চোখে হাত দিয়া সুরুজ কয়বর দেখায়।”- কে, কাকে কেন দেখায়?
চোখে হাত দিয়া সুরুজ কয়বর দেখায়।”- কে, কাকে কেন দেখায়?
উত্তর : মনসুর বয়াতি রচিত, দীনেশচন্দ্র সেন সংকলিত নাছ “মৈমনসিংহ গীতিকার" "অন্তর্গত 'দেওয়ানা মদিনা'র পালার প্রদত্ত স্নান উক্তিটিতে দুলালের ছেলে সুরুজ তার বাবা দুলালকে তার মা -মদিনার কবর দেখানোর বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে ।
পালাতে দেওয়ান সোনাফর গাজীর প্রথম পত্নীর মৃত্যুর পর দ্বিতীয় পত্নী ঘরে আনে। দ্বিতীয় পত্নী অভিনয় করে সতিনের পুত্র -কে আলাল ও দুলালকে কাছে টানে এবং শেষ পর্যন্ত জন্মাদের হাতে দ্বয়ে তুলে দেয়। জন্মাদ তাদের হত্যা না করে সাধুর ডিঙ্গায় তুলে পর্ক দেয়।
ভাগ্যক্রমে আলাল আশ্রয় লাভ করে সেকেন্দার দেওয়ানের ত্রুটি ঘরে এবং দুলাল ঠাঁই নেয় এক কৃষকের ঘরে। কৃষক কন্যা পার মদিনার সাথে দুলালের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং তারা বিবাহ করে। তাদের দাম্পত্য জীবন বেশ সুখেই কাটছিল।
একদিন আলাল খুঁজে পায় তার ভাই দুলালকে এবং আলালের লাল কথা মত দুলাল মদিনাকে তালাক দিয়ে আমিনাকে বিয়ে করে হয় এবং দেওয়ানির লোভে বানিয়াচঙ্গে চলে যায়। তালাকনামা পেয়েও মদিনা বিশ্বাস করে না বরং সে দুলালের অপেক্ষায় পথ চেয়ে বসে থাকে।
দুলাল দেওয়ানি নিয়ে মত্ত আর মদিনা তাদের প্রেমময় দাম্পত্য জীবনের স্মৃতি স্মরণ করে। কৃষি কাজে বিভিন্ন ঋতুতে মদিনা যে তার স্বামীর কাজে সহযোগিতা করতো, সেসব কথা মনে করে সে শোকের সাগরে ভাসে। একদিন তার ছেলে সুরুজকে ভাইয়ের সাথে দুলালের কাছে পাঠিয়ে দেয়।
দুলালের সাথে তাদের বানিয়াচঙ্গে দেখা হয়। দুলাল তাদের অপমান করে পাঠিয়ে দেয়। মদিনা তার ছেলে ও ভাইয়ের কাছ থেকে দুলালের ব্যবহার শুনে কষ্ট পায় এবং স্বামীর শোকে পাগল হয়ে মারা যায়। কিছুদিন পর দুলাল তার ভুল বুঝতে পারে এবং কাউকে কিছু না জানিয়ে মদিনার কাছে চলে আসে।
দুলাল তার ছেলে সুরুজের কাছে মদিনা কোথায় জানতে চায়- এ-সময় সুরুজ চোখে হাত দিয়ে কবর দেখায়। কেননা ততদিনে মদিনা দুলালের শোকে মৃত্যুবরণ করে। দুলাল ফিরে আসে মদিনার কাছে- কিন্তু ততদিনে মদিনা দুলালকে চিরতরে ছেড়ে চলে যায় পৃথিবী থেকে।
আর সুরুজ, চোখ হাত দিয়ে কবর দেখায় তার বাবা দুলালকে। অবশ্য এখানে স্মরণীয় যে চোখে হাত দিয়ে কবর দেখানোর মধ্যে একটি সংস্কার বিদ্যমান- প্রচলিত আছে চোখে হাত দিয়ে কবর না দেখালে যে কবরে থাকে তার আজাব হয়; সে সংস্কার মেনেই সুরুজের চোখে হাত দেওয়ার বিষয় গীতিকার লেখক উল্লেখ করেছেন।
