যমক অলংকার কাকে বলে? যমক কত প্রকার কী কী?
যমক অলংকার কাকে বলে? যমক কত প্রকার কী কী?
উত্তর : একাধিক ব্যঞ্জনধ্বনি স্বরধ্বনিসহ নির্দিষ্টক্রমে সার্থক কিংবা নিরর্থকভাবে যদি একাধিকবার উচ্চারিত হয়, তবে তাকে যমক অলংকার বলা যায়।
বিশ্বের উন্নত ভাষাসমূহে এমন বহু শব্দ আছে যার একাধিক অর্থ বর্তমান এবং যুগে যুগে কবিগণ কাব্যে বৈচিত্র্যময় শব্দলীলা দেখাবার জন্য একই শব্দকে বিভিন্ন অর্থে প্রয়োগ করে থাকেন।
‘যমক’কে অনেকে 'কৃত্রিম' অলংকার হিসেবে বিবেচনা করেন, কিন্তু সংস্কৃত ও বাংলায় বহু কবিতা আছে যেখানে যমক কবিবোধের দীপ্তিতে উজ্জ্বল অলংকার হয়ে উঠেছে এবং রসাস্বাদনে কোনো অন্তরায়ই সৃষ্টি করেনি।
আসলে যমক তখনই কৃত্রিম হয়ে ওঠে, যখন কবি কবিতা-নির্মাণের থেকে কেবল শব্দ- চমক বা ধ্বনি ঝংকার সৃষ্টিতে অধিকতর আগ্রহী হয়ে ওঠেন।
তবে সংস্কৃত সাহিত্যের বড় বড় কবিরা তাঁদের অমর কাব্যাবলিতে যমকের ব্যবহার থেকে বিরত থাকেননি (কথিত আছে ঘটকর্পর নামে একজন কবি বর্ষা-বিষয়ক গোটা কাব্য যমকে লিখে প্রচুর খ্যাতি অর্জন করেছিলেন)। বাংলা কাব্যেও আলাওল, ভারতচন্দ্র, ঈশ্বরগুপ্ত, মধুসূদন এবং এ যুগের খ্যাতিমান কবিরাও যমকের আকর্ষণমুক্ত নন।
যমকের শ্রেণিবিভাগ : প্রচলিত অলংকার গ্রন্থসমূহে চার রকম যমকের উল্লেখ আছে। যথা : আদ্যযমক, মধ্যযমক, অন্ত যেমক এবং সর্বযমক। যথাক্রমে উদাহরণ দেওয়া যাক।
আদ্যযমক :
(i) ভারত ভারতখ্যাত আপনার গুণে
মধ্যমক :
(ii) বজ্রমুকুট নামে হ্রদয়নন্দন ছিল
-ভারতচন্দ্র
-বিদ্যাসাগর
(iii) তোমার এ বিধি, বিধি, কে পারে বুঝিতে। মধুসূদন
অন্ত্যমক :
(iv) বলরাম দাসে কয় সাজাইয়া রাণী।
নেহারে গোপাল-মুখ কাতর পরাণি
-বলরাম
সর্বাত্মক :
কান্তার আমোদ পূর্ণ কান্তসহকারে
কান্তার আমোদ-পূর্ণ কান্ত সহকারে
কান্তার বনভূমি, দয়িতার; আমোদ সৌরভ, আনন্দ ।
