যদি আর বাঁশি না বাজে' প্রবন্ধের আলোকে কবির কাব্য-সংগীত- কর্মজীবনের উদ্দেশ্য আলোচনা কর
যদি আর বাঁশি না বাজে' প্রবন্ধের আলোকে কবির কাব্য-সংগীত- কর্মজীবনের উদ্দেশ্য আলোচনা কর
উত্তর : কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ব্যক্তিজীবন, কর্মজীবন, সাহিত্যিক জীবনে যে মানুষের কল্যাণ চিন্তাকেই বেশি প্রাধান্য দিয়েছিলেন তা যদি আর বাঁশি না বাজে' অভিভাষণে স্পষ্ট করেছেন।
প্রাবন্ধিক ভারতবর্ষীয় সমাজের হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গাকে তীব্র ঘৃণা করেছেন। তিনি তাঁর সমকালে দেখেছেন হিন্দু- মুসলমানে দিনরাত হানাহানি, জাতিতে জাতিতে বিদ্বেষ, যুদ্ধবিগ্রহ, মানুষের জীবনে একদিকে কঠোর দারিদ্র্য, ঋণ-অভাব।
আবার অন্যদিকে তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন লোভী অসুরের যক্ষের ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা পাষাণস্তূপের মতো জমা হয়ে আছে এই অসাম্য। তাঁর এ তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে তাঁর সাহিত্য- কর্ম সম্পাদন করেছেন।
প্রাবন্ধিক বলেন, তিনি তাঁর কাব্যে, সংগীতে, কর্মজীবনে, অভেদ- সুন্দর সাম্যকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন- অসুন্দরকে ক্ষমা করতে, অসুরকে সংহার করতে এসেছিলেন- এসবের সাক্ষী অনুষ্ঠানে আগত লোকেরা আর কবির পরম সুন্দর।
সুতরাং উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, কবি সারাজীবন অন্যায়-অসাম্য-অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন- এগুলো তাঁর ব্যক্তিজীবনেরও যেমন উদ্দেশ্য- তেমনি সাহিত্যিক জীবনেও উদ্দেশ্য।
.png)