদ্দীপকের মানুষ এবং 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বর্ণিত পূর্বপুরুষ উভয়েই অন্ত্যজশ্রেণির শ্রমজীবী মানুষ । ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতাটিতে যে পূর্বপুরুষের কথা বলা হয়েছে সেই পূর্বপুরুষ শ্রমজীবী, ভূমিজীবী অনার্য ক্রীতদাস। যার পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল। পায়ের নিচে পলিমাটির সৌরভ ছিল এবং যে পতিত জমি আবাদের কথা বলত। কবিতার পূর্বপুরুষ টিকে ছিল প্রতিকূলতার মধ্যে যার কাছে নিজের ফলানো শস্যদানাকে কবিতা মনে হতো।

কবিতার পূর্বপুরুষ সাহসী ছিল তারা সূর্যকে হৃদয়ে ধারণ করত এবং যুদ্ধে যেতে ভয় পেত না উদ্দীপকের মানুষ সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ। এই মানুষদের কেউ কারখানার কর্মী, কেউ লাঙল চালায়, কেউ নাবিক, কেউ মাল্লা, কামার, কুমোর এবং তাঁতি। এরা সবাই পরিশ্রমী। যারা পরিশ্রম করে সমস্ত কিছু নিয়ন্ত্রণ করে।

‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার পূর্বপুরুষও শ্রমজীবী তবে তারা ছিল ভূমিজীবী ক্রীতদাস। তা সত্ত্বেও তারা ছিল সাহসী এবং লড়াকু। উদ্দীপকের মানুষ এবং কবিতার পূর্বপুরুষ উভয়েই শ্রমজীবী ও পরিশ্রমী যারা প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও টিকে থাকতে সক্ষম ।

উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকের মানুষ ও আলোচ্য কবিতার পূর্বপুরুষ উভয়ই নিম্ন শ্রেণির শ্রমজীবী ও পরিশ্রমী মানুষ। যারা বৈরী অবস্থাও পরিবেশের মধ্যে টিকে থাকতে পারে।

ঘ. উদ্দীপকটি 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার মূলবক্তব্যেরই ধারক।”— মন্তব্যটি যথার্থ। আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতাটিতে ঐতিহ্য সচেতন শিকড় সন্ধানী মানুষের মুক্তির দৃপ্ত ঘোষণা প্রকাশ পেয়েছে। যারা হাজার বছর ধরে সংগ্রাম করে টিকে আছে। এই অনার্য ক্রীতদাস শ্রেণির মানুষ লড়াই করে চলে নিরন্তর মুক্তির আকাঙ্ক্ষায়, যারা যুদ্ধে যাওয়ার সময় সূর্যকে হৃদয়ে ধারণ করে বিজয়ী হয়ে ওঠে। উদ্দীপকে সমস্ত শ্রমজীবী মানুষকে একত্রিত হতে দেখা যাচ্ছে।

যারা নিজের পরিশ্রমে কারখানার রাজা হয়ে ওঠে, বৈঠা হাতে উত্তাল সমুদ্রকে নিয়ন্ত্রণ করে। যারা সবাই পরিশ্রম করে বেঁচে থাকাতেই বিশ্বাসী। যারা এমনকি নিজের রক্তপ্রবাহকেও নিয়ন্ত্রণ করে সাহসী ও পরিশ্রমী মনোভাব দ্বারা ।  আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতাটি হাজার বছরের অন্ত্যজ শ্রেণির বাঙালির লড়াই করে টিকে থাকার কবিতা। মুক্তির জন্য সকল শক্তির উৎস সূর্যকে হৃৎপিণ্ডে ধারণ করার কবিতা। উদ্দীপকেও কবিতার মতোই শ্রমজীবী বাঙালির লড়াকু চেহারা দেখা যায়। তাই বলা যায়, মন্তব্যটি যথার্থ।

উত্তরের সারবস্তু: কবিতা ও উদ্দীপক উভয় স্থানেই খেটে খাওয়া শ্রমজীবী ও পরিশ্রমী বাঙালির সাক্ষাৎ ঘটে। বিরূপ পরিস্থিতিতেও তাঁদের টিকে থাকার যন্ত্রণা থাকায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর >8

সুখ-সমৃদ্ধিতে ঐশ্বর্যময় এবং প্রাণেশ্বর্যে ভরপুর এই সুন্দর দেশটি বর্গীর আক্রমণ থেকে শুরু করে বারবার শত্রুর লোলুপ দৃষ্টিতে পড়েছে। বিপর্যন্ত হয়েছে এ দেশের সহজসরল মানুষের জনজীবন, অর্থনৈতিক বুনিয়াদ এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য। কিন্তু কোনো গরুর কাছে পরাভব মানেনি এ দেশের গণমানুষ। তাই তো যুগে যুগে আমরা দেখি নুরলদীন-তিতুমীর-হাজী শরিয়তউল্লাহ-সূর্যসেন- প্রীতিলতা-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিস্ময়কর শক্তি-সাহস এবং শৌর্যবীর্য। হাজার বছর ধরে এ দেশের মানুষের রয়েছে রক্তে রঞ্জিত | গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও ঐতিহ্য ।

ক. জননীর আশীর্বাদ কাকে ধন্য করবে?
. তাঁর পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল।'— বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
গ. উদ্দীপকের ব্যক্তিদেরকে কীভাবে কাঙ্ক্ষিত মানবমুক্তির দূত বলা যায়? 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার বক্তব্যের সঙ্গে সাদৃশ্য দেখাও ।
. উদ্দীপকের এ দেশের হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিক্রমা আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার চৈতন্যগত দিকের সঙ্গে অভিন্ন।”— মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো

৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. জননীর আশীর্বাদ গাভির পরিচর্যাকারীকে ধন্য করবে।

খ. বাঙালি জাতির ওপর অত্যাচারের ইতিহাস ব্যক্ত করতে গিয়ে কবি প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন। আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি আমাদের পূর্বপুরুষদের সম্পর্কে বলেছেন। শত্রুরা আমাদের পূর্বপুরুষের ওপর যে অত্যাচার ও নির্যাতন করেছিল তা এখনো তাজা রয়েছে বোঝাতেই রক্তজবার প্রসঙ্গ ব্যবহৃত হয়েছে। পরাধীনতার কারণে পূর্বপুরুষদের ওপর বারবার অমানুষিক অত্যাচার নেমে এসেছে। বিদেশি শত্রুরা আমাদের সঙ্গে ক্রীতদাসের মতো আচরণ করেছে। পূর্বপুরুষদের পরাধীনতা ও তাদের সেই অত্যাচারের মাত্রা বোঝাতেই আলোচ্য চরণটির অবতারণা করা হয়েছে।

উত্তরের সারবস্তু: বাঙালি জাতির ওপর অত্যাচারের ইতিহাস ব্যক্ত করতে গিয়ে কবি প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন।

গ. উদ্দীপকের ব্যক্তিগণ শাসন আর শোষণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে মানবের মুক্তির পথ সুগম করেছেন বলে তাঁদের মানবমুক্তির দূত বলা হয়েছে। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতা অনুসারে বাঙালি জাতীয় জীবনে কখনোই শত্রুর কাছে পরাজয় মানেনি। শোষকের অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম গড়ে তোলায় এ জাতির রয়েছে এক গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্য। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে যে ক্ষত জাতির বুকে তৈরি হয়েছে তা এখনো তাজা রক্তজবার মতো। উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে বাঙালি জাতির পূর্বপুরুষদের সংগ্রামী চেতনাসঞ্চারী ইতিহাসের অনুষঙ্গ।

নূরলদীন- তিতুমীর-হাজী শরিয়তউল্লাহ- সূর্যসেন-প্রীতিলতা-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো নেতা আমাদের পূর্বপুরুষদের বীরত্বের ইতিহাসকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। আমরা যে বীরের জাতি তা এসব মহান ব্যক্তিদের সংগ্রামী জীবনের মাধ্যমে উঠে এসেছে। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি তাঁর পূর্বপুরুষদের সাহসী ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে বাঙালি ঐতিহ্যকে তুলে ধরেছেন। যাঁরা এ জাতির মুক্তির জন্য নানা অত্যাচার সহ্য করে গেছেন। তাঁদের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি।

শত্রুর হাত থেকে দেশকে বাঁচানোর জন্য উদ্দীপকের ব্যক্তিরা বারবার ধৈর্য, শক্তি-সাহস ও শৌর্যবীর্যের পরিচয় দিয়েছেন। তাই এসব ব্যক্তিরা কাঙ্ক্ষিত মানবমুক্তির দূত হয়ে উঠেছেন, যা 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার সঙ্গেও সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকের ব্যক্তিগণ শাসন আর শোষণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে মানবের মুক্তির পথ সুগম করেছেন বলে তাঁদের মানবমুক্তির দূত বলা হয়েছে।

ঘ. উদ্দীপকের এ দেশের হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিক্রমা 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার চৈতন্যগত দিকের্ সঙ্গে অভিন্ন।”— মন্তব্যটি যথার্থ। আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বাঙালি সংস্কৃতির হাজার বছরের সংগ্রাম, বিজয় ও পূর্বপুরুষদের বীরত্বগাথার ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। বাংলার ভূমিজীবী অনার্য ক্রীতদাসের লড়াই করে টিকে থাকার কথা বলা হয়েছে। কবিতায় হাজার বছরের সমগ্র বাঙালি জাতির সংগ্রামের ইতিহাস এবং যুদ্ধ করে টিকে থাকা ও বিজয় লাভের গাথা উচ্চারিত হয়েছে।

বাঙালি জাতির এমন সুদীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্য কবি সংগ্রামী চেতনায় প্রকাশ করেছেন কবিতায়। উদ্দীপকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কথা ইতিহাসের হাত ধরে এসেছে। শত্রুর কাছে পরাজয় মানেনি বলেই যুগে যুগে কিংবদন্তিদের আগমন ঘটেছে এ বাংলায় । 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে আশ্রয় করে মানবমুক্তির আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। আর মুক্তির পূর্বশর্ত হলো সংগ্রাম, যা আমাদের পূর্বপুরুষেরা হাজার বছর ধরে করে এসেছেন।

উদ্দীপকেও হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিক্রমার কথা এসেছে বাঙালির লড়াকু প্রতিবাদী মনোভাব বোঝাতে। এই হার না মানা মনোভাবের কারণেই বাংলায় বারবার নূরুলদীন- তিতুমীর হাজী শরিয়তউল্লাহ-সূর্যসেন-প্রতিলতা-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো মানুষেরা জন্মেছেন। তাই বলা যায়, “উদ্দীপকের এদেশের হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিক্রমা 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার চৈতন্যগত দিকের সঙ্গে অভিন্ন।”

উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকের এ দেশের হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিক্রমা আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার চৈতন্যগত দিকের সঙ্গে অভিন্ন মন্তব্যটি যথার্থ।

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর > ৫

আসিতেছে শুভ দিন
দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা শুধিতে হইবে ঋণ!

