অক্ষরবৃত্ত ছন্দের মাত্রা গণনা পদ্ধতি লেখ
অক্ষরবৃত্ত ছন্দের মাত্রা গণনা পদ্ধতি লেখ
উত্তর : যে কাব্য-ছন্দে মূল পর্ব আট বা দশ মাত্রার হয় এবং শব্দধ্বনির অতিরিক্ত একটা তান বা লয় থাকে তাকে অক্ষরবৃত্ত ছন্দ বলে।
অক্ষরবৃত্ত ছন্দ পয়ার, মহাপয়ার, প্রবহমান পয়ার ও মহাপয়ার, ত্রিপদী, চৌপদী, দিগক্ষরা, একাবলি, সনেট, অমিত্রাক্ষর ছন্দ বিভিন্ন রূপভেদে পৃথক।
অক্ষরবৃত্ত ছন্দের মাত্রা গণনারীতি পদ্ধতি :
• মাত্রাবৃত্তের ছন্দের মূল পর্ব আট বা দশ মাত্রার গণনা করতে হয়। যেমন-
মরিতে চাহিনা আমি/সুন্দর ভুবনে। মানবের মাঝে আমি/বাঁচিবারে চাই
৮+৬
৮+৬
• অক্ষরবৃত্ত ছন্দে শব্দধ্বনির অতিরিক্ত একটা তান বা সুর থাকে।
শব্দান্ত হলন্ত বা যৌগিক স্বরাস্ত বা ব্যঞ্জনান্ত বা বদ্ধাক্ষর দুমাত্রা, অন্য সমস্ত অক্ষর একমাত্রিক গণনা করতে হয়।
সমাসবদ্ধশব্দের আদিতে আদিতে যদি হলন্ত অক্ষর থাকে এবং তা যদি একটি শব্দ হয় তবে তা কখনও কখনও দুই মাত্রা ধরা হয়।
যুক্তব্যঞ্জনের সংশ্লিষ্ট উচ্চারণ হয়। তাই পূর্ববর্তী অক্ষর দীর্ঘ ও দ্বিমাত্রিক হওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকে না। তই অক্ষরবৃত্ত ছন্দে মুক্তাক্ষর একমাত্রিক এবং বদ্ধাক্ষর শুরুতে ও মধ্যে ১ এবং শেষে ২ মাত্রার হয়।
অক্ষরবৃত্ত ছন্দে তাল বা লয় ধীর- তাই এ ছন্দকে সেভাবেই গণনা করতে হয়। যেমন-
রূপলাগি আঁখি ঝুরে/ গুণে মন ভোর ।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে/প্রতি অঙ্গ মোর ॥
৮+৬
৮+৬
অক্ষরবৃত্ত ছন্দ বাংলা কবিতায় ছন্দ ব্যবহারে বৈচিত্র্য বিহারী। এ ছন্দের অন্তমিলহীনতা, যতিপাতের স্বাধীনতা, প্রবহমানতা, সুর-তালের ব্যবহার পাঠক সম্মুখে নতুন দিগন্ত প্রসারিত করেছে। সবচেয়ে ধীর লয়ের ছন্দ অক্ষরবৃত্ত।
এ ধীর লয়ের কারণে অক্ষরবৃত্ত ছন্দ পড়তে একটা অতিরিক্ত তান বা সুরের সৃষ্টি হয়। তাই অক্ষরবৃত্ত ছন্দ তান প্রধান। মধ্য যুগের বাংলা কবিতায় অক্ষরবৃত্ত ছন্দের উপস্থিতি সর্বাধিক। এ সময় এই ছন্দের নাম ছিল পয়ার।
আট এবং ছয় মাত্রায় বিভক্ত চৌদ্দ মাত্রার দুটি সমিল চরণ; প্রথমটির শেষে এক দাঁড়ি, দ্বিতীয়টির শেষে দুই দাঁড়ি- ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত এ ছিল পয়ায়ের একমাত্র চেহারা।
.png)