ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র ১ম অধ্যায় অনুধাবন প্রশ্নের উত্তর


ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র ১ম অধ্যায় অনুধাবন প্রশ্নের উত্তর

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র ১ম অধ্যায় অনুধাবন প্রশ্নের উত্তর সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ ও পরিষ্কার ব্যাখ্যা সহ প্রস্তুত করা হয়েছে। এই নোটগুলো পড়লে শিক্ষার্থীরা অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ভালোভাবে বুঝতে পারবে এবং পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে পারবে। 



তাই যারা ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র ১ম অধ্যায় অনুধাবন প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তাদের জন্য আজকের এই পোস্ট। এখানে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র ১ম অধ্যায় অনুধাবন প্রশ্নের উত্তর সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে যাতে শিক্ষার্থীরা দ্রুত বুঝতে পারে এবং পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে পারে।

প্রশ্ন-১। আরব নামের উৎপত্তি হয় কীভাবে?

উত্তর : হজরত নূহ (আ)-এর পুত্র সামের নামানুসারে আরব দেশকে সেমিটিক নামে অভিহিত করা হয়। আরবগণ সেমিটিক জাতিরই বংশধর। হেজাজ অঞ্চলের তায়ামা প্রদেশের কাছে 'আরাব' নামে যে একটি স্থান ছিল সেটির নামানুসারে কালক্রমে আরব শব্দের উৎপত্তি হয়। 

আবার অনেকের মতে, দক্ষিণ আরবীয়দের কল্পিত পূর্ব পুরুষ কাহতানের পুত্র ‘ইয়ারাবের' নাম থেকে আরব শব্দের উৎপত্তি হয়েছে। আবার হিব্রু শব্দ ‘আবহার' থেকে আরব শব্দের উৎপত্তি হতে পারে। কারণ আরব ও আবহার দুটি শব্দের অর্থই হলো মরুভূমি।

প্রশ্ন-২। আরবের আবহাওয়া সম্পর্কে ধারণা দাও।

উত্তর : সাধারণত আরব ভূমির আবহাওয়া অত্যন্ত শুষ্ক ও গরম। অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর অভাবে উত্তপ্ত মরু অঞ্চল শুষ্ক, নিষ্করুণ, রৌদ্র দগ্ধ ও গাছপালা শূন্য এবং লু হাওয়া প্রবাহিত এলাকা। ইয়েমেন, ওমান, হাযরামাউত ও হেজাজ প্রভৃতি উপকূলবর্তী অঞ্চল এবং জলবিধৌত উপত্যকায় যৎসামান্য বৃষ্টিপাত হয়। 

নৌ-চলাচলের জন্য উপযোগী কোনো নদ-নদী না থাকায় ব্যবসায়-বাণিজ্যের জন্য উটই প্রধান বাহন। পবিত্র কুরআন শরিফে উটকে আরবদের একটি বিশেষ অবদান বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

প্রশ্ন-৩। আরবদের যাযাবর জীবন কেমন ছিল?

উত্তর : মরুভূমির উত্তপ্ত বালুকারাশি, সাইমুম ঝড়, লু হাওয়া, পাহাড় ও কণ্টকাদির মধ্যে তাদেরকে বসবাস করতে হতো। তাই আরববাসী ছিল রুক্ষ, দুর্ধর্ষ ও বদমেজাজি। আর খাদ্য উৎপাদন তাদেরকে যাযাবর করে তোলে। 
খাদ্যের সন্ধানে তারা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন করত এবং মরুময় দুর্গম পথে নিরাপত্তার জন্য তারা কাফেলাবদ্ধ হয়ে চলত। ফলে তারা গোত্রবদ্ধ হয় এবং এ গোত্রপ্রীতিই আরবদেরকে অন্য গোত্রের সাথে শত্রুভাবাপন্ন করে তোলে।

প্রশ্ন-৪। কুরাইশদের পরিচয় দাও ।

উত্তর : কাহতান বংশের অভ্যুত্থান থেকে আরব জাতির প্রকৃত ইতিহাসের সূত্রপাত হয়। উত্তর আরবের অধিবাসীদেরকে আরব মুস্তারিবাও বলা হয়। 

কুরআনের ভাষায় এ জাতির লোকেরা হজরত ইব্রাহীম (আ)-এর পুত্র ইসমাইল (আ)-এর বংশধর। ইসমাইলীয় সম্প্রদায় তাদের পূর্বপুরুষের নামানুসারে আদনানীয় বা মিশরীয় বা মুদারীয় নামেও পরিচিত। এ বংশের ফিহর-এর নামানুসারে পরবর্তীতে কুরাইশ বংশের উদ্ভব হয়, যা নবির বংশ নামে পরিচিত।

প্রশ্ন-৫। মিশরীয়দের ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে কী জান লেখ।