            হাতুড়ি শাবল গাঁইতি চালায়ে ভাঙিল যারা পাহাড়,

          পাহাড় কাটা সে পথের দুপাশে পড়িয়া যাদের হাড়...
তারাই মানুষ তারাই দেবতা, গাহি তাহাদেরি গান,

          তাদেরি ব্যথিত বক্ষে পা ফেলে আসে নব উত্থান

ক. প্রবহমান নদী কাকে ভাসিয়ে রাখে?
. 'ভালোবাসা দিলে মা মরে যায়'— বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
গ. ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বর্ণিত পূর্বপুরুষদের কোন বিষয়টি উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকের বক্তব্য 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার মৌলসত্য।” -বিশ্লেষণ করো।

৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

. প্রব ভাসিয়ে রাখে।

খ. সৃজনশীল প্রশ্নের ১ (খ) নম্বর উত্তর দ্রষ্টব্য।হমান নদী যে সাঁতার জানে না তাকেও

. উদ্দীপকে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার বর্ণিত পূর্বপুরুষদের অত্যাচারিত জীবনের দিকটি ফুটে উঠেছে । আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি তার পূর্বপুরুষদের নিপীড়িত অত্যাচারিত হওয়ার ইতিহাস তুলে ধরেছে। পরাধীনতার কারণে তাদের উপর বারবার অমানুষিক অত্যাচার নেমে এসেছে। বিদেশি শত্রুরা তাদের সাথে ক্রীতদাসের মতো আচরণ করত। তাদের পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষতই প্রমাণ করে বারবার পূর্বপুরুষদের উপর অমানুষিক অত্যাচার নেমে এসেছিল।

উদ্দীপকে শ্রমজীবী মানুষদের অমানবিক দুঃখকষ্ট এবং নিপীড়িত হওয়ার দৃশ্য ফুটে উঠেছে। হাতুড়ি, শাবল, গাঁইতি চালিয়ে যারা পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরি করেছিল সে রাস্তার পাশেই তাদের নিপীড়িত হতে দেখা যায়, অত্যাচারিত হতে দেখা যায়। যাদের শ্রম আর ঘামে পৃথিবীতে সভ্যতার আলো ফুটে ছিল তাদের ব্যথিত বক্ষ পদদলিত করা হয় বারবার। মূলত আলোচ্য কবিতায় পূর্বপুরুষদের অত্যাচারিত ও নিপীড়িত হওয়ার দিকটি উদ্দীপকে দৃশ্যমান হয়েছে।

উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার বর্ণিত পূর্বপুরুষদের অত্যাচারিত জীবনের দিকটি ফুটে উঠেছে।

. উদ্দীপকের বক্তব্য 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার মৌলসত্য— মন্তব্যটি যথার্থ। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি তাঁর পূর্বপুরুষদের বন্দিজীবন কাটানোর কথা বলেছেন। তাঁদের পিঠে রক্তজবার মতো গভীর ক্ষতের কথা উল্লেখ করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি শিকড়সন্ধানী মানুষের সার্বিক মুক্তির দৃপ্ত ঘোষণা দিয়েছেন। কবি আমাদের পূর্বপুরুষদের সাহসী ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথাও বলেছেন। তাঁর মতে, আমাদের ঐতিহ্য হলো কৃষিজীবী, শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষের লড়াই করে টিকে থাকার ইতিহাস।

তাঁদের ওপর বর্বর নির্যাতনের ইতিহাসকেও বহন করে চলেছি আমরা।উদ্দীপকে শ্রমজীবী মানুষদের জীবনবাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে। যাদের শ্রম ও ঘামের বিনিময়ে পৃথিবী বসবাসের যোগ্য হয়ে উঠেছে। তাদের ওপর-ই যুগ যুগ ধরে নেমে এসেছে অত্যাচারের হস্ত । পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ আমাদের পূর্বপুরুষদের দীর্ঘদিন ধরে সহ্য করতে হয়েছে সীমাহীন দুর্ভোগ। কিন্তু মুক্তিসংগ্রামীদের অদম্য মানসিকতার  ফলেই আমরা পেয়েছি মুক্তির আনন্দ।

মূলত 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় উচ্চারিত হয়েছে শিকড়সন্ধানী মানুষের সর্বাঙ্গীণ মুক্তির ঘোষণা। আর উদ্দীপকে আমাদের শ্রমজীবী মানুষের অত্যাচারিত হওয়ার নির্মম সত্যতা তুলে ধরা হয়েছে। সেই সাথে আমাদের পূর্বপুরুষ তথা এই অত্যাচারিত শ্রমজীবী মানুষদের ঋণ শোধের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ তাদের মুক্তির কথা বলা হয়েছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ ।

উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকের বক্তব্য 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার মৌলসত্য— মন্তব্যটি যথার্থ ।

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর >৬

১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেন বাঙালি জাতিকে মুক্তির কবিতা শোনালেন। বাঙালি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য, শোষণ বঞ্চনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বাঙলার ইতিহাস এদেশের মানুষের রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস।' তিনি একপর্যায়ে বাঙালি জাতিকে প্রতিবাদী আর সংগ্রামী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেবো। এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইন্‌শা-আল্লাহ।' প্রধানত, বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি ছিল বাঙালি জাতির কাছে ইতিহাস- ঐতিহ্যের স্মারক আর মুক্তির কবিতা

ক. ভালোবাসা দিলে কে মরে যায়?
খ. 'তাঁর পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল'— বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
. উদ্দীপকে ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে?
. 'বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত ৭ই মার্চের ভাষণটি ছিল বাঙালি জাতির কাছে ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্মারক আর মুক্তির কবিতা।'— মন্তব্যটি 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।

৬ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

. ভালোবাসা দিলে মা মরে যায় ।

. সৃজনশীল প্রশ্নের ৪(খ) নম্বর উত্তর দ্রষ্টব্য।

গ. উদ্দীপকে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার ঐতিহ্য সচেতন শিকড়সন্ধানী মানুষের সর্বাঙ্গীণ মুক্তির দৃপ্ত ঘোষণার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে । 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতাটি বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সচেতন শিকড়সন্ধানী মানুষের মুক্তির সুদৃঢ় ঘোষণা কবি তাঁর কবিতায় পূর্বপুরুষদের সাহসী ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস টেনে এনেছেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ যেন বাঙালি জাতির মুক্তির কবিতা ।

এই ভাষণে তিনি বাঙালি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য, শোষণ, বঞ্চনার কথা তুলে ধরে বাঙালি জাতিকে প্রতিবাদী আর সংগ্রামী হওয়ার আহ্বান জানান। রক্তের বিনিময়ে হলেও দেশের মানুষকে মুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আলোচ্য কবিতাটিতেওঁ বাংলার মানুষের সর্বাঙ্গীণ মুক্তির প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের স্বাধীনতা অর্জনে মুক্তিসংগ্রামের ডাক আলোচ্য কবিতার ঐতিহ্য সচেতন শিকড়সন্ধানী মানুষের মুক্তির দৃপ্ত ঘোষণার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার ঐতিহ্য সচেতন শিকড়সন্ধানী মানুষের সর্বাঙ্গীণ মুক্তির দৃপ্ত ঘোষণার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ।

ঘ. বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত ৭ই মার্চের ভাষণটি ছিল বাঙালি জাতির কাছে ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্মারক আর মুক্তির কবিতা যা ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার মূলভাবের সাথে সংগতিপূর্ণ। আলোচ্য কবিতায় হাজার বছরের সমগ্র বাঙালি জাতির সংগ্রামের ইতিহাস, যুদ্ধ করে টিকে থাকা ও বিজয় লাভের গাঁথা উচ্চারিত হয়েছে। কবিতায় বারবার এসেছে মানবমুক্তির আকাঙ্ক্ষায় সোচ্চার হওয়ার কথা । এখানে 'কবিতা' শব্দটিকে ও সত্যকে অভেদরূপে কল্পনা করা হয়েছে ।

উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে যেন মুক্তির কবিতা শুনিয়েছেন। বাঙালি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য, শোষণ-বঞ্চনার কথা তুলে ধরে তিনি বাঙালি জাতিকে প্রতিবাদী আর সংগ্রামী হওয়ার আহ্বান জানান। রক্তের বিনিময়ে হলেও বাঙালি জাতিকে মুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে আশ্রয় করে মানবমুক্তির আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু মুক্তির পূর্বশর্ত হলো সংগ্রাম।

আর গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে সংগ্রামের ডাক দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেসময় পাকিস্তানি শাসকদের দুঃশাসন এবং অত্যাচারে এ দেশবাসী হাঁপিয়ে উঠেছিল। আর তখন বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণেই সূচিত হয়েছিল আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্ন ও মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান।তাই বলা যায়, ৭ই মার্চের ভাষণটি ছিল বাঙালি জাতির কাছে ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্মারক আর মুক্তির কবিতা ।

উত্তরের সারবস্তু: বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত ৭ই মার্চের ভাষণটি ছিল বাঙালি জাতির কাছে ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্মারক আর মুক্তির কবিতা যা 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার মূলভাবের সাথে সংগতিপূর্ণ।

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর >৭

বিভিন্ন মুখের কোটি অশ্বারোহী এসে
খুরে খুরে ক্ষতময় করে গেছে সহনীয়া মাটি,

            লালসার লালামাখা ক্রোধে বন্দুক কামান কত

            অসুর গর্জনে চিরেছে আকাশ পরিপাটি,
বিদীর্ণ বুকনীল বর্ণ হয়ে গেছ তুমি, বাংলাভূমি

ক. উনোনের আগুনে আলোকিত কীসের কথা বলা হয়েছে?
খ. ‘বিচলিত স্নেহ' কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো ।
. উদ্দীপকে ‘বাংলাভূমি'-এর সঙ্গে ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার চেতনাগত সাদৃশ্য কোথায়? আলোচনা করো ।
ঘ. ‘লালসার লালা মাখা ক্রোধে' কীভাবে আমাদের হাজার বছরের ইতিহাসের পরিচয় খুঁজে পাওয়া যায়? উদ্দীপক ও ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার প্রেক্ষাপটে আলোচনা করো ।

৭ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

. উনোনের আগুনে আলোকিত একটি উজ্জ্বল জানালার কথা বলা হয়েছে ।

খ. 'বিচলিত স্নেহ- বলতে কবি আপনজনের আন্তরিক উৎকণ্ঠার কথাই বুঝিয়েছেন । আবহমান কাল থেকে এ দেশে পারিবারিক বন্ধন অত্যন্ত দৃঢ় ও মায়াময়। পরিবারে ছোটোদের প্রতি বড়োদের অকৃত্রিম স্নেহ ও মমতা কাজ করে।

এই স্নেহ মমতার কোনো তুলনা চলে না। কবি তাই এদেশের ঐতিহ্যের কথা বলতে গিয়ে এই স্নেহ মমতার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। “বিচলিত স্নেহ' বলতে তিনি আপনজনের উৎকণ্ঠা তথা অকৃত্রিম স্নেহ-মমতার দিকটিকে বুঝিয়েছেন ।

উত্তরের সারবস্তু: 'বিচলিত স্নেহ'- বলতে কবি আপনজনের আন্তরিক উৎকণ্ঠার কথাই বুঝিয়েছেন।

