প্রাবন্ধিক কাজী আবদুল ওদুদ রবীন্দ্রনাথের আনন্দময়ী অপেক্ষা কালিদাসের শকুন্তলাকে উৎকৃষ্টতর বলে মনে করেছেন কেন?


প্রাবন্ধিক কাজী আবদুল ওদুদ রবীন্দ্রনাথের আনন্দময়ী অপেক্ষা কালিদাসের শকুন্তলাকে উৎকৃষ্টতর বলে মনে করেছেন কেন?

উত্তর : বাংলা সাহিত্যে কাজী আবদুল ওদুদ (১৮৯৪- ১৯৭০) এক অতি পরিচিত নাম। আজীবন সাহিত্য চর্চার মাধ্যমে তিনি মুক্তচিন্তা, উদারতা ও মানবতার বাণী প্রকাশ করেছেন। তিনি ছিলেন “বুদ্ধির মুক্তি" আন্দোলনের প্রাণপুরুষ। 

তিনি “বুদ্ধির মুক্তি” আন্দোলনের মুখপাত্র 'শিখা' (১৯২৬) পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। জাতির উন্মেষপথে তিনি আবির্ভূত হন সঠিক দিক নির্দেশনা নিয়ে। "শাশ্বত বঙ্গ” কাজী আবদুল ওদুদের বিখ্যাত প্রবন্ধ গ্রন্থ ।

শাশ্বত বঙ্গ” গ্রন্থের একটি আলোচিত প্রবন্ধ হলো “কালিদাস ও রবীন্দ্রনাথ”। লেখক এ প্রবন্ধে কালিদাস ও রবীন্দ্রনাথ দুই কবির সাহিত্য চিন্তা তুলে ধরেছেন। তাঁরা দুই কালের দুই ভাবুক মহা শিল্পী। দুই কবিই পৃথিবীর শোভা ও সৌন্দর্যের একান্ত অনুরাগী। 

কালিদাসের শকুন্তলা অপূর্ব নারীমূর্তি। শিল্পে নারী সৃষ্টির চরম প্রকাশ ঘটেছে এ চরিত্রে, একাধারে সে উর্বশী আর লক্ষ্মী, মর্ত্য আর স্বর্গ, বসন্ত আর হেমন্ত । অপরদিকে রবীন্দ্রনাথ সৃষ্টি করেছেন চিরবন্দনীয় মাতৃমূর্তি আনন্দময়ীকে, বিশ্বসাহিত্যে হয়তো অদ্বিতীয় মাতৃমূর্তি। 

কিন্তু শকুন্তলার মতো একই সাথে মহিমা ও মোহনতা সে মূর্তিতে নেই, তাই শিল্পসৃষ্টি হিসেবে শকুন্তলার গৌরব বেশি। তবে রবীন্দ্রনাথও পরমমোহন শিল্প সৃষ্টি করেছেন, সেটি হচ্ছে তাঁর নিজের অন্ত রাত্মা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন-

“আমার সব চেতনা সব বেদনা রচিল এ যে কী আরাধনা।” 

পরিশেষে বলা যায়, দুই যুগের দুই বিখ্যাত কবি সাহিত্য সাধনা করে জগতে অমর হয়ে আছেন। কালিদাসের সৃষ্ট বিখ্যাত চরিত্র হলো শকুন্তলা এবং রবীন্দ্রনাথের সৃষ্ট চরিত্র হলো আনন্দময়ী। কিন্তু শিল্প বিচারে রবীন্দ্রনাথের আনন্দময়ী অপেক্ষা কালিদাসের শকুন্তলাকে উৎকৃষ্টতর বলে মনে করেছেন।


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