উত্তর : প্রাচীন জাতিসমূহের মধ্যে মিশরীয়রা ধর্মীয়বোধে উজ্জীবিত হয়ে প্রথম ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রচলন শুরু করে। তারা সূর্য, চাঁদ, বজ্র, বন্যা, বায়ু এবং পশুর মধ্যে বাঘ, সিংহ, সাপ, কুমির, হরিণ, বাজপাখি, বাঁদর এমনকি বিড়ালের পূজা করত। এর মধ্যে সূর্যদেবতা 'রে' ছিলেন প্রধান। 

মিশরীয়রা বিশ্বাস করত যে, মানুষের মধ্যে 'বা' অর্থাৎ আত্মা এবং ‘কা' অর্থাৎ দ্বিতীয় সত্তা আছে। তাদের ধর্ম বিশ্বাস মতে, পরজন্মে ওসিরিসের সামনে উপস্থিত হয়ে কৃতকর্মের হিসাব দিতে হবে।

প্রশ্ন-৬। হিব্রুদের জাতিগত পরিচয় দাও।

উত্তর : মরুভূমিকে ঘিরে সৃষ্ট হিব্রু সম্প্রদায় সেমিটিক জাতিরই একটি শাখা। শুরুতে হিবুরা প্যালেস্টাইন ও সিরিয়ায় প্রতিষ্ঠা লাভ করলেও তাদের আদি পুরুষ ইব্রাহিমের নেতৃত্বে মেসোপটেমিয়ায় বসতি স্থাপন করে। পরে তার পুত্র জ্যাকোবের নেতৃত্বে সংগঠিত হয়। 

জ্যাকোবের অব্যবহিত পরে খ্রিষ্টপূর্ব ১৩৩০-১২৫০ সালে হজরত মুসা (আ) হিব্রুদের পুনরায় সংঘবদ্ধ করেন এবং দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে প্যালেস্টাইনে উন্নত সভ্যতার দ্বারন্মোচন করেন। হিব্রু শাসকদের মধ্যে ডেভিড ও তাঁর পুত্র সলোমান জেরুজালেম অধিকার করে এক বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তদানীন্তন সভ্য জাতিগুলোর মধ্যে হিব্রুগণ একটি বিশিষ্ট স্থান দখল করে আছে।

প্রশ্ন-৭। জ্ঞান-বিজ্ঞানে গ্রিকদের অবদান ব্যাখ্যা কর?

উত্তর : বিজ্ঞান সাধনার ক্ষেত্রে গ্রিক পণ্ডিতদের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। গ্রিক দর্শনের বিকাশের মধ্য দিয়ে যে যুক্তিনির্ভর বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ ঘটেছিল, বিজ্ঞানের উন্নয়নে তার ভূমিকা মুখ্য ছিল। 

প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ, পৃথিবীর জন্ম রহস্য উদ্ঘাটন, সূর্যগ্রহণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে থালেস প্রমুখ বিজ্ঞানীর অবদান রয়েছে। গ্রিক গণিতবিদ পিথাগোরাস জ্যামিতির উন্নয়নে অবদান রাখার পাশাপাশি প্রমাণ করেছেন যে, পৃথিবী বৃত্তাকার। চিকিৎসাবিজ্ঞানী হিপোক্রিটাস শরীরবিদ্যার উপর গবেষণা করে রোগের প্রকৃতি নির্ণয় করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

প্রশ্ন-৮। ইসলাম-পূর্ব আরব দেশে আইনের শাসন কেমন ছিল?

উত্তর : সরকার গঠন বা শাসনপদ্ধতি সম্বন্ধে আরবরা অনভিজ্ঞ ছিল। নীতিবোধ ও সুস্থ জীবনযাত্রা সম্বন্ধে তাদের কোনো ধারণা ছিল না। ফলে দেশে কোনো বিধিবদ্ধ আইন না থাকায় 'জোর যার মুল্লুক তার', বা শক্তিই আইন' “Might is Right" - এ নীতি সর্বত্র প্রচলিত ছিল। 

রক্তের বদলে রক্ত, চক্ষুর বদলে চক্ষু, দাঁতের বদলে দাঁত নীতিতে তারা বিশ্বাসী ছিল। আইন না থাকায় ও তৃতীয় মীমাংসাকারী না থাকায় বনু বকর ও বনু তাঘলিব গোত্রের মধ্যে 'বাসুসের যুদ্ধ' দীর্ঘদিন চলে।

প্রশ্ন-৯। অজ্ঞতার যুগে স্বনামধন্য কবিদের পরিচয় দাও।

উত্তর : ইমরুল কায়েস, তারাফা-বিন আল-আবাদ, হারিস বিন হিল্লিজা, আনতারা-বিন সাদাত এবং আমর বিন কুলসুম প্রাক-ইসলামি যুগের কবিদের মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য ছিলেন। ইমরুল কায়েস ছিলেন কবিদের আমির। তাকে 'আরবের শেক্সপিয়র' বলা হতো। 