গ. উদ্দীপকের বাংলাভূমির সাথে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার সংগ্রামী চেতনাগত সাদৃশ্য রয়েছে।সংগ্রামী চেতনা ধারক। বিভিন্ন সময়ে এ জাতিকে ক্ষতবিক্ষত করে বিদেশি শক্তি। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে যে ক্ষত জাতির বুকে তৈরি ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বাঙালির সংগ্রাম করে টিকে থাকার চেতনা প্রকাশিত হয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে বাঙালি জাতি ত্যাগ ওহয়েছে তা এখনো তাজা রয়েছে রক্তজবার মতো। উদ্দীপকের বাংলাভূমিতে বাঙালির ওপরে নির্যাতনের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। এদেশে বহুকাল থেকেই বিদেশিদের লালসার বস্তু ছিল।

অনেক সম্পদে ভরপুর ও ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় স্বার্থান্বেষী মহল সর্বদা একে কুক্ষিগত রাখার প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তাদের লালসার জন্য এখানে বন্দুক কামান দিয়ে মহড়া চলেছে। এদেশের আকাশ সেই অসুরের দলের গর্জনে বারবার চিরে খান খান হয়েছে। বিদীর্ণ হয়েছে বাংলার বুক। কষ্টের নীল বর্ণ এ মাটির পরতে পরতে যেন ছড়িয়ে আছে।

উদ্দীপকের বাংলাভূমির এমন চিত্র 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার বাঙালির ঐতিহ্যগত সংগ্রামী চেতনার প্রতিচ্ছবি। কবি আলোচ্য কবিতায় বাঙালির পূর্বপুরুষের যে সাহস ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের পরিচয় দিয়েছেন। উদ্দীপকটির বাংলাভূমি সেই ছবিই যেন ফুটিয়ে তুলেছে।

উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকের বাংলাভূমির সাথে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার সংগ্রামী চেতনাগত সাদৃশ্য রয়েছে।

ঘ. ‘লালসার লালামাখা ক্রোধে' স্বার্থান্বেষী শক্তির শাসন-শোষণের কালানুক্রমিক অতীত কাহিনির মধ্য দিয়ে আমাদের হাজার বছরের ইতিহাসের পরিচয় খুঁজে পাওয়া যায় । আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে। বিদেশি স্বার্থান্বেষী মহল বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে আমাদের গোলাম বানিয়ে রাখার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তারা এ জনপদকে কুক্ষিগত করতে বারবার আক্রমণ ও শোষণ করেছে। ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে বাঙালি জাতি লড়াই করে যাদের বিরোচিত স্বভাবের পরিচয় দিতে ভুল করেনি। উদ্দীপকে 'লালসার লালামাখা ক্রোধ' বলতে এদেশকে কুক্ষিগত করার লালসায় যারা এখানে অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে তাদেরকে বোঝানো হয়েছে।

বিভিন্ন পরিচয়ে তারা অস্ত্র-কামান নিয়ে এখানে এসেছিল দখল করার মানসিকতায়। বাঙালির বুকে তারা ক্ষত চিহ্ন এঁকে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করেছিল। নির্যাতিত হতে হতে যেন এ মাটি ক্ষত সহ্য করার ক্ষমতা অর্জন করেছে। সেই লোভীগোষ্ঠী তাদের স্বার্থচরিতার্থ করতে এদেশের আকাশ চিরেছে, বিদীর্ণ বাংলাভূমি যেন তাদের আঘাতে নীল হয়ে গেছে। আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বাঙালির হাজার বছরের সংগ্রামের ঐতিহ্য গাঁথা তুলে ধরা হয়েছে।

কবি খুব সচেতন বিধায় তিনি আমাদের পূর্বপুরুষের বীরত্ব ও সংগ্রাম অতুলনীয় কাব্যিক গাঁথুনিতে উপস্থাপন করতে পেয়েছেন। তিনি বাঙালির শিকড়ের খবর তুলে ধরেছেন। আজ যে সমৃদ্ধ জাতির গৌরব আমরা বোধ করছি এর পশ্চাতে রয়েছে ঐতিহ্যের সংগ্রামী ইতিহাস। কালে কালে কত জনপদ এখানে ধ্বংস হয়েছে। অনেক স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এখানে বাণিজ্য সুবিধা নিতে এসেছিল। তারা আমাদের পূর্বপুরুষদের অত্যাচার-নির্যাতন করে নিঃশেষ করতে চেয়েছে।

তাদের সেই নৃশংস নখরের দাগ এখনো শুকায়নি। রক্তজবার মতো সেই ক্ষত এখনো সতেজ রয়েছে। তারা হিংস্র মাংসাশী শিকারির মতো খাবলে খেতে চেয়েছে এদেশের অমূল্য সম্পদ। উদ্দীপকেও কবি একই ইতিহাস বর্ণনা করেছেন ।

বিভিন্ন জাতির কোটি অশ্বারোহীর শাসন - শোষণের কথা তুলে ধরেছেন। যারা এ দেশের লালসা চরিতার্থ করতে এসে অসুরের মতো আচরণ করেছে। ভিনদেশিদের লোভের কারণে শাসন, শোষণ ও নির্যাতন ভোগ করার সঙ্গে উদ্দীপক ও ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার প্রেক্ষাপট একসূত্রে গাঁথা।

উত্তরের সারবস্তু: 'লালসার লালামাখা ক্রোধে' স্বার্থান্বেষী শক্তির শাসন-শোষণের কালানুক্রমিক অতীত কাহিনির মধ্য দিয়ে আমাদের হাজার বছরের ইতিহাসের পরিচয় খুঁজে পাওয়া যায় ।

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর >৮

ছোটো ভাইটিকে আমি আর কোথাও দেখি না

              নোলক পরা বোনটিকে কোথাও দেখি, না

              কেবল উৎসব দেখি, পতাকা দেখি ।

. ‘অভিনবত্ব' কী নির্মাণের শর্ত?
. 'যুদ্ধ আসে ভালোবেসে'— বলতে কী বোঝানো হয়েছে ?
. উদ্দীপকে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার কোন অনুষঙ্গটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
. “যুদ্ধ মানে স্বজন হারানোর কান্না’— উদ্দীপক ও 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।

৮ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. 'অভিনবত্ব' চিত্রকল্প নির্মাণের শর্ত ।

. যুদ্ধ আসে ভালোবেসে' বলতে বোঝানো হয়েছে দেশকে ভালোবাসলে দেশের মুক্তির জন্য যুদ্ধ করতে হয়। দেশমাতাকে ভালোবেসে যখন কেউ মায়ের কাছ থেকে বিদায় নেয়, তখন মায়ের মনে এক চরম বেদনা অনুভূত হয়। সেই বেদনা আরও দীর্ঘায়িত হয়, যখন তারই ছেলেমেয়ে যুদ্ধে মারা যায়। তখন মায়ের একপ্রকার 'আত্মিক মৃত্যু ঘটে। দেশকে ভালোবাসলে দেশের মুক্তির জন্য যুদ্ধ করতে হয়। এই বিষয়টিকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যায় না। তাই বলা হয়েছে 'যুদ্ধ আসে ভালোবাসে।

উত্তরের সারবস্তু: দেশের প্রতি ভালোবাসা থাকলে যুদ্ধ এলে দেশের টানে সবাইকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে হয়। এ বিষয়টি বোঝাতেই বলা হয়েছে 'যুদ্ধ আসে ভালোবেসে' ।

গ. আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় যুদ্ধে স্বজনদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা লাভের অনুষঙ্গটি উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে। ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি একটি যুদ্ধের কথা বলেছেন, যে যুদ্ধে দেশমাতৃকার সন্তানেরা অংশগ্রহণ করে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন। পরাধীন বাঙালির হাজার বছরের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পরিসমাপ্তি ঘটেছিল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে। সে যুদ্ধে আমাদের বোনেরা-মায়েরা সম্ভ্রম হারিয়েছিলেন।

দামাল ছেলেরা যুদ্ধে গিয়ে পূর্বপুরুষদের ইতিহাস থেকে প্রেরণা নিয়ে দারুণ প্রতিরোধে নিজেদের বিজয় প্রতিষ্ঠা করেছিল। উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে, ছোটো ভাইটিকে ও নোলক পরা বোনটিকে কোথাও দেখা যায় না। কেবল দেখা যায় উৎসব আর পতাকা।

এখানে ভাই ও বোনের ত্যাগ-তিতিক্ষার পর স্বাধীনতা ধরা দিয়েছে। একইভাবে, 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায়ও দামাল ছেলেদের ও বোনদের আত্মত্যাগের কথা গর্বের সঙ্গে উচ্চারণ করা হয়েছে। এদিক থেকে উদ্দীপকের সঙ্গে আলোচ্য কবিতার সাদৃশ্য প্রতীয়মান হয় ।

উত্তরের সারবস্তু: ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় প্রকাশিত স্বজনদের আত্মত্যাগের দিকটি উদ্দীপকেও প্রতিফলিত হয়েছে।

ঘ.  উদ্দীপকের স্বজন হারিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার বিষয়টি কবিতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তাই কবিতার আলোকে বলা যায়, 'যুদ্ধ মানে স্বজন হারানোর কান্না'। আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি বলেছেন যুদ্ধে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য বাংলার মানুষের আত্মত্যাগের কথা। মুক্তিপ্রত্যাশী মানুষের আসন্ন বিপদের আশঙ্কায় তাদের স্বজনরা উদ্‌বিগ্ন হন। গর্ভবতী বোনের মৃত্যু প্রমাণ করে মুক্তিকামী জাতিকে কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। মাতৃভূমিকে ভালোবেসে যখন কেউ যুদ্ধে যায় তখন মায়ের মনে এক চরম বেদনা অনুভূত হয়।

সেই বেদনা আরও দীর্ঘায়িত হয় যখন তারই ছেলেমেয়ে যুদ্ধে মারা যায় । উদ্দীপকে উঠে এসেছে স্বজন হারানোর বেদনা। সেখানে স্বাধীনতা অর্জনের পর ছোটো ভাই ও নোলক পরা বোনটিকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। তাদের প্রাণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা ধরা দিয়েছে। উদ্দীপকের মতো আলোচ্য কবিতায়ও বহু প্রতীক্ষিত স্বাধীনতা অর্জনের জন্য বাঙালিরা স্বজনদের বিসর্জন দিয়েছে। দেশকে ভালোবাসলে দেশের জন্য যুদ্ধ করতে হয় আর এতে নিজের কাছের মানুষদের হারাতে হয়। তাই বলা যায়, 'যুদ্ধ মানে স্বজন হারানোর কান্না।'

উত্তরের সারবস্তু: স্বাধীনতা অর্জনে প্রিয়জন হারানোর দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ হয়ে উঠেছে।

প্রশ্ন>৯ নব দিগন্তের নতুন চলার চিঠি ।

            মেলেছে এ জীবন সম্ভাবনার দীতি।

            আমায় যদি প্রশ্ন করে
কাব্য-গীতির কোনদেশ
বলব আমি বাংলাদেশ ।

. শস্যের সম্ভার কাকে সমৃদ্ধ করবে?
খ. আমাদের পূর্বপুরুষেরা কীভাবে পতিত জমি আবাদ করতেন? ব্যাখ্যা করো ।
গ. উদ্দীপকের ‘কাব্য-গীতির কোন দেশ' 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার সাথে কীভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ তা ব্যাখ্যা করো।
. “উদ্দীপকের ‘নব দিগন্তের নতুন চলার সম্ভাবনা' যেন 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।”— মূল্যায়ন করো।

