আমার ক্ষমাসুন্দর প্রিয়তম আমার আমিত্বকে গ্রহণ করেছেন।”- ব্যাখ্যা কর
আমার ক্ষমাসুন্দর প্রিয়তম আমার আমিত্বকে গ্রহণ করেছেন।”- ব্যাখ্যা কর
উত্তর : কাজী নজরুল ইসলাম 'যদি আর বাঁশি না বাজে' অতিভাষণে কবির নিবেদনকে পরম সুন্দর আল্লাহ যে গ্রহণ পার করেছেন তা আলোচ্য উক্তিতে তুলে ধরেছেন।
কবি এ প্রবন্ধে অহংকারকে বলেছেন অসুন্দরের দূত। অসুন্দরের সাধনা কবির নয়- কবির আল্লাহ পরম সুন্দর। পরম হে আল্লাহ কবির কাছে নিত্য প্রিয়-ঘন সুন্দর, প্রেম-ঘন-সুন্দর, রস- ঘনসুন্দর, আনন্দ-ঘন সুন্দর।
কবি যখন বিভিন্ন মানুষের আহ্বানে বাইরে আসেন তখন তিনি তাঁর পরম সুন্দরের সান্নিধ্য থেকে নরা বঞ্চিত হন আর এ কারণেই কবির অন্তরে-বাইরে দুলে ওঠে অসীম রোদন। কবি পরম সুন্দরের বিরহ একদমই সহ্য করতে পারেন না।
কবি তাঁর সর্ব অস্তিত্ব জীবন-মরণ-কর্ম, অতীত- বর্তমান-ভবিষ্যৎ পরম স্রষ্টার নামে শপথ করে তাকেই নিবেদন করেছেন। কবির বিশ্বাস তার ক্ষমাসুন্দর প্রিয়তম কবির 'আমিত্ব' গ্রহণ করেছেন।
সুতরাং সার্বিক বিচারে বলা যায়, কবি তাঁর নিজের মধ্যে সর্বক্ষণ পরম সুন্দর স্রষ্টাকে সাধনা করেন এবং সেই সাধনা যে স্রষ্টার কাছে গ্রহণযোগ্য তা আলোচ্য উক্তিতে উপস্থাপিত।
.png)