রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'স্বদেশী সমাজ' প্রবন্ধে আমাদের আত্মরক্ষার জন্য কী তাগিদ দিয়েছেন? তা বর্ণনা কর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'স্বদেশী সমাজ' প্রবন্ধে আমাদের আত্মরক্ষার জন্য কী তাগিদ দিয়েছেন? তা বর্ণনা কর
উত্তর : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্য, সভা, সংবর্ধনা, আন্ত র্জাতিক মঞ্চ বিভিন্ন স্থানে ইতিহাস, সমাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর মতামত ব্যক্ত করেছেন।
সমাজ ও রাষ্ট্র সম্পর্কে তাঁর এ চিন্তা-চেতনার সম্মিলন ঘটেছে “আত্মশক্তি” প্রবন্ধ গ্রন্থে। আর এ গ্রন্থের অন্যতম একটি প্রবন্ধ 'স্বদেশী সমাজ'।
স্বদেশী সমাজ প্রবন্ধে লেখক আমাদের সমাজ ব্যবস্থার ঐতিহ্য ও দেশের সব ধরনের হিতকর্মের ক্ষেত্রে স্বদেশী সমাজের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
পরাধীন ভারতবর্ষের সরকারের কাছে হাত না পেতে আত্মশক্তিতে বলিয়ান হয়ে সামাজিক ঐক্যের মাধ্যমে নিজেদের চাহিদা পূরণ করে স্বদেশী সমাজের ঐতিহ্য রক্ষার নিবেদন জানিয়েছেন। তাই তিনি আত্মরক্ষার জন্য আমাদের তাগিদ দিয়েছেন।
কাজ প্রাবন্ধিক সমাজকে রক্ষা তথা আত্মরক্ষার জন্য এ প্রবন্ধে তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, একটি লোককে আশ্রয় করে আমাদের সমাজকে এক জায়গায় আপন হৃদয়কে স্থাপন, আপন ঐক্যপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।
না হলে শৈথিল্য ও বিনাশ্বের হাত থেকে আত্মরক্ষার কোনো উপায় দেখি না। আজ আমরা উত্তমরূপে বুঝেছি যে, তফাতে গা ঢাকা দিয়ে বসে থাকাকে আত্মরক্ষা বলে না। নিজের অন্তর্নিহিত শক্তিকে সর্বতোভাবে জাগ্রত করা, চালনা করাই আত্মরক্ষার প্রকৃত উপায়।
এটা বিধাতার নিয়ম। ইংরেজ ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের চিত্তকে অভিভূত করবে যতক্ষণ আমাদের চিত্ত জড়ত্ব ত্যাগ করে তার নিজের উদ্যমকে কাজে না লাগাবে।
.png)