রুদ্র-মঙ্গল' প্রবন্ধে কাজী নজরুল 'ইসলাম জনশক্তির প্রতি কী আহ্বান জানিয়েছেন?
রুদ্র-মঙ্গল' প্রবন্ধে কাজী নজরুল 'ইসলাম জনশক্তির প্রতি কী আহ্বান জানিয়েছেন?
উত্তর : 'রুদ্র-মঙ্গল' প্রবন্ধটিতে বিশ শতকের অস্থির পালাবদল এবং সেই সাথে কৃষক-শ্রমিক-নির্যাতিত মানুষের ভাগ্যবদলের জন্য জনশক্তিকে সংগ্রামী মনোভাবে জেগে ওঠার কথা বলেছেন।
'রুদ্র-মঙ্গল' প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলাম মুক্তির জন্য কৃষক- শ্রমিক-মজুরদেরকে জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রাবন্ধিক মনে করেন- এরাই জনশক্তি- এরা জাগলে দেশ জাগবে।
বিশের দশকের শুরুতে কৃষক শ্রমিক জনশক্তির জাগরণ এবং লাল ঝান্ডা ওড়াবার আহ্বান জানিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম শ্রেণিচেতনা তথা শ্রমিক শ্রেণিসংগ্রামের কথাই ব্যক্ত করেছেন।
প্রাবন্ধিক জাগরণের নতুন মন্ত্রে কৃষক-শ্রমিক শ্রেণিকে জাগাতে নতুন মন্ত্র প্রয়োগ করেছেন। কৃষক-শ্রমিকদের দুরবস্থার জন্য যারা দায়ী তাদেরকে চিহ্নিত করে- পদতলে ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রাবন্ধিক।
তাছাড়া অর্থপিশাচদেরকে তাদের জায়গা থেকে হঠিয়ে মানুষের কাতারে ফেলার প্রত্যয় ঘোষিত হয়েছে। তাই প্রাবন্ধিক জনশক্তিকে ত্রিশূল ছুড়ে, সর্বনাশের ঝান্ডা উড়িয়ে, বেদনাতুর অভাব-ক্লিষ্ট নর- নারীকে জেগে ওঠার আহ্বান জানাচ্ছেন বার বার।
প্রাবন্ধিকের মতে-
“জাগো জনশক্তি! হে আমার অবহেলিত পদপিষ্ট কৃষক, আমার মুটে-মজুর ভাইরা। আন তোমার হাতুড়ি, ভাঙ ঐ উৎপীড়নের প্রাসাদ-ধুলায় লুটাও অর্থ-পিশাচ বলদর্পীর শির। ছোড়ো হাতুড়ি, চালাও লাঙল, উচ্চে তুলে ধর তোমার বুকের রক্ত-মাখা লালে লাল ঝাণ্ডা।”
সুতরাং বলা যায় সমাজ পরিবর্তন, ভাগ্য পরিবর্তন এবং পরিবর্তিত সময়ে কৃষক-শ্রমিক মজুরদেরকে প্রাবন্ধিক জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন।
.png)