মেঘদূত' প্রবন্ধ অবলম্বনে বৈষ্ণব কবিদের বিরহবোধের পরিচয় দাও


মেঘদূত' প্রবন্ধ অবলম্বনে বৈষ্ণব কবিদের বিরহবোধের পরিচয় দাও 

উত্তর : প্রাবন্ধিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যে একজন অতি বিখ্যাত কবি। কবি পরিচয়েই তিনি সমগ্র বিশ্বে বিশ্ব নন্দিত হয়ে আছেন। 

তাঁর কবি মনীষার উজ্জ্বল দীপ্তিতে অন্যান্য সাহিত্য কর্ম অপেক্ষাকৃত ম্লান হলেও বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যের ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ এক আসনে অধিষ্ঠিত। তাঁর একটি বিখ্যাত প্রবন্ধ গ্রন্থ হলো 'প্রাচীন সাহিত্য'।

সংস্কৃত সাহিত্যের মহাকবি কালিদাসের বহুল জনপ্রিয় কাব্য ‘মেঘদূত্ম’। রবীন্দ্রনাথ কালিদাসের 'মেঘদূত' কাব্য অবলম্বনে 'মেঘদূত' প্রবন্ধটি রচনা করেন। বাংলা সাহিত্যের মাধ্যযুগের একটি বিশেষ স্থান জুড়ে আছে বৈষ্ণব সাহিত্য। 

রাধা-কৃষ্ণের প্রেম-বিরহের অমর কাহিনি বৈষ্ণব কবিতায় অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তুলে ধরেছেন। কৃষ্ণের বিরহে রাধা সব সময় ব্যাকুল হয়ে থাকতো। রাধার বিরহ বোধ বৈষ্ণব কবিরা মাটির পৃথিবীর নর- নারীর বিরহ ব্যথা দেখে বর্ণনা করেছেন। 

লেখক বলেছেন, কেবল অতীত বর্তমান নয়, প্রত্যেক মানুষের মধ্যে অতলস্পর্শ বিরহ। এ চির বিরহের কথা উল্লেখ করে বৈষ্ণব কবি বলেছেন, “দুহু কোরে দুহু কাঁদে বিচ্ছেদ ভাবিয়া।” তাই একথা মনে হয়, আমরা যেন কোনো এক কালে একত্রে এক মানসলোকে ছিলাম, সেখান থেকে নির্বাসিত হয়েছি। 

বৈষ্ণব কবি বলরাম দাস বলেছেন, “তেঁই বলরামের পাহু, চিত নহে স্থির।” অর্থাৎ যারা একটি সর্বব্যাপী মনে এক হয়ে ছিল, তারা আজ সব বের হয়ে পড়েছে তাই পরস্পরকে দেখে চিত্ত স্থির হতে পারছে না। বিরহ বিধূর বাসনায় ব্যাকুল হয়ে পড়েছে। 

আবার হৃদয়ের মধ্যে এক হবার চেষ্টা করছে, কিন্তু মাঝখানে বৃহৎ পৃথিবী । তাই বৈষ্ণব কবি বলেন- “তোমার হিয়ার ভিতর হইতে কে হৈল বাহির! এ কী হইল। যে আমার মনোরাজ্যের লোক, সে আজ বাহিরে আসিল কেন!

ওখানে তো তোমার স্থান নয়।”

পরিশেষে বলা যায়, 'মেঘদূত' চির বিরহের কাব্য। বৈষ্ণব কবিরাও এ বিরহকে তাদের কাজে রাধা-কৃষ্ণের বিরহের সাথে ি তুলনা করেছেন। তাছাড়া, আমরা সত্যিই আজ অতলস্পর্শী বিরহ বেদনায় নিমজ্জিত। 'মেঘদূত' কাব্যের যক্ষের বিরহ ব্যথা বৈষ্ণব কবিদের সাহিত্য রচনায় প্রেরণা যুগিয়েছে।


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