মত্ত দাদুরী, ডাকে ডাহুকী, ফাটি যাওত ছাতিয়া ।”- ব্যাখ্যা কর
মত্ত দাদুরী, ডাকে ডাহুকী, ফাটি যাওত ছাতিয়া ।”- ব্যাখ্যা কর
উত্তর : বাংলা সাহিত্যে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্ব বিজয়ী জীবন শিল্পী। তিনি মূলত কবি। কবি হিসেবেই তিনি নিখিল বিশ্বে বিখ্যাত হয়ে আছেন।
তবে কাব্য কবিতার পাশাপাশি তিনি প্রবন্ধ রচনাতেও যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। লেখক তাঁর প্রবন্ধসমূহে বিষয় বৈচিত্র্যের চেয়ে ব্যক্তিগত ভাবকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি যেসব প্রবন্ধ লিখেছেন তার মধ্যে 'বিচিত্র প্রবন্ধ' সংকলনটি অন্যতম প্রবন্ধ গ্রন্থ।
“বিচিত্র প্রবন্ধ' গ্রন্থের আত্মভাবনিষ্ঠ প্রবন্ধের প্রতিনিধিত্বমূলক প্রবন্ধ 'কেকাধ্বনি'। প্রবন্ধটি লেখক শিল্পসার্থক ও সৌন্দর্যগুণে সুষমামণ্ডিত করে তুলেছেন। 'কেকা' শব্দের অর্থ হলো ময়ূরের ডাক। আর এ কেকাধ্বনিকে তিনি মন থেকে নতুন রূপে আবিষ্কার করে তাকে বর্ষাঋতুর সাথে সহযোগ ঘটিয়ে অপূর্ব শিল্প সৌন্দর্যের সৃষ্টি করেছেন।
সাধারণ মানুষের কাছে কোকিলের ডাক, কেকাধ্বনি বা ব্যাঙের ডাক তেমন কিছুই নয়। কিন্তু কবিদের কাছে কোকিলের স্বর হলো বসন্তের আগমনী গান, আর কেকাধ্বনি আর ব্যাঙের ডাক হলো বর্ষার গান। মধ্যযুগের কবি বিদ্যাপতির কাছে বর্ষা এসেছে নতুন ছন্দে ও নতুন তালে তার কাব্যে বর্ষা অত্যন্ত সজীব ও জীবন্ত হয়ে দেখা দিয়েছে।
কবি বিদ্যাপতি বিশেষ এক পরিবেশে ব্যাঙের ডাককে মিষ্ট জ্ঞান করেছেন। কবির কাছে ঘনবর্ষার নিবিড় ভাবের সাথে ব্যাঙের ডাক অত্যন্ত মধুর মনে হয়েছে। আকাশ জুড়ে ঘন কালো মেঘ, সারাদিন ঝরঝর বৃষ্টি পড়ছে, পথে-ঘাটে কোনো লোকজন নেই, চারিদিকে গাছ-পালার সুন্দর শ্যামল সজীবতা।
এমন পরিবেশে, ব্যাঙের ডাক বড়ই মধুর লাগে। মূলত মানব মনের সাথে প্রকৃতির যে একটা নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে সে বিষয়টি কবি বিদ্যাপতি অত্যন্ত চমৎকারভাবে তাঁর কাব্যে তুলে ধরেছেন। বিদ্যাপতি লিখেছেন-
“মত্ত দাদুরী, ডাকে ডাহুকী, ফাটি যাওত ছাতিয়া।”
সবশেষে বলা যায়, কিছু কিছু জিনিস সাধারণ মানুষকে আকর্ষণ করতে না পারলেও কবিদের কাছে তা আদরনীয় । বসন্ত কালে কোকিলের ডাক শোনা না গেলে যেমন মানায় না, তেমনি বর্ষাকালে ময়ূরের ডাক ও ব্যাঙের ডাক না শুনলে তেমন জমে উঠে না। বর্ষাকালের ব্যাঙের ডাক কবিদের কাছে বর্ষার গান হিসেবে পরিচিত ।
.png)