৯ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. কর্ষণ করে শস্যের সম্ভার তাকে সমৃদ্ধ করবে।

খ. আমাদের পূর্বপুরুষেরা বিরূপ পরিবেশের সঙ্গে যুদ্ধ করে অক্লান্ত শ্রমনিষ্ঠা দ্বারা পতিত জমি আবাদ করতেন । আমাদের পূর্বপুরুষেরা অনেক পরিশ্রমী ছিলেন। তাঁরা বন পরিষ্কার করে হিংস্র প্রাণীকে বশ মানিয়ে জমি আবাদ করতেন। জমিতে বীজ বপনের জন্য পূর্বপুরুষেরা আকাশপানে বৃষ্টির জন্য প্রতীক্ষা করতেন। প্রকৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ঝড়বৃষ্টি সহ্য করে তাঁরা জমিতে ফসল ফলাতেন। উত্তরের সারবস্তু: বিরূপ পরিবেশেও অক্লান্ত পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে আমাদের পূর্ব পুরুষেরা পতিত জমিতে আবাদ করতেন।

গ. উদ্দীপকে কবি বাংলার ঐতিহ্যকে স্মরণ করে সংগ্রামের পথ ধরে উঠে আসা বর্তমান বাংলাদেশকে কাব্যগীতির দেশ বলেছেন যা আলোচ্য কবিতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ । আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি বাঙালির প্রাচীন ঐতিহ্যকে স্মরণ করে সমকালীন আন্দোলন-সংগ্রামের কথা তুলে ধরেছেন।এখানে কবির একান্ত প্রত্যাশিত মুক্তির প্রতীক হয়ে উপস্থাপিত হয়েছে 'কবিতা' শব্দটি। তিনি বারবার সশস্ত্র সুন্দরের অনিবার্য অভ্যুত্থান 'কবিতা'র কথা বলেছেন। বিভিন্ন সময়ে শাসকগোষ্ঠীর শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালিকে যুগে যুগে বিদ্রোহ ও লড়াই করতে হয়েছে।

ফলে কবিতার সত্য ও সৌন্দের্যের চেতনা ধারণ করে অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, সংগ্রামের পথ ধরে নতুন ঠিকানা তৈরি হয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা। উদ্দীপকের কবিকে জিজ্ঞেস করলে কবি নির্দ্বিধায় বাংলাদেশকে কাব্যগীতির দেশ হিসেবে স্বীকার করবেন । আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায়ও দেখা যায় বহু বিদ্রোহের পথ ধরে বাঙালির স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে এবং এই বিদ্রোহের প্রেরণা ছিল কবিতা।

আমাদের পূর্বপুরুষের এই বাংলায় প্রত্যাশার সবটুকুই পূরণ হয়েছে রক্তজবার মতো প্রতিরোধের উচ্চারণ কবিতার মাধ্যমে। তাই বলা যায় উদ্দীপকের ‘কাব্যগীতির কোন দেশ' এর সাথে কবিতার সাদৃশ্য বিদ্যমান। উত্তরের সারবস্তু: ঐতিহ্য ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে উঠে আসা দেশ কাব্যগীতিময় যা উদ্দীপকের ‘কাব্যগীতির কোন দেশ'-এর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

. উদ্দীপকের ‘নব দিগন্তে নতুন চলার সম্ভাবনা' যেন ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বর্ণিত বিষয়ের মূল প্রতিপাদ্য।— উক্তিটি যথার্থ । বাঙালি জাতিসত্তা গঠনের পেছনে সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও ইতিহাস সংস্কৃতির পটভূমি বিদ্যমান। কবিতায় কবি বিদেশি শত্রুদের অধীনে নির্যাতিত হওয়া, দাসত্বের যন্ত্রণা ভোগ করা, শরীরে আঘাতের ক্ষত এবং বহু সংগ্রামের পথ ধরে জাতিসত্তাকে ফিরে পাওয়ার কথা বলেছেন। সূর্যসেন, ক্ষুদিরাম, প্রীতিলতা এদের বিদ্রোহের মাধ্যমে এসেছে আজকের এই স্বাধীনতা। নতুন দিগন্তে আজ সৃষ্টি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা ।

উদ্দীপকের ভাষায় বহু ত্যাগ আর সংগ্রামের ফসল আজকের এই নতুন ঠিকানা। ইতিহাস পাড়ি দিয়ে নতুন ঠিকানায় আজ নতুনভাবে নতুন স্বপ্ন জেগে উঠেছে বা নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। উদ্দীপকের কবির কাছে জানতে চাইলে তিনি এ দেশকে কাব্যগীতির দেশ বলেছেন যেখানে নতুন সৃষ্টির সম্ভাবনা লুকিয়ে রয়েছে। উদ্দীপকের কবিতার অর্থ করলে মূলত দেখা যায় যে পুরাতন ভেঙে তৈরি হয়েছে নতুন কিছু যেখানে সৃষ্টি হয়েছে একটি নতুন ঠিকানা এবং এই ঠিকানা হলো বাংলাদেশ।

যেখানে রয়েছে অপার সম্ভাবনা। আলোচ্য কবিতায়ও স্থান পেয়েছে আমাদের পূর্বপুরুষ, বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বর্ণনা, মুক্তির জন্য ধারাবাহিক সংগ্রাম অতঃপর এক সম্ভাবনাময় দেশের সৃষ্টি। ফলে মূল প্রতিপাদ্য বিবেচনা করলে উদ্দীপকের 'নব দিগন্তে নতুন চলার সম্ভাবনা' উক্তিটিই আলোচ্য কবিতার মূল প্রতিপাদ্য।

উত্তরের সারবস্তু: 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় ঐতিহ্য ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে মূল প্রতিপাদ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে যা প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটিকে যথার্থ করে তুলেছে।

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর > ১০

পরাক্রমশালী মোগলরা ভারতবর্ষের অধিকাংশ অঞ্চল অনায়াসে দখল করতে পারলেও বাংলায় এসে তারা চরম প্রতিরোধের মুখে পতিত হয়। বাংলার বারোভূঁইয়ারা ঈশা খাঁর নেতৃত্বে মোগলদের আগ্রাসন থেকে বাংলাকে রক্ষা করে। ঈশা খাঁ ছিলেন সংগ্রামী ও অদম্য দেশপ্রেমীর মূর্ত প্রতীক।

. 'বিচলিত স্নেহ' অর্থ কী?
খ. ভালোবাসা দিলে মা মরে যায় – বুঝিয়ে লেখো ।
. উদ্দীপকটিতে ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকটি 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার আংশিক ভাবকে ধারণ করেছে।" - মন্তব্যটির যথার্থতা যাচাই করো ।

১০ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. বিচলিত স্নেহ' অর্থ আপনজনের উৎকণ্ঠা।

খ. সৃজনশীল প্রশ্নের ১(খ) নম্বর উত্তর দ্রষ্টব্য।

গ. উদ্দীপকটিতে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার বাঙালির সংগ্রামী ইতিহাস-ঐতিহ্যের দিকটি ফুটে উঠেছে। আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বাঙালির ইতিহাস ও সংগ্রামী ঐতিহ্যের কথা উঠে এসেছে। কবি পূর্বপুরুষদের কথা বলে বাঙালির সাহসী ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে তুলে ধরেছেন। যে পূর্বপুরুষেরা দাসত্বের শৃঙ্খল ছিন্ন করে স্বাধীন সত্তার জন্য সংগ্রামে অবতীর্ণ ছিল। উদ্দীপকেও বাঙালির ঐতিহ্যগত সংগ্রামের ধারা উপস্থাপিত হয়েছে।

পরাক্রমশালী মোগলরা ভারতবর্ষের অধিকাংশ অঞ্চল সহজেই দখল করলেও বাংলায় এসে চরম প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়। বাংলার বারোভূঁইয়ারা ঈশা খাঁর নেতৃত্বে বাঙালি মোগলদের আগ্রাসন থেকে বাংলাকে রক্ষা করে। ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি উদ্দীপকের এই আন্দোলন-সংগ্রামের চেতনাকে বাঙালির ঐতিহ্য হিসেবে তুলে এনেছেন।

কবির মতে আন্দোলনের এই তেজি পুরুষেরা আমাদের সাহসী পূর্বপুরুষ; তাঁরাই কিংবদন্তি, যাঁরা দেশকে শত্রুমুক্ত করতে প্রাণ দিতেও পিছপা হননি । এদিক বিবেচনায় উদ্দীপকটিতে আলোচ্য কবিতার সংগ্রামী ঐতিহ্যের কথাই ফুটে উঠেছে।

উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকে ঈশা খাঁর সংগ্রাম ঐতিহ্যের কথা বলা হয়েছে যা আলোচ্য কবিতার সংগ্রামী ইতিহাস-ঐতিহ্য ফুটিয়ে তোলে ।

ঘ.  উদ্দীপকটি ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার সংগ্রামী চেতনা ব্যতীত অন্যান্য দিক ধারণ না করায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ বলা যায় । আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার মূলভাবে বাঙালির সুদীর্ঘকালের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিশদভাবে স্থান পেয়েছে। সচেতনভাবেই কবি শ্রেণি-পেশার মানুষের ধারাবাহিক অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে তাদেরকে আমাদের পূর্বপুরুষ বলে অভিহিত করেছেন। আমাদের এই পূর্বপুরুষেরা যে সাহসী ও সংগ্রামী ছিল আলোচ্য কবিতায় সে বিষয়টি কবি বিশেষ তাৎপর্যের সঙ্গে তুলে ধরেছেন। উদ্দীপকে বাঙালির সংগ্রামী চেতনার দিকটি উপস্থাপিত হয়েছে। শক্তিশালী মোগলরা বাংলাকে আক্রমণ করতে এলে বাঙালিরা রুখে দাঁড়ায়। বারোভূঁইয়ারা ঈশা খাঁর নেতৃত্বে বাংলাকে রক্ষা করে মোগলদের হাত থেকে।

ঈশা খাঁ প্রতিরোধী কর্মকাণ্ড বাঙালির সংগ্রাম চেতনারই পরিচায়ক। 'আমি কিংবদন্তির কথা রলছি' কবিতাটিতে কবি সচেতনতার সাথে বাঙালির সংগ্রামী ঐতিহ্যকে স্মরণ করেছেন। তিনি পূর্বপুরুষদের অবদানকে বিশেষভাবে সামনে নিয়ে এসেছেন। তবে ঐতিহ্যসচেতনতার পাশাপাশি বাংলার অপরূপ প্রকৃতির বন্দনা করতে তিনি ভুলে যাননি । মূলত কবিতার মধ্য দিয়ে তিনি বাঙালির হাজার বছরের পুরোনো সংস্কৃতিকে পরিচিত করতে চেয়েছেন। সে সংস্কৃতির গভীরে মিশে আছে কাব্য-কবিতা।

কবিতায় এ জাতির রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। কবি তাই যারা কবিতা পড়তে ও শুনতে জানে না তাদেরকে ধিক্কার জানিয়েছেন। কবির মতে, বাঙালি জাতি ঐতিহ্যগতভাবেই সাহসী। তারা কখনো কারো ক্রীতদাস হয়ে থাকেনি। পূর্বপুরুষেরা যতবারই আক্রান্ত হয়েছেন ততবারই তারা সংগ্রামী চেতনায় পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙেছেন। উদ্দীপকে আলোচ্য কবিতার সংগ্রামী চেতনার এ বিশেষ ভাবটিই কেবল প্রকাশ পেয়েছে। সে বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