সে যুগে লিখন প্রণালীর যথেষ্ট উন্নতি সাধিত হয়নি বলে আরবগণ তাদের রচনার বিষয়বস্তু মুখস্থ করে রাখত। তাদের স্মরণশক্তি ছিল প্রখর এবং তারা মুখে মুখে কবিতা পাঠ করে শোনাত। এ সম্বন্ধে ঐতিহাসিক নিকলসন বলেন, “সে যুগে কবিতা কিছুসংখ্যক সংস্কৃতিমনা লোকের বিলাসিতার বিষয়বস্তু ছিল না, বরং তা ছিল তাদের ভাব প্রকাশের একমাত্র মাধ্যম।”

প্রশ্ন-১০। সভ্যতা বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : সভ্যতা একটি দেশ, জাতি বা অঞ্চলে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর চিন্তা-চেতনা, মানসিকতা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, রীতিনীতি, জীবনবোধ ও দৈনন্দিন জীবনপ্রণালির বহিঃপ্রকাশ।

মানব ইতিহাসের বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন অঞ্চলে যে বিশেষ বিশেষ কৃষ্টির উদ্ভব হয়েছে, তার সমন্বয়ে সভ্যতার সৃষ্টি। মানব ইতিহাসের ক্রমবিকাশ, বিবর্তন, শিল্প ও বিজ্ঞানের উৎকর্ষ, ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্রীয়, অর্থনৈতিক এবং ধর্মীয় ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি সাধনই সভ্যতা । 

ঐতিহাসিক টয়েনবির মতে, “মানব ইতিহাসের বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন অঞ্চলে যে বিশেষ বিশেষ কৃষ্টির উদ্ভব ঘটেছিল, তাকেই সভ্যতা বলে। অর্থাৎ কৃষ্টির সমন্বয়েই সভ্যতার সৃষ্টি।

প্রশ্ন-১১। গিজার বিখ্যাত পিরামিডটি সম্পর্কে ধারণা দাও।

উত্তর : মিশরীয়দের নির্মিত সবচেয়ে বড় পিরামিড হলো গিজার পিরামিড। খ্রিষ্টপূর্ব ২১০০ অব্দে ফারাও খুফু নামে জনৈক রাজা এ পিরামিডটি তৈরি করেন। কায়রোর নিকটবর্তী মরুভূমিতে প্রায় ১৩ একর জায়গা জুড়ে এ পিরামিডটি নির্মিত হয় এবং এ পিরামিড নির্মাণে ২৩ লাখ পাথরের টুকরা ব্যবহৃত হয়। 

এক লাখ শ্রমিকের অক্লান্ত পরিশ্রমে ২০ বছর ধরে এ পিরামিড নির্মাণ হয় যার উচ্চতা ৪৮১ ফুট বা ১৪৭ মিটার। পিরামিডে ব্যবহৃত প্রতিটি পাথরের ওজন ২.৫ টন এবং সম্পূর্ণ পিরামিডটির ওজন ৩৮ লাখ ৮৩ হাজার টন।

প্রশ্ন-১২। বিশ্বসভ্যতায় রোমান সংস্কৃতির প্রভাব ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : গ্রিক সভ্যতা যখন উন্নতির চরম শীর্ষে অবস্থান করছিল, ঠিক সেই সময়ে গ্রিসের দক্ষিণ পশ্চিম কোণে প্রাচীন রোম নগরীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল রোমান সভ্যতা। বিশ্বসভ্যতায় রোমানদের অবদান ছিল অপরিসীম।

শিল্পকলা, পদার্থবিজ্ঞান, গণিতশাস্ত্র, দর্শনশাস্ত্র ও আইনের ক্ষেত্রে তারা তাদের জ্ঞানের মশাল বিশ্বের বুকে জ্বালিয়ে দিয়েছিল। 

তারা যেখানেই গিয়েছে সেখানেই খিলান নির্মাণ, পানি সরবরাহ, এপিক, থিয়েটার ও রাস্তা নির্মাণ করত। বস্তুত, জ্ঞানরাজ্যে রোমানরা এমন একটি সেতু নির্মাণ করেছে, যার মাধ্যমে প্রাচীন জ্ঞান ও শিল্পের সর্বোৎকৃষ্ট চিন্তাধারা ও সূক্ষ্মতা নিদর্শনসমূহ মধ্যযুগে এবং সেখান থেকে আধুনিক যুগে পদার্পণ করে।

প্রশ্ন-১৩। 'কীলকাকার' (কিউনিফর্ম) লিখন পদ্ধতি ব্যাখ্যা কর ।

উত্তর : ব্যাবিলনীয়রা লিখনের ক্ষেত্রে এক উন্নত ধরনের লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন করে, যার নাম "কিউনিফরম'। ব্যাবিলনীয়রা কাদামাটির নরম প্লেটে খাগের কলম দিয়ে একরকম কৌণিক রেখা ফুটিয়ে তুলতো। 

