রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'স্বদেশী সমাজ' প্রবন্ধে ইউরোপের স্টেট ও আমাদের সরকার, এ দুয়ের মধ্যে কী পার্থক্য নির্দেশ করেছে কী? তা বর্ণনা কর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'স্বদেশী সমাজ' প্রবন্ধে ইউরোপের স্টেট ও আমাদের সরকার, এ দুয়ের মধ্যে কী পার্থক্য নির্দেশ করেছে কী? তা বর্ণনা কর
উত্তর : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্য, সভা, সংবর্ধনা, আন্ত জাতিক মঞ্চ, বিভিন্ন স্থানে ইতিহাস, সমাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর মতামত ব্যক্ত করেছেন।
সমাজ ও রাষ্ট্র সম্পর্কে তাঁর এ চিন্তা-চেতনার সম্মিলন ঘটেছে “আত্মশক্তি” প্রবন্ধ গ্রন্থে। আর এ গ্রন্থের অন্যতম একটি প্রবন্ধ 'স্বদেশী সমাজ'। স্বদেশী সমাজ প্রবন্ধে লেখক আমাদের সমাজ ব্যবস্থার ঐতিহ্য ও দেশের সব ধরনের হিতকর্মের ক্ষেত্রে স্বদেশী সমাজের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
ইউরোপের স্টেটই আমাদের সরকার, আর এ দুয়ের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করে প্রাবন্ধিক বলেছেন, ইউরোপের শক্তিভাণ্ডার স্টেট অর্থাৎ সরকার। সেই স্টেট দেশের সমস্ত হিতকর্মের ভার গ্রহণ করেছে- স্টেটই ভিক্ষাদান করে, স্টেটই বিদ্যাদান করে, ধর্মরক্ষার ভারও স্টেটের উপর।
অতএব এ স্টেটের শাসনকে সর্বপ্রকারে সবল কর্মিষ্ঠ ও সচেতন করে রাখা, একে আভ্যন্তরিক বিকলতা ও বাইরের আক্রমণ হতে বাঁচানোই ইউরোপীয় সভ্যতার প্রাণ রক্ষার উপায়। অপরদিকে আমাদের দেশে কল্যাণশক্তি সমাজের মধ্যে। তা ধর্মরূপে আমাদের সমাজের সর্বত্র ব্যাপ্ত হয়ে আছে।
এ জন্য এতকাল ধর্মকে এবং সমাজকে বাঁচানোর মধ্যে আত্মরক্ষার উপায় নিহিত ছিল। রাজত্বের দিকে তাকাই নাই। সমাজের দিকে দৃষ্টি রেখেছে।
এ জন্য সমাজের স্বাধীনতাই -ও যথার্থভাবে ভারতবর্ষের স্বাধীনতা। কিন্তু এ স্বাধীনতা এতদিন অক্ষুণ্ণ থাকলেও পরবর্তীতে একটু একটু করে এ স্বাধীনতা অন্যের হাতে তুলে দিয়েছে।
এ সম্পর্কে প্রাবন্ধিক বলেছেন, “ইংরেজ আমাদের রাজত্ব চাহিয়াছিল, রাজত্ব পাইয়াছে, সমাজটাকে নিতান্ত, উপরি পাওনার মতো লইতেছে-ফাও বলিয়া ইহা আমরা তাহার হাতে বিনামূল্যে তুলিয়া দিতেছি।”
.png)