উত্তরের সারবস্তু: 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় ঐতিহ্য, সংগ্রাম, কাব্য-কবিতা প্রভৃতি বিষয় এলেও উদ্দীপকে কেবল সংগ্রামী চেতনার দিকটি প্রকাশ পাওয়ায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর > ১১

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় 'কবিতা' বড়ো ভূমিকা পালন করেছিল। 'কবিতা' বাঙালিকে দিয়েছে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের ভাষা। বিশেষ করে প্রতিবাদী ও সংগ্রামী চেতনা সঞ্চারের মধ্য দিয়ে 'কবিতা' বাঙালিকে যুদ্ধে উৎসাহ জুগিয়েছিল।

ক. তাঁর পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল কেন?
খ. উচ্চারিত সত্যের মতো স্বপ্নের কথা বলা হয়েছে কেন? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার কোন বিষয়টির আলোকপাত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো ।
ঘ. “'কবিতা' বাঙালিকে দিয়েছে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের ভাষা।" উদ্দীপক ও 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি'— কবিতার আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো ।

১১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. তাঁর পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল কারণ তিনি ক্রীতদাস ছিলেন।

খ. আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় মুক্তির স্বাদ নিয়ে, জীবনের সত্যকে উপলব্ধি করাতেই কবি উচ্চারিত সত্যের মতো স্বপ্নের কথাটি বলেছেন। ঐতিহ্যসচেতন কবি মানুষের সর্বাঙ্গীণ মুক্তি প্রত্যাশা করেছেন। স্বপ্নময় জীবনে যে সত্যের দিকটি বিদ্যমান, তা কবি তাঁর সত্য বচনে উপস্থাপন করে থাকেন। মানুষ তার স্বপ্নের মতো বড়ো তখনই হবে, যখন সে কবিতায় উচ্চারিত 'সত্যের বলয়ে জীবনকে গড়ে তুলবে। এ কারণেই কবি তাঁর কবিতায় উচ্চারিত সত্যের মতো স্বপ্নের কথা বলেছেন ।

উত্তরের সারবস্তু: 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় মুক্তির স্বাদ নিয়ে, জীবনের সত্যকে উপলব্ধি করাতেই কবি উচ্চারিত সত্যের মতো স্বপ্নের কথাটি বলেছেন।

গ. 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় প্রতিটি মুক্ত শব্দ ও সংগীতকে ‘কবিতা' বলা হয়েছে, যা চেতনাগত দিক থেকে উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ । 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় 'কবিতা' শব্দটি মুক্তির প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। ‘কবিতা' আর মুক্তির আবেগকে এখানে একত্রে শিল্পরূপ দেওয়া হয়েছে । কবিতা ও সত্যের অভেদ কল্পনার মধ্য দিয়ে মায়ের কথা, বোনের কথা, ভাইয়ের কথা, পরিবারের কথা বলা হয়েছে।

যুদ্ধের কারণে যে পরিবার থেকে দূরে সরে যেতে হয় এবং কবির বর্ণিত কবিতাই ব্যক্তিকে পরিবার থেকে আলাদা হয়ে যুদ্ধ করার সাহস জোগায়। উদ্দীপকে স্বাধীনতাযুদ্ধে কবিতার অবদানের কথা পাওয়া যায়। যুদ্ধের সময় এদেশের দেশপ্রেমিক কবি-সাহিত্যিকরা তাঁদের কলমের ভাষায় যুদ্ধ করেছিলেন।

কবিতা, গান ইত্যাদির মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষ যুদ্ধ করার অনুপ্রেরণা পেয়েছিল। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায়ও যুদ্ধ ও অভ্যুত্থানের অনুপ্রেরণা হিসেবে কবিতার কথা পাওয়া যায়। কবির মতে, রক্তজবার মতো প্রতিরোধের উচ্চারণ মানেই কবিতা, যা চেতনাগত দিক থেকে উদ্দীপকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

উত্তরের সারবস্তু: 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় প্রতিটি মুক্ত শব্দ ও সংগীতকে 'কবিতা' বলা হয়েছে, যা চেতনাগত দিক থেকে উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ. কবিতা বাঙালিকে দিয়েছে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের ভাষা।'- উক্তিটি যথার্থ। আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি বাঙালির জাতীয়তাবোধ জাগ্রত করতে বারবার 'কবিতা' শব্দটি ব্যবহার করেছেন। শত প্রতিকূলতার মধ্যে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে 'কবিতা' এখানে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করেছে। 'কবিতা' শব্দটিই এখানে বাঙালির সাহসের উৎস ও মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।উদ্দীপকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে কবিতার সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুক্তিযোদ্ধাদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য দেশের আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি একান্ত মুক্তির প্রতীক হিসেবে 'কবিতা' শব্দটি ব্যবহার করেছেন। কবিতা আর মুক্তির আবেগকে একীভূত করেছেন।

কেননা কবির মতে, কবিতার প্রতি যার ভালোবাসা আছে, সেই-ই পারে সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সুন্দরের অভ্যুত্থান ঘটাতে। অন্যদিকে উদ্দীপকে বলা হয়েছে, সশস্ত্র অভ্যুত্থানের সময় মানুষ কবিতা-গানে অনুপ্রাণিত হয়। বিশেষত প্রতিবাদী ও সংগ্রামী চেতনা স্যারে কবিতা ভূমিকা রাখতে সক্ষম । তাই বলা যায়, উদ্দীপক ও 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার আলোকে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ। কবিরা লিখেছেন অনবদ্য সব কবিতা, যার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধারা সাহস ও শক্তি খুঁজে পেয়েছেন ।

উত্তরের সারবস্তু: 'কবিতা বাঙালিকে দিয়েছে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের ভাষা'— উক্তিটি যথার্থ।

সৃজনশীল প্রশ্ন> ১২

সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক আমরা বাঙালি জাতি। মাস্টার দা সূর্যসেন, ক্ষুদিরাম, প্রফুল্ল চাকী, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার প্রমুখ সূর্যসন্তানদের আত্মত্যাগ আমাদের অমিত প্রেরণার উৎসভূমি। তাই তো আজও কোনো সংকটের মুহূর্তে বাঙালির কানে বাজে মহাপুরুষের অমর বাণী ওঠো, জাগো, লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত থেমো না ।'

ক. কবির পূর্বপুরুষ কেমন জমি আবাদের কথা বলতেন?
. সূর্যকে হূৎপিণ্ডে ধরে রাখা বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
. 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার সঙ্গে উদ্দীপকের সাদৃশ্যমূলক দিকটি আলোচনা করো।
ঘ. ‘উদ্দীপক ও পাঠ্য কবিতাটি বাঙালির গৌরবকেই নির্দেশ করে। - মন্তব্যটি স্বীকার করো কি? তোমার মতের পক্ষে যুক্তি দাও ।

১২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. কবির পূর্বপুরুষ পতিত জমি আবাদের কথা বলতেন ।

খ. সূর্যকে হৃৎপিণ্ডে ধরে রাখা' বলতে কবি হৃদয়ে কবিতা ধারণকে বুঝিয়েছেন। সূর্য সকল শক্তির উৎস। তাই এই সর্বশক্তির আধারকে হৃদয়ে ধারণ করতে পারলে মুক্তি অনিবার্য। কবির মতে, এই সামর্থ্য অর্জনের একমাত্র উপায় হলো কবিতা শোনা, কবিতাকে আত্মস্থ করা। কেননা, কবির কাছে শুধু কবিতাই সত্য, আর সত্যই শক্তি। প্রশ্নোক্ত কথাটির মধ্য দিয়ে এ বিষয়টিই বোঝানো হয়েছে।

উত্তরের সারবস্তু: ‘সূর্যকে হূৎপিণ্ডে ধরে রাখা' বলতে কবি হৃদয়ে কবিতা ধারণকে বুঝিয়েছেন ।

. পর্বপুরুষের আত্মত্যাগের ইতিহাস হতে ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলার অনুপ্রেরণা খুঁজে পাওয়ার দিক থেকে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার সঙ্গে উদ্দীপকটি সাদৃশ্যপূর্ণ। আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি তাঁর গৌরবোজ্জ্বল অতীত ইতিহাসের বর্ণনা দিয়েছেন। সমৃদ্ধ ইতিহাসের স্মৃতিচারণ করে তিনি কৃষকের জমির প্রতিটি শস্যদানাকেও কবিতার মর্যাদায় আসীন করেছেন। কবি রূপক অর্থে নিজের ইতিহাস জানতে পারাকে কবিতা শোনার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

যে কবিতা জানে, সে যুদ্ধে সন্তানের জন্য জীবন দিতে পারে, যে কবিতা শুনতে জানে সে ভালোবেসে যুদ্ধে যেতে পারে, পারে হৃৎপিণ্ডে সূর্যকে ধারণ করতে।উদ্দীপকে আমাদের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রসঙ্গে কথা বলা হয়েছে। বিপ্লবী বাঙালির ইতিহাসে মাস্টার দা সূর্যসেন, প্রফুল্ল চাকী, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের মতো বিপ্লবীদের কর্মকাণ্ড সোনার অক্ষরে লেখা রয়েছে।

তাঁদের ইতিহাস আমাদের প্রেরণা দেয়। কোনো সংকটজনক নময়ে লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত না থামার মন্ত্রণা দেয়। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতাতেও ইতিহাসের থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে মামরা নতুন করে সংগ্রামের মনোবল পাই।.

ত্তরের সারবস্তু: পূর্বপুরুষের আত্মত্যাগের ইতিহাস হতে ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলার অনুপ্রেরণা খুঁজে পাওয়ার দিক থেকে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার সঙ্গে উদ্দীপকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।

. আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতা ও উদ্দীপক উভয়ক্ষেত্রেই বাঙালির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা বলা হয়েছে, তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি আমি স্বীকার করি। আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় পূর্বপুরুষদের কথা বলা হয়েছে, যারা রক্তজবার মতো ক্ষত পিঠে নিয়েও অরণ্য ও শ্বাপদের মোকাবিলা করতেন। মুক্তির পূর্বশর্ত যুদ্ধ হওয়ায় কবির পূর্বপুরুষরা বারবার যুদ্ধ করে টিকে থেকেছে। যুদ্ধে আপনজনের থেকে দূরে চলে গিয়ে দেশকে মুক্ত করার গৌরবগাথা রচিত হয়েছে এই কবিতায় ।

উদ্দীপকে সেইসব মানুষের ইতিহাস নিয়ে কথা বলা হয়েছে, যাদের নিয়ে আমরা গর্ববোধ করতে পারি। তাদের আত্মত্যাগের মধ্যেই আমরা পাই সামনে চলার শক্তি। সূর্যসেন, প্রীতিলতা, প্রফুল্ল চাকীর মতো বিপ্লবীদের জন্যই আমাদের রয়েছে এক সংগ্রামী গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস । ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতাটি বাঙালির দুঃখ, সংগ্রাম ও ঐতিহ্যের স্মৃতি বহন করে। নির্যাতনের শিকার হয়ে বাঙালি বরাবরই . বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে।

নিজের পরিবার ও ব্যক্তিস্বার্থের বাইরে বের হয়ে দেশমাতাকে ও দেশের স্বার্থকে বড়ো করে দেখেছে। বোনের মৃত্যু, ভাইয়ের আত্মত্যাগ সবকিছুর মধ্যে মাথা নত না করার স্পর্ধা লুকিয়ে আছে, যা আমাদের গর্ববোধ করায়। উদ্দীপকেও ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আত্মত্যাগী মানসিকতার কারণে বাঙালি যে গৌরব অর্জন করেছে তারই রূপ প্রকাশিত হয়েছে।

উত্তরের সারবস্তু: 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতা ও উদ্দীপক উভয়ক্ষেত্রেই বাঙালির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা বলা হয়েছে, তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি আমি স্বীকার করি।

সৃজনশীল প্রশ্নে>১৩

তার চোখ বাঁধা হলো
বুটের প্রথম লাখি রক্তাক্ত করলো তার মুখ,

              এ্যাতলানো ঠোঁটজোড়া লাল রক্তে একাকার হলো.

