প্রাবন্ধিক কাদেরকে বাবু বলেছেন সে সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও
প্রাবন্ধিক কাদেরকে বাবু বলেছেন সে সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও
উত্তর : 'বাবু' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এক শ্রেণির অকর্মণ্য, তোষামোদকারী, অদক্ষ বাঙালির স্বরূপ উন্মোচন করেছেন।
প্রাবন্ধিক ব্যঙ্গের সুরে অভিনবভাবে 'বিচিত্রবুদ্ধিহীন, বাক্যে অজেয়, মাতৃভাষাবিরোধী, পরভাষাপারদর্শী, মাতৃভাষায় বাক্যালাপে অসমর্থ, আহারনিদ্রাকুশলী, চশমালংকৃত, বহুভাষী, উদারচরিত্র' বাবু শ্রেণির মুখোশ পাঠকের সামনে মেলে ধরেছেন।
বাবুদের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে প্রাবন্ধিক উল্লেখ করেছেন, “যাঁহারা বিনা উদ্দেশ্যে সঞ্চয় করিবেন, সঞ্চয়ের জন্য উপার্জন করিবেন, উপার্জনের জন্য বিদ্যাধ্যয়ন করিবেন, বিদ্যাধ্যয়নের জন্য প্রশ্ন চুরি করিবেন, তাঁহারাই বাবু।”
মূলত প্রাবন্ধিক বুঝাতে চেয়েছেন যেসব গুণ থাকলে বাবু বলা যায়- তা এ শ্রেণির লোকের মধ্যে কিছুই খুঁজে পাওয়া যাবে। না; তারপরেও তারা বাবু নামে পরিচিত হবেন। বাবুদের শরীর হবে শুষ্কপ্রায় কিন্তু তারপরেও তারা পলায়নে সক্ষম হবেন। তারা মহাবুদ্ধিসম্পন্ন হবেন কিন্তু সে বুদ্ধি কিছুই কাজে লাগবে না। এ বাবুরা বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্নভাবে নিজের পরিচিতি তুলে ধরবেন :
“কলিযুগে ভারতবর্ষে রাজ্যাভিষিক্ত হইয়া, ইংরাজ নামে খ্যাত হইবেন, তাঁহাদের নিকট 'বাবু' অর্থে কেরানি বা বাজার সরকার বুঝাইবে। নির্ধনদের নিকট 'বাবু' অর্থে অপেক্ষাকৃত ধনী বুঝাইবে। ভৃত্যের নিকট 'বাবু' অর্থে প্রভু বুঝাইবে।"
'বাবু' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক বাবুদের অন্তঃসারশূন্যতাকে তুলে ধরেছেন। এ শ্রেণির মানুষের মধ্যে প্রাবন্ধিক ইংরেজ তোষণ, দেশি ভাষার প্রতি ঘৃণা, একাধিক স্ত্রীর সাহচর্য, মদপান, বুদ্ধিহীনতা, কর্মহীনতা, গ্রন্থগত বিদ্যা, ধর্মীয় ধোকাবাজি, কথা ও কাজের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য লক্ষ করেছেন।
.png)