লেখার পরে ব্যাবিলনীয়রা কাদামাটির এ নরম শ্লেটটিকে আগুনে পোড়াত বা রোদে শুকাত ফলে লেখাগুলো স্থায়ী হতো। ব্যাবিলনীয়দের এ লিখন পদ্ধতির লেখাগুলো কীলকের মতো দেখাত বলে এগুলোকে কীলকাকারও বলা হতো। কীলকাকার বা কিউনিফরমের এ লেখাগুলো ছিল প্রায় ৫০০ অক্ষরভিত্তিক বর্ণলিপি ।

প্রশ্ন-১৪ । গোত্রপ্রথা বলতে কী বোঝ?

উত্তর : প্রাচীন আরব সমাজের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল গোত্রপ্রথা, বিশেষ করে বেদুইন সমাজের মূলভিত্তি ছিল গোত্রপ্রথা। প্রত্যেক গোত্রে বংশমর্যাদা, মহানুভবতা, বীরত্ব, বিচারবুদ্ধি, বয়স, পদমর্যাদা ও আর্থসামাজিক অগ্রসরতা বিবেচনা করে একজন শেখ নির্বাচিত হতো। 

সে সময়ে বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে শত্রুতার সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল। সামান্য কারণে গোত্রযুদ্ধ বেঁধে যেত এবং তা কখনো-কখনো যুগ-যুগ ধরে চলত। ঐতিহাসিক গিবনের মতে, “আইয়ামে জাহেলিয়া যুগে ১৭০০ গোত্রীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।" বুয়াসের যুদ্ধ, ফিজারের যুদ্ধ, বাসুসের যুদ্ধ এগুলোর মধ্যে অন্যতম।

প্রশ্ন-১৫। মক্কার মন্ত্রণাসভা 'মালা' সম্বন্ধে ধারণা দাও।

উত্তর : মক্কার বিবদমান কুরাইশ গোত্রগুলোর মধ্যে মৈত্রী রক্ষা করার জন্যই 'মালা' নামে একটি পরামর্শ সভা বা মন্ত্রণাসভা গড়ে উঠে। মক্কার কুরাইশ গোত্রপতিদের সমন্বয়ে এ মন্ত্রণা পরিষদ গঠিত ছিল। এ পরিষদ মক্কার নগররাষ্ট্রের প্রশাসনব্যবস্থাকে তদারকি করলেও এ পরিষদের কোনো কার্যনির্বাহী ক্ষমতা ছিল না। 

তবে বিভিন্ন কাজ পরিচালনার জন্য একটি পরামর্শ কক্ষ ও বিভিন্ন দফতর ছিল। কাবা গৃহের পাশে একটি বৃহৎ কক্ষে বসে মালার নেতৃবৃন্দ মিলে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন।

প্রশ্ন-১৬। আরবের কৃষিব্যবস্থার স্বরূপ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : আরব দেশে বার্লি, জব, কফি, নীল, খেজুর, শাকসবজি ও ফলমূল উৎপন্ন হয়। এগুলো আরবদের প্রধান খাদ্য। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকলেই খেজুর খেয়ে থাকে এবং খেজুরগাছ আরব দেশে Queen of trees বলে অভিহিত। 

খেজুরের রস বেদুইনদের একটি প্রিয় পানীয়। কৃষ্ণবর্ণের দুটি সামগ্রী উট ও খেজুর বেদুইনদের নিকট অতি মূল্যবান ধন-সম্পদ ।

প্রশ্ন-১৭। প্রাগৈতিহাসিক যুগ সম্পর্কে লিখ।

উত্তর : আজ থেকে লাখ লাখ বছর আগে পৃথিবীতে মানুষের আবির্ভাব হয়েছিল। তখন মানুষ বাস করত এক আদিম সমাজে। মানুষের উদ্ভব থেকে সভ্যতা গড়ে উঠার পূর্ব পর্যন্ত দীর্ঘ এ সময়কে প্রাগৈতিহাসিক যুগ বলা হয়। 

প্রাগৈতিহাসিক যুগে লিপির অস্তিত্ব ছিল না; ছিল না যন্ত্র কলাকৌশলের ব্যবহার। সে কারণে ফসিল যা জীবাশ্ম এবং ব্যবহৃত জিনিসপত্রের উপর নির্ভর করে আমরা তাদের সম্পর্কে জানতে পারি

প্রশ্ন-১৮। মিশরীয়দের শাসনব্যবস্থা কেমন ছিল?