                জিভ নাড়তেই দুটো ভাঙা দাঁত ঝরে পড়লো কংক্রিটে,
সে এখন মৃত,
তার শরীর ঘিরে থোকা থোকা কৃষ্ণচূড়ার মত
ছড়িয়ে রয়েছে তাজা রক্ত।

ক. 'কিংবদন্তি' শব্দের অর্থ কী?
খ. কর্ষিত জমির প্রতিটি শস্যদানা কবিতা' বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
গ. উদ্দীপকে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার কোন দিকটি উঠে এসেছে? ব্যাখ্যা করো।
. উদ্দীপকের কবিতায় কবি যেমন আমাদের ইতিহাসকে রক্তাক্ত ইতিহাস হিসেবে দেখিয়েছেন, তেমনি 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতাও আমাদের প্রাচীন রক্তাক্ত ইতিহাস।"- মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

১৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. কিংবদন্তি' শব্দের অর্থ— জনশ্রুতি।

. প্রশ্নোত্ত চরণটি দ্বারা কবি ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে কৃষকদের শ্রমনিষ্ঠা ও সৃজনশীলতাকে বুঝিয়েছেন। কৃষকরা। কঠোর পরিশ্রম করে চাষাবাদ করে। তারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে নতুন শস্যদানা উৎপাদন করে। তেমনিভাবে একটি কবিতা সৃষ্টির নেপথ্যেও রয়েছে কবির শ্রমনিষ্ঠা এবং সৃজনশীলতা। এজন্য কৰি শস্যদানাকে কবিতার সাথে তুলনা করেছেন। প্রশ্নোক্ত চরণটিতে বিষয়টিইপ্রতিফলিত হয়েছে।

উত্তরের সারবস্তু: প্রশ্নোক্ত চরণটি দ্বারা কবি ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে কৃষকদের শ্রমনিষ্ঠা ও সৃজনশীলতাকে বুঝিয়েছেন।

গ. উদ্দীপকে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বর্ণিত কবির পূর্বপুরুষদের উপর অত্যাচারের দিকটি উঠে এসেছে। প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ বাংলার প্রতি যুগে যুগে বিভিন্ন ঔপনিবেশিক শক্তি আকৃষ্ট হয়েছে, তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এ দেশের মনুষের উপর নির্মম অত্যাচার চালিয়েছিল। এরই চিত্রকল্প ফুটে উঠেছে উদ্দীপক এবং আলোচ্য কবিতায় । উদ্দীপকের কবিতাংশে বাঙালির উপর বিদেশি শক্তির নির্মম অত্যাচারের প্রসঙ্গ উপস্থাপিত হয়েছে। যুগে যুগে বিদেশি অপশক্তি এ দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষের উপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে।

তারা বুটের আঘাতে রক্তাক্ত করেছে সাধারণ মানুষকে। তাদের ঘৃণ্য আঘাতে দাঁত ভেঙে পড়েছে কংক্রিটের উপর। অত্যাচারের যাতনা সহ্য করতে না পেরে অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে সেসব মানুষ। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায়ও কবি তাঁর পূর্বপুরুষদের উপর হওয়া অমানুষিক নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন। পরাধীনতার কারণে তাদেরকে নানাভাবে নির্যাতিত হতে হয়েছে। শুধু তাই নয়, তারা কবির পূর্বপুরুষদের সাথে ক্রীতদাসের মতো আচরণ করত।

অর্থাৎ আলোচ্য কবিতা এবং উদ্দীপকে অপশক্তির দ্বারা এ দেশের মানুষের অত্যাচারিত হওয়ার প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। উদ্দীপকের কবিতাংশে আলোচ্য কবিতার এ দিকটিই উঠে এসেছে। উত্তরের সারবস্তু: প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ বাংলার প্রতি যুগে যুগে বিভিন্ন ঔপনিবেশিক শক্তি আকৃষ্ট হয়েছে। তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এ দেশের মানুষের উপর নির্মম অত্যাচার চালিয়েছিল। এরই চিত্রকল্প ফুটে উঠেছে উদ্দীপক এবং আলোচ্য কবিতায়।

ঘ. উদ্দীপক এবং আলোচ্য কবিতায় আমাদের সুদীর্ঘ সময়ের পরাধীন জীবন এবং রক্তাক্ত ইতিহাসকে তুলে ধরা হয়েছে। আলোচ্য কবিতায় কবি তাঁর পূর্বপুরুষদের উপর শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচার বোঝাতে পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষতের কথা উল্লেখ করেছেন। পূর্বপুরুষদের ক্রীতদাস হয়ে থাকার নেপথ্যে তিনি পরাধীনতাকে দায়ী করেছেন। কেননা, শাসকগোষ্ঠী তাদের সাথে ক্রীতদাসের মতোই আচরণ করত।

উদ্দীপকের কবিতাংশে বাংলার মানুষের উপর বিদেশি শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচার-নির্যাতনের চিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে। উদ্দীপকের ব্যক্তি অত্যাচারীর আঘাতে রক্তাক্ত হয়েছে। অত্যাচারীর বুটের আঘাতে তার দাঁত ভেঙে পড়েছে কংক্রিটের উপর। অবশেষে নিথর দেহ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতাতেও এমন নির্যাতনের কথা উঠে এসেছে কবির পূর্বপুরুষদের প্রসঙ্গ উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে।

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় দেখা যায়, বিদেশি শাসকগোষ্ঠী এ দেশের মানুষের উপর নির্মম অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে। কবির পূর্বপুরুষদের পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত দেখেই অত্যাচারের তীব্রতা অনুধাবন করা যায়। পরাধীন হওয়ার কারণে তারা এ অন্যায়ের প্রতিবাদও করতে পারেনি। নীরবে মেনে নিয়েছে। উদ্দীপকের ব্যক্তিও অন্যায়-অত্যাচারের শিকার হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে।

এর মধ্য দিয়ে আলোচ্য কবিতায় বিধৃত বাঙালির উপর অশুভ শক্তির অমানবিক নির্যাতনের প্রসকাই উপস্থাপিত হয়েছে। তাই উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতার আলোকে আমরা বলতে পারি, বাংলার ইতিহাস রক্তাক্ত ইতিহাস।

উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকের কবিতাংশে বাংলার মানুষের উপর বিদেশি শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচার-নির্যাতনের চিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে। আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতাতেও এমন নির্যাতনের কথা উঠে এসেছে কবির পূর্বপুরুষদের প্রসঙ্গ উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে।

সৃজনশীল প্রশ্ন >১৪ আসমানের তারা সাক্ষী
সাক্ষী এই জমিনের ফুল, এই
নিশিরাইত বাঁশবাগান বিস্তর জোনাকি সাক্ষী

               সাক্ষী এই জারুল জামরুল, সাক্ষী
পুবের পুকুর, তার ঝাঁকড়া ডুমুরের ডালে স্থির দৃষ্টি
মাছরাঙা আমাকে চেনে
আমি কোনো অভ্যাগত নই
খোদার কসম আমি ভিনদেশি পথিক নই
আমি কোনো আগন্তুক নই ।

ক. 'করতল' শব্দের অর্থ কী?
. সূর্যকে হূৎপিণ্ডে ধরে রাখা'— বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
. উদ্দীপক এবং 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার মধ্যে সাদৃশ্য কোথায়? বর্ণনা করো।
. “উদ্দীপকে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় উল্লিখিত ধারাবাহিক ইতিহাস বর্ণনা অনুপস্থিত।"- মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

১৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

. 'করতল' শব্দের অর্থ— হাতের তালু।

খ. সৃজনশীল প্রশ্নের ১২ (খ) নম্বর উত্তর দ্রষ্টব্য।

গ.  স্বদেশের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক উপস্থাপনের সূত্রে উদ্দীপক এবং 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে স্বদেশের সঙ্গে নিজের অস্তিত্বের সম্পর্ক নিরূপণ করেছেন। গুহাবাসী ও বনবাসী পূর্বপুরুষেরা কালের ধারাবাহিকতায় একদিন এদেশের জমিতেই বসবাস শুরু করেছিল। এদেশের পতিত জমিতে শস্যের ফরমান এনেছিল। কবি সেই পূর্বপুরুষদের উত্তরাধিকার রহন করে চলেছেন।

উদ্দীপকের কবিতাংশটিতে কবি দেশের সঙ্গে আপন সত্তার একাত্মতার অনুভবের দিকটি তুলে ধরেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি কোনো আগন্তুক নন বলে দাবি করেছেন। কেননা তিনি যেমন এই আসমান, জমিনের ফুল, জোনাকি, পুকুর, মাছরাঙাকে চেনেন, তেমনি তারাও তাঁকে চেনে। এসকল গ্রামীণ অনুষঙ্গের সঙ্গে তাঁর জীবন বাঁধা। আর এ সবকিছুই তাঁর অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে আছে।

জন্মভূমির সাথে মানবজীবনের এই সম্পর্কের দিকটি 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায়ও মূর্ত হয়ে উঠেছে। পূর্বপুরুষদের থেকে শুরু করে কবি নিজেও দেশের সাথে নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ। অর্থাৎ উদ্দীপকের কবিতাংশ এবং আলোচ্য কবিতার কবি উভয়েই মাতৃভূমির সঙ্গে তাদের একাত্মতার দিকটি তুলে ধরেছেন। এদিক থেকে তাদের মধ্যে সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।

উত্তরের সারবস্তু: স্বদেশের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক স্থাপনের দিক দিয়ে উদ্দীপকের সাথে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে।

ঘ. উদ্দীপকে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় উল্লেখিত ধারাবাহিক ইতিহাস বর্ণনা অনুপস্থিত।"- এ মন্তব্যটি যথার্থ। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার প্রেক্ষাপটে রয়েছে বাঙালি সংস্কৃতির হাজার বছরের, ইতিহাস, সংগ্রাম, বিজয় ও মানবিক উদ্ভাসনের অনিন্দ্য অনুষঙ্গসমূহ। কবি তাঁর পূর্বপুরুষের সাহসী ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে তাঁর বক্তব্যকে এগিয়ে নিয়ে এসেছেন সমকাল পর্যন্ত। জন্মভূমির সঙ্গে মানুষের আত্মিক সম্পর্ক বিদ্যমান। তাই এর সবকিছুই আমাদের আপন মনে হয়।

