খুজে না পেলে সার্চ করো

আল গাজ্জালীকে রক্ষণশীল সুফি বলা হয় কেন

আল গাজ্জালীকে রক্ষণশীল সুফি বলা হয় কেন
আল গাজ্জালীকে রক্ষণশীল সুফি বলা হয় কেন 

আল গাজ্জালীকে রক্ষণশীল সুফি বলা হয় কেন 

উত্তর : ভূমিকা : যখন থেকে ইসলামি বিধান মানব জাতির উপর প্র অবধারিত করা হয়েছে তখন থেকেই সুফিবাদের উৎপত্তি এবং তখন থেকেই এর ক্রমবিকাশ সূচিত হয়েছে। 

রাসূল (সা.) এর ইন্তেকালের দীর্ঘদিন পর হিজরি দ্বিতীয় শতকের শেষ দিকে র সুফিবাদকে প্রথাসিদ্ধ ইসলামি রীতির স্বতন্ত্র এক ধারা হিসেবে র প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালানো হয়।

ক্রমান্বয়ে এ ধারাবাহিকতায় অনেক বাহ্যিক প্রভাব সুফিবাদের শতভাগ ইসলামি চেতনা ক্ষুণ্ণ করে এমনকি কোথাও কোথাও সুফিবাদী ধারণা ইসলামের বিরোধী হয়ে পড়ে। 

এমনি প্রেক্ষিতে আল-গাযালি (রহ.) তার লেখনী ও অনুসারীদের নিয়ে ইসলামসম্মত আধ্যাত্মিক ভাবধারা সংরক্ষণের প্রয়াসী হন। এজন্য তাকে বলা হয় রক্ষণশীল সুফি।

আল-গাযালিকে রক্ষণশীল সুফি বলার কারণ : আল-গাযালির , দর্শন ও ধর্মতত্ত্ব এবং জীবনাদর্শ বিশ্লেষণ করলে সুফিবাদের এক = স্বকীয় স্বতন্ত্র রূপ সম্পর্কে জানা যায়। তিনি প্রচলিত দর্শন ও ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়ন করে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, তত্ত্ব আলোচনার মাধ্যমে প সত্য লাভ সম্ভব নয়। 

এজন্য তিনি সুফিবাদের দিকে মনোনিবেশ করেন। তিনি আল-হারিছ, আল-মুহাসিবি, আল-শিবলি, আৰু য়্যাজিদ আল-বিস্তামী এবং জুনায়েদ বোগদাদীর লেখার অংশবিশেষ গভীরভাবে অধ্যয়ন করে এক নিশ্চিত সিদ্ধান্তে উপনীত হন। 

তিনি বলেন, “আমি স্পষ্টত দেখেছি সুফিবাদের মধ্যে যে বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান তা কোনো গ্রন্থ পাঠে শিক্ষা করা যেতে পারে না; প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা তন্ময়তা ও অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের মাধ্যমেই তা লাভ করা যেতে পারে।”

উল্লিখিত উপলব্ধির আলোকে আল-গাযালি আধ্যাত্মিক অনুশীলনে মনোনিবেশ করেন এবং তার সাধনালব্ধ অভিজ্ঞতার আলোকে রচনা করেন বিশ্ববিখ্যাত তাত্ত্বিক গ্রন্থ 'এহইয়া উল- উলুম আদ-দীন'। 

তার সাধনার ফলেই সুফিবাদ ইসলামে যথাযথ স্থান লাভ করে। তার আগে যেখানে সুফিবাদ বিষয়ে এক পক্ষ চরম বাড়াবাড়ি ও অপরপক্ষ সর্বাত্মক উপেক্ষা প্রদর্শন করছিল সেখানে তিনি এর গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করেন ।

কাজেই দেখা যাচ্ছে যে, আল-গাজ্জালি পরমসত্তার নির্ভরযোগ্য ও নিশ্চিত জ্ঞানলাভের জন্য যে প্রচেষ্টা চালান, সে যুগের দর্শন, বিজ্ঞান- ধর্মতত্ত্ব অধ্যায়ন করেন, তার সে গভীর অধ্যায়ন ও অক্লান্ত, অশ্রান্ত চিন্তার মাধ্যমে জন্মলাভ করে এক সমন্বয়ধর্মী জীবনদর্শন। 

যে দর্শন | ইহজীবন ও পরজীবনের মিতালি স্থাপন করে ইসলামের পরিপূর্ণ ব্যাপ্তি সুস্পষ্ট করে তোলে। তার প্রচেষ্টার ফলে সুফি দর্শন সর্বসাধারণের মধ্যে ন্যায্য স্থান লাভ করলো। 

তার লেখনীর মুখে ইসলামের বস্তুধর্মিতা, বাস্তবধর্মিতা ও আধ্যাত্মিকতা পরিপূর্ণ মাহাত্ম্যে বিকশিত হয়ে উঠে। ইসলামে যাহেরি ও বাতেনি দিকের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে ইসলামের পূর্ণ জীবনদর্শন মুসলিমদের সামনে তুলে ধরা ও প্রকৃত পথ নির্দেশ মুসলিম দর্শনের ইতিহাসে তাকে অমরতা দিয়েছে।

সুতরাং বুঝা যাচ্ছে যে, রক্ষণশীল সুফিবাদ কোনো নবতর আবিষ্কার নয়; বরং এটা ছিল প্রকৃত ইসলামি চেতনার সাথে অধিকতর সংগতিপূর্ণ এবং ইসলামের আধ্যাত্মিকতার যথার্থ প্রতিফলন। 

এখানে সুফিবাদে বিজাতীয় প্রভাবের কারণে সাধিত পরিবর্তনসমূহ অত্যন্ত যত্নের সাথে দূর করে ইসলামি সুফিবাদের আদর্শ ভাবধারা রক্ষা করা হয়েছে। যেজন্য এ সুফিবাদকে রক্ষনশীল সুফিবাদ এবং এ ধারার পথিকৃত ব্যক্তিত্ব আল-গাযালিকে রক্ষণশীল সুফি বলা হয়।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, রক্ষণশীল সুফি হিসেবে ইমাম গাযালির যে পরিচিতি তুলে ধরা হয় তা মূলত তার অন্তহীন। সত্যপ্রিয়তা এবং সত্যানুসন্ধিৎসার জন্য। 

কেননা তিনি ধর্মের মূল চেতনার বাইরে কোনোরকম আনুষ্ঠানিকতাকেই ইসলামি বিধান বলতে রাজি নন, রাজি নন এমন কিছু গ্রহণ করতে। সব মিলিয়েই তাকে সর্বজনগ্রাহ্য, যথার্থ ও ইসলামি চেতনাসমৃদ্ধ সুফিবাদের বিকাশে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।

Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