উত্তর : পুরোহিতরা শাসনব্যবস্থার শিরোমণি ছিলেন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী রাজা ঈশ্বরের প্রতিনিধিত্ব করতেন। রাজা নিজেকে মনে উত্ত করতেন সূর্যদেবতা 'রে'-এর পুত্র। 

মিশরের রাজাদের উপাধি ছিল সেে ফারাও। রাজার প্রধান কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী হিসাবাধ্যক্ষ, একজন প্রধান স্থপতি, পরিদর্শক ও একজন বিচারপতি।

প্রশ্ন-১৯ । সুমেরীয়দের ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে কী জান লেখ।

উত্তর : সুমেরীয়গণ নানা দেব-দেবীতে বিশ্বাসী ছিল। তারা প্রাকৃতিক শক্তিকে দেবতা জ্ঞানে পূজা করত। তাদের দেব-দেবী ছিল সূর্যদেবতা শামস, চন্দ্রদেবতা নান্নান, বায়ু ও বৃষ্টির দেবতা এনলিল, উর্বরতার দেবী ইশতার, প্লেগ দেবতা নারগল ও পানির দেবতা এনকি উল্লেখযোগ্য ছিল। 

সুমেরীয়দের ধর্মমন্দিরকে 'জিগুরাত' বলা হতো। এরা পরকালে বিশ্বাস করত না এবং দেব-দেবীর উদ্দেশে মানুষ ও পশু বলি দিত।

প্রশ্ন-২০ । রোমান আইনের ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : সভ্যতার ইতিহাসে রোমানদের সবচেয়ে গৌরবজনক অবদান ছিল আইনের ক্ষেত্রে । যুক্তি ও প্রথার সম্মেলনেই রোমান আইনের সৃষ্টি। সেকারণেই এ আইনের বস্তুনিষ্ঠ কার্যকারিতা লক্ষণীয়। 

প্রাথমিক যুগে মৌলিক আইন দ্বারাই রোমানরা তাদের সমস্যা মেটাত। ৪৫০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে ১২টি ব্রোঞ্জ পাতে সংকলিত আইনের দৃষ্টিতে সাম্যের স্বীকৃতি ছিল এবং বেসামরিক আইন, জনগণের আইন ও প্রাকৃতিক আইনের আওতায় সমগ্র রাজ্য শাসিত হতো।

প্রশ্ন-২১। ইসলাম-পূর্ব যুগে আরবে কুসীদ প্রথা কেমন ছিল?

উত্তর : ইসলাম পূর্ব আরবে ইহুদি জনগোষ্ঠীর মাঝে কুসীদ প্রথা বা সুদ প্রথা ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল। এ ব্যবসার নিয়মনীতি ছিল অত্যন্ত নির্দয় ও জটিল। 

ইসলাম-পূর্ব আরব সমাজে সুদ প্রথা বিদ্যমান থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত ছিল। সুদের দায়ে জনসাধারণের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করা হতো। এমনকি স্ত্রী-পুত্র-কন্যাকে দখল করা হতো।

প্রশ্ন-২২। প্রাক-ইসলামি যুগে কাবাগৃহে দেব-দেবী স্থাপন সম্বন্ধে লিখ।

উত্তর : আরবের এক সম্প্রদায় অন্য সম্প্রদায়ের দেবতাকে পূজা করতে অপমান বোধ করত। পবিত্র কাবাগৃহে বিভিন্ন গোত্রের পৌত্তলিক পূজারিগণ ৩৬০টি মূর্তি রেখে আল্লাহ জ্ঞানে পূজা করত। 

তারা আসাফ ও নামিল নামক শাসক মূর্তিদ্বয়কে যথাক্রমে সাফা ও মারওয়া পর্বতে স্থাপন করে সেখানে হজের সময় পশু বলি দিত। তারা হজরত ইব্রাহিম, হজরত ইসমাইল, হজরত ঈসা এবং বিবি মরিয়মের মূর্তি কাবাগৃহে স্থাপন | করেছিল। প্রতিবছর বহু লোক এসব দেব-দেবীর পূজা করতে আসত।

প্রশ্ন-২৩। প্রাচীন আরব উপদ্বীপের ভৌগোলিক অবস্থান বর্ণনা কর।

উত্তর : ভৌগোলিক অবস্থান পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, আরব ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়া মহাদেশের সঙ্গমস্থলে অবস্থিত। | প্রাচীন আরব উপদ্বীপের উত্তরে সিরিয়ার মরুভূমি, দক্ষিণে ভারত | মহাসাগর, পূর্বে পারস্য উপসাগর এবং পশ্চিমে লোহিত সাগর। 

ভূতত্ত্ববিদদের ধারণামতে, আরব দেশ একসময় সাহারা মরুভূমির অংশ ছিল। কালক্রমে এটি নীলনদ ও লোহিত সাগর দ্বারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং সুয়েজ খাল খননের ফলে এটি সম্পূর্ণভাবে আফ্রিকা মহাদেশ থেকে আলাদা হয়ে যায়। অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকা আবিষ্কৃত পূর্বে এটি প্রাচীন বিশ্বের তিনটি মহাদেশ এশিয়া, ইউরোপ ও সংযোগকেন্দ্র হিসেবে পরিগণিত ছিল ।

প্রশ্ন-২৪ । উটকে মরুভূমির জাহাজ বলা হয় কেন?

