আজ শয়তান বসিয়াছে স্রষ্টার সিংহাসনে।” - “মসজিদ ও মন্দির' প্রবন্ধ অবলম্বনে আলোচনা কর


আজ শয়তান বসিয়াছে স্রষ্টার 
সিংহাসনে।” - “মসজিদ ও মন্দির' প্রবন্ধ অবলম্বনে আলোচনা কর

উত্তর : কাজী নজরুল ইসলাম 'মন্দির ও মসজিদ' প্রবন্ধে ধর্মমাতালদেরকে শয়তান রূপে চিহ্নিত করে তাদের প্রভাব এবং প্রতিপত্তিকে বুঝাতে উপর্যুক্ত উক্তির আশ্রয় নিয়েছেন।

ভারতবর্ষীয় উপমহাদেশে হিন্দু-মুসলমানদের বিরোধ দীর্ঘদিনের। এ বিরোধ নজরুল চিত্তে বেশ আঘাত করেছিল। দেশ এক হওয়া সত্ত্বেও উভয় সম্প্রদায়ের বিধ্বংসী ক্রিয়াকর্ম মানবতার বিবেককে বার বার ধ্বংস এবং রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত করেছে। 

এ প্রবন্ধে নজরুল হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গাকে ব্যঙ্গ কৌতুক করলেও প্রবন্ধের মৌল আবেগ ক্ষোভ ও বেদনার। তিনি ক্ষোভের সাথে ধর্মমাতালদের কথা বলেছেন- ধর্মমাতাল আসলে তারাই যারা ধর্মকে ভালোভাবে না বুঝে ধর্মের নামে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। 

ধর্মমাতালরা আসলে সত্যের আলো পান করেনি- তারা শাস্ত্রের অ্যালকোহল পান করে পারস্পরিক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে। ধর্মমাতালদের সম্পর্কে প্রাবন্ধিক জানিয়েছেন- হযরত মুহম্মদকে যারা মেরেছিল, ঈশা মুসাকে যেসব ধর্মমাতাল প্রহার করেছিল, তাদেরই বংশধর আবার মারছে মানুষকে ঈসা মুসা মুহম্মদের মতো মানুষকে। 

যেসব অবতার পয়গম্বর মানুষের মার থেকে মানুষৎে বাঁচাতে এসে মানুষের মার খেয়ে গেলেন- মানুষের কল্যাণের জন্যে এসেছিলেন যারা, তাদের মাতাল পশু শিষ্যেরা। আজ মানুষের সর্ব অকল্যাণের হেতু। যিনি সব মানুষের দেবতা তিনি আজ মন্দিরের শঙ্খধ্বনি। 

মোল্লা পুরুত, পাদরী-ভিক্ষু জেল ওয়ার্ডের মতো তাকে পাহারা দিচ্ছে। এ সম্পর্কে প্রাবন্ধিক মনে করেন, আজ শয়তানরূপী ধর্মমাতাল বসেছে স্রষ্টার সিংহাসনে।

সুতরাং সার্বিক আলোচনা থেকে বলা যায়, শয়তানরূপী, ধর্মমাতালরা যে সবকিছু করায়ত্ত করে তাদের শাসন সর্বক্ষেত্রে বজায় রাখার জন্য তৎপর তা আলোচ্য উক্তিতে উঠে এসেছে।


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