যা শাস্ত্র তাই বিশ্বাস্য নয়, কিন্তু যা বিশ্বাস্য তাই শাস্ত্র।”- ব্যাখ্যা কর
যা শাস্ত্র তাই বিশ্বাস্য নয়, কিন্তু যা বিশ্বাস্য তাই শাস্ত্র।”- ব্যাখ্যা কর
উত্তর : কাজী আবদুল ওদুদ বাংলা সাহিত্যের একজন মননশীল, যুক্তিবাদী, বুদ্ধিদীপ্ত প্রাবন্ধিক ও সমালোচক।
কাজী - আবদুল ওদুদ তাঁর শিল্প ও সাহিত্য বিষয়ক 'কালিদাস ও রবীন্দ্রনাথ' প্রবন্ধে দুই কালের দুই মহাভাবুক ও মহাশিল্পী |কালিদাস ও রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য চিন্তা ও শৈলীগত তুলনা করেছেন। এ প্রবন্ধে শাস্ত্র এবং ধর্ম সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতামত তুলে ধরা হয়েছে।
রবীন্দ্রনাথ মূলত সেকাল এবং একালের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর আদর্শ যে কালিদাসের আদর্শের চাইতে ব্যাপকতর এবং একালের মানুষের জন্য বেশি সত্য ও সার্থক তা সহজেই বুঝা যায়।
কেননা বর্তমান যুগের মানুষের চিন্তা-চেতনায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বড় ধরনের একটি প্রভাব ফেলেছেন। তাঁর চিন্তা-চেতনায় আধুনিক মানুষের যুক্তি এবং বুদ্ধির পথকে প্রসারিত করেছে। তিনি সুপ্রাচীন সোহহম তত্ত্বের যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা এখানে প্রাবন্ধিক তুলে ধরেছেন।
তাঁর মতে সোহমের অর্থ এই নয় যে মানুষ ঈশ্বর, বরং এই অর্থ যে - মানুষকে হতে হবে ঈশ্বরের মতো সুন্দর ও শক্তিমান অর্থাৎ । সৃষ্টিধর্মী। তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন “যা শাস্ত্র তাই বিশ্বাস্য নয়, যা বিশ্বাস্য তাই শাস্ত্র।”
অর্থাৎ এর মধ্য দিয়ে তিনি বুঝাতে চেয়েছেন মানুষের জন্য শাস্ত্র, শাস্ত্রের জন্য মানুষ নয়। কেননা শাস্ত্র দিয়ে জীবন চলে না। কিন্তু মানুষ দিয়ে শাস্ত্র চলে। আর মানুষ না থাকলে শাস্ত্রসমূহ অচল।
সুতরাং মানুষ যা বিশ্বাস করে সেটাই শাস্ত্র হিসেবে পরিগণিত হয় অন্য অবিশ্বাস্য কোনো কিছু নয়।
.png)