উত্তর : উট বেদুইনদের নিত্যসহচর ও পথের বন্ধু। শুধু যাতায়াতের প্রয়োজনেই নয়, উটের দ্বারা মেয়ের বিয়ের যৌতুক পরিশোধ করা হতো, রক্তপাতের মূল্য দেওয়া হতো, বিজয় অভিযানে ব্যবহৃত হতো। উট ছিল যাযাবর আরবদের কাছে ধাত্রীসম।

মরুময় আরবের বুকে উট ছিল আশীর্বাদস্বরূপ। আরবের জীবনযাত্রাকে বেগবান করতে এবং যাতায়াতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার কারণে উটকে মরুভূমির জাহাজ বলা হয়।

প্রশ্ন-২৫। সেমেটিক জাতির পরিচয় দাও।

উত্তর : হজরত নূহ (আ)-এর প্রথম পুত্র সামের বংশধরগণ ইতিহাসে সেমেটিক নামে পরিচিত। সেমেটিকদের আদি বাসস্থান ছিল আরব ভূমিতে। পরবর্তীতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অনুদার প্রকৃতি ও ভৌগোলিক পরিবেশ ও আর্থিক দুর্গতির কারণে তারা আরবভূমি ত্যাগ করে বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। 

মিশরীয় সভ্যতা, ব্যাবিলনীয় সভ্যতা, অ্যাসিরীয় সভ্যতা এবং হিব্রু সভ্যতা গঠনে সেমেটিকদের অবদান ছিল অতুলনীয়। বিশ্বের তিনটি একেশ্বরবাদী ধর্মের প্রবর্তক হজরত ঈসা (আ), হজরত মুসা (আ) এবং হজরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন সেমেটিক জাতির অন্তর্ভুক্ত।

প্রশ্ন-২৬ । প্রাচীন মিশরের স্থাপত্যের বর্ণনা দাও।

উত্তর : জ্ঞানবিজ্ঞান, শিল্প-সাহিত্য, স্থাপত্য-ভাস্কর্য প্রতিটি ক্ষেত্রেই মিশরীয়রা সভ্যতার সুস্পষ্ট প্রমাণ রেখেছে। তবে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে স্থাপত্য ও শিল্পকলায় ।

মিশরীয়দের স্থাপত্যকলার অন্যতম নিদর্শন হলো পিরামিড। তাদের নির্মিত পিরামিডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ফারাও খুফুর পিরামিড। তের একর জমির উপর নির্মিত ৪৮১ ফুট উঁচু এবং ২৩ লাখ বড় বড় পাথরের টুকরোয় নির্মিত পিরামিড মিশরীয় শিল্পীদের দক্ষতার প্রমাণ রাখে। পিরামিড ছাড়াও মিশরীয়রা বড় বড় ধর্মমন্দির তৈরি করেছিল।

প্রশ্ন-২৭। প্রাচীন মিশরের শিল্পকলা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : স্থাপত্য কলার পাশাপাশি মিশরে শিল্পকলারও বিকাশ ঘটেছিল। মিশরীয় ভাস্করেরা সুনিপুণ হাতে তৈরি করেছিল স্ফিংসের মূর্তি। মিশরীয় চারু ও কারুশিল্পীরাও সভ্যতা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। সমাধি আর মন্দির সাজাতে গিয়ে মিশরে এ চিত্রশিল্পের বিকাশ ঘটে।

তারা বিভিন্ন আকারের রঙিন পাত্র, সোনার অলংকার; খোদাইকৃত আসবাবপত্র, হাতির দাঁতের জিনিসপত্র, বাদ্যযন্ত্র, খেলনা ইত্যাদি তৈরিতে দক্ষ ছিল, সুন্দর নকশায় এগুলোকে তারা অলংকৃত করত মিশরীয়দের স্থাপত্য ও শিল্পকলার অসামান্য অবদানের জন্য তারা ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ নির্মাতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে এবং তাদের এ স্থাপত্য ও শিল্পকলার কলাকৌশল পরবর্তী সভ্যতাকে প্রভাবিত করেছে।

প্রশ্ন-২৮। হায়ারোগ্লিফিক সম্বন্ধে ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : নগর সভ্যতা বিকাশের শুরুতে মিশরীয়রা লিখন পদ্ধতির আবিষ্কার করে। প্রথম দিকে তারা ছবি এঁকে মনের ভাব প্রকাশ করত- এক-একটি ছবি ছিল এক একটি অক্ষরের প্রতীক। লেখার ক্ষেত্রে তারা ২৪টি চিহ্ন ব্যবহার করত। 