বস্তুত, জন্মভূমিতে শিকড় গেড়েই মানুষ সমগ্র দেশকে আপন করে পায়। এই অনুভূতিই প্রকাশ পেয়েছে উদ্দীপকে ও ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায়। কিন্তু পাঠ্য কবিতায় বাঙালির ধারাবাহিক ইতিহাসের যে বর্ণনা পাওয়া যায়, উদ্দীপকে তা অনুপস্থিত। আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় ভূমিজীবী অনাথ ক্রীতদাসের লড়াই করে টিকে থাকার ইতিহাস থেকে শুরু করে বাঙালির ধারাবাহিক সংগ্রামের ইতিহাস বিধৃত হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে কবিতাটিতে ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় 'কবিতা' ও সত্যের অভেদ কল্পনার মধ্য দিয়ে কবি তুলে ধরেছেন স্বাধীনতা যুদ্ধের কথা। কবিতার এই ইতিহাসের ব্যাপ্তি উদ্দীপকে অনুপস্থিত। এদিক বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যৌক্তিক বলে প্রতীয়মান হয় ।

উত্তরের সারবস্তু: 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় ভূমিজীবী অনাথ ক্রীতদাসের লড়াই করে টিকে থাকার ইতিহাস থেকে শুরু করে বাঙালির ধারাবাহিক সংগ্রামের ইতিহাস বিধৃত হয়েছে। কবিতায় বর্ণিত এ ইতিহাসের ব্যাপ্তি উদ্দীপকে নেই ।

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর >১৫ বাঙালি চিরকালই নম্র, নিরীহ ও ভদ্র বলে পরিচিত। এ পরিচয়ের সুযোগে বাংলার মানুষের ওপর বিভিন্ন সময়ে আঘাত হেনেছে ভিন্ন জাতিসত্তার ক্ষমতাধর মানুষগুলো। কিন্তু বাঙালি এই অত্যাচার দীর্ঘদিন সহ্য করেনি। যুগে যুগে হয়েছে নানা আন্দোলন, বিপ্লব-বিদ্রোহ আর মতাদর্শের বিকাস ফলে আজকের স্বাধীন-সার্বভৌম এই বাংলায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছীকাশ

. পূর্বপুরুষের পিঠে কেমন ক্ষত ছিল?.
খ. মায়ের ছেলেরা কীসের টানে ছুটে চলে যায়?

গ. উদ্দীপকটি 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার কোন দিকটি মনে করিয়ে দেয়? বর্ণনা করো।

. উদ্দীপকটি 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার প্রেক্ষাপটকে তুলে ধরে।”- আলোচনা করো।

১৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. পূর্বপুরুষের পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল ।

খ. মায়ের ছেলেরা দেশকে শত্রুমুক্ত করার জন্য ছুটে চলে যায়। বাংলার দামাল ছেলেরা দেশপ্রেমে উজ্জীবিত। আর তাই দেশমাতা শত্রু দ্বারা আক্রান্ত হলে সেই ছেলেরা আর নিশ্চুপ থাকতে পারে না। তারা তখন মায়ের কোলের চেয়েও যুদ্ধকে ভালোবাসে। তাই মায়ের কোল ছেড়ে তারা দেশকে শত্রুমুক্ত করতে যুদ্ধে চলে যায়।

উত্তরের সারবস্তু: মায়ের ছেলেরা দেশকে শত্রুমুক্ত করার জন্য ছুটে চলে যায় ।

গ. উদ্দীপকটি 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার বাঙালির সংগ্রামী ইতিহাস-ঐতিহ্যের দিকটির কথা মনে করিয়ে দেয়।  আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বাঙালি জাতির সংগ্রাম ও বিবর্তনের ইতিহাসের কথা বর্ণিত হয়েছে। সেখানে ঐতিহ্যসচেতন কবি বাঙালির। স্বকীয়তা তুলে ধরে সকলকে উজ্জীবিত করার প্রয়াস চালিয়েছেন। উদ্দীপকের আলোচনাও কবিতার এই দিকটির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। উদ্দীপকে বাঙালি জাতির বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে বাঙালির সংগ্রামী চেতনা তুলে ধরা হয়েছে।

যে বাঙালি নিরীহ, নম্র-ভদ্র বলে পরিচিত ছিল, সেই বাঙালি কত চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ এই পর্যায়ে এসেছে তার হিসাব নেই। বিদেশি শত্রুরা বারবার এদেশে এসে এ জাতিকে শোষণ ও যন্ত্রনার মাধ্যমে ক্ষতবিক্ষত করেছে। কিন্তু বহু আন্দোলন-সংগ্রামের ভেতর দিয়ে এ জাতি অর্জন করেছে স্বাধীন-সার্বভৌম একটি দেশ। উদ্দীপকের এই বক্তব্য মূলত ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি'-কবিতারই প্রতিধ্বনি। কেননা, আলোচ্য কবিতার কবিও বাঙালির সংগ্রামী ইতিহাসের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন।

কাপুরুষরা যে এদেশের মানুষের পিঠে বারবার পেছন থেকে আঘাত করে ক্ষতবিক্ষত করেছে, কবিতাটিতে কবি সে বিষয়টিই তুলে ধরেছেন। সেই সাথে তিনি জাতির সাহসী পূর্বপুরুষদের কথা বলেছেন, যারা দেশকে শত্রুমুক্ত করতে প্রাণ দিতেও পিছপা হয়নি। এদিক বিবেচনায় উদ্দীপকটি আলোচ্য কবিতায় ফুটে ওঠা সংগ্রামী ঐতিহ্যের কথাই মনে করিয়ে দেয়।

উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকটি 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার বাঙালির সংগ্রামী ইতিহাস-ঐতিহ্যের দিকটির কথা মনে করিয়ে দেয়।

ঘ. উদ্দীপকটি 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার বাঙালির সংস্কৃতির হাজার বছরের ইতিহাসের প্রেক্ষাপটকে তুলে ধরে । আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার প্রেক্ষাপটে রয়েছে বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতির ইতিহাস, যে ইতিহাসে সংগ্রাম, বিজয় ও মানবিক উদ্ভাসনের অনিন্দ্য অনুষঙ্গ রয়েছে। উদ্দীপকে বাঙালি জাতির বিদ্রোহ-সংগ্রামের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। ভদ্র-শান্ত, নিরীহ বাঙালিকে অসহায় ভেবে যুগে যুগে দেশি- বিদেশি ষড়যন্ত্রকারী ও দখলদারেরা কুরে কুরে খেয়েছে।

শাসন, শোষণ ও নির্যাতন করে এ জাতির উন্নতিকে বাধাগ্রস্ত করতে চেয়েছে। কিন্তু বাঙালি জাতি অত্যাচার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে সর্বদাই সোচ্চার ছিল। তারা আন্দোলন-সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত রেখে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছে। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার প্রেক্ষাপট এই ইতিহাস-ঐতিহ্য বর্ণনায় অত্যুজ্জ্বল। আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি আমাদের পূর্বপুরুষ তথা বাঙালি জাতির সূর্যসন্তানদের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন।

কবি সংগ্রামী সেই ইতিহাস রোমন্থনের মাধ্যমে জাতীয় ঐতিহ্যকে তুলে ধরেছেন। অতীতে বাঙালি ছেলেরা জাতির ক্রান্তিকালে নির্ভীকচিত্তে সংগ্রামী ভূমিকা রেখেছে। শত্রুর বিষদাঁত ভেঙে জাতির গৌরব ও ঐতিহ্যকে সমুন্নত করেছে। কত রাজা, কত শাসক এ জনপদে শাসন করে গেছে তার ইয়ত্তা নেই। এরা বাংলার সম্পদকে কুক্ষিগত করে নিরীহ বাঙালিকে নিঃস্ব করেছে। তবে বাঙালি জাতি কারো কাছেই বশ্যতা স্বীকার করেনি।

মায়ের কোল ছেড়ে স্বদেশের টানে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। এভাবে কবিতাটিতে কবি মাটির কাছাকাছি মানুষের ইতিহাস বলেছেন, যারা সত্যিকার অর্থেই দেশপ্রেমে উজ্জীবিত ছিল। আলোচ্য কবিতার ইতিহাস-ঐতিহ্যের এ প্রেক্ষাপট উদ্দীপকটিতেও রয়েছে। সে বিবেচনায়
প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।

উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকটি 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার বাঙালি সংস্কৃতির হাজার বছরের ইতিহাসের প্রেক্ষাপটকে তুলে ধরে।

প্রশ্ন> ১৬ আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি থেকে আমরা ক্রমাগত দূরে সরে গেছি। যে তরুণের জন্ম হয়েছে আশির শুরুতে, তার মানস গঠনের কালটিতে এসব দূরত্ব অনেক ফাঁক রেখে দিয়েছে, যা দিয়ে কিছু আরোপিত ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং মতবাদ ঢুকে পড়েছে। আমাদের সমাজে উগ্রতা, অসহিষ্ণুতা এবং স্বার্থপরতার যেসব চর্চা দেখি, এর মূলে আছে এসবের অবদান। এগুলো পরিষ্কার করাটা খুবই কঠিন। তার জন্য প্রয়োজন জীবনঘনিষ্ঠ শিক্ষা, সংস্কৃতির চর্চা এবং রাষ্ট্রীয় থেকে ব্যক্তিজীবনে শুদ্ধাচার ও সহনশীলতার চর্চা।

ক. কার পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল?
খ. 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার আলোকে বাঙালির বেদনাসমূহ উল্লেখ করো ।
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার বৈসাদৃশ্য আলোচনা করো।
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় ফুটে ওঠা ঐতিহ্যসচেতনতার দিকটি কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে? বিশ্লেষণ করো।

১৬ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. কবির পূর্বপুরুষের পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল।

খ. আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বাঙালির সংগ্রামের বেদনাবহুল চিত্র বর্ণিত হয়েছে। আলোচ্য কবিতায় কবি আমাদের পূর্বপুরুষের সম্পর্কে বলেছেন, পরাধীনতার কারণে তাদের ওপর বারবার অমানুষিক অত্যাচার নেমে এসেছে । বিদেশি শত্রুরা তাদের সাথে ক্রীতদাসের মতো আচরণ করত। বাঙালি জাতির ওপর পরিচালিত অত্যাচারের বেদনা ফুটে উঠেছে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায়।

উত্তরের সারবস্তু: 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বাঙালির সংগ্রামের বেদনাবহুল চিত্র বর্ণিত হয়েছে।

গ. ইতিহাস ও ঐতিহ্যসচেতনতার দিক থেকে উদ্দীপকের সাথে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার বৈসাদৃশ্য রয়েছে। আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতাটি বাঙালি সংস্কৃতির হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নিরিখে রচিত। এ কবিতায় ঐতিহ্যসচেতন কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ তাঁর পিতৃপুরুষদের পরিচয় জ্ঞাপন করতে গিয়ে এদেশের সংগ্রামমুখর সাধারণ জনজীবনের চিত্র তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি কবিতাটিতে তিনি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভের পশ্চাতে থাকা সংগ্রাম, বিজয় ও মানবিক উদ্ভাসনের অনিন্দ্য অনুষঙ্গসমূহকে অসাধারণভাবে তাৎপর্যমণ্ডিত করে তুলেছেন।

