Download Our Official App

অক্ষরবৃত্ত ছন্দ কাকে বলে উদাহরণসহ বৈশিষ্ট্য লেখ


অক্ষরবৃত্ত ছন্দ কাকে বলে উদাহরণসহ বৈশিষ্ট্য লেখ

উত্তর : যে কাব্য-ছন্দে মূল পর্ব আট বা দশ মাত্রার হয় এবং শব্দধ্বনির অতিরিক্ত একটা তান বা লয় থাকে তাকে অক্ষরবৃত্ত ছন্দ বলে। 

অক্ষরবৃত্ত ছন্দ-পয়ার, মহাপয়ার, প্রবহমান পয়ার ও মহাপয়ার, ত্রিপদী, চৌপদী, দিগক্ষরা, একাবলি, সনেট, অমিত্রাক্ষর ছন্দ বিভিন্ন রূপভেদে পৃথক।

অক্ষরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য :

ক. মূল পর্ব আট বা দশ মাত্রার হয়। যেমন- মরিতে চাহিনা আমি/সুন্দর ভুবনে। মানবের মাঝে আমি/বাঁচিবারে চাই

৮+৬

৮+৬

খ. অক্ষরবৃত্ত ছন্দে শব্দধ্বনির অতিরিক্ত একটা তান বা সুর থাকে। যেমন- 

হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান

তুমি মোরে দানিয়াছ/খ্রীষ্টের সম্মান

৮+৬

৮+৬

গ. শব্দান্ত হলও বা যৌগিক স্বরাস্ত বা ব্যঞ্জনান্ত বা বদ্ধাক্ষর সুমাত্রা, অন্য সমস্ত অক্ষর একমাত্রিক। যেমন-

অনেক সৌন্দর্য আছে। হৃদয় ভরিয়া, -সহস্র মাণিক্য জ্বলে/অন্তর আধারে,

6+6

অনন্ত সঙ্গীত রাশি/কাঁপিয়া কাঁপিয়া,

6+6

দিবস রজনী করে/উন্মাদ আমারে ।

4+6

বীরবাহু চলে যবে / গেলা যমপুরে

ঘ. সমাসবদ্ধশব্দের আদিতে যদি হলন্ত অক্ষর থাকে এবং তা যদি একটি শব্দ হয় তবে তা কখনও কখনও দুই মাত্রা ধরা হয়। যেমন-

সময় সময়ে পড়ি / বার চূড়ামণি

= ৮+৬

= ৮+৬

অকালে, কই হৈ দেখা / অমৃত ভাষিণী

= ৮+৬

কোন বারবরে বার । সেনাপতি পদে

= ৮+৬

পাঠাইলা রণে পুনঃ / রক্ষঃ কুলানাধ

= ৮+৬

(মেঘনাদবধ কাব্য)

ঙ. যুক্তব্যঞ্জনের সংশ্লিষ্ট উচ্চারণ হয়। তাই পূর্ববর্তী অক্ষর দীর্ঘ ও দ্বিমাত্রিক হওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকে না। যেমন-

যেসবে বঙ্গেতে জন্মি/হিংসে বঙ্গবাণী।

৮+৬

সেসব কাহার জন্ম/নির্ণয় ন জানি

৮+৬

চ. অক্ষরবৃত্ত ছন্দে ধীর লয় থাকে। যেমন-

৮+৬

রূপলাগি আঁখি ঝুরে/ গুণে মন ভোর ।

প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে/প্রতি অঙ্গ মোর ॥ 

৮+৬

অক্ষরবৃত্ত ছন্দ বাংলা কবিতায় ছন্দ ব্যবহারে বৈচিত্র্য বিহারী। এ ছন্দের অন্তমিলহীনতা, যতিপাতের স্বাধীনতা, প্রবহমানতা, সুর-তালের ব্যবহার পাঠক সম্মুখে নতুন দিগন্ত | প্রসারিত করেছে। সবচেয়ে ধীর লয়ের ছন্দ অক্ষরবৃত্ত। 

এ ধীর লয়ের কারণে অক্ষরবৃত্ত ছন্দ পড়তে একটা অতিরিক্ত তান বা সুরের সৃষ্টি হয়। তাই অক্ষরবৃত্ত ছন্দ তান প্রধান। মধ্য যুগের বাংলা কবিতায় অক্ষরবৃত্ত ছন্দের উপস্থিতি সর্বাধিক। এ সময় এই ছন্দের নাম ছিল পয়ার। 

আট এবং ছয় মাত্রায় বিভক্ত চৌদ্দ মাত্রার দুটি সমিল চরণ; প্রথমটির শেষে এক দাঁড়ি, দ্বিতীয়টির শেষে দুই দাঁড়ি- ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত এ ছিল পয়ায়ের একমাত্র চেহারা। পরবর্তী সময় এর কিছুটা পরিবর্তন হয়ে ছয়, আট বা দশ মাত্রায় মূল পর্ব বিভাজন হয়ে থাকে।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