ছবির সাহায্যে অক্ষরভিত্তিক এ লেখনীর নাম ছিল 'হায়ারোগ্লিফিক'। গ্রিকদের দেওয়া এ নামের অর্থ ছিল 'পবিত্র লিপি'। কারণ, লিপিগুলো ব্যবহার করা হতো ধর্মবাণী লেখা ও রাজার আদেশ প্রচারের উদ্দেশ্যে।

প্রশ্ন-২৯। জরথুস্ট্র ধর্ম সম্পর্কে কী জান? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : জোরোয়াস্টার নামে একজন মহান দার্শনিক ও ধার্মিক এক নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন। এ ধর্মমতে বিশ্বজগৎ মঙ্গল ও অমঙ্গলের দেবতা 'আহুর মাজদা ও 'আহরিমান' দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। অমঙ্গলের দেবতা তার অশুভ তৎপরতার দ্বারা সর্বদাই মঙ্গলের দেবার জনমঙ্গলকর সৃষ্টিগুলোকে ধ্বংস করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত আছে।

এ সংগ্রামে শেষ পর্যন্ত মঙ্গলের দেবতা জয়লাভ করবে এবং অমঙ্গলের দেবতা পৃথিবীর বুক থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। পরকাল, স্বর্গ-নরক, পাপ-পুণ্যে তারা বিশ্বাসী ছিল। সৎচিন্তা ও সৎকর্ম হলো এ ধর্মের মূলনীতি মিথ্যা বলা, চুরি করা, গর্ব করা, সুদ খাওয়া, অর্থ সঞ্চয় রাখা, সন্ন্যাস জীবনযাপন করা, - দেবদেবীর পূজা-অর্চনা ছিল এ ধর্মমতের সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বিষয় ।

প্রশ্ন-৩০। নগররাষ্ট্র এথেন্সের বর্ণনা দাও।

উত্তর : গ্রিক সভ্যতায় একটি অন্যতম স্থান দখল করে আছে নগররাষ্ট্রে এথেন্স। ৫৯৪ সালে সলোন এথেন্সের শাসনকর্তা নিযুক্ত হয়ে দেমোসদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উন্নতিকল্পে ব্যাপক সংস্কার গ্রহণ করেন । ফলে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় গণতন্ত্রের উন্মেষ ঘটে। 

তবে এথেন্সে গণতন্ত্রের পূর্ণ বিকাশ ঘটে পেরিক্লিসের শাসনামলে। পেরিক্লিসের যুগ ছিল এথেন্সের স্বর্ণযুগ। এ সময়ে কবি, সাহিত্যিক, নাট্যকার, বিজ্ঞানী, দার্শনিক প্রভৃতি জ্ঞানীরা এথেন্সকে গৌরবোজ্জ্বল করে রেখেছিল।

প্রশ্ন-৩১। নগররাষ্ট্র স্পার্টার বর্ণনা দাও।

উত্তর : প্রাচীন “গ্রিসের একটি সমৃদ্ধশালী নগর ছিল স্পার্টা । প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত স্পার্টার সামরিক শক্তির উপর ভিত্তি করেই নগররাষ্ট্র গড়ে উঠেছিল। ডোরীয়গণ দক্ষিণ গ্রিসের ল্যাকোনিয়া প্রদেশ জয় করে সেখানে স্পার্টান রাষ্ট্র গঠন করে। 

স্পার্টার শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করতেন দুজন রাজা- একটি অভিজাত পরিষদ ও একটি সাধারণ পরিষদ। স্পার্টা একটি সামরিক রাষ্ট্র ছিল বলে সকল শিশুকে ২০ বছর পর্যন্ত সামরিক শিক্ষা গ্রহণ করতে হতো। জন্মের পর নিয়ম অনুযায়ী ৭. বছর বয়স্ক সকল শিশুকে শাসকদের কাছে নিয়ে যেতে হতো।

প্রশ্ন-৩২। প্রাক-ইসলামি যুগে আরবের নারীর অবস্থা বর্ণনা কর।

উত্তর : ঐতিহাসিকদের মতামত অনুযায়ী বলা যায়, সে যুগে নারীর অবস্থা ছিল সীমাহীন অবমাননাকর ও হৃদয়বিদারক। সে যুগে নারীরা ভোগের সামগ্রী ও অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হতো। 

সমাজে নারীদের কোনো মর্যাদা না থাকায় কন্যাসন্তান জন্মদানকে তারা অভিশাপ, দুর্ভাগ্য ও লজ্জাজনক বলে মনে করত। অনেকে দারিদ্র্যের ভয়ে কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দিত। তবে কতিপয় ঐতিহাসিকের মতে, সমাজে কিছু কিছু নারীর সামাজিক মর্যাদা ছিল।