উদ্দীপকের বর্ণনায় বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি বর্তমান প্রজন্মের ঔদাসীন্যের কথা উল্লেখ করে আক্ষেপ করা হয়েছে। কেননা, একটি স্বতন্ত্র জাতিসত্তা হিসেবে বাঙালির রয়েছে সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতি। কিন্তু বর্তমান প্রজন্ম এ বিষয়ে মোটেই সচেতন নয়, বরং বিজাতীয় সংস্কৃতির প্রতিই তারা বেশি আকৃষ্ট। উদ্দীপকে উল্লিখিত এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

পক্ষান্তরে, 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতাটির প্রেক্ষাপটে রয়েছে বাঙালি সংস্কৃতির হাজার বছরের ইতিহাস এবং সাংস্কৃতিক পটভূমি। এর মধ্য দিয়ে কবির ঐতিহ্যসচেতন ব্যক্তিসত্তার পরিচয় মেলে, যা উদ্দীপকে উল্লিখিত তরুণদের মানসিকতার বিপরীত। এদিক থেকে উদ্দীপকের সাথে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার বৈসাদৃশ্য রয়েছে।

উত্তরের সারবস্তু: 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবির ইতিহাস ও ঐতিহ্যসচেতন মানসিকতার পরিচয় মিললেও উদ্দীপকের তরুণরা বিকৃত সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট। এদিক থেকে আলোচ্য কবিতাটির সাথে উদ্দীপকের বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।

ঘ. আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় ফুটে ওঠা ঐতিহ্যসচেতনতার দিকটি উদ্দীপকের তরুণদের মাঝে দেশাত্মবোধের জাগরণ ঘটিয়ে দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি তাদের শ্রদ্ধাশীল করতে পারে। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় আত্মপরিচয়ের সূত্র ধরে কবি বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস ও সংস্কৃতির অনুষঙ্গকে উপস্থাপন করেছেন। এ কবিতায় পূর্বপুরুষের সাহসী ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস বর্ণনার মধ্য দিয়ে কবি তাঁর বক্তব্যকে এগিয়ে নিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে দেশীয় সংস্কৃতিগত ঐতিহ্যের প্রতি কবির গভীর মমত্ববোধের পরিচয় মেলে।
উদ্দীপকে বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে আশির দশকের শুরুতে যাদের জন্ম, তাদের মধ্যে অপসংস্কৃতির প্রতি একধরনের মোহ লক্ষ করা যায়।

জীবনাচরণের অনেক ক্ষেত্রেই তারা বিকৃত সংস্কৃতিকে অনুশীলন করে। তাদের এমন মনোভাব বিশুদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। শুধু তা-ই নয়, আমাদের সমাজে প্রতিনিয়ত যে অসহিষ্ণুতা ও উগ্রতা দেখা যায়, এর কারণ হিসেবেও উদ্দীপকটিতে লেখক এ বিষয়টিকেই দায়ী করেছেন। আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় দেশাত্মবোধ দ্বারা উজ্জীবিত হয়ে কবি বাংলার ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যের নানা অনুষঙ্গের কথা তুলে ধরেছেন। এক্ষেত্রে কবি বাঙালি হিসেবে তাঁর আত্মপরিচয়ের সূত্র ধরেই এ সকল বিষয়ের অবতারণা করেছেন।

এর মর্মমূলে রয়েছে শুদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে কবির একাত্মতাবোধ। সংগত কারণেই কবির এই মনোভাব আমাদের সমাজ এবং জাতীয় জীবনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। অর্থাৎ আলোচ্য কবিতাটিতে ফুটে ওঠা কবির ঐতিহ্যসচেতনতার দিকটি উদ্দীপকের তরুণদের এ দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ে সচেতন করে তুলতে পারে এবং তাদের দেশাত্মবোধে উজ্জীবিত করতে পারে।

উত্তরের সারবস্তু: দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি মমত্ববোধ থেকেই কবি 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতাটি রচনা করেছেন। আলোচ্য চবিতায় প্রকাশিত কবির এই দেশপ্রেম এবং ঐতিহ্যসচেতনতার দিকটি অবশ্যই উদ্দীপকের তরুণদের দেশাত্মবোধে উজ্জীবিত করবে।

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর>১৭ মিজান স্যার ক্লাসে সেদিন বাঙালি জাতির অতীত ঐতিহ্য নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, বাঙালি জাতি সংগ্রামী চেতনা ধারণ করে অত্যাচারীদের মোকাবিলা করে আসছে। শত অত্যাচার সহ্য করলেও তারা পরাধীনতাকে মুখ বুঝে মেনে নেয়নি। বাঙালির ইতিহাস লড়াই করে টিকে থাকার ইতিহাস। যার বড়ো  । প্রমাণ পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ।

ক. পূর্বপুরুষদের পিঠে কীসের মতো ক্ষত ছিল?

খ. 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বেদনাসমূহ উল্লেখ করো ।

গ. উদ্দীপকটি 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার কোন বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকটি কবিতার সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করেছে।'- মন্তব্যটি যাচাই করো ।

১৭ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. পূর্বপুরুষের পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল।

খ. সৃজনশীল প্রশ্নের ১৬(খ) নম্বর উত্তর দ্রষ্টব্য।

গ. আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় প্রকাশিত রাজনৈতিক ইতিহাসের পরিচয় দাও।

ঘ. আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার বিষয়বস্তু আলোচনা করো

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর> ১৮. বিশ্বস্তুর বাবু মনে করতেন তার পূর্বপুরুষেরা মননশীলতা, সৃজনশীলতা ও অধ্যবসায়ের যে স্বাধীনচেতা মানসিকতা প্রকাশে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন, তা আজ ইতিহাস। তারা ঔপনিবেশিক শাসন আমলে ক্রীতদাসে পরিণত হয়ে নানা নিপীড়ন সহ্য করলেও স্বাধীনতার বাক্য উচ্চারণ করতে দ্বিধা করেননি। তিনিও তাই তাদের মনোভাব আঁকড়ে ধরে সামনের দিকে এগোতে চান, সত্য প্রকাশ করতে চান ।

ক. 'কিংবদন্তি' শব্দের অর্থ কী?
খ. 'সে সূর্যকে হৃৎপিণ্ডে ধরে রাখতে পারে না ।' কেন?

গ. উদ্দীপকে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার কোন দিকটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকে বর্ণিত বিশ্বম্ভর বাবুর পূর্বপুরুষের যে ইতিহাস তা মূলত 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার সারাংশ।”— বিশ্লেষণ করো ।

১৮ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. কিংবদন্তি' শব্দের অর্থ জনশ্রুতি।

খ. সৃজনশীল প্রশ্নের ১২(খ) নম্বর উত্তর দ্রষ্টব্য।

গ. আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় প্রকাশিত ঐতিহ্য সচেতন শিকড় সন্ধানী মানুষের পরিচয় দাও।

ঘ. আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার মূলভাব আলোচনা করো ।

প্রশ্ন> ১৯ মুক্তা তার ছোট্ট শিশুকে তার মুক্তিযোদ্ধা পিতার সাহসিকতা ও সংগ্রামের গল্প শোনায়। পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে তার পিতার সহযোদ্ধারা শহিদ হলেও তিনি যতক্ষণ জীবিত ছিলেন একাই লড়াই করেছেন । তার পিতার জন্য সে গর্ববোধ করে ।

ক. সুপুরুষ ভালোবাসার সুকণ্ঠ সংগীত কী?
খ. কবি পূর্বপুরুষদের ক্রীতদাস বলেছেন কেন?

গ. উদ্দীপকে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি।' কবিতাটির কোন বিষয়টি উঠে এসেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকের মুক্তার পিতা 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতাটির কবির পূর্বপুরুষদের একজন।” – মন্তব্যটির যথার্থতা যাচাই করো ।

১৯ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. সুপুরুষ ভালোবাসার সুকণ্ঠ সংগীত কবিতা ।

খ. কবি তাঁর পূর্বপুরুষদের ক্রীতদাস বলেছেন কারণ তারা পরাধীন ছিলেন। বাংলার ইতিহাস হাজার বছরের বঞ্চনার ইতিহাস, বাংলার ইতিহাস হাজার বছরের পরাধীনতার ইতিহাস। বাংলার মাটিতে যুগে যুগে বিভিন্ন বহিঃশক্তি এসেছে এবং শাসন করেছে। ফলে পূর্বপুরুষেরা নিজেদের মতো করে নিজেদের জমি ভোগ করতে পারেনি, তারা শাসক শ্রেণির আজ্ঞাবহ হয়ে জীবন কাটিয়ে দিয়েছে অর্থাৎ তারা শাসক শ্রেণির ক্রীতদাস হয়েছিল। এজন্যই মূলত কবি তার পূর্বপুরুষদেরকে ক্রীতদাস বলেছেন।

গ. 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার পূর্বপুরুষদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কিত দিকটি আলোচনা করো ।
ঘ. আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার পূর্বপুরুষদের সংগ্রামী চেতনার পরিচয় দাও ।

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর> ২০ ভাষা আন্দোলনে শহিদ দাদার রক্তমাখা শার্টটি আবেগে বুকে চেপে ধরল আসাদ। সে দাদাকে দেখেনি, কিন্তু দাদার ভেতর দেশ ও মাতৃভাষার প্রতি যে ভালোবাসা ও দরদ ছিল সেটা সে উপলব্ধি করার চেষ্টা করেছে। দাদার আত্মদান যেন তাকে সুন্দর দেশ গড়ার পথ দেখায় ।

ক. কবির পূর্বপুরুষদের পিঠে কী ছিল?
খ. ‘কর্ষিত জমির প্রতিটি শস্যদানা কবিতা' 'ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? আলোচনা করো।
ঘ. পূর্বপুরুষদের আত্মদান আমাদের সোনালি স্বপ্নের সোপান'— উদ্দীপক ও 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার আলোকে আলোচনা করো।

২০ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

. কবির পূর্বপুরুষদের পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল

খ. প্রশ্নোক্ত চরণটি দ্বারা কবি ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে কৃষকদের শ্রমনিষ্ঠা ও সৃজনশীলতাকে বুঝিয়েছেন। কৃষকরা কঠোর পরিশ্রম করে চাষাবাদ করে। তারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে নতুন শস্যদানা উৎপাদন করে। তেমনিভাবে একটি কবিতা সৃষ্টির নেপথ্যেও রয়েছে কবির শ্রমনিষ্ঠা এবং সৃজনশীলতা। এজন্য কবি শস্যদানাকে কবিতার সাথে তুলনা করেছেন। প্রশ্নোক্ত চরণটিতে এ বিষয়টিই প্রতিফলিত হয়েছে।

গ. 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার পূর্বপুরুষের সংগ্রামী ঐতিহ্য সম্পর্কিত দিকটি আলোচনা করো ।

ঘ. 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার প্রেক্ষাপট আলোচনা করো ।


শেষকথা হিসেবে বলা যায় কবিতাটির মূল ভাব ভাষা ও অন্তর্নিহিত বার্তা ভালো ভাবে বুঝতে পারলে সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর করা অনেক সহজ হয়ে যায়। আশা করি এই আলোচনাটি শিক্ষার্থীদের আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর বুঝতে এবং পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করবে। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর আরও ভালো ভাবে আয়ত্ত করা সম্ভব।

Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