প্রশ্ন-৩৩। উকাজ মেলা সম্বন্ধে ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : আরবদের সাংস্কৃতিক জীবনে উকাজ মেলা একটি বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে। প্রতিবছর মক্কার অদূরে ওকাজ প্রান্তরে এ 'মেলা বসত। এ মেলার কাব্যগাথা, প্রবাদ, বীরত্ব ও বাগ্মিতা, প্রতিযোগিতা হতো এবং পুরস্কৃত করা হতো বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠদের। 

কাব্য প্রতিযোগিতাছাড়াও এ মেলায় গানবাজনা, নৃত্য, জুয়া ও লটারির আসরও বসত। পাপ-পঙ্কিলতাপূর্ণ ও অন্ধকারাচ্ছন্ন আরব সমাজে সাহিত্য প্রতিভার এ অপূর্ব সম্মেলনকে পি.কে হিটি 'Academic Franchaire of Arabs' বলে অভিহিত করেছেন

প্রশ্ন-৩৪। সাবায়ে মুয়াল্লাকাত সম্পর্কে ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : প্রাক-ইসলামি যুগে আরবদের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল তাদের বাগ্মিতা। অসাধারণ বাচনশক্তির অধিকারী প্রাচীন আরবের কবিরা মক্কার অদূরে উকাজ প্রান্তরে বার্ষিক কাব্য ও সাহিত্য আসরে

অংশগ্রহণ করতেন। এ আসরে যেসব কবির কবিতা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করত, সেগুলো সোনালি হরফে লিপিবদ্ধ করে কাবার দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হতো। উকাজ মেলায় পুরস্কৃত এরূপ সাতটি কবিতাকে বলা হয়, | সাবায়ে মুয়াল্লাকাত বা ‘সন্ত ঝুলন্ত' কবিতা। সপ্ত ঝুলন্ত কবিতার ও সাতজন যশস্বী কবি হলেন- আমর ইবনে কুলসুম, লাবিদ-বিন-রাবিয়া, পর আনতারা ইবনে শাদদাদ, ইমরুল কায়েস, তারাফা ইবনে আবদ, হারিস সা ইবনে হিল্লিজা ও জুহাইর ইবনে আবি সালমা।

প্রশ্ন-৩৫। ইমরুল কায়েস সম্বন্ধে ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : কবি ইমরুল কায়েস দক্ষিণ আরবের এক বিখ্যাত রাজবংশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। রাজবংশের সন্তান হিসেবে তিনি যতটা না বি পরিচিত ছিলেন, তার চেয়ে বেশি পরিচিতি লাভ করেছিলেন আরবি বা সাহিত্যে সর্বপ্রথম কবিতা রচয়িতা হিসেবে।

তৎকালীন আরবে উকাজ মেলার বার্ষিক সাহিত্য আসরে কাব্য প্রতিযেগিতায় বিভিন্ন কবি অংশগ্রহণ করতেন। প্রতিযোগিতায় যে সব কবির কবিতা পুরস্কৃত হতো সেগুলো সোনালি হরফে লিপিবদ্ধ করে কাবার দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হতো। সাবায়ে মুয়াল্লাকাত নামে পরিচিত এ কবিতা গুচ্ছের অন্যতম কবি হলেন ইমরুল কায়েস।

প্রশ্ন-৩৬। হানিফ সম্প্রদায় সম্পর্কে ধারণা দাও ।

উত্তর : প্রাচীন আরব সমাজ ধর্মীয় কুসংস্কারে জর্জরিত ছিল। তাদের মধ্যে ভিন্নমত পোষণ করত হানিফ সম্প্রদায়। আরব দেশে প্রচলিত বিভিন্ন পরস্পরবিরোধী ধর্মীয় মতবাদগুলো বিশ্লেষণ করে তারা একেশ্বরবাদী মতবাদের দিকে আকৃষ্ট হয়ে পড়ে এবং সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা, পরলোকে বিশ্বাস স্থাপন করে।

হানিফ সম্প্রদায়ের এ ব্যক্তিরা সৎ জীবনযাপন করতেন এবং মানুষকে গেছে সদুপদেশ দিতেন। মূলত, হানিফ সম্প্রদায় ছিল হজরত ইবরাহীম (আ)-এর একেশ্বরবাদী ধর্মমতের অনুসারী।

শেষকথা হিসেবে বলা যায় এই অধ্যায়ের মূল বিষয় গুলো ভালোভাবে বুঝতে পারলে শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়টি অনেক সহজ হয়ে যায়। তাই নিয়মিত অনুশীলন এবং সঠিক ব্যাখ্যা জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র ১ম অধ্যায় অনুধাবন প্রশ্নের উত্তর বুঝতে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করবে।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